শিরোনাম
নোবিপ্রবি গবেষণা সংসদের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও নবীনবরণ
নোবিপ্রবি প্রতিনিধি:নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা সংসদের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ(১ নভেম্বর) মঙ্গলবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি ভবনের ২০১ নং রুমে এই আয়োজন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবি উপাচার্য ও নোবিপ্রবি গবেষণা সংসদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক অধ্যাপক ড.মোহাম্মদ দিদার উল আলম। অনুষ্ঠানের শুরুতে নোবিপ্রবি গবেষণা সংসদের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড.মোহাম্মদ দিদার উল আলম।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক বিপ্লব মল্লিক, আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক ড.মো.আরিফুর রহমান,এসিসিই বিভাগের অধ্যাপক ড.মো.আশরাফুল আলম,ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড.মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম,বিবিএ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড.আব্দুল কাইয়ুম মাসুদ,শিক্ষা প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান জি এম রাকিবুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা সংসদের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি সাইফুল্লাহ সাদিক সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও নোবিপ্রবি গবেষণা সংসদের উপদেষ্টারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বাগত বক্তব্যে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা সংসদের যাত্রা ও কার্যক্রম তুলে ধরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা সংসদের প্রতিষ্ঠাতা এস এম সাদেক।পরবর্তীতে নোবিপ্রবি গবেষণা সংসদের নবীন সদস্যদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনা মূলক বক্তব্য রাখেন আমন্ত্রিত অতিথিরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড.মোহাম্মদ দিদার উল আলম বলেন,গবেষণার মাধ্যমে জ্ঞানের বিকাশ ঘটে।নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় সাম্প্রতিক সময়ে অনেক এগিয়ে যাচ্ছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী করার লক্ষ্যে নোবিপ্রবি গবেষণা সংসদ যে উদ্যোগ নিয়েছে তা প্রশংসনীয়। নোবিপ্রবি গবেষণা সংসদের কার্যক্রমের সফলতা কামনা করেন নোবিপ্রবি উপাচার্য।
নোবিপ্রবি গবেষণা সংসদ পরিচালিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ৩ জনকে পুরস্কার প্রদান করেন নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড.মোহাম্মদ দিদার উল আলম।
নোবিপ্রবি গবেষণা সংসদের সভাপতি মাহমুদুল হাসান শুভর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খাদিজা খানম ও জনসংযোগ ও পারস্পরিক যোগাযোগ সম্পাদক নুরুল আবছার।
এছাড়াও নোবিপ্রবি গবেষণা সংসদ পরিচালিত জরিপ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রতিযোগিতার বিষয়ে উপস্থাপন করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মোরশেদা নূর তিশা।নোবিপ্রবি গবেষণা সংসদের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কার্যক্রমের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন সংগঠনটির সহ সভাপতি মাহমুদুল হাসান শান্ত।
অনুষ্ঠানে নোবিপ্রবি গবেষণা সংসদের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ইবিতে তারুণ্যের রক্তদাতা সদস্য সংগ্রহ ও গ্রুপ নির্ণয়
এম. এন, মুনিম, ইবি প্রতিনিধি:ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অরাজনৈতিক, স্বেচ্ছাসেবী ও জনকল্যাণমূলক সংগঠন তারুণ্য'র ১০ দিন ব্যাপী "রক্তদাতা সদস্য সংগ্রহ ও বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কর্মসূচি" চলমান রয়েছে। মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন ভবনে রক্তদাতা সদস্য সংগ্রহ ও রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের মাধ্যমে ৯ম দিনের কর্মসূচি সম্পন্ন করে সংগঠনটি।
আগামী ২ নভেম্বর জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান দিবস কে সামনে রেখে ২৪ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর ২০২২ পর্যন্ত, ১০ দিন ব্যাপী " রক্তদাতা সদস্য সংগ্রহ ও বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কর্মসূচির" আয়োজন করে তারা। ৯ম দিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সভাপতি আশিফা ইসরাত জুঁই ও সহ সভাপতি মুরছালিন আহাম্মেদ সানি। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সদস্যরা।
তারুণ্যের সভাপতি আশিফা ইসরাত জুঁই বলেন, "অনেকে রক্তদান সম্পর্কে ভুল ধারণার কারণে রক্তদিতে আগ্রহী হোন না যার কারণে আবেদনের তুলনায় পর্যাপ্ত পরিমাণ রক্ত যোগার করা সম্ভব হয়না। আমাদের এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য সকলকে রক্তদানে উৎসাহিত ও সচেতন করা এবং সেই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রক্তদাতা সদস্য হওয়ার আহবান জানান"।
প্রতিটি অনুষদে প্রচারণা চালিয়ে আগামী ০২ নভেম্বর "রক্তদানে উৎসাহ ও সচেতনতা" শীর্ষক সেমিনারের মাধ্যমে এই কর্মসূচী শেষ হবে।
উল্লেখ্য, তারুণ্য একটি অরাজনৈতিক, স্বেচ্ছাসেবী ও জনকল্যাণমূলক সংগঠন, যা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দ্বারা পরিচালিত। 'অবারিত সম্ভাবনা নিয়ে জাগ্রত তারুণ্য' প্রতিপাদ্য নিয়ে ২০০৯ সালের ২৯ জুলাই যাত্রা শুরু করে সংগঠনটি। বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে তারুণ্যর শক্তিকে কাজে লাগানো, তরুণদের স্বেচ্ছাসেবী মনোভাবসম্পন্ন করে গড়ে তোলা, নেতৃত্ব দক্ষতা তৈরি, সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজ, শিল্প ও সাংস্কৃতিক মুল্যবোধ গঠনে বইপাঠ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় অংশগ্রহণ, বনায়ন, রক্তদান, শীতবস্ত্র বিতরণ ও অসহায় শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা সহ নানাবিধ সামাজিক কাজ করে যাচ্ছে তারুণ্য।
বিভাগীয় প্রধানের অপসারণ চেয়ে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন
নোবিপ্রবি প্রতিনিধিঃপূর্বঘোষণা দিয়ে সম্মিলিতভাবে পুরো ব্যাচের নম্বর টেম্পারিং করা, শিক্ষার্থীদের আর্থিক অবস্থা নিয়ে কটুক্তি করাসহ নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) পরিসংখ্যান বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী অধ্যাপক মিম্মা তাবাসসুম এর বিরুদ্ধে কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ উঠার পরও প্রশাসনিক কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এবার মানববন্ধন ও উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন পরিসংখ্যান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা।
আজ মঙ্গলবার(১ নভেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে অভিযুক্ত শিক্ষকের অব্যাহতি এবং ৫ দফা দাবিতে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধন শেষে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি জমা দেন তারা।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ৫ দফা দাবি ঘোষণা করেন। দাবি আদায় না হলে ভবিষ্যতে আরো কঠোর আন্দোলন করবেন বলে হুশিয়ারি দেন তারা। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো - ১. অভিযুক্ত বিভাগীয় চেয়ারম্যান মিম্মা তাবাসসুমকে অবিলম্বে তার পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করতে হবে। ২. অভিযুক্ত শিক্ষক ও তার সহকর্মী এবং সহধর্মী ইফতেখার পারভেজকে আমাদের চলমান সেমিস্টারে এবং পরবর্তী সেমিস্টারে একাডেমিক কাজকর্ম থেকে বিরত রাখতে হবে। ৩. নোবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা সেল গঠন করতে হবে। ৪. মার্ক টেম্পারিং রোধে উত্তরপত্র থেকে রোল নম্বর বাদ দিতে হবে। ৫. পাঠদানে আগ্রহী করে তুলতে শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি পুনরায় চালু।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলেন, গত ১২ অক্টোবর অনুষদের ডিন বরাবর তার(মিম্মা তাবাসসুম) বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়ার পর থেকে মিম্মা তাবাসসুম ও তার স্বামী ইফতেখার পারভেজ এবং সহকর্মীরা তাদের ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগতভাবে ফোন দিয়ে এই অভিযোগ উঠিয়ে নেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন৷ এছাড়া জুনিয়র ব্যাচের ছাত্রদের দিয়ে আন্দোলনরতদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে অভিযোগগুলোকে মিথ্যা প্রমাণ করার চেষ্টা করেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর বলেন, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে প্রক্টরিয়াল টিমের কথা হয়েছে। আগামীকাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সুন্দর সমাধানের জন্য পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. দিদার -উল-আলম বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আমার সাথে দেখা করেছে। তাদের দাবি-দাওয়া আমার কাছে উপস্থাপন করেছে। সামনে একাডেমিক মিটিংয়ের মাধ্যমে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
গবির ভেটেরিনারিতে নতুন ডিন নিয়োগ
গবি প্রতিনিধি: সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সাইন্সেস অনুষদের ডিন হিসেবে যোগদান করেছেন অধ্যাপক ড. জহিরুল ইসলাম খান।
মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) নিয়োগ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো এবং এখানকার সুগঠিত ল্যাব, ক্লাস রুম, হাসপাতাল দেখে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, আমি অবশ্যই এই অনুষদের উন্নতি কামনা করবো।
তিনি আরো বলেন, এত কিছুর মাঝেও এখানে কিছু গ্যাপ রয়ে গেছে। বিশেষ করে এখনে গবেষণা হয়না বললেই চলে। শিক্ষকদের গবেষণায় যুক্ত করতে আমি কাজ করবো। এছাড়াও, ল্যাবে বেশকিছু অসঙ্গতি রয়েছে, স্যাম্পল, রিএজেন্ট, মাইক্রোস্কোপ, প্রয়োজনীয় বিভিন্ন যন্ত্রপাতির অভাব আছে। এগুলো আমি উপ-উপাচার্য মহোদয়কে অবহিত করে সমাধান করবো৷ কতৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে অনান্য যাবতীয় সমস্যা সমাধানে আলোচনা করবো।
এখানকার শিক্ষক স্বল্পতার নিয়ে উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষক নিয়োগে আমি সচেষ্ট থাকবো। এছাড়াও এখানে শুধু অনার্স চালু আছে যার কারণে স্বয়ং-সম্পূর্ণ শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। শিক্ষাকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে আমি এখানে মাস্টার্স ডিগ্রি চালু করবো।
তাছাড়াও তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে উন্নত প্রশিক্ষণ পায় সেজন্য বিদেশে বিশেষ করে জাপান, মালেশিয়া, ভারতে ইন্টার্নিশিপে পাঠানোর ব্যবস্থা করবো।
উল্লেখ্য, গবিতে একমাত্র বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সাইন্সেস অনুষদ চালু রয়েছে। ২০১৬ সালের মে মাসে এই অনুষদের যাত্রা শুরু হয়। বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিলের (বিভিসি) অনুমোদনক্রমে ৬ মাসের বাধ্যতামূলক ইর্টার্ণশীপসহ এই কোর্সের মেয়াদ ৫ বছর। শুরুতে ইউজিসির অনুমোদন সাপেক্ষে ২৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়। তবে অতি অল্প সময়েই ভেটেরিনারি শিক্ষার জন্য যাবতীয় প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে পারায় ২০১৮ সালে ইউজিসি আসন সংখ্যা ২৫ থেকে ৫০-এ উন্নীত করে। বর্তমানে উক্ত অনুষদে প্রায় ৩০০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছে।
ফুলেরাই যখন ফুল বিক্রেতা
পুলক আহমেদ, বেরোবি প্রতিনিধিঃএমন কেউ নেই যে ফুলকে ভালোবাসে না। অথচ এই ফুলের মধ্যে রয়েছে সাড়াজাগানো কিছু রহস্য। বেরোবি কেম্পাসে দেখা মিলল ফুলের হাতে ফুল। শখ করে নয়, পেটের দায়ে এ ফুল বিক্রির জন্য ক্যাম্পাসে আসে রিফাত,সিফাত ও সুজন। তাদের কারোর বাবা নেই, কারোর মা নেই। তাদের প্রতিদিন দেখা যায় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক,চত্বর ও মাঠে ।
বিকেলের দিকে হাজারো শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের সামনে তাদের আবদার-থাকে ‘একটা ফুল নিন।’ জীবন-বাস্তবতায় এসব শিশুকে কিছু বুঝে ওঠার আগেই নামতে হয়েছে উপার্জনে।
প্রায় সবার হাতে থাকে পদ্মফুল যা তারা ডোবা , বিল বা নালা থেকে নিয়ে আসে এই সব ফুল এবং এই ফুলই এসব শিশু বিক্রির জন্য বেছে নেয়।
কেউ ফুল নেয়, কেউ বা ফিরেও তাকায় না। আবার কেউ কেউ আছেন, ফুলের মতো শিশুর হাতে তুলে দেন অতিরিক্ত টাকা। এভাবেই এসব শিশু উপার্জন করে বাবা-মার হাতে তুলে দিচ্ছে অর্থ,যা সংসার চালাতে কাজে লাগছে।
ক্যাম্পাসের পার্কের মোড়,স্বাধীনতা স্বারক মোড়,হতাশা চত্বর,শেখ রাসেল চত্বর,গ্যারেজ রোড,দেবদারু রোড,কৃষ্ণচূরা রোড ও খেলার মাঠ গুলোসহ বিভিন্ন স্থানে হাতে নিয়ে ফুল বিক্রি করতে দেখা যায় এইসব শিশুকে। এর মধ্যে তারা বেশি পদ্মফুল নিয়ে আসে। এসব ক্ষেত্রে অধিকাংশ ফুল বিক্রেতাই হয়ে থাকেন পথশিশু এবং অস্বচ্ছল পরিবারের। যাদের অনেকের মা -বাবা থাকা স্বত্বেও অভাবের তাড়নায় তারা এই পথে বেছে নিয়েছে।
তারা চাইলে ভিক্ষা করতে পারতো কিন্তু তা নাকরে অভিনব পদ্ধতিতে ফুল বিক্রি করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। এমনকী ক্যাম্পাসে আগত বিভিন্ন দর্শনার্থী ও যুগলদের আকৃষ্ট করতে এবং তাদের কাছে ফুল বিক্রির জন্য আজকাল এই ফুল বিক্রেতা পথশিশুরা টুকটাক শুদ্ধ ভাষাও শিখছে। আর তাদের এই শুদ্ধ ভাষা শিখতে সাহায্য করছে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া বড় আপু ও ভাইয়ারা। তবে এসব শিশুরা দুই হাত পেতে ভিক্ষা নিতে একদমই নারাজ।
তাদের মধ্যে একজন হলেন রিফাত। যার বয়স ১০ বছর। এই বয়সে তার মায়ের কোলে থেকে স্কুলে যাওয়ার কথা কিন্তু সে স্কুলে না গিয়ে বিকেলে করে ক্যাম্পাসে ফুল বিক্রির পথ বেছে নিয়েছে। পরিবারের সাত ভাই বোনের মধ্যে সে ছয় নম্বর। সে বলল সারা বিকেল ফুল বিক্রি করে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পায়। এই টাকা সে তার মা বাবাকে দেয়। যা তাদের পরিবারের বিভিন্ন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রয়োজন মিটাতে সহায়তা করে।
সিফাত নামের আট বছরের এক ছেলে। যে ক্লাস টুয়ে পড়ে।সে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের এলাকা গুলোতে থাকে। সে সাত ভাইবোনের মধ্যে সে তিন নাম্বার। ঠিক মত বই পড়তে পারে না। সে সারাদিন ফুল বিক্রির করে ৮০ থেকে ১২০ টাকা পায়। তার বাবা কৃষি কাজ করে। তাই সে ফুল বিক্রি করে এই টাকা তার বাবাকে দেয় যা তাদের পরিবারের ভরনপোষণের কাজে সামান্য হলেও সহায়তা করে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য