ঢাকা, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
 
শিরোনাম

ইবি বঙ্গবন্ধু পরিষদ শিক্ষক ইউনিটের নেতৃত্বে ড. মাহবুবর ও ড. শেলিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ মার্চ, ২০২৪ ১৬:৩৯
নিজস্ব প্রতিবেদক
ইবি বঙ্গবন্ধু পরিষদ শিক্ষক ইউনিটের নেতৃত্বে ড. মাহবুবর ও ড. শেলিনা

ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ চর্চা ও গবেষণা ভিত্তিক সংগঠন 'বঙ্গবন্ধু পরিষদ শিক্ষক ইউনিট'র সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ইইই বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শেলিনা নাসরীন। আগামী ২ বছর তারা এই দায়িত্ব পালন করবেন।

সোমবার (৪ মার্চ) প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. আনিছুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সভাপতি ও সেক্রেটারি পদের জন্য প্রার্থীতা গ্রহণ করেছিলেন শুধু দুইজন। যার ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় তাদেরকে সভাপতি এবং সেক্রেটারি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এখন তারা বসে পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করবেন।

এ বিষয়ে নবনির্বাচিত সভাপতি অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ চর্চার উর্বর পরিবেশ সৃষ্টি, গবেষণা ও নতুন প্রজন্মকে উজ্জীবিত করার প্রত্যয় নিয়ে আমরা কাজ করবো। আগামী ৬ মার্চ পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।

নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. শেলিনা নাসরীন বলেন, কার্যকরী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় নিজেকে সৌভাগ্যের অংশীজন বলে মনে করছি। উক্ত পরিষদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।

এর আগে, আগামী ৬ মার্চ কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী প্রচারণা চালানোর নির্দেশ

    নিজস্ব প্রতিবেদক
    ৪ মার্চ, ২০২৪ ১৫:২১
    নিজস্ব প্রতিবেদক
    সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী প্রচারণা চালানোর নির্দেশ

    মাদকমুক্ত সমাজ ও দেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় সংগীত শেষে নিয়মিত মাদকবিরোধী প্রচারণা চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    সোমবার (৪ মার্চ) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তপন কুমার দাস স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় সংগীত শেষে নিয়মিত মাদকবিরোধী সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেওয়ার নির্দেশনা অনুযায়ী অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হলো।

    এব আগে, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব মোসাম্মৎ রহিমা আক্তার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে এক নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্কুল-কলেজসহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী প্রচারণা জোরদার করার লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান বা দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি জাতীয় সংগীত শেষে নিয়মিত মাদকবিরোধী সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও বিজ্ঞপ্তিতে অনুরোধ করা হয়।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      বাকৃবির কেন্দ্রীয় খামারের খড়ের গাদায় আগুন

      নিজস্ব প্রতিবেদক
      ৩ মার্চ, ২০২৪ ২০:২৭
      নিজস্ব প্রতিবেদক
      বাকৃবির কেন্দ্রীয় খামারের খড়ের গাদায় আগুন

      বাকৃবি প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) খামার ব্যবস্থাপনা শাখার সামনে থাকা খড়ের গাদায় হঠাৎ আগুন লেগে কিছু অংশ পুড়ে গেছে।

      রবিবার (৩ মার্চ) বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে বিকাল ৫ টার দিকে আগুন সমস্ত গাদায় ছড়িয়ে পড়ে পরতে থাকে। পরে এক ঘন্টার বেশি সময়ের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে বলে জানান ফায়ার সার্ভিস লিডার জাকারিয়া।

      প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সিগারেটের আগুন থেকে আগুনের সুত্রপাত হয়েছে। তবে প্রত্যক্ষদর্শী অনেকের ধারণা কেউ ইচ্ছাকৃত ভাবে খড়ে আগুন দিয়েছে। খড়ের নিচের অংশ অনেক সময় ধরে জ্বলার কারণে খড়ের উপরের অংশে যখন আগুন দেখা গেছে তখন খুব দ্রুততার সাথে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছিলো।

      ফায়ার সার্ভিস লিডার জাকারিয়া বলেন, আমরা বিকাল ৫ টা ১৫ মিনিটের সময়ে খবর পেয়েছি। খবর পাওয়া মাত্রই আমাদের টিম আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য এসেছি। আগুন নিয়ন্ত্রণে খামারের পাশের পুকুর থেকে পানি ব্যবহার করেছি। এক ঘন্টার বেশি সময়ের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এখনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস।

      প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান , পৌনে ৫ টার দিকে এক জায়গা থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। খড়ের সাথে সরিষা থাকার কারণে খুব দ্রুত আগুন চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন লাগার সময়ে নিরাপত্তাকর্মী ছিলো না। নিরাপত্তাকর্মী থাকলে হয়তো অনেক আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতো।

      এ বিষয়ে বাকৃবির খামার ব্যবস্থাপনা শাখার প্রধান তত্ত্বাবধারক অধ্যাপক ড. রসিদুল ইসলাম বলেন, আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনো জানা যায় নি। ধানের তুষ ও সরিষার তুষ পঁচিয়ে কম্পোস্ট সার তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে এই সার বিক্রি করা হয়। তাড়াতাড়ি ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়ায় তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। আগুন লাগার কারণ জনতেে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        রাবিতে ফুড কোর্ট দিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী

        নিজস্ব প্রতিবেদক
        ৩ মার্চ, ২০২৪ ২০:১৯
        নিজস্ব প্রতিবেদক
        রাবিতে ফুড কোর্ট দিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী

        রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সানজিদ শাহরিয়ার। জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। পড়ালেখা করেছেন ঢাকা কলেজে, এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন রাবিতে।

        ভর্তির আগে থেকেই স্বপ্ন দেখেছিলেন নিজের পায়ে দাঁড়ানোর। সেই স্পৃহা থেকে নিজের প্রচেষ্টায় চার বন্ধু মিলে রাবিতে গড়ে তুলেছেন ফুড কোর্ট ‘রেট্রো কিচেন’। তাদের দোকানে প্রতিনিয়ত বিশ্ববিদ্যালয়সহ আশেপাশের এলাকার স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা খেতে আসেন। খাবারের মানও ভালো।

        রেট্রো কিচেনে বিভিন্ন রকমের আইটেম যেমন; ডিম খিচুড়ি, মুরগী খিচুড়ি, ডিম পোলাও, পোলাও অ্যান্ড মুরগী কারি, মুরগী বিরিয়ানি ও ভাত পাওয়া যায়।

        উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অঞ্জিলা বলেন, এখানে খাবারের স্বাদটা তুলনামূলক আমার কাছে ভালো লাগছে। এছাড়া কোয়ালিটিও ভালো। তাছাড়া এখানে মোটামুটি কমদামে পোলাও, খিচুড়ি ও বিরিয়ানি পাওয়া যায়। যেটা ক্যাম্পাসে সচারাচর পাওয়া যায় না। তবে পরিমাণটা একটু বেশি হলে ভালো হয়।

        তাদের এই উদ্যোগটাকে কিভাবে দেখছেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ছাত্রজীবনে পড়াশোনার পাশাপাশি এমন কাজ করা অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। আমি আশা করি তারা ভালো কিছু করবে।

        রেট্রো কিচেনে খাবারের স্বাদ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমি এখানে প্রতিনিয়ত খাবার খাই। আমার কাছে মনে হলো ক্যাম্পাসে যতগুলো খাবারের হোটেল আছে সবথেকে এটাই বেস্ট।

        গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ফাহমিদুর রহমান ফাহিম বলেন, এখানে আজকে আমি প্রথম আসলাম। ক্যাম্পাসের অন্যান্য বিভিন্ন হোটেলের খাবারের থেকে এটার মান উন্নত। টাকা অনুযায়ী খাবারের কোয়ালিটি ভালো ছিল। খাবারে একটা বাড়ির অনুভূতি ছিল। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাইদের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। অনেক সময় দেখা যায় যে প্রথমে ভালো সার্ভিস দেয় কিন্তু পরে আবার খারাপ হয়ে যায়। আশা করি তারা যদি খাবারের মানটা বজায় রাখতে পারে তারা ভালো কিছু করবে।

        শাহরিয়ার ও তার বন্ধুদের মাথায় এমন পদক্ষেপ কীভাবে আসে? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু থেকেই আমি এবং আমার বন্ধু রাফির মাথায় ঘুরপাক খেতো কিছু একটা করার। আর শুরু থেকেই আমার খাবার নিয়ে আগ্রহটা বেশি ছিল। করোনার আগে থেকেই আমাদের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু করোনা আসায় পিছিয়ে যায় কার্যক্রম। এরপর ক্যাম্পাস খুললে আমরা চার বন্ধু আমি, নাফিস আর রাফি, জাহিদ হাসান জীবন ও সৈয়দ তাহমিদ শুরু করি রেট্রো কিচেন। প্রথমে আমরা স্টুডেন্ট মিল সার্ভিস হোম ডেলিভারি দিয়ে শুরু করি। এরপর ক্যাম্পাসে ক্যান্টিন আকারে শুরু করি। সাপ্তাহে পাঁচদিন সিরাজী ভবনের সামনে লান্সের সময় আমরা থাকি। আমরা স্টুডেন্টদের থেকে ভালো সাড়া পাই, এর কারণ আমরা সবসময় স্বল্প দামে ভালো খাবার দিতে চাই।

        ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে সানজিদ শাহরিয়ার বলেন, এই দুই বছরে আমরা ব্যপক সাড়া পেয়েছি, আমাদের পরিকল্পনা আছে আমরা শহরে একটি রেস্টুরেন্ট করবো। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে কাজলা তালাইমারিতে আমরা পজিশন খুঁজছি। সেখানে আমরা রেস্টুরেন্ট করে রেট্রো কিচেনের পরিসর বৃদ্ধি করতে চাই।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          রাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে বসন্তের আগমনে লেগেছে ভালোবাসার হাওয়া

          নিজস্ব প্রতিবেদক
          ৩ মার্চ, ২০২৪ ২০:১০
          নিজস্ব প্রতিবেদক
          রাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে বসন্তের আগমনে লেগেছে ভালোবাসার হাওয়া

          রাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ রুক্ষ,শুষ্ক ও বিষন্ন প্রকৃতির বুকে শীতের শেষে প্রাণের সঞ্চার নিয়ে আসে ঋতুরাজ বসন্ত। কোকিলের কুহু কুহু ডাক নিষ্প্রাণ প্রকৃতির বুকে যেন বসন্তের আগমনী বার্তা। কোকিলকে তাই হয়তো বলা হয় বসন্তের দূত। ফাগুনের উষ্ণ হাওয়ায় কোকিলের ডাক বিরহের বেদনাগুলোকে আরো মধুর করে তোলে। বসন্তের উদ্দেশ্যে বলতে মন চায়, হে বসন্ত, তুমি কি আমাকে দেখো না! তোমার জন্য আমি দিনের পর দিন মাসের পর মাস অপেক্ষায় থাকি, আসবা কবে। যাতে তোমার রঙে আমি রংধনু হইতে পারি। তুমি যে শেষমেশ এসেছো,তোমার মৃদুল বাতাসে আমার মন ফুরফুরে হয়ে গেছে।

          শীতের জানান দেয় যেমন বাহারি পিঠাপুলি ও শাক-সবজী তেমনি ফুলের সমারোহ জানান দেয় বসন্তের। গাছগুলোতে নতুন পাতা গজায় বসন্তে। তেমনি রাবিপ্রবির ৬৪ একর আমাকে শোনাচ্ছে, মধুর অমৃতবাণী।

          "বেলা গেল সহজেই, মরমে উঠিল বাজি, বসন্ত এসে গেছে।"

          ফাল্গুনের হাত ধরেই আগমন ঘটে ঋতুরাজ বসন্তের। ফাগুনের মাতাল হাওয়া লাগে বাংলার নিসর্গ প্রকৃতিতে। এ প্রকৃতি রবীঠাকুর ফুটিয়ে তুলেছেন গানের মধ্য দিয়ে-

          "ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান, তোমার হাওয়ায় করেছি যে দান, আমার আপনহারা প্রাণ, আমার বাঁধন ছেঁড়া প্রাণ"

          হ্যাঁ,ঠিক তাই। কাপ্তাই লেক ও পাহাড়ের ঘন সবুজের বুকে কোলাহলমুক্ত ৬৪ একরের ক্যাম্পাস রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়(রাবিপ্রবি) বসন্তে ফিরে পায় তাঁর চিরায়ত লাবণ্যময়ী রুপ। শীতের রুক্ষ ও শুষ্কতা কাটিয়ে বসন্তের আগমনে ক্যাম্পাসে বইছে স্নিগ্ধ হাওয়া। পাতা ঝরা গাছের ডালে উঁকি মারছে নতুন পাতা। চারিদিকে মুখরিত হয়ে উঠেছে নানান রঙের ফুল,মৌমাছি ও প্রজাপতির মেলায়। কোকিলের মধুর কন্ঠের সুরে মাতিয়ে রাখে কেন্দ্রীয় মাঠে যাওয়ার রাস্তা। রাস্তার দুপাশের আমগাছের আমের মুকুলে ভ্রমরের গুঞ্জন, ফলের গাছে বিভিন্ন পতঙ্গের আনাগোনা, আশেপাশের অল্পস্বল্প কাশফুল আর মেঘলা রোদ্দুরের স্নিগ্ধ হাওয়ায় সকলের মনকে করে তোলে প্রাণোচ্ছল। এছাড়াও ক্যাফেটেরিয়ার পাশে মাচায় বসে শিক্ষার্থীদের গানের আড্ডা মুখরিত করে রাখে ক্যাম্পাস। ক্যাফেটেরিয়ার মাচায় বসে গান উপভোগ করার সাথে সাথে ক্যাম্পাসের জনপ্রিয় সিঙ্গেল ব্রীজ ও আকাশের সৌন্দর্য মনে এনে দেয় সতেজতা। সিঙ্গেল ব্রীজের সৌন্দর্য একেক ঋতুতে একেক রকম। কাপ্তাই লেকের পানি বাড়া কমার সাথে এই সৌন্দর্যের সম্পর্ক। সিঙ্গেল ব্রীজ কখনো পানির নিচে কখনো পানিতে ডুবুডুবু আবার কখনো পানিহীন। বর্ষার পরপরই পুরোটা পানির নিচে চলে যায়। আবার শীতের শুরু থেকে যখন পানি কমতে থাকে বসন্ত আসার সাথে সাথেই এক অন্যরুপ ধারণ করে। তখন বিকেলে শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখতির হয়ে উঠে সিঙ্গেল ব্রীজ।

          বসন্তে ফুল দিয়ে আপন সৌন্দর্যে সাজে প্রকৃতি। ফ্যাকাশে প্রকৃতিতে এ যেন রঙের মেলা।

          ব্যতিক্রম নয় রাবিপ্রবি ক্যাম্পাসও। গাঁদা, বাগানবিলাস, শিউলি, কাঠমালতি, কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়াসহ নানান রঙের ফুলের দেখা মিলে।হলুদ-লাল-কমলা-বেগুনি রঙের ফুলে রঙিন হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রবিন্দু বঙ্গবন্ধু চত্বরের পাদদেশ ভরে উঠেছে নানান ফুলের সমারোহে। দৃষ্টিনন্দন এ স্থাপনায় ফুলের সমারোহ দেখে প্রকৃতি প্রেমিদের যেন চোখ ফেরানো দায়। যখন পাশ দিয়ে যাই তখন মনের অজান্তেই বলে ওঠে '' এই বসন্তের কালে সখী তুই থাকিস না আর আমার থেকে দূরে,এই রঙিন বসন্তে আমি একলা রবো কেমন করে।"

          এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসনের উদ্যোগে লাগানো হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের গাছ। ক্যাম্পাসের এই সৌন্দর্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক,শিক্ষার্থী ছাড়াও দর্শনার্থীদের আকর্ষন করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন,"জলবায়ুগত কারণে এখন আর সব ঋতুর দেখা মিলে না। তবে এখনও রঙিন প্রকৃতি আমাদের জানান দেয় বসন্তের। আর এসময় রাবিপ্রবির প্রকৃতি সেজেছে আপন মহিমায়,বেড়েছে প্রাণচঞ্চলতা।"

          সকলেই বসন্তকে বরণ করে নিয়ে প্রকৃতির সাথে নিজেকেও রাঙিয়ে ক্যামেরাবন্দি করছে নিজেকে এবং নিজের প্রিয়জনের সাথে। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক উন্নয়ন প্রকল্প চলমান। এগুলো বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে সৌন্দর্য আরো বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। ফাল্গুন মাসের শুরু থেকে চৈত্র মাসের শেষ পর্যন্ত এ নান্দনিক সৌন্দর্য ও শিক্ষার্থীদের আনাগোনা ক্যাম্পাসে এক স্বর্গীয় পরিবেশের সৃষ্টি করে এবং প্রতিনিয়ত জানান দেয়, ''বসন্ত এসে গেছে।''

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত