শিরোনাম
বাকৃবিতে বঙ্গবন্ধুর কৃষি ভাবনা শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
বাকৃবি প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) “বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কৃষি ভাবনা” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস-২০২৩ উপলক্ষ্যে ওই আলোচনা সভার আয়জন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি। শনিবার (২৬ আগস্ট) বিকাল ৩ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে ওই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভার মুখ্য আলোচক হিসেবে দেশের কৃষির উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর অবদান তুলে ধরেন কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মঞ্জুরুল আলম। তিনি বলেন, ভাষার মাধ্যমে বাঙ্গালী জাতিসত্তার পরিচয় বিশেষভাবে পাওয়া যায়। বাঙ্গালীর সেই ভাষা আন্দোলনের কারিগরই ছিলেন বঙ্গবন্ধু। তিনি আমাদের জাতিগতভাবে আত্মপ্রকাশের মহানায়ক। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন কৃষি প্রধান দেশে কৃষির উন্নয়ন ছাড়া উপায় নাই। স্বাধীনতা পরবর্তী তাঁর সকল কার্যক্রমই ছিলো কৃষিকে ঘিরে। বাকৃবির মাটিতে দাঁড়িয়ে তিনি কৃষিবিদদের প্রথম শ্রেণির মর্যাদা দেন। কৃষির উন্নয়নে যান্ত্রিকতা এবং আধুনিকায়ন যে একান্ত প্রয়োজন সেই ধারণার স্থপতিও বঙ্গবন্ধু। ১৯৭২-৭৩ সালে দেশের উন্নয়নে বরাদ্দ ৫০০ কোটি টাকার মধ্যে ১০১ কোটি টাকা শুধু কৃষি উন্নয়নের জন্য রেখেছিলেন তিনি। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ কৃষি গবেষণার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যাত্রাও তাঁর হাত ধরেই।
দেশের ও কৃষির উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর অবদানের বিষয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ বলেন, বাঙ্গালীকে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়ে দেশের তরে প্রাণ বিলিয়ে দেওয়ার শক্তি জুগিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধু না থাকলে সোনার বাংলা বাঙালীর কেবল স্বপ্নই থেকে যেতো। দেশের কৃষির আজ যে সাফল্য তার সূচনা জাতির জনকের হাতেই। তিনি যে বলিষ্ঠ হাতে দেশের ওই দুর্বিষহ অবস্থার হাল ধরেছেন তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। এসময় শিক্ষার্থীদেরকে দেশ গঠনের সঠিক ইতিহাস জানানোর জন্য উপস্থিত শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস তাদের সামনে তুলে ধরার অনুরোধ জানান তিনি।
ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সভাপতি মো. ইকরামুল হক টিটু বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন দূরদর্শী নেতা। তিনি কৃষির কল্যাণের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করতেন। কৃষককে বাঁচাতে ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমিতে খাজনা ছাড়াই চাষাবাদের সুযোগ করে দেন। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের মাধ্যমে সার বিতরণ করেন। কৃষি বীমা ও কৃষি গবেষণা সমন্বয়ের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিষ্ঠাতা তিনি। কৃষির উন্নয়নে তরুণদের অংশগ্রহণকে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে তিনি কাজ শুরু করেন। তিনি কৃষককে ভালোবাসতেন, কৃষকের শ্রমকে অনুধাবন করতেন। যেখানে সারা বাংলাদেশে স্বাধীনতা পরবর্তী দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা করেছে সেখানে তিনি কৃষক ও কৃষির উন্নয়ন ঘটিয়ে দেশকে সচল অবস্থায় রেখেছেন। দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন।
বিশ্বিবিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, যুদ্ধপরবর্তী দেশের নাজুক অবস্থায় দেশের হাল ধরেন বঙ্গবন্ধু। তিনি প্রকৃতির সাথে ক্ষৃকের সংগ্রাম অনুধাবন করেছেন। দেশকে বাঁচাতে হলে কৃষককে বাঁচাতে হবে এই সত্য তিনি উদঘাটন করেন। কিভাবে দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের কৃষিতে অন্তর্ভুক্ত করে কৃষির উন্নয়ন করা যায় সেই পরিকল্পনা করেন তিনি। ওই ধারাবাহিকতায় তিনি কৃষিবিদদের প্রথম শ্রেণির মর্যাদা দেন। কৃষির সাথে সংশ্লিষ্ট সকল কিছুই বঙ্গবন্ধুর সাথে সম্পৃক্ত।
শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসলাম আলীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় আলচনা সভার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমদাদুল হক চৌধুরী, অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সভাপতি মো. ইকরামুল হক টিটু। স্বাগত বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. হারুন-অর-রশিদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগীয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
জবিতে প্রথম বর্ষের ক্লাস ৩ সেপ্টেম্বর
সাকিবুল ইসলাম, জবি প্রতিনিধি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) ও বিবিএ প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাস আগামী ৩রা সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে। এই লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের যথাসময়ে নিজ নিজ ইনস্টিটিউট ও বিভাগে উপস্থিত থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান শনিবার বিকেলে নতুন সেশনের শিক্ষার্থীদের ক্লাশ শুরুর সময়সূচি জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে তার স্বাক্ষরিত একটি ভর্তি বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশিত হয়েছে বলে জানান তিনি।
রেজিস্ট্রার ওহিদুজ্জামান জানান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) ও বিবিএ প্রথম বর্ষ প্রথম সেমিস্টারে ভর্তি করা শিক্ষার্থীদের ক্লাস আগামী ৩রা সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে। ইনস্টিটিউট ও বিভাগসমূহ নিয়মিত ক্লাসের সময়সূচি শিক্ষার্থীদের জানিয়ে দেবে।
এর আগে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের ২রা সেপ্টেম্বর এর মধ্যে ভর্তি সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় সম্পন্ন করতে হবে।
এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক বলেন, ক্লাস শুরু হওয়ার পরেও ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা তাদের কাগজপত্র স্ব স্ব বিভাগে জমা দিতে পারবে।
কেন্দ্রীয়ভাবে ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান হবে কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ক্লাস শুরু হবার পরে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এখন ৩ সেপ্টেম্বরে স্ব স্ব বিভাগে তাদের ওরিয়েন্টেশন ক্লাস হবে।
র্যাগিং এর বিষয়ে বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর নিউটন হাওলাদার বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগিং বলতে কোনো শব্দ নেই। কারো বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপাচার্যের নির্দেশনা রয়েছে র্যাগিং এর বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স'।
তবে এর অনেক আগেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগিং করলেই স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে বলে আদেশ জারি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের প্রতি কোনো ধরণের র্যাগিং না করার করার নির্দেশনা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আর সেই সাথে র্যাগিংয়ের সাথে কোনো শিক্ষার্থী জড়িত থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে জানিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যদিও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে এবং ক্যাম্পাসে র্যাগিংয়ের অভিযোগ নেই। তবু সদ্য ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা র্যাগিং নামক অত্যাচারের ভয়ে থাকে। র্যাগিং শৃঙ্খলা পরিপন্থী ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কেউ র্যাগিংয়ে জড়িত থাকলে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে।
এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত ভর্তি শুরু হয়েছে। যা চলবে আগামী ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। এর মধ্যে ভর্তিচ্ছুদের চূড়ান্ত ভর্তি হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির ওয়েবসাইটে নিজ নিজ প্যানেলে লগইন করতে হবে। প্রাথমিক ভর্তি ফি বাবদ ইতোপূর্বে জমাকৃত পাঁচ হাজার টাকা বাদ দিয়ে বাকি (চূড়ান্ত) ভর্তি ফিস অনলাইনে জমা দিতে হবে।
আগামী ২৭ আগস্ট থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অফিস চলাকালীন সরাসরি সংশ্লিষ্ট বিভাগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি জমা দিতে হবে। পাশাপাশি বিভাগ থেকে কাগজপত্র জমাদানের স্লিপ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ডিন অফিসে জমা দিয়ে চূড়ান্ত ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে।
ভর্তির জন্য চূড়ান্ত ভর্তি ফি জমাদানের রশিদ, প্রাথমিক ভর্তি নিশ্চিতকরণ বাবদ প্রদত্ত মূল নম্বরপত্র জমাদান স্লিপের ফটোকপি, গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষার প্রত্যবেক্ষক কর্তৃক স্বাক্ষরিত প্রবেশপত্র, অনলাইন থেকে প্রিন্টকৃত ভর্তি ফরম ও চার কপি সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি সংশ্লিষ্ট বিভাগে জমা দিতে হবে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট আসন রয়েছে ২ হাজার ৭৬৫টি। এর মধ্যে রসায়ন ৮০, পদার্থবিজ্ঞান ৮০, গণিত ৮০, প্রাণীবিদ্যা ৮০, পরিসংখ্যান ৮০, উদ্ভিদবিজ্ঞান ৮০, ভূগোল ও পরিবেশ ৮০, মনোবিজ্ঞান ৮০, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ৫০, অনুজীব বিজ্ঞান ৪০, ফার্মেসি ৪০, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান ৩০, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি ২৫।
এছাড়াও বাংলা ৮০, ইংরেজি ৮০, ইতিহাস ৮০, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ৮০, ইসলামিক স্টাডিজ ৮০, দর্শন ৮০, আইন ৮০, অর্থনীতি ৮০, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ৮০, সমাজবিজ্ঞান ৮০, সমাজকর্ম ৮০, নৃবিজ্ঞান ৮০, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ৮০, লোকপ্রশাসন ৮০, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন ৬০, এডুকেশন ৬০, ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ৪০। এছাড়া মার্কেটিং ১০০, ফিন্যান্স ১০০, একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম ১৬০ ও ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজে ১৬০টি আসন রয়েছে। সংগীত ৪০, চারুকলা ৪০, নাট্যকলা ৪০, ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন ৩০টি আসন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২২-২৩ সেশনে প্রথম বর্ষে ভর্তির জন্য গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় ফলাফলপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের আবেদন শুরু হয় চলতি বছরের ২০ জুন। অনলাইনে আবেদন চলে ২৭ জুন পর্যন্ত। পরবর্তীতে চারটি মেধাতালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম চলে।
ভর্তি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ওয়েবসাইটে (https://admission.jnu.ac.b) পাওয়া যাবে।
৬ দফা দাবিতে পাবিপ্রবির ফার্মেসি বিভাগের মানববন্ধন
পাবিপ্রবি প্রতিনিধি: ছয় দফা দাবি নিয়ে মানববন্ধন করেছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। শনিবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন শুরু হয়ে দুপুর ১টায় শেষ হয়।
শিক্ষক, শ্রেণিকক্ষ, ল্যাব ও লাইব্রেরি সংকট, অ্যানিম্যাল হাউজ প্রতিষ্ঠাকরণ, বোট্যানিক্যাল গার্ডেন প্রতিষ্ঠাকরণসহ ছয় দফা নিয়ে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা।
এসময় ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে তাদের বিভাগের সংকটগুলো দ্রুত নিরসনের দাবি জানান। মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, ফার্মেসি বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক, শ্রেণিকক্ষ, ল্যাব, লাইব্রেরিসহ বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। এগুলো প্রশাসনের জানা থাকলেও প্রশাসন সমস্যাগুলো সমাধান করার কার্যকর কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। বিভাগে বিভিন্ন সমস্যা থাকার কারণে ফার্মেসি কাউন্সিল অব বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। যেটি বিভাগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। যার কারণে তারা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন।
দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মারুফ আকন্দ বলেন, আমাদের বিভাগে শিক্ষক, শ্রেণিকক্ষ, ল্যাব এ সমস্যাগুলো অনেক দিনের। বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিল ইতোমধ্যে আমাদের বিভাগে ভর্তি নিয়ে একটি আগামবার্তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দিয়েছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শিক্ষক সংকট, পাঁচটি ল্যাবরেটরি স্থাপন, প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সামগ্রী পর্যাপ্ত পরিমাণে রাখা, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি তৈরি করতে না পারলে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ফার্মেসি বিভাগে ভর্তি হতে পারবেন না। এ নিয়ে আমরা এখন অস্তিত্ব সংকটে আছি। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি নিষেধাজ্ঞা আসার পরপরই প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেছেন ও সমস্যাগুলো নিরসনের জন্য শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু আমাদের প্রশাসন এখন পর্যন্ত আমাদের সাথে কোন কথা বলেনি। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি-দাওয়া পৌঁছে দিতে আমরা আজকে এখানে মানববন্ধন করতে নেমেছি।
প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান ইমা বলেন, আমাদের সাতটা ব্যাচের জন্য তিনজন শিক্ষক। একজন শিক্ষক প্রতি ব্যাচে দুটি করে কোর্স নিয়েও সবগুলো কোর্স সম্পন্ন করতে পারছে না। আমাদের মাত্র একটা ক্লাসরুম আছে, এটা দিয়ে সাতটি ব্যাচের ক্লাস ঠিক করে করা সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করে দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি।
ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শরিফুল হক বলেন, যে সমস্যাগুলো নিয়ে শিক্ষার্থীরা কথা বলেছেন এটা শুধু আমাদের বিভাগের সমস্যা না, এটা একটা দেশীয় সমস্যা। এ সমস্যাগুলো সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে কম বেশি আছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আমাদের সমস্যাগুলোর বিষয়ে জানিয়েছি। প্রশাসনে যারা আছেন তারা আন্তরিকতার সঙ্গে বিষয়গুলো দেখছেন। আমরা আশা করি তারা সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান দেবেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাফিজা খাতুনের তাৎক্ষণিক কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে গত মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে তিনি ফার্মেসি বিভাগের সমস্যাগুলো নিরসনের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার শুরুর দিকে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না করেই অনেকগুলো বিভাগ খোলা হয়েছে। ফলে সবগুলো বিভাগে নানা রকমের সংকট রয়েছে। কেবল আমাদের নয়, নতুন সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের একই সংকট। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুততম সময়ে এসব সংকট কাটিয়ে ওঠার। ফার্মেসি কাউন্সিল আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি বিভাগের সংকট নিরসনের যে শর্তগুলো দিয়েছেন আমরা সেগুলো নিয়ে অবগত আছি। তবে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের ফার্মেসি কাউন্সিলের শর্ত পূরণ করা কঠিন, তারপরেও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো শর্তগুলো পূরণ করতে।
'ব্যাটলে অব মাইন্ডস' ২০২৩ এ চ্যাম্পয়িন ঢাবির ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ
বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হলো পরবর্তী প্রজন্মের ব্যবসায়ীক নেতৃত্ব গড়ে তোলার স্বনামধন্য প্ল্যাটফর্ম 'ব্যাটেল অব মাইন্ডস'র ২০তম সংস্করণের সমাপনী অনুষ্ঠান। তরুণদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয় এই প্রতিযোগিতায় এ বছরের চ্যাম্পিয়ন হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইন্সটিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ)-এর দল 'টিম খিচুড়ি'। বিজয়ী দলের সদস্যরা হলেন আবির এরশাদ, মুহতাসিম বিন হাবিব ও মাশরিফ হাসান আদিব।
চ্যাম্পিয়ন দল ‘সিনার্জি’ নামক উদ্ভাবনী এক প্রকল্পের মাধ্যমে চূড়ান্ত পর্যায়ের অন্য চার দলকে পেছনে ফেলে প্রথম স্থান অধিকার করে যাতে দেখানো হয় আবর্জনা থেকে পরিবেশবান্ধব বায়োগ্যাস তৈরি করে কীভাবে সিলিন্ডারজাত করে স্বল্প খরচে সাধারণ জনগণের কাছে সরবরাহ করা যায়।
প্রতিযোগিতায় রানার্সআপ হয় আর্মি ইন্সটিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন'র শিক্ষার্থী হাসরাত হুমায়ুন ও আজমাঈন বিন রশিদ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী সালমান সাঈদের দল ‘আযর আহাই’ এবং দ্বিতীয় রানার্সআপ বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের আলাভী রায়হান মাহিম, জুহায়ের আলী এবং যুনায়েদ মুবতাসিম ইসলামের দল ‘টুয়েন্টিজ টেনেন্টস’।
এ বছর দেশের ২২ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮০০ জন প্রতিযোগী 'ব্যাটেল অব মাইন্ডস' প্রতিযোগিতার ২০তম সংস্করণে অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন দলটি বিশ্বের ৩৬টি দেশের বিজয়ী দলগুলোর সাথে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে এবং আন্তর্জাতিকভাবে নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে। বৈশ্বিকভাবে চ্যাম্পিয়ন দলটি তাদের ব্যবসায়িক উদ্যোগ শুরু করার জন্য প্রাথমিক তহবিল বা সিড ফান্ডিং হিসেবে ৫০ হাজার পাউন্ড লাভ করবে।
এবারের 'ব্যাটেল অব মাইন্ডস' ইএসজি (পরিবেশগত, সামাজিক ও সুশাসন) প্রতিপাদ্যের সাথে সম্পর্কিত জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষি ও অন্তর্ভুক্তি এই চারটি চ্যালেঞ্জ ঘিরে অনুষ্ঠিত হয়। দলগুলোকে একটি চ্যালেঞ্জ বেছে নিতে বলা হয় এবং বাস্তব সমস্যা মোকাবেলায় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবসায়িক সমাধান তৈরি করতে বলা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম। তাঁর বক্তব্যে তিনি দেশের তরুণদের ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন; পাশাপাশি, দেশের আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব রাখার লক্ষ্যে তরুণদের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন। তরুণদের বাস্তব অভিজ্ঞতা প্রদানের মাধ্যমে নেতৃত্বের দক্ষতা বিকাশ ও সার্বিকভাবে মানবসম্পদ উন্নয়নে টেকসই ভূমিকা রাখার জন্য তিনি 'ব্যাটেল অব মাইন্ডস' উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএটি বাংলাদেশের চেয়ারম্যান জনাব গোলাম মইন উদ্দীন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব শেহজাদ মুনিম ও হেড অব ট্যালেন্ট, কালচার অ্যান্ড ইনক্লুশন জনাব সাদ জসিম সহ প্রতিষ্ঠানটির নেতৃস্থানীয় কর্মকর্তাবৃন্দ।
বিএটি বাংলাদেশের উদ্যোগ 'ব্যাটেল অব মাইন্ডস' তরুণদের নেতৃত্বগুণ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে, সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করে এবং একইসাথে তরুণরা যেনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সফল হতে পারে, সে অনুযায়ী নিজেদের প্রস্তুত করে তোলে। ২০০৪ সালে মাত্র চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে এ প্রতিযোগিতা শুরু হলেও সময়ের পরিক্রমায় এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন বাংলাদেশের ২২টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয় 'ব্যাটেল অব মাইন্ডস'র সাথে সম্পৃক্ত। এছাড়াও বিশ্বের ৩৬টি দেশে 'ব্যাটেল অব মাইন্ডস'র কার্যক্রম রয়েছে, যা এই মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতাকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
'ব্যাটেল অব মাইন্ডস'র ২০ বছরের যাত্রা দেশের ৩০ হাজারের অধিক তরুণদের দক্ষতা বিকাশের ক্ষেত্রে এক অনন্য মাইলফলক। আগামী প্রজন্ম কীভাবে বিভিন্ন খাতে নতুন মাত্রা যুক্ত করছে এবং উদ্ভাবনী ধারণা, অগ্রণী প্রযুক্তি ও দূরদর্শী সমাধানের মাধ্যমে সমাজের ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখছে – তাই তুলে ধরে 'ব্যাটেল অব মাইন্ডস'। উল্লেখ্য, 'ব্যাটেল অব মাইন্ডস'র ১৭০০’র বেশি অ্যালামনাই রয়েছেন, যারা দেশে ও দেশের বাইরে বিভিন্ন খাতে ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।
জবিতে নতুন বর্ষের ক্লাস শুরু ৩ সেপ্টেম্বর
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ২০২২-২৩ সেশনে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হবে আগামী রবিবার (০৩ সেপ্টেম্বর) থেকে। ক্লাস শুরুর পূর্বেই ভর্তি সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় সম্পন্ন করা হবে। প্রতিটি ইনস্টিটিউট ও বিভাগ ক্লাসের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
শনিবার (২৬ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো: ওহিদুজ্জামান।
এর আগে, গত ২৫ আগস্ট রেজিস্ট্রার দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতেও বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) ও বিবিএ প্রথম বর্ষ প্রথম সেমিস্টারে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ক্লাস আগামী ৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে। ইনস্টিটিউট ও বিভাগসমূহ নিয়মিত ক্লাসের সময়সূচি শিক্ষার্থীদের জানিয়ে দিবে।
প্রসঙ্গত, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২২-২৩ সেশনে প্রথম বর্ষে ভর্তির জন্য গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় ফলাফলপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের আবেদন শুরু হয় গত ২০জুন। অনলাইনে আবেদন চলে ২৭ জুন পর্যন্ত। পরবর্তীতে ৪টি মেধাতালিকায় শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম চলে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য