শিরোনাম
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী রেজিস্ট্রার মশিউজ্জামানের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিঃ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার বরাবর সহকারী রেজিস্ট্রার মশিউজ্জামান খানকে আইনি নোটিশ দিয়েছে তারই চাচী কামরুন্নাহার রূপা।
রবিবার (২৫ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর ময়মনসিংহ জজ কোর্টের এডভোকেট হাবিবুল্লাহবেলালি মারুফের পক্ষ থেকে এই আইনি নোটিশটি দেওয়া হয়। নোটিশ দেওয়ার ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণ না করলে নোটিশদাতা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানান আইনজীবী।
নোটিশে বলা হয়েছে, আমার মোয়াক্কেল নোটিশ দাতার পক্ষে ক্ষমতা প্রাপ্ত হইয়া আপনি নোটিশ গ্রহীতাকে এই মর্মে জানানো যাচ্ছে যে, আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে মশিউজ্জামান খান, পিতা: জয়নাল আবেদীন, সহকারী রেজিস্টার (শিক্ষা), জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন। আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের উক্ত কর্মকর্তা আমার মোয়াক্কেল নোটিশদাতা স্বামীর ভাতিজা বটে। আমার মোয়াক্কেল নোটিশদাতা ও আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের উক্ত কর্মকর্তার মধ্যে দীর্ঘ দিন যাবৎ জমি জমা নিয়া বিরোধ চলিয়া আসিতেছে। উক্ত বিরোধের জের হিসাবে উক্ত কর্মকর্তা চাকুরীর প্রভাব খাটাইয়া ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীগন দিয়া প্রায় সময় আমার মোয়াক্কেল ও তাহার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরকে বসত বাড়ী হইতে তাড়াইয়া দেওয়ার হুমকী প্রদান করিয়া আসিতেছেন।"
এছাড়া নোটিশে বলা হয়েছে, "উক্ত কর্মকর্তা এবং তার ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়া আমার মোয়াক্কেল নোটিশ দাতাকে বিগত ১৬/০৬/২০১৩ ইং তারিখ বিকাল অনুমান ০৩.৩০ ঘটিকার সময় আমার মোয়াক্কেল নোটিশ দাতার স্বামীকে খুন করার উদ্দেশ্যে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাথারী ভাবে মারপিট করার কারণে আমার মোয়াক্কেল নোটিশদাতা আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। এই নিয়ে আমার মোয়াক্কেল বাদী হয়ে ত্রিশাল থানায় মামলা দায়ের করেন।"
নোটিশে আরো বলা হয়েছে যে, "আপনার কর্মকর্তা উক্ত ঘটনা ঘটানোর পরও তার সন্ত্রাসী বাহিনী আমার মোয়াক্কেল নোটিশদাতা ও তাহার (সেনা অবঃ) অসুস্থ স্বামী এবং ০৪ (চার) কন্যাকে তাহার চাকুরীর প্রভাব খাটাইয়া খুন জখমের হুমকী ও মামলা উঠিয়ে নেওয়ার জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন করিয়া আসিতেছেন। এমতাবস্থায় আপনাকে অত্র নোটিশ দ্বারা জানানো যাইতেছে যে, অত্র নোটিশ প্রাপ্তির ১৫ (পনেরো) কার্যদিবসের মধ্যে আপনি উক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণ করিবেন এবং অন্যথায় আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের উক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নোটিশদাতা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে বাধ্য হইবেন।"
আইনি নোটিশের ব্যাপারে জানতে চাইলে মশিউজ্জামান খান জানান, "আমি বাড়িতে থাকি না এবং এসব ব্যাপারে একেবারেই অবগত না। ১৬ জুন ঘটনাস্থলেও ছিলাম না এবং জানতামও না। মূলত হিংসা-প্রতিহিংসা থেকে হয়রানি এবং আত্নসসম্মানবোধ নষ্ট করতেই হয়তো করেছে।"
মামলা করার পর চাকুরীর ক্ষমতা দেখিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে অভিযুক্ত মশিউজ্জামান খান বলেন, "তাদের সাথে আমার কথাই হয়নি। আমি এসব শুনে তাজ্জব হয়ে গেছি।"
ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আরও বলেন, " বিশ্ববিদ্যালয় এখন বন্ধ রয়েছে। আমাদের কাছে এখনো নোটিশ পৌঁছেনি। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর বিষয়টি ভালো করে দেখে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।"
উল্লেখ্য, "গত ১৬ জুন তারিখ বিকালে ৩:৩০ মিনিটের সময় উপজেলার সাউথকান্দা গ্রামে ভাইদের মধ্যে জমি সংকান্ত বিরোদের জের ধরে অবসর প্রাপ্ত সেনা মোঃ মজিবর রহমান খান কে ডেকে নিয়ে ব্যাপক মারধর করা হয়। জাতীয় কবি কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার মশিউজ্জামান খান ও তার নেতৃত্বে এই ঘটনা টি ঘটেছে বলে জানা যায়। পরে স্থানীয় লোককজন এসে গুরুতর আহত মোঃ মজিবর রহমান খানকে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং এই ঘটনায় আহতের স্ত্রী মোছাঃ কামরুন্নাহার রুপা তাদের কে আসামী করে ত্রিশাল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

নিজেই নিজের বেতন বাড়ালেন চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য
চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. ইসমাইল খানের বিরুদ্ধে নিজেই নিজের বেতন বৃদ্ধির অভিযোগ উঠেছে। উপাচার্য ডা. মো. ইসমাইল খানের নিয়োগ অনুযায়ী বেতন স্কেল তৃতীয় গ্রেডে হওয়ার কথা থাকলেও তিনি নিয়ম না মেনে প্রথম গ্রেডে বেতন নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এমনকি তার নিজের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি সিন্ডিকেটে পাসও করিয়ে নিয়েছেন। যা সঠিক হয়নি বলে মত দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।
এছাড়া তিনি নিজের ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজস্ব তহবিল থেকে ৩ লাখ টাকা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। উপাচার্যের বেতন বৃদ্ধিসহ এ রকম সাত খাতে প্রতিষ্ঠানটিতে আর্থিক অনিয়ম পেয়েছে ইউজিসির পর্যবেক্ষক দল। ইউজিসিকে এসব অনিয়মের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছে দলটি। ইউজিসির বাজেট পর্যালোচনা দল চমেবির আটটি খাতে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। এর মধ্যে সাতটি খাতে আর্থিক অনিয়ম পাওয়ার কথা জানায় দলটি। গত মাসের ২৩ তারিখে এসব বিষয় উল্লেখ করে একটি পরিপত্র প্রকাশ করে ইউজিসি।
ইউজিসির অর্থ ও হিসাব বিভাগের উপপরিচালক (বাজেট) মো. হাফিজুর রহমানের সই করা ওই পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী উপাচার্য সর্বশেষ প্রতিষ্ঠান থেকে আহরিত বেতন-ভাতাদির সমপরিমাণ অর্থ মাসিক বেতন হিসেবে প্রাপ্য হবেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট নিয়ম পরিবর্তন করে তাঁর বেতন প্রথম গ্রেডে উন্নীত করে। এই এখতিয়ার সিন্ডিকেটের নেই।
উল্লেখ্য, সরকারের সর্বশেষ পে-স্কেল অনুযায়ী প্রথম গ্রেডে সরকারি কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা। এর সঙ্গে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা মিলিয়ে মোট বেতন-ভাতা দাঁড়ায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
কিন্তু চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে ইসমাইল খান প্রথম গ্রেডে মূল বেতন পান ৮৩ হাজার টাকা। আর ভাতাসহ তিনি পান মোট প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা। অথচ তাঁর তৃতীয় স্কেলে মূল বেতন ছিল ৭৪ হাজার টাকা। এ অবস্থায় এলপিসি অনুযায়ী তাঁর বেতন নেওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য সুপারিশ করেছে ইউজিসির পর্যবেক্ষণ দল।
এ ছাড়া উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন ও ডিপিপিসংক্রান্ত সমন্বয় সভার ব্যয় বাবদ রাজস্ব খাত থেকে ১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা পরিশোধ করে বিশ্ববিদ্যালয়। এতেও নিয়মের ব্যত্যয় এবং আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে ইউজিসির পর্যবেক্ষণ দল। তারা মতামত দেয়, উন্নয়ন প্রকল্পে কোনো প্রকার অর্থ রাজস্ব তহবিল থেকে প্রদান করা যাবে না। এরপরও রাজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করায় আর্থিক অনিয়ম হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে উপাচার্য ইসমাইল খান বলেন, ‘২০১২ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে বেতন স্কেল গ্রেড-৩-তে ফার্মাকোলজি বিভাগে অধ্যাপক পদে কর্মরত ছিলাম। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজে অধ্যক্ষ ও ডিন হিসেবে যোগদান করি। সব মিলিয়ে আমার প্রফেশনালিজম অনেক বছরের, সে জন্য প্রথম গ্রেডে বেতন নেওয়ার যোগ্যতা রাখি।’
এছাড়া , ‘ইউজিসি ২০২১-২২ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটে চিকিৎসা বাবদ ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। সেটি আমি খরচ করি। এই সব বিষয়ে ইউজিসিকে লিখিত আকারে জানিয়েছি।’
তবে ইউজিসি কতৃপক্ষ বলছে , তৃতীয় গ্রেডে নিয়োগ হয়েও প্রথম গ্রেডে বেতন নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সিন্ডিকেটে পাস করলেও পারা যায় না। এলপিসি অনুযায়ী বেতন নিতে হবে। এই নিয়ম না মানলে অবশ্যই অনিয়ম হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির আবেদন শুরু
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২৩-২৪ শিক্ষবর্ষে (জুলাই-ডিসেম্বর) পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। আগ্রহী শিক্ষর্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফরমে আবেদনপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
আবেদন পত্রটি সঠিকভাবে পূরণ করে সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যান বা ইনস্টিটিউটের পরিচালকের অফিসে জমা দিয়ে পিএইচডি ভর্তির আবেদন করতে হবে। আবেদন পত্রের সাথে গবেষণার একটি রূপরেখাও (Synopsis) জমা দিতে হবে এর সঙ্গে। বিদেশ থেকে অর্জিত ডিগ্রির সমতা নিরূপণের পর ভর্তির আবেদন করতে হবে। কোনো তথ্য গোপন করলে বা ভুল তথ্য দিলে ভর্তি বাতিল বলে গণ্য হবে।
আবেদন ফরম ডাউনলোড করতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে (https://du.ac.bd)।

আবেদন করতে যা দরকার: আবেদনপত্রটি যথাযথ ভাবে পূরন করে এটির সাথে জনতা ব্যাংক টিএসসি শাখায় এক হাজার টাকা জমার রশিদের মূলকপি, সব পরীক্ষার নম্বরপত্রের ফটোকপি ও সম্প্রতি তোলা এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি সংশ্লিষ্ট তত্ত্বাবধায়ক বা বিভাগের চেয়ারম্যান বা ইনস্টিটিউটের পরিচালকের মাধ্যমে সত্যায়িত করে জমা দিতে হবে।
শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য প্রার্থীকে এমফিল পাস অথবা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চার বছর মেয়াদি স্নাতক সম্মান ও এক বছর মেয়াদি মাস্টার্স ডিগ্রি অথবা তিন বছর মেয়াদি স্নাতক সম্মান ও এক বছর মেয়াদি মাস্টার্স ডিগ্রির অধিকারী হতে হবে। প্রার্থীদের সব পরীক্ষায় কমপক্ষে দ্বিতীয় বিভাগ বা শ্রেণিসহ ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর থাকতে হবে। সিজিপিএর নিয়মে মাধ্যমিক বা সমমান থেকে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পর্যন্ত সব পরীক্ষায় সিজিপিএ–৫-এর মধ্যে ৩ দশমিক ৫ অথবা সিজিপিএ–৪-এর মধ্যে ৩ থাকতে হবে। প্রার্থীদের স্বীকৃতমানের জার্নালে প্রকাশিত কমপক্ষে দুটি গবেষণা প্রবন্ধ থাকতে হবে।
কলা অনুষদ, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ও বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ক্ষেত্রে অন্তত একটি গবেষণা প্রকাশনা একক নামে হতে হবে। চার বছর মেয়াদি স্নাতক সম্মান এবং এক বছর মেয়াদি মাস্টার্স ডিগ্রিধারীদের ক্ষেত্রে স্নাতক পর্যায়ে কোনো স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে দুই বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে অথবা কোনো স্বীকৃতমানের গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে দুই বছরের গবেষণাসংক্রান্ত কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে বা সরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে দুই বছরের চাকুরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দেশনাঃ দেশের কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (সম্মান) এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারী প্রার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি প্রোগ্রামে সরাসরি ভর্তি হতে পারবেন না। পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির আগে তাঁদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তি হতে হবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল ডিগ্রিধারী প্রার্থীদের আবেদনপত্র সংগ্রহের আগে অর্জিত ডিগ্রির সমতা নিরূপণের জন্য সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে দরখাস্ত করতে হবে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্যের জন্য এমফিল-পিএইচডি শাখায় যোগাযোগ করা যাবে।
জাবিতে বার্ষিক সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত
আসিফুল ইসলাম, জাবি প্রতিনিধিঃ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ‘৪০তম বার্ষিক সিনেট অধিবেশন, ২০২৩’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৪ জুন) বিকেল সাড়ে ৩ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আলমের সভাপতিত্বে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
চলমান সিনেট অধিবেশনে উল্লেখযোগ্য কার্যবিবরণীগুলো হলো- ৩৯তম সিনেট সভার ভার্বেটিম রিপোর্ট অনুমোদন, ২০২২-২৩ সনের (সংশোধিত) এবং ২০২৩-২৪ সনের (মূল) রেকারিং বাজেট অনুমোদন, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের খসড়া বার্ষিক প্রতিবেদন অনুমোদন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অ্যান্ড কলেজকে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে রূপান্তর করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কমিটির প্রতিবেদনসহ স্ট্যাটিউট অনুসমর্থনের বিষয় বিবেচনা প্রভৃতি।
অধিবেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আলমের সভাপতিত্বে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. রাশেদা আখতার এ বছরের বাজেট উপস্থাপন করেন। এসময় চলতি (২০২৩-২৪) অর্থবছরের জন্য ২৯৪ কোটি ১৬ লাখ টাকার মূল বাজেট উত্থাপিত হয়। এবারের বাজেটে মোট আয়ের অধিকাংশই আসবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে প্রদত্ত ২৭১ কোটি ৮১ লাখ টাকার অনুদান থেকে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের নিকট হতে প্রাপ্ত ফিস বাবদ ৪ কোটি ৩৭ লাখ ২০ হাজার, ভর্তি পরীক্ষার ফরম বিক্রি থেকে আয় ১২ কোটি ৮৬ লাখ ৩০ হাজার, বিভিন্ন চার্জসমূহ কর্তন থেকে ৩ কোটি ৭১ লাখ ২১ হাজার, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি থেকে ২৩ লাখ এবং অন্যান্য সূত্র হতে ১ কোটি ১৭ লাখ ২৯ হাজার টাকা আয় উল্লেখ করা হয়েছে।
অপরদিকে বাজেটে সর্বোচ্চ ব্যয় ধরা হয়েছে বেতন-ভাতা খাতে। এই খাতে ব্যয় হবে ১৭৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা, যা মোট বাজেটের ৫৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে পণ্য ও সেবা (সাধারণ আনুষঙ্গিক) ব্যয় বাবদ ৫৬ কোটি ৫ লাখ টাকা, যা মোট বাজেটের ১৯ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং তৃতীয় অবস্থানে পণ্য ও সেবা (রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত) খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা। চতুর্থ অবস্থানে আছে পেনশন ও অবসর সুবিধা খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, পঞ্চম অবস্থানে গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতে ৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা, ষষ্ঠ অবস্থানে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা খাতে ৪২ লাখ টাকা।
এছাড়া অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতের মধ্যে অন্যান্য ব্যয় বাবদ ৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা, যন্ত্রপাতি খাতের ব্যয় বাবদ ৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, যন্ত্রপাতি ক্রয় বাবদ ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বাবদ ৫৫ লাখ টাকা এবং অন্যান্য মূলধন জাতীয় ব্যয় বাবদ ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
যেখানে গত (২০২২-২৩) অর্থবছরের মূল বরাদ্দ ছিল ২৭৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা এবং সংশোধিত বরাদ্দ ছিল ২৮৭ কোটি ১ লাখ টাকা। গতবছরের চেয়ে চলতি বছরে মূল বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে ১৫ কোটি ৩ লাখ টাকা।
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট ১৯৭৩ অনুযায়ী সিনেটের মোট সদস্য সংখ্যা ৯৩ জন। তারা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপউপাচার্য (শিক্ষা), উপউপাচার্য (প্রশাসন), কোষাধ্যক্ষ, সরকার মনোনীত পাঁচজন সরকারি কর্মকর্তা, স্পিকার মনোনীত পাঁচজন সংসদ সদস্য, আচার্য মনোনীত পাঁচজন শিক্ষাবিদ, সিন্ডিকেট মনোনীত পাঁচজন গবেষক প্রতিনিধি, একাডেমিক কাউন্সিল মনোনীত পাঁচজন কলেজ অধ্যক্ষ, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের (ঢাকা) চেয়ারম্যান, ২৫ জন রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি, ৩৩ জন শিক্ষক প্রতিনিধি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচিত পাঁচজন ছাত্র প্রতিনিধি। তবে এবারের অধিবেশনে ১৩টি আসন শূন্য রয়েছে। চলতি সিনেট অধিবেশনে ৮০ জন সদস্যের মধ্যে ৬১ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও প্রায় ৩০ বছর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচন বন্ধ থাকার ফলে ছাত্র প্রতিনিধি ছাড়াই অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০তম এ সিনেট অধিবেশন।
জাবিতে চালু হচ্ছে প্রকৌশল অনুষদ
জাবি প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এবং ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (আই আই টি) নিয়ে সময়োপযোগী আরও কয়েকটি বিভাগের সমন্বয়ে প্রকৌশল অনুষদ চালু করা হবে।
আজ শনিবার (২৪ জুন) বেলা সাড়ে তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে ৪০তম সিনেট অধিবেশনে উপাচার্যের ভাষণে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আলম এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলা বিভাগ’ নামে একটি বিভাগ আছে। এই বিভাগটি চালু হওয়ার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নান্দনিকতায় বেশ কিছু নতুন মাত্রা সংযোজিত হয়েছে। ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন আর্টস ফ্যাকাল্টি’ নামে প্রায় ৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে এর নির্মাণ কাজ শীঘ্রই শুরু হবে। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের ৪৭ কোটি ৮৯ লাখ ১৭ হাজার টাকা এবং অবশিষ্ট প্রায় ৫০ কোটি টাকা ভারত সরকারের অনুদান।
উল্লিখিত পরিমান টাকা বরাদ্দ ও অনুদানের জন্য বাংলাদেশ এবং ভারতীয় সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে আমি সিএসই এবং আইআইটি নিয়ে সময়োপযোগী আরও কয়েকটি বিভাগের সমন্বয়ে প্রকৌশল অনুষদ নামে নতুন একটি অনুষদ চালু করতে ইচ্ছুক । এক্ষেত্রে আমি সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করবো। সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয় যে ধাবমান সে ধারায় অংশগ্রহণের জন্য আমি সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য