ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

গাদাগাদি করে নেয়া হলো কুবি'র ভর্তি পরিক্ষা, এক টেবিলে ১৮ জন!

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মে, ২০২৪ ১৮:৩৮
নিজস্ব প্রতিবেদক
গাদাগাদি করে নেয়া হলো কুবি'র ভর্তি পরিক্ষা, এক টেবিলে ১৮ জন!

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দেশের ২৪টি সাধারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ‘বি’ ইউনিটের গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে আজ (৩ মে)। এরমধ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) অন্তর্গত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে দেখা যায় বেশ কয়েকটি ডিপার্টমেন্টের সেমিনার লাইব্রেরি কক্ষে পরীক্ষার্থীরা গাদাগাদি করে বসে পরীক্ষা দিচ্ছেন। তবে শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, উপাচার্য ইন্টেনশনালি অনভিজ্ঞ এবং মোস্ট জুনিয়র শিক্ষকদেরকে এই দায়িত্ব দিয়ে ভর্তি পরীক্ষার মতো একটি আয়োজনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের সব সেমিনার লাইব্রেরিতেই ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হয় আজ। এসময় সেখানে একেক টেবিলে ১৮ থেকে ২০জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় বসেছেন বলেও দেখা যায়। এছাড়া প্রশাসনিক ভবনের হল রুমেও এবার ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হয়েছে বলে জানা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পূর্বের 'এ' ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায়ও এভাবে সেমিনার লাইব্রেরিগুলোতে আসন বিন্যাস করা হয়েছে।

সেমিনার লাইব্রেরিতে পরীক্ষা দেয়া এক শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা যায় সেমিনার কক্ষে তাদের কোন সিট প্ল্যান বসানো হয়নি। শিক্ষকরা যাকে যেখানে বসতে বলেছেন তারা সেখানেই বসে পরীক্ষা দেন। একসাথে এক টেবিলে এতোজন গাদাগাদি করে পরীক্ষা দেয়াতে মনোযোগেও সমস্যা হচ্ছিলো বারবার। আরও বিভিন্ন জায়গায় ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে আসলেও এভাবে ঠাসাঠাসি ভাবে বসে পরীক্ষা দেয়ার অভিজ্ঞতা এখানেই প্রথম।

এনিয়ে বিজ্ঞান অনুষদের ৫ম তলার হল পরিদর্শক ও গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিমকে প্রশ্ন করা হলে তিনি কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়ককে প্রশ্ন করতে বলেন।

‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার আহ্বায়ক ড. মুহাম্মদ সোহরাব উদ্দিন বলেন, আমি ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার আহ্বায়ক। কিন্তু সিট প্ল্যানের জন্য ‘কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা কমিটি’ নামে আলাদা একটি কমিটি রয়েছে। সেই কমিটিই আসন বিন্যাসের ব্যপারে ভালো বলতে পারবে।

বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. প্রদীপ দেবনাথ বলেন, আমার অনুষদের প্রতিটি বিভাগের সেমিনার লাইব্রেরিতেই পরীক্ষা হয়েছে। এভাবে এক টেবিলে ১৮-২০ জন পরীক্ষা দিলে সেটার স্বচ্ছতা কতটুকু থাকবে? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন এটা কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা কমিটিই বলতে পারবে।

শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. কাজী মো. কামাল উদ্দিন বলেন, পূর্বে যতগুলো ভর্তি পরীক্ষা হয়েছে সেগুলো আমরা খুব ইমেজের সাথে শেষ করেছি। কিন্তু এই উপাচার্য এবার আসন বন্টনের যে কমিটি করেছেন সেখানে তিনি তার আস্থাভাজন একেবারে অনভিজ্ঞ, জুনিয়র শিক্ষকদেরকে তিনি দায়িত্ব দিয়েছেন। যার ফলে এরা ল্যাব, সেমিনারের মতো রুম গুলোতেও এবার পরীক্ষা নিয়েছে। যেখানে ৫জন বসতে পারবে সেখানে ১০জন বসিয়েছে। এটা আসলে এদের অনভিজ্ঞতার ফল। আর এই দায়ভার সম্পূর্ণ উপাচার্যের। তিনি ভর্তি পরীক্ষার মতো একটি আয়োজনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছেন। দেশবাসীর কাছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে হাস্যকর করে তুলছেন।

কেন্দ্র ব্যবস্থা কমিটির সদস্য সচিব আবু উবায়দা রাহিদের কাছে এবিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এমন অদ্ভুত আসন বিন্যাসের দায়ভার তিনি নিবেন কিনা, সেই প্রশ্ন করা হলে তিনি নিজে কোন দায় না নিয়ে কমিটির আহ্বায়কের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।

কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়ক ও লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. রশিদুল ইসলাম শেখ বলেন, এবার আমরা চেয়েছি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে সর্বোচ্চ সংখ্যক পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নিতে। সেজন্যই সেমিনার লাইব্রেরি গুলোতেও পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। এছাড়া এই অল্প সংখ্যক পরীক্ষার্থীর জন্য আরেকটা কেন্দ্র ব্যবস্থা করা কঠিন ছিল।

এক টেবিলে ১৮ থেকে ২০ জন একসাথে পরীক্ষা দিলে সেখানে স্বচ্ছতা থাকবে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সেখানে আমাদের শিক্ষকেরা দায়িত্বে ছিলেন। তারা সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেছেন। এখন যদি কোনো অভিযোগ থাকে তাহলে পরবর্তীতে এভাবে সেমিনার লাইব্রেরিগুলোতে আমরা আর পরীক্ষা নেবোনা।

প্রসঙ্গত, গুচ্ছভুক্ত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে এবার ৪ হাজার ২৯২ জন পরীক্ষার্থীর আসনের ব্যবস্থা করা হয়। এরমধ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এবং কুমিল্লা টিচার্স ট্রেনিং সেন্টার এই দুইটি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ৩ মে (শুক্রবার) সকাল ১১ টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত এই পরীক্ষা নেয়া হয়।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    গুচ্ছে জবি থাকবে কি থাকবে না নির্ধারণ করবেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

    নিজস্ব প্রতিবেদক
    ৩ মে, ২০২৪ ১৭:২১
    নিজস্ব প্রতিবেদক
    গুচ্ছে জবি থাকবে কি থাকবে না নির্ধারণ করবেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

    আমি নতুন উপাচার্যের দায়িত্ব নিয়েছি, সে অনুযায়ী ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করছি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছে থাকবে কি থাকবে না সেটা আমার সিনিয়র শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের ওপর নির্ভর করবে যে তারা কি চান।

    শুক্রবার (৩ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ ভর্তি প্রক্রিয়ার ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম এসব কথা বলেন।

    এসময় উপাচার্য বলেন, গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা তুলে ধরবে গণমাধ্যম, এই আশা আমি করি। এছাড়াও গুচ্ছের ভালো দিক ও খারাপ দিকগুলোও যেন স্পষ্টভাবে গণমাধ্যমে উঠে আসে সে বিষয়ে নজর দিতে বলেন তিনি।

    গুচ্ছ প্রক্রিয়ায় একের পর এক মেধাতালিকা প্রকাশ করার বিষয়ে ড. সাদেকা হালিম বলেন, এবার তো প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ। আশা করি, এবার বেশি মেধাতালিকা প্রকাশের প্রয়োজন হবে না। যারা সাধারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়তে ইচ্ছুক তারাই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে।

    জবি শিক্ষকের বিচার চাইলেন একই বিভাগের শিক্ষকরা ফেসবুকে জবির ডিনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, বিচার চেয়ে ভিসির দ্বারস্থ

    উল্লেখ্য, এবার ৬ হাজার আসনের বিপরীতে ‘বি’ ইউনিটে মোট আবেদন পড়েছে মোট ৯৪ হাজার ৯৩১ পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরীক্ষা দিয়েছে ১৯ হাজার ৭৭৩ জন পরীক্ষার্থী।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      হলার যুক্ত বাইক নিয়ে গুচ্ছের ইবি কেন্দ্রে আতঙ্ক ছড়াচ্ছিলেন তারা

      নিজস্ব প্রতিবেদক
      ৩ মে, ২০২৪ ১৬:২২
      নিজস্ব প্রতিবেদক
      হলার যুক্ত বাইক নিয়ে গুচ্ছের ইবি কেন্দ্রে আতঙ্ক ছড়াচ্ছিলেন তারা

      ইবি প্রতিনিধি : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের গুচ্ছ 'বি' ইউনিটের পরীক্ষা চলাকলীন সময় কেন্দ্র এলাকায় অনুমোদনহীন গতিশীল ও বিকট শব্দের বাইকের দৌরাত্ম্যে আতঙ্কিত ছিলেন পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থী ও অবিভাবকেরা। এদিন সাইলেন্সর খুলে হলার লাগিয়ে উচ্চ শব্দে পরীক্ষা কেন্দ্রের আশেপাশে এসব বাইকগুলো চলতে দেখা যায়। পরে প্রক্টরিয়াল বডি ব্যবস্থা নিলে কিছুটা শিথিল হয় এদের নিপীরন।

      শুক্রবার (৩ মে) দুপুর ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ ইউনিটভূক্ত মানবিক বিভাগের পরীক্ষা শুরু হয়ে চলে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। এতে ৭ হাজার ২৪৬ জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ করার কথা ছিল। ভর্তি পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে 'জয় বাংলা' বাইক সার্ভিসের ৬টি বাইককে জরুরী পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌছে দেওয়ার অনুমতি প্রদান করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

      প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাইকগুলোসহ পরীক্ষার্থীদের সাথে আসা বাইকগুলোর জন্য ডরমেটরি গেটে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়। সেখান থেকে বাইকগুলো যাতে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে না আসতে পারে সেজন্য দায়িত্বরত আনসার সদস্যদেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

      তবে সরেজমিনে দেখা যায়, প্রশাসন থেকে ৬টি বাইকের অনুমতি প্রদান করা হলেও প্রকৃতপক্ষে এর সংখ্যা ছিলো আরও অধিক। বেপোরোয়া গতিতে চলতে দেখা যায় জয় বাংলা বাইক সার্ভিসের বাইরের বাইকদের। হলার লাগানো বাইকের বিকট শব্দে পরীক্ষা কেন্দ্রে অননুমোদিত বাইক চালকদের বেপরোয়া গতি নিয়েও ভীতি প্রকাশ করেছে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অবিভাবকরা। খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, অনুমতিহীন বাইকগুলোর চালক বেশীরভাগই শাখা ছাত্রলীগের কর্মী।

      বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব জ্ঞানহীন এসব কর্মকান্ডে উপস্থিত এক অভিভাবক বলেন, এতো গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষায় এরকম শব্দদূষণ কোনভাবে কাম্য নয়। শিক্ষার্থীদের চলাচলের জন্য যদিও বাইক সার্ভিসটি প্রশংসার দাবীদার তবুও পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে এরকম উচ্চ শব্দদূষণ শিক্ষার্থীদের মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। পরবর্তীতে এরকম ঘটনা না ঘটুক সেই প্রত্যাশা রাখি।

      অনুষদ ভবনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী তাসলিমা নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, আমি দ্বিতীয় তলায় রুমে বসে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলাম। এসময় বাইরে থেকে বারবার বাইকগুলোর তীব্র শব্দে বারবার মনোযোগ নষ্ট হয়েছে। বিষয়টি আমার জন্য একটি বিরক্তিকর অভিজ্ঞতা ছিলো।

      এসময় হলার যুক্ত ইয়ামাহা ব্র‍্যান্ডের আরওয়ানফাইভ বাইক নিয়ে ঘুরাফেরা করা ম্যানেজমেন্ট বিভাগের আসিফ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, পরীক্ষার কেন্দ্রগুলোর সামনে আমাদের হলগুলোর হেল্প ডেস্ক ছিলো। সে সময় আমি বন্ধুর বাইক নিয়ে ডেস্কগুলো দেখতে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমি জানতাম না যে বাইকে হলার লাগানো। পরে আমি বিষয়টি বুজতে পেরে বাইকটি রেখে দিয়েছিলাম। তবে আমি ভুলটি স্বীকার করছি জয় বাংলা বাইকের বাইরে বাইক চালানো আমাদের উচিত হয়নি।

      এসময় শৃঙ্খলা কমিটির দায়িত্বে থাকা সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ আমজাদ হোসেন বলেন, আমার সামনেই যে কয়েকটি বাইক চলাচল করছিলো তাদেরকে আমি সাথে সাথেই নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু এর পরেও কয়েকটি বাইক অবাধে চলাফেরা করেছিলো। আমি এ বিষয়ে স্যারের সাথে কথা বলবো যাতে পরবর্তী পরীক্ষায় এরকম কোনো ঘটনা না ঘটে।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        এশিয়া ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিয়ে এগিয়েছে বাকৃবি

        নিজস্ব প্রতিবেদক
        ৩ মে, ২০২৪ ১৬:১৯
        নিজস্ব প্রতিবেদক
        এশিয়া ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিয়ে এগিয়েছে বাকৃবি

        বাকৃবি প্রতিনিধিঃ বিশ্বের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশ্বিক আঞ্চলিক ও বিষয়ভিত্তিক র‌্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য র‌্যাংকিং হলো টাইমস হায়ার এডুকেশন র‌্যাংকিং (টিএইচই)। টিএইচই এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয় (আঞ্চলিক) র‌্যাংকিং-২০২৪ এ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) অবস্থান ৩৫১ থেকে ৪০০ এর মধ্যে। এ র‌্যাংকিংয়ে ২০২৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ছিলো ৪০১ থেকে ৫০০ এর মধ্যে।

        ২০২৪ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট প্রাপ্ত স্কোর ৩১ দশমিক ৮ যা ২০২৩ সালে ছিলো প্রায় ২৪। অর্থাৎ অবস্থান ও স্কোর দুই ক্ষেত্রেই অনেক এগিয়েছে বাকৃবি।

        টিএইচই এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিং-২০২৪ এ অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বাকৃবির অবস্থান যৌথভাবে দ্বিতীয় (নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানও ৩৫১ থেকে ৪০০ এর মধ্যে)। এছাড়া এবছর দেশের মোট ৯ টি বিশ্ববিদ্যালয় টিএইচই এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিং-২০২৪ এ স্থান করে নিয়েছে।

        ৩ মে (শুক্রবার) সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলে (আইকিউএসি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসকল কথা বলেন আইকিউএসি-এর পরিচালক ও অতিরিক্ত পরিচালকবৃন্দ।

        আইকিউএসিয়ের অফিসে ওই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন আইকিউএসিয়ের পরিচালক অধ্যাপক ড. সুকুমার সাহা, আইকিউএসিয়ের র‌্যাংকিং কমিটির বিশেষজ্ঞ সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আলমগীর হোসেন, অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. নাহিদ সাত্তার এবং অধ্যাপক ড. জাহান আরা বেগম।

        সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ড. মো. আলমগীর হোসেন বলেন, এশিয়ার ৩১ টি দেশের মোট ৭৩৯ টি বিশ্ববিদ্যালয় টিএইচই আঞ্চলিক র‌্যাংকিং-২০২৪ এ স্থান পেয়েছে। সে অনুযায়ী বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বাকৃবি ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় (এনএসইউ) যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে। অন্যদিকে যৌথভাবে ১ম অবস্থান অর্জন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। এখানে সবার মাঝে একটি ভুল ধারণা রয়েছে, র‌্যাংকিংয়ে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম আগে দেওয়া সে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কোরও বেশি এমনটিই মনে করেন অধিকাংশরা। তবে টিএইচইয়ের নিয়মানুযায়ী যে কোনো র‌্যাংকিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামগুলো দেওয়া হয় ইংরেজি বর্ণক্রম অনুযায়ী। সেকারণে জাবির (জে) আগে বুয়েটের (বি) নাম এসেছে এবং এনএসইউয়ের (এন) আগে বাকৃবির (বি) নাম এসেছে। তবে প্রকৃতপক্ষে স্কোর অনুযায়ী দেশে ১ম, ২য়, ৩য় এবং ৪র্থ অবস্থান অর্জন করেছে যথাক্রমে জাবি, বুয়েট, এনএসইউ এবং বাকৃবি।

        সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আইকিউএসিয়ের অন্যান্য সদস্যরা বলেন, শিক্ষাদান, গবেষণার মান, গবেষণার পরিবেশ, ইন্ডাস্ট্রির সাথে সংযোগ এবং আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গিয়ের ওপর মোট ১৮ টি নির্দেশকের প্রাপ্ত স্কোরের ওপর ভিত্তি করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকা দেওয়া হয়েছে। এ তালিকায় স্থান পেতে হলে একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে বিগত পাঁচ বছরে কমপক্ষে এক হাজার এবং প্রতি বছরে কমপক্ষে ১৫০ টি প্রবন্ধ স্কোপাস ইন্ডেক্সে প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি টিএইচই ডেটা পোর্টালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল তথ্যাদি প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক। বাকৃবি ২০২২ সাল থেকে টিএইচই র‌্যাংকিংয়ে তালিকাভুক্ত হয়ে আসছে। ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতিবছরই আঞ্চলিক পর্যায়ের র‌্যাংকিংয়ে স্কোর বৃদ্ধি করে এগিয়েছে বাকৃবি।

        এ বিষয়ে বাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, বাকৃবি র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে চলেছে এটি আমারে গর্বের বিষয়। তবে আমাদের আরও আগানোর সুযোগ রয়েছে। বাকৃবির অধিকাংশ শিক্ষক বিদেশের সুনামধন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তাই তাঁরা চাইলেই ভালো গবেষণা, শিক্ষাদান এবং আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গিও মাধ্যমে র‌্যাংকিংয়ে ভালো অবস্থান অর্জনে ভূমিকা রাখতে পারবে। তবে আমাদের ২টি প্রধান প্রতিবন্ধকতা হলো শিক্ষাখাতে বাজেট স্বল্পতা এবং গবেষণার পরিবেশ সর্বদা এক না থাকা। এ দুটো বিষয়ের উন্নতি করতে পারলে র‌্যাংকিংয়ে বাকৃবি সবার চেয়ে এগিয়ে যাবে।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          মায়ের কোলে চেপে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় মীম

          নিজস্ব প্রতিবেদক
          ৩ মে, ২০২৪ ১৬:৬
          নিজস্ব প্রতিবেদক
          মায়ের কোলে চেপে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় মীম

          ইবি প্রতিনিধি : জন্ম থেকেই হাটতে পারেননা মীম। হাতের সমস্যা থাকার কারণে ধীরে ধীরে লিখতে হয়। মায়ের কোলে উঠেই শিক্ষাজীবনের দুই তৃতীয়াংশ পারি দিয়েছেন তিনি। এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাতেও ভালো ফলাফলের আশা মীমের।

          মীমের পুরো নাম মাহফুজা আক্তার মীম। তার বাড়ি রাজবাড়ী জেলার পাংশায়। দুই ভাইবোনের সংসারে বড় মেয়ে মীম। তার বাবার নাম মঞ্জু হোসেন পেশায় ফার্নিচার মিস্ত্রী মায়ের নাম সাহেরা বেগম।

          শুক্রবার (৩ মে) গুচ্ছভুক্ত 'বি' ইউনিটের পরীক্ষায় মায়ের কোলে উঠে পরীক্ষার অংশ নিতে আসে মীম। বাহাদুরপুর পন্ডিত কাজী আবুল হোসেন কলেজ থেকে ২০২৩ সালে এইচএসসি পাশ করেন তিনি।

          মায়ের অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও মীমকে কেউ থামাতে পারেননি। ছোটবেলায় স্কুলে ভর্তি হতে গিয়ে শিকার হতে হয়েছে নানা বাঁধার। তবে নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখে স্কুল কলেজ জয় করে এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পার হওয়ার অপেক্ষা।

          পরীক্ষা শেষে কথা হয় মীমের সাথে। তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ পরীক্ষা ভালো হয়েছে। জন্মগতভাবে আমি শারীরিক অসুস্থ, আমার লেখাপড়ার পুরোটাই আম্মু পাশে ছিলো, আমার এ পর্যন্ত শিক্ষাজীবন আম্মুর কোলে বসেই। ছোটোবেলায় আমি যখন স্কুলে ভর্তি হতে যাই সাধারণ বাচ্চাদের মতো আমাকে ভর্তি নিতে চায়নি। স্কুল থেকে বলা হয়েছিলো আমি হয়তো পড়তে পারবেনা অন্য বাচ্চাদের সমস্যা হবে। আম্মুর অনুরোধে শিক্ষকরা আমাকে ভর্তি নেয়। ভর্তি নিলেও আমার রোল নির্ধারণ হয় সবার পরে। পরবর্তীতে বার্ষিক পরীক্ষার পর যখন আমি ক্লাসে প্রথম স্থান অধিকার করি তখন শিক্ষকরা আমাকে নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে। এরপর থেকে নিজের চেষ্টায় ভালো ফলাফল ধরে রেখেছি। আজ জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা দিয়েছি ।

          পরীক্ষা সম্পর্কে মীম বলেন, প্রশ্ন তুলনামূলক সহজ ছিলো, তবে আমার হাতে সমস্যা থাকার কারণে আমি এক্সট্রা সময় পাইনি। আমার খাতাই আগে নিয়েছে বরং।

          নিজের স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে মীম বলেন, মার স্বপ্নই আমার স্বপ্ন।

          মীমের মা সাহেরা বেগম বলেন, কোন মা যেন তার সন্তানকে না বলে যে আমার সন্তান পড়তে চায় না। সকল পিতা মাতার উদ্দেশ্যে আমার একটাই উক্তি চেষ্টা করবেন, আমি আমার অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে এতো দূর আসতে পারলে আপনি আপনার সুস্থ সন্তানকে নিয়ে অনেকদূর এগিয়ে যেতে পারবেন। শিক্ষা ছাড়া কোনো উপায় নেই, আমি বিশ্বাস করি আমার মেয়ে যদি শিক্ষিত হয় আমি মারা গেলে আমার মেয়ে তার বাবার বোঝা হবেনা। সেজন্য আমি এতোদূর তাকে এনেছি।

          তার মা আরও বলেন, ওর জন্মের পর থেকেই ওর বাবা আমাকে সাপোর্ট করেছে। আমার আরেকটা ছোট ছেলে রয়েছে। তবে আমার স্বপ্ন আমার বড় মেয়ে মীমকে ঘিরেই। আমি চাই আমার মেয়ে একটা সরকারি চাকরি করুক, সমাজের বোঝা না হোক।

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত