শিরোনাম
প্রাথমিকে আরও ৩০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ হবে : প্রতিমন্ত্রী
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আরও ৩০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো: জাকির হোসেন। বুধবার (২৯ জুন) গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বহুল প্রতীক্ষিত অনলাইনে বদলির (পাইলটিং) কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষকদের হাতে আগামীর বাংলাদেশ। এ বাংলাদেশ যাতে মেধা ও জ্ঞাননির্ভর হয়ে গড়ে ওঠে সে জন্য সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে। চলমান ৪৫ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করে আরও ৩০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করবে মন্ত্রণালয়।
কালিয়াকৈর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, অনলাইনে এ বদলির কার্যক্রম শিক্ষকদের শান্তি ও স্বস্তি দেবে। তারা একাগ্রচিত্তে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে মনোনিবেশ করতে পারবেন।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে সর্বোচ্চ প্রয়াস নেবার পরও শিশুরা প্রাথমিক বিদ্যালয় ছেড়ে কেজি স্কুলে ভর্তি হচ্ছে, যা দুঃখজনক। এ অবস্থার পরিবর্তনে প্রাথমিক শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দিতে হবে। সিনিয়র সচিব আমিনুল ইসলাম খান তার বক্তৃতায়, অনলাইন বদলি কার্যক্রম শিক্ষকদের দিয়ে শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে অধিদপ্তরের অন্যান্য পর্যায়ের কর্মকর্তারাও এ প্রক্রিয়ায় চলে আসবেন।
পাইলটিংয়ে কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হলে, তা নিয়ে বিরূপ সমালোচনা না করে সেটি কর্তৃপক্ষের নজরে আনার অনুরোধ জানান।
অনুষ্ঠানে অনলাইন বদলীর জন্য তৈরিকৃত সফটওয়্যারের বিভিন্ন দিকসমূহ তুলে ধরেন অধিদপ্তরের আইটি বিভাগের কর্মকর্তারা। পরে সফটওয়্যারের মাধ্যমে কালিয়াকৈরে কর্মরত সহকারী শিক্ষক হাসান উদ্দিন ও ফাতেমা বেগম অনলাইনে বদলীর আবেদন করেন। আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত বদলির আবেদন করা যাবে।
গুচ্ছ ‘খ’ ইউনিট: প্রতি আসনের বিপরীতে ১৫ জন ভর্তিচ্ছু
গুচ্ছভুক্ত ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে তিন ইউনিটে প্রায় তিন লাখ ভর্তিচ্ছু আবেদন করেছেন। বুধবার (২৯ জুন) গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল সাব-কমিটির আহবায়ক এবং চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নাছিম আখতার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, শনিবার দিবাগত রাতে এ আবেদন সময়সীমা শেষ হয়।
গুচ্ছের টেকনিক্যাল সাব কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’ ইউনিটে সর্বমোট ২ লাখ ৯৪ হাজার ৫২৪ জন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। এরমধ্যে বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ক’ ইউনিটে সবচেয়ে বেশি আবেদন করেছেন ভর্তিচ্ছুরা।
এদিকে গুচ্ছভুক্ত ‘খ’ ইউনিটে অর্থাৎ মানবিকে ৯০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। অন্যদিকে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এই ইউনিটে প্রায় ছয় হাজার ১২৯টি আসন রয়েছে। সেই হিসেবে গুচ্ছভুক্ত ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আসনের বিপরীতে লড়বেন প্রায় ১৫ জন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী।
এই বছর গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় ২০১৭, ২০১৮ ও ২০১৯ সালের এসএসসি ও সমমান এবং ২০২০ ও ২০২১ সালের এইচএসসি ও সমমান, ডিপ্লোমা-ইন-কমার্স, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (ভোকেশনাল), A লেভেল এবং অন্যান্য সমমান পরীক্ষায় (সমমান নির্ধারণ কমিটি কর্তৃক অনুমোদনক্রমে) উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাই কেবল আবেদন করতে পেরেছেন।
গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়; ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়; খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়; কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়; জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়; বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর; বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়; রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়; বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়; শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়; শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়; হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়; নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়; যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়; পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়; বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়; রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়; বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জ এবং চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দ্বিতীয় ধাপে উত্তীর্ণদের কাগজ জমা দেওয়ার সময় বাড়ল
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদের দ্বিতীয় ধাপের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার সময় বাড়ানো হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি ও অপারেশন বিভাগের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মনিষ চাকমা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মৌখিক পরীক্ষার জন্য মনোনীত প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৮ জুন। যেসব প্রার্থী নির্ধারিত সময়ে কাগজপত্র জমা দিতে পারেননি তাঁরা মৌখিক পরীক্ষার আগের দিন পর্যন্ত জমা দিতে পারবেন।
প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদনের আপলোডকৃত ছবি, আবেদনের কপি, লিখিত পরীক্ষার প্রবেশপত্র, নাগরিকত্ব সনদ, স্থায়ী ঠিকানার স্বপক্ষে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বা ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদসহ পোষ্য সনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কমপক্ষে নবম গ্রেডের গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত করে অফিস সময়ে নিজ নিজ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে অবশ্যই জমা দিতে হবে।
৯ জুন দ্বিতীয় ধাপের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫৩ হাজার ৫৯৫ জন। দ্বিতীয় ধাপে লিখিত পরীক্ষায় নির্বাচিত প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা ১৯ জুন থেকে শুরু হয়েছে।
মৌখিক পরীক্ষার বিস্তারিত সময়সূচি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের নোটিশ বোর্ড এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
সুন্নত নামাজ বাড়িতে, মসজিদে যেতে পারবে না শিশু-বৃদ্ধ-অসুস্থরা
করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ রোধে মসজিদে জামাতে নামাজ আদায়ে নয়টি নির্দেশনা মানতে হবে। এছাড়া অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের ক্ষেত্রেও অনুসরণীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুন) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনার কথা জানিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
এতে বলা হয়, করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবজনিত কারণে সারাদেশে করোনায় আক্রান্তের হার দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের গত ২৬ জুনের ডিওপত্রে কতিপয় বিধিনিষেধ আরোপ করে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ধর্ম মন্ত্রণালয় সব ধর্মের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও মসজিদে জামাতে নামাজের জন্য আবশ্যিকভাবে নয়টি নির্দেশনা পালনের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।
১. মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার/হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান-পানি রাখতে হবে এবং আগত মুসল্লিদের অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে।
২. প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসা থেকে ওজু করে, সুন্নত নামাজ ঘরে আদায় করে মসজিদে আসতে হবে এবং ওজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।
৩. মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দ্বারা পরিষ্কার করতে হবে। মুসল্লিরা প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসতে হবে।
৪. কাতারে নামাজে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
৫. শিশু, বয়োবৃদ্ধ, যে কোনো অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি জামাতে অংশগ্রহণ করা হতে বিরত থাকবে।
৬. সংক্রমণ রোধ নিশ্চিতে মসজিদের ওজুখানায় সাবান/হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না।
৭. সর্বসাধারণের সুরক্ষা নিশ্চিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।
৮. করোনাভাইরাস মহামারি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নামাজ শেষে মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে খতিব, ইমাম ও মুসল্লিরা দোয়া করবেন।
৯. খতিব, ইমাম এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটি বিষয়গুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবেন।
অন্যান্য সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান/উপাসনালয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে মাস্ক পরিধান, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, হ্যান্ড স্যানিটাইজার/সাবান দিয়ে হাত ধোয়াসহ ব্যবহারসহ স্বাস্থ্যবিধি ও শারীরিক দূরত্ব যথাযথভাবে অনুসরণ করবেন।
এসব নির্দেশনা লঙ্ঘিত হলে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট মসজিদের পরিচালনা কমিটিকে উল্লিখিত নির্দেশনা বাস্তবায়নের অনুরোধ জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
এদিকে করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ রোধে মাস্ক পরা, যথাসম্ভব জনসমাগম বর্জন, কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি পালনসহ ছয়টি নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। এ ছয়টি নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য সব মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বিভাগীয় কমিশনারের কাছে মঙ্গলবার চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২৯ হাজার ১৪৫ জনে। একই সময়ে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে দুই হাজার ৮৭ জনের। এ নিয়ে শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৬৯ হাজার ৩৬১ জনে। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ।
আবারও মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক, অন্যথায় শাস্তি
সারা দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের হার বেড়ে যাওয়ায় মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। দোকান, শপিং মল, বাজার, ক্রেতা-বিক্রেতা, হোটেল-রেস্টুরেন্টে সবাইকে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরতে হবে। মাস্ক না পরলে আইনানুগ শাস্তির মুখে পড়তে হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আজ মঙ্গলবার এ–সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি হয়েছে। নির্দেশনাটি সব সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজি) কাছেও এটি পাঠানো হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে সারা দেশে করোনায় আক্রান্তের হার দ্রুতগতিতে বাড়ছে। জনগণের মধ্যে মাস্ক পরা ও স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে যথেষ্ট শৈথিল্য দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চ মহলে আলোচনা হচ্ছে। কোভিড–১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি ১৪ জুন অনুষ্ঠিত সভায় করোনা প্রতিরোধে সবাইকে মাস্ক পরার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলেছে। কারিগরি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই আজ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ নির্দেশনা জারি করা হলো।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খানের সইয়ে মোট ছয়টি নির্দেশনার কথা বলা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করতে সর্বপ্রকার গণমাধ্যমকে অনুরোধ জানাতে হবে। সব ক্ষেত্রে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস নীতি’ প্রয়োগ করা হবে।
সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। জনসমাগম যথাসম্ভব বর্জন করতে হবে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ধর্মীয় প্রার্থনার স্থান মসজিদ, মন্দির, গির্জায় মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। জ্বর, সর্দি–কাশি বা কোভিড–১৯–এর উপসর্গ দেখা দিলে করোনা পরীক্ষা করার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন ও মাস্ক পরিধানের বিষয়ে সব মসজিদে জুমার নামাজে খুতবায় ইমামরা সংশ্লিষ্টদের সচেতন করবেন।
জানতে চাইলে আজ রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব খোরশেদ আলম খান বলেন, জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা দেওয়ার মানে হলো দোকান, শপিং মল, বাজার, ক্রেতা-বিক্রেতা, হোটেল-রেস্টুরেন্টে সবাইকে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরতে হবে। এ জন্য সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। সরকারি দপ্তরেও মাস্ক পরতে হবে। এ নির্দেশনা প্রাথমিক পদক্ষেপ বলে জানান তিনি।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য