ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

জারুল ফুলে মাতোয়ারা ববি ক্যাম্পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ এপ্রিল, ২০২৪ ১২:৭
নিজস্ব প্রতিবেদক
জারুল ফুলে মাতোয়ারা ববি ক্যাম্পাস

ববি প্রতিনিধিঃ 

মনের মধ্যে যখন খুশি এই ছবিটি আঁকি

এক পাশে তার জারুল গাছে দুটি হলুদ পাখি।

বেগুনি রঙের উদ্ভাস নিয়ে এই গ্রীষ্মে ফুটেছে জারুল ফুল। কবিতায় কবি আহসান হাবীব হয়তো কোনো এক গ্রীষ্মের তপ্ততার মধ্যেই স্নিগ্ধ বর্ষায় ভিজতে ভিজতে জারুল ফুলকে মনে লালন করেছিলেন। চৈত্রের প্রচণ্ড তাপদহনে জারুল দিয়ে পথিকের মন কেড়ে নেয়। তারই কাব্যময় দ্যুতি ছড়িয়ে পড়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি)।

ক্যাম্পাসের ছাত্রী হলের রাস্তার দুই ধার দিয়ে, ক্যাম্পাসের সামনের রাস্তায় ধার দিয়ে এ ছাড়া একাডেমিক ভবন, আবাসিক হল আশপাশে জারুল ফুল মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে। শীত ও বসন্তের পরে ভরা গ্রীষ্মেও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে ফুলের মায়াবী আবহে আচ্ছন্ন করে রেখেছে এ জারুল। তেজহীন রৌদ্রদীপ্ত সকাল, তপ্ত দুপুর কিংবা পশ্চিমে এলিয়ে দেওয়া সূর্যহীন বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পথচারীদের দাঁড় করিয়ে নিজের দিকে একপলক দেখার সম্মোহনী শক্তি নিয়ে যেন ফুলগুলো পরিস্ফুটিত হয়েছে।

জারুলের হাস্যোজ্জ্বল প্রকৃতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের রাষ্ট্র্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী উপমা দত্ত জানান, গ্রীষ্মের উত্তপ্ত প্রকৃতিকে রাঙিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস জুড়ে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে জারুল। গাড়সবুজ পাতার মাঝে থোকা থোকা বেগুণী রঙের ফুল যেন রূপসীর মতো সাজিয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে। প্রতিবছর ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী ছাড়াও অনেক দর্শনার্থীদেরও জারুলের রূপে সজ্জিত এই ক্যাম্পাসের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করার বিশেষ আকর্ষণ।

এবিষয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মনজুুর হোসেন বলেন, প্রত্যেক ঋতুই তার নিজস্ব রুপ নিয়ে প্রকৃতিকে সাজিয়ে তোলে।তেমনি গ্রীষ্মকাল প্রচন্ড তাপদাহ নিয়ে আবির্ভূত হলেও প্রকৃতিকে সাজিয়েছে অপরুপ সৌন্দর্যে ।প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত দক্ষিণবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সেজেছে জারুলের অপরুপ সৌন্দর্যে। তীব্র তাপদাহে জনজীবন যখন ক্লান্ত ঠিক তখন জারুলের সৌন্দর্য বিমোহিত করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদের এবং ভ্রমনপিপাসুদের। এছাড়াও জারুলের ভেষজ গুণও রয়েছে - জ্বর, অনিদ্রা, কাশি ও অজীর্ণতায় জারুল উপকারী।

উল্লেখ, জারুল (ইংরেজি: Giant Crape-myrtle, Queen's Crape-myrtle, Banabá Plant, Pride of India; বৈজ্ঞানিক নাম: Lagerstroemia speciosa) বাংলাদেশের নিম্নভূমির একান্ত অন্তরঙ্গ তরুদের অন্যতম। লেজারস্ট্রমিয়া গণের এই উদ্ভিদ দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক প্রজাতি।

মেহরাব হোসেন/

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    জাবি বাংলা সংসদের ভিপি মনীষা, জিএস সামশুল

    নিজস্ব প্রতিবেদক
    ২৯ এপ্রিল, ২০২৪ ১৯:৫৭
    নিজস্ব প্রতিবেদক
    জাবি বাংলা সংসদের ভিপি মনীষা, জিএস সামশুল

    জাবি প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বাংলা বিভাগের ছাত্র সংসদের ২০২৪ সেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হয়েছেন মাস্টার্সের শিক্ষার্থী (৪৮ তম ব্যাচ) মনীষা হক এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) হয়েছেন স্নাতক চতুর্থ বর্ষের (৪৯ তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী সামশুল আলম।

    সোমবার দুপুর ১২টায় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক খন্দকার শামীম আহমেদ।

    এর আগে বাংলা বিভাগের শ্রেণিকক্ষে সকাল সাড়ে ১০টায় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বেলা সাড়ে ১১টায় নির্বাচন শেষ হয়।

    নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম বলেন, আমাকে বাংলা সংসদ ২০২৪ নির্বাচনে বাংলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক ( জিএস) হিসেবে নির্বাচিত করায় আমার ৪৯ তম ব্যাচসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বিগত সংসদে আমি প্রচার সম্পাদক ছিলাম তাই সেখানে থেকে সংসদের কাজ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা হয়েছে, আমি আশা করি আগামী দিন গুলোতে সকল সাংসদের মতের ভিত্তিতে আমরা বাংলা সংসদের সুনাম অব্যাহত রাখবো ইনশাআল্লাহ।

    নির্বাচনে সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) নির্বাচিত হয়েছেন ৫০ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রবিন মিয়া , শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অমিত বিশ্বাস বাপ্পী, সহ-শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আশরাফুল মিয়া, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক গোলাম রাউফু, সহ-সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মো: আরিফুজ্জামান লিমন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক ধীরাজ রায়, সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক-১ খাইরুল ইসলাম নাহিদ, সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক-২ ফাতেমা মাহফুজ সারা, নাট্য সম্পাদক কাজী সাদিয়া আক্তার বিথী, সহ নাট্য সম্পাদক আবু নাঈম, ক্রীড়া সম্পাদক মো: সাদিকুল ইসলাম, সহ-ক্রীড়া সম্পাদক-১ মো: বেলাল হোসেন, সহ-ক্রীড়া সম্পাদক-২ কায়েফ আহমেদ সিয়াম,, প্রচার সম্পাদক হুমাইরা আক্তার হ্যাপী এবং সহ-প্রচার ফাহিম ফয়সাল। এছাড়াও প্রতিটি ব্যাচ থেকে দুজন করে প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন তারা হলেন যথাক্রমে, ১ম বর্ষ (৫২তম ব্যাচ)ছাত্র মোঃ রাকিবুল হাসান, ছাত্রী মারিয়া আক্তার, ২য় বর্ষ (৫১তম ব্যাচ) ছাত্র মোঃ মোরসালিন, ছাত্রী সৈয়দা রুসনাত জাহান রামিসা, ৩য় বর্ষ (৫০তম ব্যাচ) ছাত্র প্রত্যয় সরকার, ছাত্রী সাথী রায়, ৪র্থ বর্ষ (৪৯তম ব্যাচ) ছাত্র সুমন কুমার সরকার, স্নাতকোত্তর (৪৮তম ব্যাচ) ছাত্র আইরিন আক্তার, ছাত্র শেখ সাদী হাসান, ছাত্রী লিমা আক্তার প্রমুখ।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      কুবি উপচার্যের সাথে শিক্ষকদের হামলায় অংশ নিলেন যারা!

      নিজস্ব প্রতিবেদক
      ২৯ এপ্রিল, ২০২৪ ২০:৩
      নিজস্ব প্রতিবেদক
      কুবি উপচার্যের সাথে শিক্ষকদের হামলায় অংশ নিলেন যারা!

      কুবি প্রতিনিধি: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) সম্প্রতি সময়ে উপচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম আবদুল মঈনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম অভিযোগ উঠেছে। তিনি প্রক্টরের অবৈধ অনলাইন পিএইচডি ডিগ্রির অনুমোদন, শর্ত পূরণ না করা সত্ত্বেও কতিপয় শিক্ষককে পদোন্নতি ও একটি অংশকে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত, পদোন্নতি নীতিমালায় না থাকলেও শিক্ষকদের পদোন্নতির সময় অবৈধ শর্ত প্রদান এবং বিভিন্ন বিভাগে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী বিভাগীয় প্রদানের দায়িত্ব হস্তান্তর না করা। এছাড়াও উপাচার্যের পছন্দের লোকদের আইন লঙ্ঘন করে দায়িত্ব দেওয়া, উপাচার্য কর্তৃক সাবেক শিক্ষার্থী দিয়ে ক্যাডার বাহিনী তৈরি করা এবং এই ক্যাডারদের দ্বারা শিক্ষকদের পেটানো এবং গালিগালাজ করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার অর্থ ব্যয়ে অস্বচ্ছতা এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করার অভিযোগ তুলে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

      কয়েক দফা আন্দোলন করেও দাবি আদায় না হওয়ায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম. আবদুল মঈনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে শিক্ষক সমিতি। পরে উপাচার্যসহ, ট্রেজারার এবং প্রক্টরের দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা। তবে চলমান আন্দোলনে প্রায়শই শিক্ষকদের সাথে মারামারি ও গালাগালি করতে দেখা যাচ্ছে সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থী এবং সাবেক কয়েকজন ছাত্রলীগের নেতা। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেকশন অফিসারসহ বিভিন্ন পদে আবেদন করেছেন এবং কয়েকজন শাখা ছাত্রলীগের পদ ভাগিয়ে আনার জন্য এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের কয়েকজন হলেন হত্যা ও শিক্ষার্থীদের মারধরের মামলার আসামি, কয়েকজনের বিরুদ্ধে রয়েছে ধর্ষণ, এলাকায় লুট পাটের অভিযোগ, সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ এবং শিক্ষকদের হামলা, হুমকি ও গালাগালির অভিযোগ। তবে গত ২৮ এপ্রিল উপাচার্যের নেতৃত্বেই শিক্ষকদের উপর হামলা করেন এই সাবেক শিক্ষার্থীরা। তাদের কেউ বর্তমান শিক্ষার্থী নন। কারণ বর্তমান সর্বশেষ স্নাতকোত্তর চলমান সেশন হলো ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ যা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৩তম ব্যাচ।

      প্রতিবেদকের হাতে থাকা ভিডিওতে দেখা যায়, প্রশাসনিক ভবনের সামনে ড. মো. শামিমুল ইসলাম কে বিপ্লব দাস ও আমিনুর রহমান বিশ্বাস ধাক্কা দিয়ে তাকে মাটিতে ফেলে দেন। এরপর আমিনুর বিশ্বাস ও রকিবুল হাসান রকি গিয়ে শিক্ষক লাউঞ্জ বন্ধ করে দেন। এসময় সাবেক শিক্ষার্থী পার্থ সরকার, বিপ্লব দাসসহ অনেকে শিক্ষকদেরকে কিল-ঘুষি ও লাথি দিতে দেখা যায়। হামলা চলাকালে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মো. আবু তাহের, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শামিমুল ইসলাম, লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস, মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান আহত হন। পরবর্তী আমিনুর বিশ্বাস পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র নন্দীকে ধাক্কা দিলে হাতাহাতি ঘটনা ঘটে। এর আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারিও উপাচার্য ও প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতে শিক্ষকদের উপর হামলা করেন তাঁরা।

      খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম. আবদুল মঈন যোগদানে পরপরই অস্ত্রসহ ক্যাম্পাসে মহড়া দেন তাদের কয়েকজন। উপাচার্য ও প্রক্টরের ইন্ধনে ঐ অস্ত্র মহড়ার পর থেকেই বিভিন্ন সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের হুমকি, মারধর করে আসছেন তারা। পরে শিক্ষকদেরও শারীরিকভাবে লাঞ্ছনা শুরু করেন তারা। তবে সময়ে এসব অঘটন ঘটলেও কোনো বিচারের মুখোমুখি হতে হয়নি তাদের। উলটো উপাচার্য তাদের সাথে বিভিন্ন উৎসব পালন ও মিটিং করে দিক নির্দেশনা দিতে দেখা যায় উপাচার্যকে। অভিযোগ রয়েছে, প্রত্যেকটি ঘটনার আগে উপাচার্যের বাংলোতে বসে মিটিং করেন তারা। এবার প্রশ্ন উঠেছে এরা আসলে কারা?

      জানা যায়, তাদের অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে আবেদন করেছেন। উপাচার্য তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দিবেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। এছাড়াও শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষ পদ পাইয়ে দিতে উপাচার্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাছে সুপারিশ করেন বলেও জানা গেছে। তারা হলেন, নৃবিজ্ঞান ১০ ব্যাচের আমিনুর রহমান বিশ্বাস, লোকপ্রশাসন ৫ম ব্যাচের অনুপম দাস বাঁধন, রেজা-ই-এলাহি, অর্থনীতি বিভাগের ৮ম ব্যাচের মাসুদ আলম, আরিফুল ইসলাম বাপ্পী, ফয়সাল হোসেন, ফাইন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং ৯ম ব্যাচের ইকবাল হোসাইন খান, মেহেদী হৃদয়, একই বিভাগের ১০ ব্যাচের পার্থ সরকার, মার্কেটিং ৪র্থ ব্যাচের বিপ্লব চন্দ্র দাস, বাংলা ৯ম ব্যাচের ইমরান হোসাইন, প্রত্নতত্ত্ব ১১ ব্যাচের মুশফিকুর রহমান খান তানিম, মার্কেটিং ৯ম ব্যাচের রকিবুল হাসান রকি, লোকপ্রশাসন ১১ ব্যাচের এম নুর উদ্দিন হোসাইন, ও ফার্মেসি ১০ম ব্যাচের ইমাম হোসেন মাসুম প্রমুখ।

      তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন মার্কেটিং ৪র্থ ব্যাচের বিপ্লব চন্দ্র দাস, যিনি ছাত্রলীগ নেতা খালেদ সাইফুল্লাহ হত্যা মামলার প্রধান আসামি। ১৬৪ ধারায় পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্ত আছেন। গেল বছরে রেজার নির্দেশে অস্ত্রসহ বাইক শোডাউন তিনি ও ইকবাল খান। পরে এ ঘটনায় আবাসিক হল সিলগালা করে প্রশাসন। এ ঘটনার মাস ছয়েক পরই দুই শিক্ষার্থীকে প্রক্টরের ইঙ্গিতে মারধর করেন বিপ্লব ও ইকবাল। তবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না বিভিন্ন উৎসব উদ্‌যাপন করেন উপাচার্য। এছাড়াও আপত্তির মুখেও সান্ধ্যকালীন কোর্সে বিপ্লবকে ভর্তির নির্দেশ দেন উপাচার্য। বর্তমানে বিপ্লব ও ইকবাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির প্রত্যাশা করছেন।

      খালেদ সাইফুল্লাহ হত্যা মামলার আরেক আসামি হলেন শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজা-ই-এলাহীও। তার বিরুদ্ধে রয়েছে নতুন ক্যাম্পাসে ভূমি বাণিজ্য ও নারী ধর্ষণ মামলাও। এছাড়ায় নিজ এলাকা বরুড়ায় লুটপাট, সাংবাদিক দেখে নেওয়া, মাদকের অর্থ সরবরাহ সহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বর্তমানে তিনি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী।

      সাবেক শিক্ষার্থী আমিনুর বিশ্বাস বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী। আবাসিক হলে গন্ডগোল, সাংবাদিক হেনস্তা, শিক্ষকদের মারধরের অভিযোগ রয়েছে। সাবেক শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রার্থী ইমরান হোসেন, অনুপম দাশ বাঁধন, রকিবুল ইসলাম রকি, মেহেদী হাসান, মুশফিকুর রহমান খান, ইমাম হোসেন মাসুমের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ।

      শিক্ষকদের হামলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আমিনুর বিশ্বাস বলেন, তারাও (শিক্ষকরা) ধাক্কা দিয়েছে আমরাও ধাক্কা দিয়েছি। ধাক্কা যদি লেগে যায় তাহলে তো করার কিছু নাই। আমরা বের হতে চেয়েছিলাম।

      এর আগে ৮ মার্চ ছাত্রলীগের তিন নেতাকে প্রকাশ্যে মারধরের করেন রেজা-ই-এলাহী সমর্থিত স্থানীয় যুবদল নেতা রনি, হত্যা মামলার আত্মস্বীকৃত খুনি বিপ্লব চন্দ্র দাস, সাবেক শিক্ষার্থী ইকবাল হোসেন খান, স্বজন বরণ বিশ্বাসসহ ১২ থেকে ১৫ জন । বর্তমানে ইকবাল হোসনে খান চাকরি প্রত্যাশী হিসাবে পরিচিত। তিনি গত ৮ মার্চ শিক্ষার্থীদের মারার অভিযোগের মামলায় ৩ নাম্বার আসামি। এখন তিনি শিক্ষকদের বিভিন্ন সময় হুমকি ধমকি দিয়ে আসতেছেন। এই অভিযোগে ইকবাল খানের সাথে কথা বলার জন্য মুঠোফোনে কয়েকবার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি।

      ইমাম হোসেন মাসুম গত কয়েকমাস আগেও বর্তমান প্রক্টরের অপসারণের আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি উপাচার্যের সাথে দপ্তরে দেখা যায়। মেহেদী হাসান চাকরী প্রত্যাশী ও ছাত্রলীগের পদ ভাগিয়ে আনার জন্য উপাচার্যের ক্ষমতা ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সময় হামলা করতে দেখা যায়। তিনি উপাচার্যের ক্ষমতা ব্যবহার করে ক্যাম্পাসে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।

      এমন অভিযোগে মেহেদী হাসানকে কয়েকবার মুটে ফোনে কল দিয়েও পাওয়া যায়নি।

      আরেকজন ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে চাকরি আশায় রয়েছেন রকিবুল ইসলাম রকি। তিনি ছিলেন সাবেক শাখা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজের ঘনিষ্ঠ অনুসারী। এখন চাকরির জন্য নিজের রাজনীতি দিকও পরিবর্তন করেছেন। তিনি বিভিন্ন সময় শিক্ষকদের গালাগাল ও অসভ্য ভাষা ব্যবহার করতে দেখা যায়। এছাড়াও তিনি শিক্ষক লাউঞ্জে তালা দিয়েছেন বলে অভিযোগও রয়েছে।

      এই নিয়ে রকিবুল ইসলাম রকি বলেন, আমি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মেলামেশা দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালা দিয়েছে আমরা তাদের চাইনা। তাই আমি শিক্ষক লাউঞ্জে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার জন্য গিয়েছিলাম। আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ম ব্যাচের ছাতত্র শেষ হওয়ার পরে কেন হলে অবস্থান করছেন? এই প্রশ্নে তিনি বলেন আমি বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক শিক্ষার্থী। সেটা আপনি রেজিস্ট্রার দপ্তরে গিয়ে খোঁজ নিলে জানতে পারবেন। আর হল প্রশাসন বললে আমি হল প্রশাসনের সাথে কথা বলব।

      এছাড়া অনুপম দাশ বাধঁন ও ইমরান হোসেন চাকরির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষক-শিক্ষর্থীদের সাথে বাকবিণ্ডায় জড়িয়ে পড়ছেন। গত ২৭ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত উপাচার্যের বাংলোতে উপাচার্য সন্ত্রাসীরা, অছাত্রদের সাথে মিটিং করেন। এর সিসিটিভি ফুটেজ তার প্রমাণ আছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান।

      সাবেক শিক্ষার্থীদের এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বর্তমান শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আবির রায়হান বলেন, একটা শিক্ষার্থী যখন সার্টিফিকেট তুলে ফেলে, তার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে কি কাজ থাকতে পারে? যেমন রিসার্চ রিলেটেড অর জব। কিন্তু এখানে কাউর এমন কিছু আছে বলে দৃশ্যমান না। এদের এই ফাঁকা রোলটা কাউর না কাউর অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যবহৃত হয়। এরা অনেকটা প্রশাসন ও কিছু ব্যক্তির জন্য গিনিপিগ এর মত কাজ করে, যা তাদের স্বার্থ নামক এক্সপেরিমেন্টে ব্যবহৃত হয়। সালমান ও এনায়েত ভাইদের মারধর দেখে শুরু করে এখন শিক্ষক সমিতি পর্যন্ত সেইম ল্যাব রেট গুলোই প্রশাসন ব্যবহার করছে। এমন কি রোহান ভাই এর হাত ও ভেঙ্গেছিল এরা, আর এদের নামে মামলাও রয়েছে। এমনকি ডকুমেন্ট মিলিয়ে দেখলে সেইম চেহারাগুলো বারবার দেখা যাবে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ এমনভাবে চলতে থাকলে হয়ত খালিদ সাইফুল্লাহ মতো আরেকজনকে দাফন করা লাগবে। এগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য বিব্রতকর, আমরা এগুলো সমাধান চাই।

      শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, শিক্ষকরা এবিষয়ে উদ্বিগ্ন। উপাচার্য নিজে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছে, বহিরাগতরা ট্রেজারার ও উপাচার্যের নির্দেশে তারা শিক্ষকদের উপর হামলা করেন। হামলাকারীদের মধ্যে আছে বিভিন্ন মামলার আসমি, বিভিন্ন অভিযোগ ও শিক্ষকদের সাথে ধাক্কাধাক্কির অভিযোগ। খালেদ সাইফুল্লাহ খুনের আসামিদের অপসরণের জন্য নিরাপত্তা বাহিনী কাছে জানানো হয়েছে।

      ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের কাজী ওমর সিদ্দিকী রানা ও উপচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম আবদুল মঈনকে কয়েকবার মুটেফোনে কল দিলেও পাওয়া যায়নি।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        জাবিতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে অধ্যাপক ড. মাহবুব আহসান খান স্মারক বৃত্তি প্রদান

        নিজস্ব প্রতিবেদক
        ২৯ এপ্রিল, ২০২৪ ১৯:৩৫
        নিজস্ব প্রতিবেদক
        জাবিতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে অধ্যাপক ড. মাহবুব আহসান খান স্মারক বৃত্তি প্রদান

        জাবি প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বাংলা বিভাগে অধ্যাপক ড. মাহবুব আহসান খান স্মারক বৃত্তি প্রদান এবং 'সাহিত্য অধ্যয়নে তথ্য প্রযুক্তির প্রাসঙ্গিকতা' বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

        সোমবার (২৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে এগারোটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২২০ নম্বর কক্ষে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

        অনুষ্ঠানে বাংলা বিভাগের সভাপতি প্রফেসর শামীমা সুলতানার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ভিসি প্রফেসর মো. নূরুল আলম বলেন, শিক্ষা খাতে স্মারক হিসেবে বৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে অধ্যাপক মাহবুব আহসান খান আমাদের মাঝে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। এতে করে শিক্ষার্থীরা তাদের পাঠে আরও বেশি মনোযোগী এবং আগ্রহী হবেন। যার ফলস্বরূপ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার মান বাড়বে।

        সেমিনার বিষয়ে উপাচার্য ড.নুরুল আলম বলেন, আজকের সেমিনারের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও যুগোপযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে সাহিত্য অধ্যয়নেও তথ্য প্রযুক্তির প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। এসময় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তা হিসেবে কলা ও মানবিকী অনুষদের ডিন প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক, প্রধান বক্তা হিসেবে শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ভিসি প্রফেসর রফিকুল্লাহ খান বক্তব্য রাখেন। এসময় বিভিন্ন বিভাগের প্রায় ২০ জন শিক্ষকসহ শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

        বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হওয়া এই বৃত্তি কার্যক্রমে প্রতিবছর স্নাতক চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফলাফলের উপর ভিত্তি করে মেধাক্রমের প্রথম দুইজনকে দেওয়া হবে।এরই অংশ হিসেবে এবছর মেধাতালিকায় বৃত্তি পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের (৪৮ ব্যাচের) দুই শিক্ষার্থী নহলি আকাশনীলা এবং মনীষা হক।

        উল্লেখ্য, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ১৮তম ব্যাচের প্রাক্তন ছাত্র প্রয়াত অধ্যাপক মাহবুব আহসান খান। পেশাগত জীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক ছিলেন। তাঁরই নামে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য এই বৃত্তি চালু করা হয়।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২ মে পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা

          নিজস্ব প্রতিবেদক
          ২৯ এপ্রিল, ২০২৪ ১৭:২৮
          নিজস্ব প্রতিবেদক
          দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২ মে পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা

          দেশব্যাপী তীব্র তাপপ্রবাহ চলছে। এর মধ্যেই শনিবার থেকে স্কুল-কলেজ খুলেছে। গত দুদিনে বহু শিক্ষার্থী ও শিক্ষক গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বেশ কয়েকজন মারাও গেছে। এমতাবস্থায় তাপদাহের মধ্যে স্কুল কলেজ মাদ্রাসা খোলা রাখা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

          সারাদেশে বহমান তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের বিদ্যালয় ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর লার্নিং সেন্টার আগামী বৃহস্পতিবার (২ মে) পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

          সোমবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। শিশু শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

          তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে এক সপ্তাহ এবং ঈদ, রোজার দীর্ঘ ছুটি শেষে গতকাল রোববার প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। তবে এক দিন ক্লাসের পরই কয়েকটি জেলায় নতুন করে ছুটির ঘোষণা হয়। কিন্তু প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো চালু রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এখন আবার তা বন্ধ ঘোষণা করা হল।

          এদিকে চলমান তাপপ্রবাহের মধ্যে প্রাথমিক, মাধ্যমিক স্কুল ও মাদ্রাসার ক্লাশ আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

          বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ স্ব-প্রণোদিত হয়ে সোমবার এ আদেশ দেন।

          আজকের আদেশে আদালত বলেছেন, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) রয়েছে সেগুলোতে যথারীতি পাঠদান ও পরীক্ষা কার্যক্রম চলবে। এছাড়া যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার দিন ধার্য করা থাকে সেক্ষেত্রে সিডিউল অনুযায়ী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত