ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

ফাঁসিতে ঝুলে জাবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ০:১৫
নিজস্ব প্রতিবেদক
ফাঁসিতে ঝুলে জাবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

জাবি প্রতিনিধিঃ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থী কাজী সামিতা আশকা আত্মহত্যা করেছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ৪র্থ বর্ষের (৪৮ ব্যাচ) শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরার সদর উপজেলায়।

শুক্রবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে আটটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী আমবাগান এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করেন সহপাঠীরা। তাকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেলে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আশকার বন্ধুদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আশকা আমবাগান এলাকায় ৫০ ব্যাচের চারজন জুনিয়রের সাথে বাসা ভাড়া করে থাকতেন। ঘটনার সময় তার রুমমেটরা কেউই বাসায় ছিলেন না৷ আশকার বন্ধু তুর্য খুলনা থেকে মোবাইল ফোনে জানালে ঘটনাস্থলে ছুটে যান রুমমেট ও সহপাঠীরা। ভেতর থেকে দরজা বন্ধ অবস্থায় রাত সাড়ে আটটায় কিছু আগে সিলিংয়ের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেলে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে বন্ধুর সাথে কোন ঝামেলার কারণে তিনি আত্মহত্যা কর‍তে পারেন বলে জানা গেছে।

আশকার রুমমেট শর্মী ও মাইশা জানান, আমরা আজকে কেউই বাসায় ছিলাম না। মাইশা সন্ধ্যার কিছু আগে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় আশকাকে তার বন্ধু তূর্যর সাথে ভিডিও কলে ঝগড়া করতে দেখেন। পরে রাত সাড়ে আটটায় তূর্য আশকার বন্ধু সামিহাকে ফোন করে দ্রুত বাসায় যেতে বলে। বাসায় গিয়ে তারা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। তখন বাইরে থেকে দরজা ভেঙে তারা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে আসেন। পরে সেখান থেকে চিকিৎসকরা তাকে এনাম মেডিকেলে পাঠান।

আশকার বন্ধু খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার জামান তূর্য মোবাইল ফোনে জানান, আশকার সাথে আমার তেমন ঝগড়া হয়নি৷ ওর সাথে ভিডিও কলে কথা বলছিলাম। পরে হঠাৎ করে কল কেটে যায়। পরে আর তাকে না পেয়ে আমি ওর বন্ধুদের বাসায় যেতে বলি।'

বন্ধু গিয়াস উদ্দিন মুন্না ও শাকিল জানান, আমরা রাত সাড়ে আটটায় খবর পাই যে আশকা সিলিংয়ের সাথে ঝুলে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। তাকে সে অবস্থা থেকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে আসি। পরে তারা সাভারের এনাম মেডিকেলে পাঠায়৷ হাসপাতালের ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আশকার আরেক বন্ধু মুজতাহিদ জানান, আশকা খুবই হাসিখুশি ও প্রাণবন্ত মেয়ে ছিল। তার সাথে তার বন্ধুদের কারো কখনো ঝামেলা হয়েছে বলে শুনিনি। পরিবারের সাথেও তার ভাল সম্পর্ক ছিল। তবে বন্ধুর সাথে ঝামেলায় সে আত্মহত্যা করতে পারে।

ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হোসনে আরা বলেন, আমাকে শিক্ষার্থীরা ফোন করে দ্রুত একটা এম্বুলেন্স জোগাড় করে দিতে বলে। কিন্তু তারা আমাকে সুইসাইডের কথা জানায়নি৷ পরে আমরা হাসপাতালে এসে জানতে পারি যে সে আত্মহত্যা করেছে।

এনাম মেডিকেলের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. অর্ণব বলেন, আমাদের এখানে তাকে রাত সাড়ে নয়টায় নিয়ে আসা হয়। ইসিজি রিপোর্ট দেখে আমরা বুঝতে পারি অন্তত এর আধাঘন্টা পূর্বে তার মৃত্যু হয়েছে। এটা যেহেতু অস্বাভাবিক মৃত্যু, পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করার পর আমরা মৃতদেহ পরিবারকে বুঝিয়ে দিব।

সাভার থানার দায়িত্বরত উপ-পরিদর্শক আল মামুন কবির বলেন, প্রাথমিকভাবে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা বলে শনাক্ত করেছি। বন্ধুর সাথে ঝগড়ার কারণে সে আত্মহত্যা করতে পারে বলে জানতে পেরেছি। সাক্ষী এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে আমরা পরিবারকে মৃতদেহ বুঝিয়ে দিতে পারব।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    রাজশাহী কলেজের উন্নয়নের ভূয়শী প্রসংশা করলেন শিক্ষা সচিব

    নিজস্ব প্রতিবেদক
    ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ০:৮
    নিজস্ব প্রতিবেদক
    রাজশাহী কলেজের উন্নয়নের ভূয়শী প্রসংশা করলেন শিক্ষা সচিব

    রাজশাহী কলেজ প্রতিনিধি: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ রাজশাহী কলেজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের ভূয়শী প্রসংশা করেছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব সোলেমান খান।

    শুক্রবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী কলেজের কলেজ এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (সিইডিপি)-এর কার্যক্রম পরিদর্শনকালে এমন প্রশংসা করেন।

    এদিন সকাল সাড়ে ১১ টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন। এসময়ে তার সঙ্গে ছিলেন একই মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মোঃ বেলায়েত হোসেন তালুকদার, যুগ্ম-সচিব (উন্নয়ন-২) সরোজ কুমার নাথ ও কলেজ এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (সিইডিপি)-এর প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ খালেদ রহীম।

    এসময় কলেজের বিএনসিসি ইউনিট, রোভার স্কাউট গ্রুপ ও রেঞ্জার ইউনিট শিক্ষা সচিবকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এরপর তিনি কলেজে সিইডিপি'র অর্থায়নে স্মার্টবোর্ড ও মাল্টিমিডিয়া সহযোগে আধুনিকায়নকৃত শ্রেণিকক্ষ, বিজ্ঞান গবেষণাগার ও কম্পিউটার ল্যাব পরিদর্শন করেন এবং সিইডিপি'র অর্থায়নে রাজশাহী কলেজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের ভূয়শী প্রসংশা করেন।

    কলেজ মসজিদে পবিত্র জুমার নামাজ আদায় শেষে দুপুর আড়াইটার দিকে তিনি কলেজ শিক্ষক পরিষদ মিলনায়তনে নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়, মালয়েশিয়া ক্যাম্পাস থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকগণের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।

    সভায় বিদেশে প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতার আলোকে বক্তব্য রাখেন অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. ওয়াসীম মোঃ মেজবাহুল হক, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ জহিরুল ইসলাম এবং সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নূসরাত জেরিন এ্যানী। এসময় শিক্ষা সচিব বাংলাদেশের শিক্ষার মানোন্নয়নে অবদান রাখার জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকদের প্রতি আহবান জানান।

    মতবিনিময় সভায় কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাঃ আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাঃ ওলিউর রহমান এবং প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমান, নিউ গভঃ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর কালাচাঁদ শীল, রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. জুবাইদা আয়েশা সিদ্দীকা এবং রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আমিনা আবেদীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      ইবিতে ৩৬ বিভাগের ৩১ টি হারিয়েছে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড

      নিজস্ব প্রতিবেদক
      ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৬:৪১
      নিজস্ব প্রতিবেদক
      ইবিতে ৩৬ বিভাগের ৩১ টি হারিয়েছে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড

      ইবি প্রতিনিধি : বিশ্বব্যাপী উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর গড় অনুপাতের ন্যূনতম মানদণ্ড ধরা হয় ১:২০। অর্থাৎ প্রতি ২০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন করে শিক্ষক থাকতে হবে। তবে এই মানদণ্ড বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ৩৬ টি মধ্যে ৩১ টি বিভাগই। সর্বশেষ পরিসংখ্যানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪ হাজার ৯৯ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে রয়েছেন ৪০৫ জন শিক্ষক। এ সমীকরণে প্রতি ৩৫ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন করে শিক্ষক রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে। তবে সর্বশেষ ২০২১ সাল পর্যন্ত ইউজিসির বার্ষিক প্রতিবেদনে এই অনুপাত ছিলো ১:৪১।

      সরেজমিনে বিভাগগুলো পরিদর্শন করে দেখা যায় মোট ৪০৫ জন শিক্ষকের মধ্যে বর্তমানে বিভিন্ন বিভাগের ৩০ জনেরও অধিক শিক্ষক আছেন শিক্ষা ছুটিতে এবং শিক্ষাছুটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে আরও ১০ এর বেশী শিক্ষকের।

      তুলনামূলকভাবে শিক্ষক শিক্ষার্থীর এই অনুপাত কম থাকায় ক্লাস, পরীক্ষা, গবেষণা ইত্যাদি ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিভাগে পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। যার ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থীরাই সেশনজটের কবলে পড়ে ধুঁকছে। একই সাথে প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন গ্র্যাজুয়েট হওয়ার ব্যাপারেও।

      বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইবির মোট ৮টি অনুষদের অধীনে ৩৬টি বিভাগ এবং ১টি ইনস্টিটিউট রয়েছে। যার মধ্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতে সবচেয়ে পিছিয়ে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত সোস্যাল ওয়েলফেয়ার বিভাগ। এ বিভাগে ৫টি শিক্ষাবর্ষে অধ্যয়নরত ৩৮৭ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে রয়েছেন মাত্র ৩ জন সহকারী অধ্যাপক। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১:১২৯।

      দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে একই অনুষদের ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগ। বিভাগের ৬টি শিক্ষাবর্ষের ৪৪৭ জন শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছেন ৪ জন শিক্ষক। বর্তমানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত ১:১১২। এ তালিকায় তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে আইন অনুষদভুক্ত ল’ এন্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগটি। স্নাতকোত্তর’সহ ৫টি শিক্ষাবর্ষের মোট ৪৪০ জন শিক্ষার্থীর জন্য আছেন মাত্র ৪ জন শিক্ষক। যাদের একজন বর্তমানে শিক্ষা ছুটিতে। বর্তমান অনুপাত ১:১১০।

      সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগটির অবস্থান চার নম্বরে। বিভাগে ৫টি শিক্ষাবর্ষের ৩৯৫ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে আছেন ৪ সহকারী অধ্যাপক। বর্তমান অনুপাত ১:৯৯। তবে যৌথভাবে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে রাষ্ট্র বিজ্ঞান এবং হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগ। তাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত ১:৯৮। রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের ৬টি শিক্ষাবর্ষের ৪৯১ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন ৫ জন এবং হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৫টি শিক্ষাবর্ষের ৩৯১ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৩ জন সহকারী অধ্যাপক ও ১ জন প্রভাষক।

      পরের অবস্থানে রয়েছে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদভুক্ত মার্কেটিং বিভাগটি। চলমান ৬টি শিক্ষাবর্ষের ৪৭২ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে রয়েছেন ৫ জন শিক্ষক। বর্তমান অনুপাত ১:৯৪। সাত নম্বরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ১:৭৭ অনুপাত নিয়ে ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ। পাঁচটি শিক্ষাবর্ষের মোট ৩৮৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছেন ৪ জন শিক্ষক। ঠিক পরের অবস্থানেই ১:৭২ অনুপাত নিয়ে আছে ফার্মেসি বিভাগটি। পাঁচটি শিক্ষাবর্ষের ২৮৬ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করে থাকেন ৪ জন শিক্ষক। তবে বর্তমানে ২জন শিক্ষক দীর্ঘদিন যাবত শিক্ষা ছুটিতে আছেন।

      ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগটির সার্বিক চিত্রও সন্তোষজনক নয়। স্নাতকোত্তর’সহ ৬টি শিক্ষাবর্ষের ৪৯৪ জন শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক রয়েছেন ৭ জন। বর্তমান অনুপাত ১:৭১। প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগটির সারচিত্রও একই প্রকৃতির। চলমান ৫টি শিক্ষাবর্ষের ২৬৮ জন শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক আছেন মাত্র ৪ জন। আনুপাতিক হিসেবে ১:৬৭। জিওগ্রাফি এন্ড এনভায়রনমেন্ট বিভাগের ৫টি শিক্ষাবর্ষের ২৫৮ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে রয়েছেন ৪ সহযোগী অধ্যাপক। এর মাঝে একজন আছেন শিক্ষা ছুটিতে এবং বর্তমান অনুপাত ১:৬৫।

      এদিকে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগে ৩২ জন শিক্ষার্থীর জন্য নেই নিজস্ব কোন শিক্ষক। অন্য বিভাগের শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের দুই কর্মকর্তা পরিচালনা করছেন ক্লাস কার্যক্রম। এদিকে চারুকলা বিভাগের ৩টি শিক্ষাবর্ষের অধ্যয়নরত ৯২ জন শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছেন নিজস্ব ৪ জন শিক্ষক। বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন ইংরেজি বিভাগের একজন অধ্যাপক। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত ১:২৩।

      একই চিত্র বিরাজমান কমিউনিকেশন এ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া স্বয়ং সভাপতি হিসেবে পালন করছেন অতিরিক্ত দায়িত্ব। এ বিভাগের ২টি শিক্ষাবর্ষের ৬৩ জন শিক্ষার্থীর জন্য আছেন মাত্র ২জন প্রভাষক। ফলে সমীকরণ দাঁড়িয়েছে ১:৩১।

      এছাড়াও শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতে পিছিয়ে রয়েছে ইবির আরও ১৭ টি বিভাগ। সেগুলোর মধ্যে আল-ফিকহ্ এন্ড লিগ্যাল স্টাডিজ (১:৫৪), লোক প্রশাসন (১:৪১), আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ (১:৩৫), আইন (১:৩৪), ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি (১:৩৪), আল-হাদিস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ (১:৩৩), অর্থনীতি (১:৩৩), ব্যবস্থাপনা বিভাগ (১:৩২) অন্যতম।

      তবে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল (১:১৫), ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক (১:১৬), কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (১:১৯), ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি (১:১৯), বায়োটেকনোলজি এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ (১:১৯)।

      শিক্ষক সংকটে ভোগা এসব বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষক সংকট থাকার কারণে ক্লাস-পরীক্ষার সমস্যাটি সব সময়ই আছে। ফলে সেশন জটের কবলে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ে শেষ হচ্ছে না শিক্ষাবর্ষ। এদিকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাতিক হার অধিক হওয়ায় মানসম্মত শিক্ষা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে তাদের। ফলশ্রুতিতে আন্তর্জাতিক মানের গ্রেজুয়েট তৈরিতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সাথে বৈশ্বিক অঙ্গনেও বেশ পিছিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

      এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, প্রতিষ্ঠাকাল হিসেবে ইবি অনেক পুরোনো বিশ্ববিদ্যালয় হলেও শিক্ষার মান ও ভৌগোলিক অবস্থানে বরাবরই পিছিয়ে ছিলো। যার প্রমাণ আরো শক্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীর অনুপাত।

      এ বিষয়ে ল’ এন্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক সাহিদা আক্তার আশা বলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাতটা অবশ্যই যুক্তিসঙ্গত হওয়া উচিত। তবে মানসম্মত শিক্ষাটা একাডেমিক কো-অর্ডিনেশন দক্ষতার উপরেও নির্ভর করে। বর্তমানে আমাদের বিভাগে যদিও কোনো ধরনের সেশন জট নেই। তবে আমাদের বিভাগে আইন এবং আল-ফিকহ্ এন্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষকরা ক্লাস নিয়ে থাকেন। তাই আমরা চাই আমাদের নিজস্ব শিক্ষক আসুক। আমাদের একাডেমিক কার্যক্রম আরও সুন্দর হোক।

      সোস্যাল ওয়েলফেয়ার বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার বলেন, মানসম্মত গ্র্যাজুয়েটের পূর্ব শর্ত হলো একটি বিভাগে যথেষ্ট শিক্ষক, ক্লাসরুম, সমৃদ্ধ সেমিনার লাইব্রেরি থাকা। আমারও এই একই প্রত্যাশা। আমাদের অবশ্যই আরও শিক্ষক দরকার। প্রশাসন বলেছে বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে নিশ্চিত ভাবে কিছু বলেনি। বিষয়টি এখন আমাদের জন্য বার্ডেন হয়ে যাচ্ছে। আমাদের মতো অনেক বিভাগ রয়েছে যাদের শিক্ষক প্রয়োজন।

      শিক্ষক সংকটের বিষয়ে ইবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম রাইজিং ক্যাম্পাসকে বলেন, এটা মোটেও কাম্য নয়। আমি আসার পর এমনও দেখেছি দুই বছর পর্যন্ত বিভাগে শিক্ষক নেই। এতো বাধার ভেতরে আমি কেমন করে কী করবো। কেউ দেখাতে পারবে না আমার কাছে শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো একটি ফাইল দুই ঘন্টাও পড়ে ছিল। যদি দেখাতে পারে তাহলে আমি জবাবটি আরও ভালো দিতে পারবো।

      তিনি আরও বলেন, অনেকক্ষেত্রে বিভাগগুলোই শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ফার্মেসির মতো বিভাগ সেও দুই জন সহকারী অধ্যাপক দিয়ে চলছে। তবে আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি দেখা যাক কী হয়। এরপর থেকে যেখানে খালি সেখানে শিক্ষক দেওয়ার চেষ্টা করবো।

      মোস্তাক মোর্শেদ ইমন/

       

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        এপিএ মূল্যায়নে ৬ষ্ঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

        নিজস্ব প্রতিবেদক
        ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১০:৫২
        নিজস্ব প্রতিবেদক
        এপিএ মূল্যায়নে ৬ষ্ঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

        জবি প্রতিনিধি: বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) ২০২২-২৩ অর্থবছরে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) মূল্যায়নে ৩ ধাপ পিছিয়ে দেশের ৪৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৬ষ্ঠ অবস্থানে জায়গা করে নিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)। গত বছর বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান ছিল তৃতীয়। পুর্ণ নম্বর নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরকৃবি)।

        বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) ইউজিসির সচিবালয় এবং প্রশাসন বিভাগের সচিব ড. ফেরদৌস জামান স্বাক্ষরিত একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

        প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এ বছর ইউজিসির এপিএ মূল্যায়নে ১০০ নম্বরের মধ্যে ৯৪ দশমিক ৫৮ নম্বর পেয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ৪৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গত বছরের অবস্থান ছিল তৃতীয়। গতবছরের তুলনায় মোট নম্বর বাড়লেও র‍্যাংকিংয়ে ৩ ধাপ পিছিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

        প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০০ নম্বরের মধ্যে পূর্ণ ১০০ নম্বর পেয়ে র‍্যাংকিংয়ের প্রথম স্থানে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। সর্বনিম্ন ৩২ নম্বর নিয়ে র‍্যাংকিংয়ের তলানিতে জায়গা পেয়েছে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।

        এছাড়াও ১০০ নম্বরের মধ্যে ৯৭ দশমিক ৯১ নম্বর পেয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয় অবস্থানে, ৯৫ দশমিক ৯৭ নম্বর পেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয় অবস্থানে, ৯৫ দশমিক ৪৭ নম্বর পেয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ৪র্থ অবস্থানে, ৯৪ দশমিক ৯৫ নম্বর পেয়ে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস ৫ম অবস্থানে জায়গা করে নিয়েছে। যথাক্রমে ৯২ দশমিক ৩৪ ও ৯১ দশমিক ৩৬ নম্বর নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরই ৭ম ও ৮ম অবস্থানে জায়গা করে নিয়েছে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

        এপিএ-এর মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠানের সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকরণে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার উন্নয়ন, সকল স্তরের কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা নিরূপণ এবং সরকার ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-২০৩০ ও রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়নে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ইউজিসির এপিএ স্বাক্ষর হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে ইউজিসি তার আওতাধীন সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এই চুক্তি স্বাক্ষর করে।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          জাবিতে ‘ফ্যাক্ট চেকিং’ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

          নিজস্ব প্রতিবেদক
          ৩১ আগস্ট, ২০২৩ ২১:৫৩
          নিজস্ব প্রতিবেদক
          জাবিতে ‘ফ্যাক্ট চেকিং’ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

          জাবি প্রতিনিধিঃ মিথ্যা বা বিকৃত তথ্য শনাক্তে শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্যাক্ট চেকিং বিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যলয়ের (জাবি) সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ ও এমআরডিআই (ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিসোর্স ডেভলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ)।

          বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিকী অনুষদের নতুন কলা ভবনের বিভাগীয় ৪১৭ নম্বর কক্ষে এ কর্মশালা শুরু হয়। কর্মশালাটি শেষ হয় বিকেল সাড়ে ৫টায়।

          কর্মশালাটি পরিচালনা করেন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জনাব উজ্জ্বল কুমার মণ্ডল ও সহকারী অধ্যাপক সালমা আহ্‌মেদ।

          কর্মশালার উদ্বোধনীতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যলয়ের কলা ও মানবিকী অনুষদের ডিন ড. মো. মোজাম্মেল হক।

          উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, ফ্যাক্ট চেকিংয়ের সাথে নৈতিকতার দিকটাও দেখতে হবে৷ আমরা যে তথ্যটা পাই তার সামাজিক প্রভাব কেমন হবে? এটি কি ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতি করবে কিনা তা অনুধাবন করতে হবে৷ কেবল ফ্যাক্ট পেলেই তা তুলে ধরতে হবে এমন ধারনা পরিহার করতে হবে৷ তাই ফ্যাক্ট, চেক, ও নৈতিকতাও একসাথে যুক্ত থাকতে হবে।

          এছাড়া সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের সভাপতি রাকিব আহমেদ বলেন, ফ্যাক্ট চেকিং আলোচিত একটা বিষয়। নতুন মাত্রায় ফ্যাক্ট চেকিং সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মস্থলের সুযোগ তৈরি করবে। ডিজিটাল প্লাটফর্মে আমরা যাই দেখি তাই কিন্তু সত্য না। সত্য মিথ্যা যাচাই-বাছাই হচ্ছে ফ্যাক্ট চেকিং। আজকের এই কর্মশালা শিক্ষার্থীদের উপকারে আসবে বলে বিশ্বাস করি।

          প্রসঙ্গত, এমআরডিআই ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে কর্মশালায় ফ্যাক্ট চেকিংয়ের ইতিহাস ও এটির ব্যবহার নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়। তথ্য শনাক্তকরণের উপায় ও কিভাবে সমাজ এবং রাষ্ট্রে গুজব ও অপতথ্য ছড়িয়ে পড়ে তা শনাক্ত করা, তথ্য শনাক্তকরণের মূলনীতি, বিভিন্ন টুল ব্যবহার করে তথ্যকে ভেরিফাই, ছবি ও ভিডিও শনাক্তকরণ, ও ফ্যাক্ট চেকিংয়ের রাজনৈতিক পলিসি আলোচনাসহ কর্মশালায় হাতে-কলমে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়৷

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত