শিরোনাম
৭০ বছরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)। নানা গৌরবোজ্জ্বল অতীত নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি ৭০ বছরে পদার্পণ করেছে আজ)।
দীর্ঘ ৬৯ বছরের পথ চলায় নিজস্ব আলোয় আলোকিত এ বিদ্যাপীঠ। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির গৌরব ও ঐতিহ্য বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়েছে। ১৯৫৩ সালের ৬ জুলাই মাত্র ১৬১ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল বিশ্ববিদ্যালয়টি। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে পরিসর। ১৯৫৩ সালে রোপণ করা বীজটি বতর্মানে বিশাল মহিরুহে পরিণত হয়েছে।
শহীদ ড. শামসুজ্জোহার স্মৃতি বিজড়িত দেশের শ্রেষ্ঠ এই বিদ্যাপীঠের রয়েছে গৌরব-ঐতিহ্যের সুদীর্ঘ ইতিহাস। ব্রিটিশ আমলে রাজশাহী অঞ্চলের শিক্ষার উন্নয়নের জন্য ১৮৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় রাজশাহী কলেজ। এই কলেজে আইন বিভাগসহ পোস্ট গ্রাজুয়েশন শ্রেণি চালু করা হলেও কিছুদিন পরেই সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। তখনই রাজশাহীতে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রয়োজন অনুভূত হয়। ১৯৪৭ সালের দিকে রাজশাহীতে স্যাডলার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পক্ষে আন্দোলন শুরু হয়।
১৯৫০ সালের ১৫ নভেম্বর রাজশাহীর বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে ৬৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানাতে গিয়ে কারারুদ্ধ হন ১৫ ছাত্রনেতা। পরে ছাত্রজনতার পক্ষ থেকে ঢাকায় একটি ডেলিগেশন পাঠানো হয়। এভাবে একের পর এক আন্দালনের চাপে স্থানীয় আইন পরিষদ রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে গুরুত্ব দেয়। এই আন্দোলনে একাত্ম হন পূর্ববঙ্গীয় আইনসভার সদস্য প্রখ্যাত আইনজীবী মাদার বখ্শ।
অবশেষে ১৯৫৩ সালের ৩১ মার্চ প্রাদেশিক আইনসভায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য আইন পাস হয়। নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইতরাৎ হোসেন জুবেরীকে সঙ্গে নিয়ে মাদার বখ্শ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামো পরিকল্পনা প্রণয়ন করে। এর পর শুরু হয় রাবির পথচলা।
বর্তমানে ৩০৩ দশমিক ৮০ হেক্টরের এই বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে ১১৭৭ জন শিক্ষক ও ২০০০ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারী। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ধীরে ধীরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ হাজার ৩৩০ জন (বিদেশি শিক্ষার্থী ৫৮ জন)। এর মধ্যে ছাত্র ২৫ হাজার ৫৭৯ জন ও ছাত্রী ১২ হাজার ৫৫১ জন। বর্তমানে ১২ অনুষদের অধীনে বিভাগ রয়েছে ৫৯টি। বেড়েছে অবকাঠামো। ১২টি একাডেমিক ভবনসহ বর্তমানে রাবির ছাত্রদের থাকার জন্য আবাসিক হল রয়েছে মোট ১১টি ও ছাত্রীদের জন্য রয়েছে ৬টি। এছাড়া গবেষক ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে একটি আন্তর্জাতিক ডরমেটরি।
সুদীর্ঘ সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা নিয়ে অনেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অবদান রেখেছেন। দীর্ঘ এ সময়ে রাবি তৈরি করেছে ভাষা বিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক, সেলিনা হোসেন, ইতিহাসবিদ আব্দুল করিম, তাত্ত্বিক ও সমালোচক বদরুদ্দীন উমর, চলচ্চিত্র পরিচালক গিয়াসউদ্দিন সেলিম, নাট্যকার মলয় ভৌমিক, মাসুম রেজা ও ক্রিকেটার আল আমিন হোসেনদের মতো অসংখ্য গুণীজনকে।
দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ প্রাক্তণ সব শিক্ষার্থী, গবেষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠায় যারা অবদান রেখেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন। উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।
জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক প্রদীপ কুমার পাণ্ডে বাংলানিউজকে বলেন, অন্যান্য বছর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণিল সাজসজ্জা থাকলেও সিলেটসহ দেশের অন্য জেলায় বন্যার্তদের কষ্টের কথা বিবেচনায় এবার জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন বাতিল করেছেন উপাচার্য। তবে বেশ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে প্রশাসন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসন ভবন চত্বরে বুধবার (৬ জুলাই) সকাল ১০টা ৫ মিনিটে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসটি শুরু হবে। পরে বেলুন, ফেস্টুন ও পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন অতিথিরা। উদ্বোধন শেষে বৃক্ষরোপণ এবং আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হবে।
পরে বেলা ১১টায় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে এক আলোচনা সভা হবে। এ সভায় আলোচক থাকবেন ষাটের দশকের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক গণিতবিদ সুব্রত কুমার মজুমদার এবং বাংলা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক কবি চৌধুরী জুলফিকার মতিন। এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার, উপ-উপাচার্যসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
ঈদের আগের দিন পর্যন্ত রাজধানীতে খোলা থাকবে ব্যাংক
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত পশুর হাট সংলগ্ন ব্যাংকের শাখা ও উপ-শাখা বিশেষ ব্যবস্থায় ৯ জুলাই রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
একইসঙ্গে এসব শাখায় সান্ধ্য ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কোরবানির পশুর হাটে অস্থায়ী বুথ স্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোরবানির পশু ব্যবসায়ীদের ব্যাংকিং লেনদেনের সুবিধার্থে এ নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
মঙ্গলবার (৫ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে ও ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত পশুর হাটগুলোতে প্রচুর ব্যবসায়ীর সমাগম ঘটে এবং বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থের লেনদেন হয়ে থাকে। ফলে হাটগুলোতে আর্থিক লেনদেনের নিরাপত্তার বিষয়টি অতীব গুরুত্বপূর্ণ।
কোরবানির পশুর হাটগুলোর নিকটবর্তী বিভিন্ন ব্যাংক-শাখা তাদের নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এসব ব্যাংক-শাখা ব্যবহার করে কোরবানির পশু ব্যবসায়ীরা তাদের পশু বিক্রির অর্থ লেনদেনে ব্যাংকের সহায়তা গ্রহণ করতে পারেন। তাছাড়া পশুর হাটে ব্যাংকের অস্থায়ী বথু খোলা হলে পশু ব্যবসায়ীরা বুথে অর্থ লেনদেনে ব্যাংকের সহায়তা গ্রহণ করতে পারেন।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কোরবানির পশুর হাটের নিকটবর্তী শাখা বিশেষ ব্যবস্থায় ৭ জুলাই বৃহস্পতিবার (সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত) স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম এবং (সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত) সান্ধ্য ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখতে হবে। এছাড়া ঈদুল আজহার পূর্বে সরকারি ছুটি দুই দিন ৮ ও ৯ জুলাই (শুক্র ও শনিবার) কোরবানির হাটের নিকটবর্তী ব্যাংক শাখা খোলা থাকবে। অর্থাৎ ঈদুল আজহার আগের দুই দিন (৮ ও ৯ জুলাই) শাখাসমূহে সকাল ১০টা হতে রাত ৮টা পর্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
সহকারী জজ নিয়োগ পরীক্ষা ৩০ জুলাই, প্রার্থী ৮৫৫৮
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের অধীনে সহকারী জজদের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী- আগামী ৩০ জুলাই শনিবার সহকারী জজ পরীক্ষার (এমসিকিউ) ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে।
রাজধানীর উইল্স লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ ও সিদ্ধেশ্বরী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে এ পরীক্ষা অুনষ্ঠিত হবে। জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের অধীনে এ পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে চলবে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। এবারের পরীক্ষায় মোট ৮ হাজার ৫৫৮ জন প্রার্থী অংশ নেবেন।
পরীক্ষার্থীদের কক্ষ নম্বর ও আসনবিন্যাস সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্রের নোটিশ বোর্ড ও কমিশনের ওয়েবসাইটে আগামী ২৮ জুলাই পাওয়া যাবে। পরীক্ষার্থীরা ওই সময় নিজেদের আসনবিন্যাস জেনে নিতে পারবেন।
এরআগে ১৪তম জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের সহকারী জজ পদে ১০২ জনকে মনোনীত করা হয়েছে। চলতি বছরের ২১ এপ্রিল তাদের মনোনীত করে ফল প্রকাশ করা হয়। তার আগে ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে সহকারী জজ পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয় কমিশন।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের প্রবেশ পদ অর্থাৎ সহকারী জজ পদে নিয়োগের লক্ষ্যে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে উপযুক্ত প্রার্থী বাছাই করা হয়। সহকারী জজ নিয়োগের এ বাছাই পদ্ধতি তিনটি পরীক্ষার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। প্রথমে প্রাথমিক পরীক্ষা নেওয়া হয়, এরপর লিখিত পরীক্ষা এবং সবশেষে ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষা।
এক্ষেত্রে সহকারী জজ নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য যেসব যোগ্যতা থাকতে হয়, সেগুলো হলো- প্রার্থীর বয়স ৩২ বছরের বেশি হতে পারবে না। মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট অথবা সমমানের পরীক্ষার মূল সনদপত্র অনুযায়ী বয়স নির্ধারিত হবে। প্রার্থীর বয়স বেশি হলে আবেদনপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না। বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে অ্যাফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না।
শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে বলা হয়, কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হতে আইন বিষয়ে চার বছর মেয়াদি স্নাতক অথবা আইন বিষয়ে স্নাতক অথবা কোনো স্বীকৃত বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় হতে আইন বিষয়ে তিন বছর মেয়াদি স্নাতকসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী হতে হবে। তবে শর্ত থাকে যে, ওই ব্যক্তিকে আইন বিষয়ে স্নাতক বা স্নাতক (সম্মান) বা ক্ষেত্রমত, আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর স্তরে দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএ প্রাপ্ত হতে হবে।
শারীরিক সক্ষমতার শর্তে বলা হয়, সহকারী জজ পদের দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য প্রার্থীকে শারীরিকভাবে সক্ষম হতে হবে। দায়িত্ব পালনে বাধা হয় এমন দৈহিক বৈকল্য আছে কি না, তা যাচাই এবং প্রত্যয়নের নিমিত্ত প্রার্থীকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক গঠিত মেডিকেল বোর্ড অথবা মনোনীত মেডিকেল অফিসারের সম্মুখে উপস্থিত হতে হবে।
জাতীয়তার শর্তে বলা হয়, প্রার্থীকে বাংলাদেশের নাগরিক অথবা বাংলাদেশের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। কিন্তু প্রার্থী যদি এমন কোনো ব্যক্তিকে বিয়ে করেন অথবা বিয়ে করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন, যিনি বাংলাদেশের নাগরিক নন, তাহলে তিনি অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেশের প্রথম আইটি বিজনেস ইনকিউবেটরের উদ্বোধন আজ
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেশের প্রথম আইটি বিজনেস ইনকিউবেটরের যাত্রা শুরু হবে আজ বুধবার থেকে। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটরের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (৬ জুলাই) সকাল ১০টায় গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে উদ্বোধন করবেন তিনি। এদিন একইসঙ্গে শেখ জামাল ও রোজী জামালের নামে দুটি পৃথক ডরমেটরির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এখান থেকেই উদ্ভাবিত হবে নতুন নতুন আইডিয়া। সেই সকল আইডিয়াকে বাস্তবায়নে রূপদান করার একটি ক্ষেত্র হবে আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরির মাধ্যমে ২০৪১ সালের মধ্যে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে এই ইনকিউবেটর ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অনলাইনে আরও যুক্ত হবেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। স্বাগত বক্তব্য রাখবেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। অনুষ্ঠানটি গণভবন, আইসিটি মন্ত্রণালয় ও চুয়েট তিন প্রান্ত থেকে একযোগে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হবে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রান্ত থেকে চট্টগ্রাম-৬ সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, চুয়েটের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকসহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, চুয়েটের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থী এবং শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটরের উপকারভোগী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে।
এই প্রকল্পের মধ্যে আছে ১০ তলা পর্যন্ত ডিম্বাকৃতির ইনকিউবেশন ভবন। এর প্রতি ফ্লোর ৫ হাজার বর্গফুট করে মোট ভবনের আয়তন ৫০ হাজার বর্গফুট। শেখ জামাল ও রোজি জামালের নামে নারী ও পুরুষদের জন্য রয়েছে পৃথক দুটি চার তলা বিশিষ্ট ডরমিটরি। প্রতি ডরমেটরিতে ৪০টি কক্ষ আছে। দুটি ভবনের মোট আয়তন ৪০ হাজার বর্গফুট। আরও আছে ৬ ছয় তলা মাল্টিপারপাস প্রশিক্ষণ ভবন যার প্রতি ফ্লোর ৬ হাজার বর্গফুট করে মোট আয়তন ৩৬ হাজার বর্গফুট। এই ইনকিউবেটর এর মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রি এবং একাডেমিয়ার মাঝে একটা সেতু বন্ধন সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ দশমিক ৭ একর জায়গায় দেশের প্রথম আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর স্থাপন করা হয়েছে। এখানে ২২০ জনের প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিটিসিএল' র মাধ্যমে উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ আছে এখানে। ২০১৭ এর জুলাই থেকে শুরু করে ২০২২ এর জুন পর্যন্ত নির্ধারিত মেয়াদেই এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ১১৭ কোটি ৯ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও ১১৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকায় পুরো কাজ শেষ করা হয়েছে। বাকি ৩ কোটি ২২ লাখ টাকা সরকারকে ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষর মাধ্যমে বর্তমানে সারাদেশে ৯২টি হাই-টেক পার্ক/সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক/আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপনের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ৯টি পার্ক স্থাপনের কাজ সমাপ্ত হয়েছে। দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য ৬৪ জেলায় শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে। বর্তমানে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপনের জন্য ৩টি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। আরও ৩৪টি জেলায় শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
স্থগিত এসএসসি আগস্টে, এইচএসসি অক্টোবরে
বন্যার কারণে স্থগিত হওয়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগামী আগস্টে নেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। ঈদের পর আবারও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তারিখ চূড়ান্ত করা হবে।
বন্যার কারণে এসএসসি পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ায় আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাও পিছিয়ে অক্টোবরে শুরুর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ ছিল আগস্টে।
আজ রোববার শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানদের সংগঠন আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাবকমিটির সভায় প্রাথমিকভাবে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।
জানতে চাইলে সাবকমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার বলেন, সভায় সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান যেসব তথ্য–উপাত্ত উপস্থাপন করেছেন, তাতে দেখা গেছে সিলেট বোর্ডের অর্ধেক কেন্দ্র এখনো আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব কেন্দ্র পরীক্ষার উপযোগী করতে জুলাই মাস লেগে যাবে। এ জন্য জুলাইতে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে না। ঈদের পর আবার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। আগস্টে এসএসসি শুরুর সম্ভাবনা আছে।
আর এসএসসি পরীক্ষা যদি আগস্টের প্রথম সপ্তাহে শুরু করা যায়, তাহলে এইচএসসি পরীক্ষা অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে শুরুর সম্ভাবনা আছে। কারণ, এই দুই পরীক্ষার মধ্যে দুই মাসের বিরতির দরকার হয়।
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ১৯ জুন শুরুর কথা ছিল। কিন্তু সিলেট, সুনামগঞ্জসহ কয়েকটি অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার কারণে পরীক্ষা শুরুর আগে তা স্থগিত করা হয়।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য