শিরোনাম
জাবিতে নির্জন পুকুরপাড়ে ডেকে নিয়ে জুনিয়রদের র্যাগিং
জাবি প্রতিনিধি : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বঙ্গবন্ধু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইন্সটিটিউট এর দ্বিতীয় বর্ষের (৫১ ব্যাচ) শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রথম বর্ষের (৫২ ব্যাচ) শিক্ষার্থীদের পুকুর পাড়ে ডেকে নিয়ে র্যাগিং এর অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (২৮ মে) দুপুর দুইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ক্লাব সংলগ্ন পুকুর (ভিসি পুকুর) পাড়ে বঙ্গবন্ধু তুলনামূলক ইন্সটিটিউটের ৫২ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ডেকে নিয়ে র্যাগিং দেন ৫১ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তাদের ছেড়ে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. জেফরুল হাসান চৌধুরী, মোহাম্মদ আবু সৈয়দ ও এ.এস.এম রাশিদুল হাসান।
ঘটনাস্থলে ৫২ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে এক জায়গায় জমা রেখে তাদের সঙ্গে অসদাচার করেন ৫১ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।
এসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন অভিযুক্ত ৫১ ব্যাচের শরিফুল ইসলাম সরল, বাঁধন বিশ্বাস, মেহেদী হাসান (আবির), শিপন বিশ্বাস, মাসুম বিল্লাহ, দীপন রয়, জানিব হাসান মাটিয়া, সাজিয়া জাহান সিজা এবং সাদনান নিদ্রা উপস্থিত ছিলেন এবং ৫২ ব্যাচের তানভীর, সায়েম, শুভজিৎ, স্বপন, রনি, রিফাত, শামীম, জুবায়ের, শেনন ও আরিফ।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিরাপত্তা কর্মকর্তা জেফরুল হাসান চৌধুরী বলেন, র্যাগিংয়ের তথ্য পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আমরা ঘটনা স্থলে উপস্থিত হই। এরপর ৫১ ও ৫২ ব্যাচকে আলাদা আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করি এবং সকলের নামগুলো সংগ্রহ করি। তাদের কাছ থেকে জানতে পারি ক্রিকেট খেলার বিষয়ে কথা বলার জন্য ৫১ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তাদের ওখানে ডেকে নিয়ে গেছে। সেখানে ৫২ ব্যাচের সকলের মোবাইল ফোন গুলো তারা আলাদা করে একত্র করে রেখেছিল। কিন্তু এরকম জায়গায় ডেকে নিয়ে যাওয়া এবং সবার মোবাইলগুলো জমা নেয়ার পেছনে নিশ্চয়ই অন্য উদ্দেশ্য ছিলো।
র্যাগিংয়ের ঘটনায় অভিযুক্ত ৫১ ব্যাচের শিক্ষার্থী শিপন বিশ্বাস বলেন, আমাদের ব্যাচের মেয়েরাও ছিলো আমাদের সাথে। আসলে র্যাগিংয়ের কোনো বিষয় ছিলো না সেখানে। দিনের বেলায় এভাবে র্যাগ দেয়া যায় নাকি? আগামীকাল থেকে ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে যাবে। বন্ধের পরে আমাদের ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ম্যাচ আছে। সে বিষয়ে কথা বলার জন্যই ৫২ ব্যাচকে ডাকা হয়েছিল।
ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ম্যাচ নিয়ে কথা বলার জন্য এরকম জায়গায় কেন জুনিয়রদের নিয়ে যাওয়া হলো সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এত জনকে নিয়ে রোদের মধ্যে তো কথা বলা যায় না। তাই পুকুর পাড়ের ওইদিকে ছায়ায় আমরা বসেছিলাম।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মনির উদ্দিন শিকদার বলেন, এ বিষয়ে সিন্ডিকেটে একাধিক সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রশাসন সবসময় র্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে। এক্ষেত্রে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে। এ কারণে তুলনামূলকভাবে র্যাগিং কমেছে। তারপরও বিচ্ছিন্নভাবে কিছু জায়গায় এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। আজকে আমরা শোনামাত্রই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করার চেষ্টা করেছি। আমরা ঘটনাস্থলে কয়েকজনকে পেয়েছি। পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে সর্বোচ্চ শাস্তির সুপারিশ করা হবে।
বঙ্গবন্ধু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, অপরাধ অপরাধীই। কেউ যদি অপরাধ করে থাকলে অবশ্যই তাকে শাস্তি পেতে হবে। সে আমার ছাত্র হোক বা যে-ই হোক না কেনো। তাদেরকে তো আমি শাস্তি দিবোই, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেনো শাস্তির আওতায় আনে সেই ব্যবস্থাও করবো।
স্পেনের পর এবার ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিলো নরওয়ে ও আয়ারল্যান্ড
স্পেনের পর এবার নরওয়ে ও আয়ারল্যান্ড সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। নরওয়ের পক্ষ থেকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ ইডে এই ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে আয়ারল্যান্ড সরকারের মন্ত্রিসভা এক বৈঠকে এই স্বীকৃতির অনুমোদন দিয়েছে। খবর আল জাজিরা।
ইডে বলেন, নরওয়ে ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের সবচেয়ে সমর্থকদের মধ্যে একটি।
আয়ারল্যান্ড সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সরকার ফিলিস্তিনকে একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে। পাশাপাশি ডাবলিন ও রামাল্লার মধ্যে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে সম্মত হচ্ছে। রামাল্লায় আয়ারল্যান্ডের একজন রাষ্ট্রদূত নিয়োগের পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ দূতাবাস স্থাপন করা হবে।
এর আগে পূর্বঘোষিত তারিখ অনুযায়ী স্পেন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। দেশটির মন্ত্রিসভা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে। স্প্যানিশ সরকারে মুখপাত্র পিলার অ্যালেগ্রিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পিলার আলেগ্রিয়া বলেছেন, ‘মন্ত্রিসভা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যার উদ্দেশ্য হলো—ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের শান্তি অর্জনে সহায়তা করা।’
ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি অর্জনের জন্য একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বলে মনে করেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই শান্তি অর্জন করতে চাই তবে...ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি একটি অপরিহার্য প্রয়োজন।’ এ সময় তিনি জানান, পূর্ব জেরুজালেম হবে এই রাষ্ট্রের রাজধানী।
মাভাবিপ্রবিতে প্রক্টরের পদত্যাগসহ ২১ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন
মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি: মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি)'র সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রক্টরের পদত্যাগসহ ২১ দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন চলমান রেখেছে। শনিবার সকাল থেকে ক্লাস,পরীক্ষাসহ একাডেমিক ও প্রশাসনিক সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
গত রবিবার (২৬শে মে) সকাল ১১ টা থেকে এই আন্দোলন চলমান রেখেছে শিক্ষার্থীরা। সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসের সামনে অবস্থান করেন এবং বিভিন্ন দাবি আদায়ের পক্ষে স্নোগান দিতে থাকেন। পরে আজ বিকাল ৪ টায় প্রক্টরের কুশপুত্তলিকা দাহ করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
গত রবিবার শিক্ষার্থীরা ২১ দফা দাবি উল্লেখ করে একটি স্মারকলিপি উপাচার্য বরাবর প্রেরণ করেন। স্মারকলিপিতে ২১ দাবি সমূহগুলো হলো -(১) ৭২ ঘন্টার মধ্যে অযোগ্য প্রক্টরকে উক্ত পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে, (২)নতুন দায়িত্ব প্রান্ত প্রক্টরকে অবশ্যই শিক্ষার্থীবান্ধব এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে, (৩)আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে সরকার বাড়ি মেসের ঘটনার সমাধান করতে হবে, (৪)কার্যত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেণে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে, (৫)অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে, (৬)প্রযোজনে রিমান্ডের ব্যবস্থা করে ভিক্টিমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, (৭)শিক্ষার্থীদের প্রতি আর কোন বাজে আচরণ বা হুমকি-ধামকি আসবে না তা নিশ্চিত করতে হবে, পক্ষপাত বা স্বজনপ্রীতি থাকবে এমন কাওকে কোন পদে বহাল করা যাবে না, (৮)শিক্ষার্থীদের জিম্মিদশা থেকে মুক্ত করে, (৯)স্বাভাবিক জীবন-যাপন ও পড়াশোনার মান নিশ্চিত করতে হবে, (১০)প্রক্টর মহোদয়ের বিরুদ্ধে তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, (১১)অতিদ্রুত সরকার মেসের বাকি মেয়েদের হলে অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে, (১২)বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন সংকট নিরসন করে বাসের সিডিউল বাড়িয়ে আমদের পরিবহন সমস্যার সমাধান করতে হবে, (১৩)আবাসন সংকট দূর করে শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করতে হবে, (১৪)পরীক্ষার ফলাফল দ্রুত প্রকাশের মাধ্যমে একাডেমিক জট নিরসন করতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনেক শ্রম-ঘাম, সাধনা দিয়ে গোল্ড মেডেলিস্ট হয়, ডিপার্টমেন্ট ও ফ্যাকাল্টি সেরা হয় অর্থাৎ শিক্ষক নিযোগের ক্ষেত্রে অবশ্যই তাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং (১৫)সকল বিভাগে এই অগ্রাধিকারের বাস্তবায়ন করতে হবে,৯ম, ১০ম, ১১তম, ১২তম, ১৩তম, ১৪তম গ্রেডের চাকুরিতে অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং আবেদনের যোগ্যতা শিখিল করতে হবে,(১৬)সেন্ট্রাল লাইব্রেরির আসন বিনাস এবং সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে,(১৭)অনাবাসিক শিক্ষার্থী যারা ক্যাম্পাসের আশেপাশে অবস্থান করে এবং হলে টোকেন কেটে খায় তাদের কে এই সুযোগ পেতে বাধা দেওয়া যাবে না, (১৮)জনবল সংকট দ্রুত নিরসন করে এই সমস্যার সমাধান দিতে হবে,(১৯)ছাত্রী হলের মেইন গেইট এর সময় বাড়িয়ে রাত ১০ টা করতে হবে এবং যেহেতু এখন নিরাপত্তা বাহিনি সারা রাত ডিউটি তে থাকে সেহেতু তিন ছাত্রী হলের মধ্যে সারারাত গেইট খোলা রাখতে হবে,(২০)বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের ডাইনিং এর ব্যবস্থা করতে হবে,শেখ রাসেল হলে নেটের বাবস্থা করে দিতে হবে,৩ টি ছাত্রহলের জন্য গ্যারেজের সুব্যবস্থা করতে হবে,(২১)পরিবেশ ও বৈশ্বিক উফভার কথা বিবেচনা করে, সৌন্দর্যা বর্ধনের নামে শুধু অর্থ অপচয় হয় এমন ফুল গাছ না লাগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে ছায়া প্রদানকারী বিভিন্ন বৃক্ষ রোপন করতে হবে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী প্রতিনিধি সুখি আক্তার জানান, আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন অব্যহত থাকবে। বুধবার, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় শনিবার থেকে এই আন্দোলন আরও জোরদার হবে।
মো. জাহিদ হোসেন/
রাবির লতিফ হলে ভাঙচুরের ঘটনায় ৩ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের সুপারিশ; তদন্ত কমিটি গঠন
রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নবাব আবদুল লতিফ হলের গেট ও প্রাধ্যক্ষের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে ডাইনিং ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের বহিষ্কারের জন্য সুপারিশের সিদ্ধান্ত নেয় প্রাধ্যক্ষ পরিষদ। আজ সকালে এক জরুরি সভায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সেই বিষয় তুলে ধরেছেন তাঁরা।
বহিষ্কারের সুপারিশপ্রাপ্তরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান হোসেন, হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তাসকিফ আল তৌহিদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদুর রহমান।
এ ঘটনায় হল প্রশাসন থেকে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে আহ্বায়ক হিসেবে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক অনীক কৃষ্ণ কর্মকার। সদস্য হিসেবে আছেন ড. আব্দুল কাদের ও ড. মেসবাহুস সালেহীন। আরেকজনের নাম জানা সম্ভব হয়নি। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তবে জড়িতদের সাথে কথা বলে পরবর্তীকালে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
জানা যায়, গতকাল বেলা দেড়টা থেকে তিনটা পর্যন্ত নবাব আবদুল লতিফ হলের গেটে তালা লাগিয়ে ভাঙচুর করে ছাত্রলীগ। হল প্রাধ্যক্ষের অভিযোগ, ছাত্রলীগ নেতাদের ২০টি জার্সি না দেওয়ায় তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আন্দোলন করে হলে ভাঙচুর চালিয়েছেন। তবে ছাত্রলীগের অভিযোগ, দুপুরে হলের ডাইনিংয়ে খাওয়ার সময় এক শিক্ষার্থী খাবারে সিগারেটের একটি অংশ দেখতে পান। সেখান থেকে আন্দোলন করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
হল প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তহল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু হচ্ছে। এই প্রতিযোগিতায় যোগ্যদের হল থেকে জার্সি–সরঞ্জামসহ প্রতিদিনের প্র্যাকটিসে খাবারের জন্য একটি নির্দিষ্ট অর্থ বরাদ্দ থাকে। নবাব আবদুল লতিফ হলের শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তাসকিফ আল তৌহিদ ছাত্রলীগের ২০ নেতা-কর্মীর একটি তালিকা দিয়ে তাদের হল প্রশাসন থেকে জার্সি দেওয়ার কথা বলেন। তবে এতে প্রাধ্যক্ষ সায় দেননি।
গতকাল দুপুরে হলের ডাইনিংয়ে খেতে যান মনির হোসেন নামের ছাত্রলীগের এক কর্মী। খাবারের মধ্যে তিনি সিগারেটের একটা অংশ দেখতে পান। পরে ডাইনিং কর্মচারীদের সঙ্গে উচ্চবাচ্য করেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে উপস্থিত আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী মিলে ডাইনিং ভাঙচুর করেন এবং গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে হলের প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে গেটে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন করেন তারা।
এ বিষয়ে নবাব আব্দুল লতিফ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ.এইচ.এম. মাহবুবুর রহমান বলেন, আজ সকালের মিটিংয়ে গতকালের ঘটনায় জড়িতদের বহিষ্কারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমরা সুপারিশ করেছি। এ ঘটনার জন্য প্রশাসন দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে পরবর্তীকালে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক বলেন, আমরা প্রাধ্যক্ষ পরিষদের সকল কথা শুনেছি। অভিযুক্তদেরও কথা শুনব। তদন্ত প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পেনশন স্কিম বাতিলের দাবি, ইবি শিক্ষকদের কর্ম বিরতি
ইবি প্রতিনিধি : বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের আহ্বানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা পেনশন সংক্রান্ত বৈষম্যমূলক নীতিমালার প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারসহ ৩ দফা দাবিতে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন করেছেন। মঙ্গলবার (২৮ মে) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা কর্মবিরতির ঘোষণা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। তবে পরীক্ষাসমূহ এই কর্মসূচির আওতামুক্ত ছিল। তাদের অন্য দুইটি দাবি হলো- প্রতিশ্রুত সুপার গ্রেডে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভূক্তি এবং শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতনস্কেল প্রবর্তন।
এর আগে, গত রোববার (২৬ মে) একই দাবিতে মানববন্ধন করেন শিক্ষকরা।এছাড়া আগামী ৪ জুনের মধ্যে সুরাহা না হলে বৃহত্তর কর্মসূচির ঘোষণা দেন তারা।
এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মামুনুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের আহ্বানে আমরা কর্মবিরতিত পালন করছি। আমাদের দাবি মানা না হলে আরো কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবো।
শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা আমাদের জন্য মাঠে নামিনি। আমরা মাঠে নেমেছি অনাগত শিক্ষকদের জন্য। সার্বজনীন পেনশন নীতিমালা চালু হলে মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশায় আগ্রহী হবে না। যত অযোগ্যরা আসবে একটি পক্ষের লাভ হবে। আগামী ৪ জুনের মধ্যে এই নীতিমালার প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার করা না হলে আরো বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য