শিরোনাম
ময়মনসিংহে “মৎস্য চাষ যান্ত্রিকীকরণ” শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
বাকৃবি প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহের বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরে "মৎস্য চাষ যান্ত্রিকীকরণ: বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ করনীয়" শীর্ষক কর্মশালা আয়োজিত হয়েছে। রবিবার (১১ জুন) সকাল ১০টায় ময়মনসিংহ শহরে অবস্থিত মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালকের কার্যালয়ে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় মূল বক্তব্য পেশ করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একোয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহফুজুল হক। কর্মশালায় মৎস কর্মকর্তাদের আধুনিক যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে মৎস্য চাষ, ব্যবস্থাপনা, উৎপাদন ও বাজারজাতকরণসহ অন্যান্য অনেক কাজ খুব সহজে ও কম খরচে কিভাবে করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে মৎস্য বিভাগে যন্ত্র ও মেশিনের ব্যবহার উদ্ভুদ্ধ ও বৃদ্ধি করাই ছিল কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য।
ড. মাহফুজুল বলেন, মৎস্য চাষ, ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসায় বাংলাদেশে এখনো সনাতন পদ্ধতির আশ্রয় নেওয়া হয়। এর পরিবর্তে যন্ত্র ব্যবহার অনেক লাভজনক। অক্সিজেন বৃদ্ধিকারী যন্ত্র এরেটার ব্যবহারে পুরো ফার্ম বা পুকুরে অক্সিজেনের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব। এছাড়া এই যন্ত্র পুকুরের নিচ থেকে অতিরিক্ত ক্ষতিকর গ্যাসও দূর করে দেয়। "ফিশ কাউন্টিং ডিভাইস" ব্যবহারের মাধ্যমে খুবই কম সময়ে সঠিকভাবে মাছ ও মাছের পোনা গননা করা যায়। আধুনিক সব যন্ত্রপাতির সাহায্য নিলে উৎপাদন বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন খরচও অনেকটা কমে আসবে৷
কর্মশালায় মৎস্য অধিদপ্তর, ময়মনসিংহ বিভাগের উপপরিচালক নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে মূল উপস্থাপক হিসেবে বাকৃবির একোয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহফুজুল হক উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা হিসেবে এম এম খালেকুজ্জামান, প্রনব কুমার, মো. শহীদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় উপস্থিত মৎস্য চাষী ও খামারিরাও আধুনিক এসব যন্ত্র ব্যবহারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে এসব যন্ত্র এবং যন্ত্রাংশের সহজলভ্যতা ও সাশ্রয়ী দাম নিশ্চিত করে বাজারজাত করার আবেদন জানান তারা। পাশাপাশি এসব যন্ত্র ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট সময় পরপর প্রশিক্ষণ আয়োজন করা কথাও বলেন তারা।
খুবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে আনোয়ার ও আকতার
খুবি প্রতিনিধি: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন-২০২৩ এ সভাপতি পদে ১৩২১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন এ জেড এম আনোয়ারুজ্জামান (আনোয়ার)। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী খুরশিদ আল মেহের (তন্ময়) পেয়েছেন ১৩০২ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে ১০৭৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ আকতার হোসেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. শরিফুল ইসলাম পেয়েছেন ৭৯৪ ভোট।
সহ-সভাপতির পাঁচটি পদে নির্বাচিত হয়েছেন কে এইচ. মাযহাবুদ্দিন পল্লব, ড. ম. শফিক উর রহমান, মোহাম্মদ তানভীর হোসেন, আনিসুর রহমান তুহিন ও হোসনে আরা পপি। যুগ্ম সম্পাদকের দুইটি পদে নির্বাচিত হয়েছেন শায়কা ইমাম শান্তা ও মুজাহিদুল ইসলাম। সাংগঠনিক সম্পাদকের তিনটি পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. তকদীর রহমান মুকুট, মো. শফিকুল আলম সুজন ও মো. মতিউর রহমান মতিন।
এছাড়া কোষাধ্যক্ষ পদে মোহাম্মদ ইকবাল কবির (বিপুল), অফিস ব্যবস্থাপনা সম্পাদক পদে মোঃ রাশেদুল ইসলাম, অফিস ব্যবস্থাপনা সহ-সম্পাদক পদে ড. সঞ্জয় কুমার চন্দ, জনসংযোগ সম্পাদক পদে ড. মো. আজিজুল হাসান পিরু, জনসংযোগ সহ-সম্পাদক পদে মো. সোহেল সারওয়ার জাহান, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে প্রফেসর ড. মুন্নুজাহান আরা, সাহিত্য ও প্রকাশনা সহ-সম্পাদক পদে ড. শেখ তারেক আরাফাত, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে মো. শাতিল ইসলাম, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সহ-সম্পাদক পদে এ কে এম হুমায়ুন কবির দেওয়ান, নারী বিষয়ক সম্পাদক আসমা হক (কান্তা), ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক পদে ড. আহসান হাবীব (শিমুল), ছাত্র বিষয়ক সহ সম্পাদক পদে মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে খন্দকার আজিজুর রহমান, তথ্য ও প্রযুক্তি সহ সম্পাদক করে মোঃ আল মাসুদ উদ্দিন ( মনি), সমাজ কল্যাণ সম্পাদক পদে কানিজ ফাতেমা পাপড়ি, সমাজ কল্যাণ সহ-সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম (শহিদ) নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাহী সদস্য (শিক্ষক কোটা) পাঁচটি পদে নির্বাচিত হয়েছেন ড. মো. নূরুন্নবী (রিংকু), মো. নাজমুস সাদাত (শুভ), ফাল্গুনী আক্তার, মো. মাসুদুর রহমান ও অনুপম কুমার বৈরাগী। নির্বাহী সদস্য (সাধারণ কোটা) সতেরোটি পদে নির্বাচিত হয়েছেন ড. এ কে এম আক্তারুজ্জামান বসুনিয়া, তৌহিদ আব্দুল্লাহ, খন্দকার মোহাম্মদ আশরাফুল আলম (লিপন), মো. জাকি-উল-হাসান, মো. নাজমুল হুদা, মো. শাহিনুর রহমান (কবির), এম এম আরাফাত হোসেন, কবরী বিশ্বাস অপু, হাসান জামিল (জেনিথ), প্রফেসর ড. মো. নাজমুল হাসান, মো. জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ শামীম কিবরিয়া, মাহামুদুল হাসান (মিল্লাত), মুহাম্মদ মোবারক হোসেন (উজ্জ্বল), রাশেদুল আলম সরকার, সারওয়ার জাহান ও বিশ্বজিৎ রায়।
এদিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত কমিটিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন। এক অভিনন্দন বার্তায় তিনি নবনির্বাচিতদের কর্মমেয়াদের সাফল্য কামনা করেন। একই সাথে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সবিশেষ অবদান রাখতে সক্ষম হবেন।
অত্যাধুনিক হবে জবির কেন্দ্রীয় মিলনায়তন
সাকিবুল ইসলাম, জবি প্রতিনিধি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) কেন্দ্রীয় মিলনায়তন অত্যাধুনিকভাবে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়কে দুই কোটি পঞ্চাশ লক্ষ টাকার বরাদ্দ দিয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।
শনিবার (১০ জুন) রুটিন দায়িত্বে থাকা উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ এ তথ্য জানান।
উপাচার্য কামালউদ্দীন আহমদ বলেন, 'জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম আধুনিকায়ন ও শিক্ষার্থীদের টয়লেট নির্মাণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য এককালীন দুই কোটি পঞ্চাশ লক্ষ টাকার বরাদ্দ দিয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। চলতি ২০২২-২৩ অর্থ বছরের বাজেটের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে 'সিটি কর্পোরেশনের জন্য উন্নয়ন সহায়তা' খাতের বরাদ্দকৃত অর্থের অনুমোদিত বিভাজন অনুযায়ী ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অনুকূলে শর্তসাপেক্ষে অবমুক্তিতে এ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।'
কামালউদ্দীন আহমদ জানান, 'মন্ত্রী মহোদয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে টাকা দিতে পেরে খুশি বলে জানান আমাদের। অত্যাধুনিক অডিটোরিয়াম করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মন্ত্রী সাহেব যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা বাস্তবায়ন করলেন, তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই। একই সাথে শাখা ছাত্রলীগকেও ধন্যবাদ, তাদের তৎপরতায় এটা সম্ভব হয়েছে।'
এ বরাদ্দের বিষয়ে সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ শামছুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনও প্রকাশিত হয়েছে বলে জানান উপাচার্য।
প্রজ্ঞাপনে শর্তাবলী দিয়ে বলা আছে, ছাড়কৃত অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে কোন অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট বিল পরিশোধকারী কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে। ছাড়কৃত অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে পিপিএ-২০০৬, পিপিআর-২০০৮( সর্বশেষ সংশোধনীসহ) অনুসরণসহ যাবতীয় আর্থিক বিধি-বিধান যথাযথভাবে পরিপালন করতে হবে। অব্যয়িত অর্থ ৩০ জুন ২০২৩ তারিখের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করতে হবে। নির্ধারিত কার্যক্রম বাস্তবায়ন ব্যতীত অন্য কোন কাজে এ অর্থ ব্যয় করা যাবে না।
বরাদ্দ পাবার বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম আকতার হোসাইন বলেন, 'আমরা চাই আমাদের ক্যাম্পাস আধুনিকায়ন হোক। ছোট ক্যাম্পাসটা যেন শিক্ষার্থীদের মনে গেঁথে থাকে তেমনিও হোক। এজন্য যেভাবে কাজ করা দরকার আমরা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেভাবেই কাজ করে যাবে, ছাত্রলীগ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে প্রশাসনকে সহয়তা করবে।'
তিনি আরও বলেন, 'ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আলোচনা সভায় আমরা শিক্ষার্থী ভাই বোনদের পক্ষ থেকে এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলাম মহোদয়ের কাছে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে সংস্কারের দাবী জানিয়েছিলাম। সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের টয়লেট গুলোর কথাও বলেছিলাম। তিনি তখন আশ্বস্ত করেছেন এবং পরে আমাদের ডেকে নিয়ে দ্রুত কাজ করার আশ্বাস ও দিয়েছেন। এজন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে মন্ত্রী মহোদয়কে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই৷ '
তিনি বলেন, 'আমরা প্রশাসনের সাথে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অত্যধুনিক ও ব্যবহার উপযোগী টয়লেট করার ঘোষণা দিয়েছিলাম। এরই মধ্য দিয়ে টয়লেট করার ঘোষণাও আমরা বাস্তবায়ন করছি। ছেলে-মেয়ে উভয়ই ব্যবহার উপযোগী একটি টয়লেট খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়ন হব।'
এর আগে চলতি বছরের ১২ই মার্চ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে 'ঐতিহাসিক ৭ মার্চ’ উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আয়োজিত এক সভার প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম কেন্দ্রীয় মিলনায়তনকে আধুনিকায়ন ও শিক্ষার্থীদের জন্য টয়লেট নির্মাণ করার আশ্বাস দিয়েছিলেন।
সংক্ষিপ্ত সিলেবাসেই হবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) ভর্তি পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসেই হতে চলেছে। শুরুর দিকে পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে খোঁজখবর নিয়ে পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিকী অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছুরা উচ্চমাধ্যমিকে যে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা দিয়েছেন সেই সংক্ষিপ্ত সিলেবাস অনুযায়ী ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা পর্ষদ। শুরুর দিকে পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হলেও সেখান থেকে সরে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা পর্ষদ।
উল্লেখ্য, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এবারের ভর্তি পরীক্ষায় ১ হাজার ৮৪৪টি আসনের বিপরীতে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৮৫৭টি আবেদন জমা পড়েছে। সেই হিসাবে এ বছর প্রতি আসনের বিপরীতে লড়বে প্রায় ১৩৬ জন শিক্ষার্থী।
জাবিতে শেরপুর জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির সংবর্ধনা ও দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠিত
জাবি প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) অধ্যয়নরত শেরপুর জেলার শিক্ষার্থীদের সংগঠন 'শেরপুর জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি'র 'সংবর্ধনা ও দায়িত্ব হস্তান্তর' অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৯জুন) বিকেল সাড়ে ৫ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার শিক্ষক লাউঞ্জে এই সংবর্ধনা ও দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় অনুষ্ঠানে নবীনদের বরণ করে নেয়া হয়, শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেয়া হয় এবং শেরপুর জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদুল ইসলাম জানান, শেরপুরের মানুষের সাথে কিছুক্ষণ কথা বললেই নির্দিষ্ট শব্দ শুনেই বোঝা যায় মানুষটি শেরপুরের। শৈশব-কৈশোরের দুরন্ত সময় কাটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করলেও শেরপুরবাসীর সাথে এই আত্মিক সম্পর্ক আজীবন রয়ে যায়।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির স্মৃতিচারণ করে আরো বলেন, আমার পরিবার চিরকুটে একটি ঠিকানা লিখে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য পাঠিয়েছিলেন। ঠিকানাটি ছিল আল বেরুনি হলের নির্দিষ্ট একটি কক্ষ আর একজন ব্যক্তির নাম। মানুষটিকে আগে থেকে চিনতামও না। ৯০ এর ঘটনা, রাস্তাঘাট কেবল তৈরি হচ্ছে। সেসময় এসে আল বেরুনি হলের সেই ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ হল, সেখানেই থাকলাম। তার সর্বাত্মক সহযোগিতায় ভর্তি হয়ে গেলাম বাংলা বিভাগে। সেই ভাইটি ছিল শেরপুরের।
এসময় তিনি শেরপুর জেলার শিক্ষার্থীদের একতাবদ্ধ থাকতে উদ্বুদ্ধ করেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবের একান্ত সচিব মু. মাহমুদ উল্লাহ মারুফ বলেন, আমি কক্সবাজারের ইউএনও থাকা অবস্থায় লক্ষ্য করেছি, শেরপুর জেলার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে দুই একটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া কোনো এনজিও তেমনভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে না, যেমনটা দেশের অন্যান্য জায়গায় হয়ে। আমাদের ছোট্ট জেলাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইলে, আমাদেরকে শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং সামাজিক নেতৃত্বে এগিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভূমিকা রাখার অবারিত সুযোগ আছে।
তিনি আরো বলেন, আমরা কয়েকজন মিলে শেরপুরে দুঃস্থ মানুষের সেবার উদ্দেশ্যে 'নৃ ফাউন্ডেশন' গড়েছি। নৃ মানে যে 'মানুষ' এই ধারণাটি এসেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগ থেকে৷ এজন্য বলা যায় শেরপুর এবং জাহাঙ্গীরনগর আমার জীবনে অবিচ্ছেদ্য অংশ।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শেরপুর জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির (আই আইটি) ৪৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. তারেকুল ইসলাম তারেক এর সভাপতিত্বে এবং আইন ও বিচার বিভাগের ৪৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী আবির হাসানের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন জাবি স্কুল এন্ড কলেজের লেকচারার সাইফুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান লিটন, ছাত্রকল্যাণ সমিতির সাবেক সভাপতি আ.স.ম. ইমাম মেহেদী ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিহাব ফেরদৌস জয়।
সংবর্ধনা শেষে শেরপুর জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির ১০০ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ৪৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসানকে সভাপতি এবং একই ব্যাচের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের মাশুকুর রহমান ফাহিমকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়৷
সদ্যবিদায়ী সভাপতি তারেকুল ইসলাম তারেক ও সাধারণ সম্পাদক সুমাইয়া ইসলাম সূচনা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নিকট দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। এসময় অন্যান্যর মাঝে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শেরপুর জেলার শিক্ষার্থীরা।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য