শিরোনাম
ঢাবি ক্যাম্পাস বহিরাগতমুক্ত করতে চলবে অভিযান
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে বহিরাগতমুক্ত করতে অভিযান পরিচালনা করা হবে জানিয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র সাথে রাখার অনুরোধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বুধবার ( ১৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘অধ্যয়নরত সব আবাসিক, অনাবাসিক ও দ্বৈতাবাসিক শিক্ষার্থীদের অবগতির জানানো যাচ্ছে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে বহিরাগতমুক্ত করতে দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্যাম্পাসে অভিযান পরিচালিত হবে। সে লক্ষ্যে ক্যাম্পাসে অবস্থানকালে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে তাঁদের নিজ নিজ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।’
যেসব শিক্ষার্থীর পরিচয়পত্র হারিয়ে গেছে, তাদেরকে উপযুক্ত প্রমাণপত্র সঙ্গে রাখার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীসহ অন্যরা ক্যাম্পাস প্রবেশের সুযোগ ছিল এতদিন। সম্প্রতি কার্জন হলে বহিরাগতদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হয়। তবে সাবেক শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে সেখানে প্রবেশ করতে পারবেন বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
ইবিতে ভিসি নিয়োগে বসন্তের কোকিলদের সাবধান করলেন শিক্ষার্থীরা
ইবি প্রতিনিধি: বহিরাগত কোনো শিক্ষককে উপাচার্য হিসেবে দেখতে না চেয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এসময় উপাচার্য হিসেবে যোগ্য শিক্ষকদের মানদণ্ডও জুড়ে দিয়েছেন তারা। এছাড়াও দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভিসি নিয়োগ দেয়ারও দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। এসময় শিক্ষার্থীরা নানারকম স্লোগান দিতে থাকে যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলো "বাইরে থেকে ইবির ভিসি মানিনা মানবোনা, এক দফা এক দাবি, আমার ক্যাম্পাস আমার ভিসি, ঢাবি রাবি ভিসি পায় ইবি কেনো পিছিয়ে, যায় বসন্তের কোকিলেরা হুশিয়ার সাবধান, দূর্দিনে ছিলেন যারা ইবির ভিসি হবেন তারা, ভাড়া করা ইবির ভিসি মানিনা মানবোনা"
ভিসি নিয়োগের এই বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে শিক্ষার্থীরা পুনরায় প্রধান ফটকে এসে সমবেত হয়।
এসময় শিক্ষার্থীরা বলেন, অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার বিনিময়ে অর্জিত আমাদের এই স্বাধীনতা। কোনো লেজুড়বৃত্তিক রাজনৈতিক দলের হাতে এই স্বাধীনতা তুলে দিতে চাই না। এই স্বাধীন দেশে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার কোনো এজেন্টকে উপাচার্য হিসেবে চাই না। স্বাধীন দেশে কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে দেয়া হবে না। আমরা এমন একজন ভিসি চাই যিনি আমাদেরকে বুঝবেন এবং আমাদের শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে কাজ করবেন।
তারা আরও বলেন, এমন কাউকে ভিসি হিসেবে চাই, যিনি আন্দোলনে আমাদের সমর্থন দিয়েছে। ক্যাম্পাসের বাইরের কেউ এসে আমাদের এখানে উড়ে এসে জুড়ে বসলে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবো। তাই আমাদের দাবি আমাদের ক্যাম্পাসে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক উপাচার্য হিসেবে এসে আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণ করবে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরের কাউকে ভিসি হিসেবে চাচ্ছি আমরা।
ছয় বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) এসব নিয়োগের ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন ও সমাজর্কম বিভাগের সাবেক চেয়রাম্যান অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তাকে সাময়িকভাবে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লায়েড কেমিস্ট্রি ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরীকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলী।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল আজীম আখন্দ।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমকে।
নবনিযুক্ত উপাচার্যদের মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বাদে সবাই চার বছরের জন্য নিয়োগ পেয়েছেন।
বাকৃবিতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে জৈব বর্জ্যের মূল্যায়ন শীর্ষক সেমিনার
বাকৃবি প্রতিনিধি: বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশগত টেকসই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জৈব প্রযুক্তির ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ‘গ্রামীণ অর্থনীতিতে জৈব বর্জ্যের মূল্যায়ন’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বাকৃবির কৃষি অনুষদীয় সম্মেলন কক্ষে ওই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্যের কুইন্স ইউনিভার্সিটি বেলফাস্টের শিক্ষক ও গবেষক ড. থমাস হেস্টিংস। তিনি বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশগত টেকসই চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশকে বৃহৎ জনসংখ্যার খাদ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। বাংলাদেশের বৃহৎ জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণে এবং টেকসই খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে জৈব প্রযুক্তির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত গ্রামীণ অর্থনীতিতে জৈব বর্জ্যের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই গবেষণার মাধ্যমে জৈব প্রযুক্তির(সৌর বিদ্যুৎ, বায়ু বিদ্যুৎ) চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করে বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে জৈব বর্জ্যের (বায়োগ্যাস) গুরুত্ব মূল্যায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে খাদ্য ও কৃষির জৈব বর্জ্য বিকল্প শিল্পে রূপান্তরিত হতে পারবে, যার দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা পুনঃব্যবহারযোগ্য অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখবে।’
এ গবেষণা কার্যক্রমটি কুইন্স ইউনিভার্সিটি বেলফাস্ট ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে দুই বছর মেয়াদি একটি প্রকল্প। এতে গবেষণা প্রধান হিসেবে কাজ করবেন কুইন্স ইউনিভার্সিটির সিনিয়র লেকচারার ড. থমাস হেস্টিংস। সহযোগী গবেষক হিসেবে রয়েছেন কুইন্স ইউনিভার্সিটির সিনিয়র লেকচারার ড. পল এন উইলিয়ামস।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবির কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. গোলাম রাব্বানী। সভাপতিত্ব করেন বাকৃবির মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া। এছাড়া বিশেষ অতিথি ছিলেন উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা কমিটির কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম। এছাড়াও সেমিনারে বাকৃবির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনারের সূচনা বক্তব্য তুলে ধরেন বাকৃবির মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেন সুমন। সেমিনারে বক্তারা জৈব প্রযুক্তির ব্যবহার ও এর টেকসইতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন। তারা বলেন, ‘বাংলাদেশে জৈব প্রযুক্তি ব্যবহারে রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় ভূমিকা থাকা জরুরি। এটি খাদ্য উৎপাদন এবং পুনঃব্যবহারযোগ্য অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখতে পারে। গবেষণার মাধ্যমে বায়োগ্যাস উৎপাদন, কম্পোস্টিং ও অন্যান্য প্রক্রিয়ায় জৈব প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, যা বাংলাদেশের গ্রামীণ শিল্প বিকাশে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।নতুন সভাপতি পেল ইবির ৫ বিভাগ
ইবি প্রতিনিধিঃ কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ৫ বিভাগে সভাপতিদের মেয়াদ শেষ হওয়ায় উক্ত বিভাগগুলোর নতুন সভাপতি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিভাগগুলো হচ্ছে ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, ল এন্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ এবং সোশ্যাল ওয়েল ফেয়ার।
বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এইচ এম আলী হাসানের দায়িত্ব পালন করা উপ রেজিস্টার ড. ওয়ালিউর রহমান সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। এর আগে বিভাগগুলোতে নতুন সভাপতি নিয়োগ করে অফিস আদেশ জারি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
অফিস আদেশ অনুসারে ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম, ল এন্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মেহেদী হাসান, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আতিফা কাফী এবং সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোছাঃ আসমা সাদিয়া রুনা নতুন সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন।
অফিস আদেশে উল্লেখিত বিভাগের সভাপতিদের মেয়াদ আগামী ২০/৯/২৪ তারিখে শেষ হবে উল্লেখ করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম সংবিধির সংশোধিত ১০ (১) ধারা মোতাবেক ২১/০৯/২০২৪ তারিখ থেকে পরবর্তী ৩ বছরের জন্য উক্ত ৫টি বিভাগে নতুন ৫ জন শিক্ষককে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এরমধ্যে সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার বিভাগের পরবর্তী সিনিয়র শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক মমতা মোস্তারী মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকায় তার পরবর্তী সিনিয়র শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক মোছাঃ আসমা সাদিয়া রুনা এবং ল এন্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরবর্তী সিনিয়র শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক বনানী আফরীন শিক্ষাছুটিতে থাকায় এবং তার সিনিয়র শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক বিলাসী সাহা অপারগতা প্রকাশ করায় তার পরবর্তী সিনিয়র শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক মেহেদী হাসানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য