শিরোনাম
শর্ত অনুযায়ী শিক্ষক নেই বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোয়
দেশে বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা একটি মেডিকেল কলেজও বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের বেধে দেওয়া শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতের শর্ত পূরণ করতে পারেনি। ফলে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে শিক্ষার্থীদের যথাযথ পাঠদান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
জানা গেছে, বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে ১০ শিক্ষার্থীর জন্য একজন প্রভাষক এবং ২৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য সহকারী অধ্যাপক/সহযোগী অধ্যাপক অথবা অধ্যাপক পদমর্যাদার একজন শিক্ষক থাকতে হবে। প্রতি শিক্ষাবর্ষে ৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করায় এমন মেডিকেল কলেজে ৭৭ জন শিক্ষক থাকতে হবে। শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা ১০০ হলে শিক্ষক থাকতে হবে ১৫৪ জন। বেসরকারি মেডিকেল কলেজের কোনোটিই বিমএমডিসির এই শর্ত পূরণ করতে পারেনি।
তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৭৩টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ রয়েছে। এর মধ্যে ৫৫টি মেডিকেল কলেজে কতজন শিক্ষক রয়েছে সেই তথ্য দেয়নি প্রতিষ্ঠানগুলো। শিক্ষক সংখ্যার তথ্য দিয়েছে ১৮টি মেডিকেল কলেজ।
তথ্য দেওয়া মেডিকেল কলেজগুলোর মধ্যে আদ-দীন উইমেন মেডিকেল কলেজে গত শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে ৮৬ জন আর শিক্ষক রয়েছে ৭৩ জন। ইস্ট ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে ১২৫ জন, শিক্ষক রয়েছেন ১২৩ জন। কুমিল্লার ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ ভর্তি হয়েছে ১১৫, শিক্ষক ১২৩; খুলনার গাজী মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী ১০০, শিক্ষক ১; রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী ৮৫, শিক্ষক ৬৯; সিলেটের জালালাবাদ রাগিব-রাবেয়ায় শিক্ষার্থী ১২৫, শিক্ষক ১১২, কুমিল্লার সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজে, শিক্ষার্থী ৭৫, শিক্ষক ৫২; চট্টগ্রামের বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী ১০০, শিক্ষক ৬০; ফরিদপুর ডায়াবেটিক এসোসিয়েশনে শিক্ষার্থী ৯০, শিক্ষক ৮০; চট্টগ্রামের মেরিন সিটিতে শিক্ষার্থী ৫০, শিক্ষক ৩৭, মানিকগঞ্জের মুন্নু মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থী ১১৬, শিক্ষক ৬; কুমিল্লার ময়নামতি মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী ১০০, শিক্ষক ৭২; সিরাজগঞ্জের খাজা ইউনুস আলী মেডিকেলে শিক্ষার্থী ১০০, শিক্ষক ৭৬; টাঙ্গাইলের কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেলে শিক্ষার্থী ১১৫, শিক্ষক ১০৪; উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৯০। এর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন ৭১ জন। ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী ৬০, শিক্ষক রয়েছেন ৭০ এবং ময়মনসিংহের কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন ১৩০ জন। বিপরীতে শিক্ষক সংখ্যার তথ্য দেওয়া আছে ২ জনের।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু ইউসুফ ফকির বলেন, আমরা বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর কাছে অনেকবার তথ্য চেয়েছি। তবে অধিকাংশ মেডিকেল কলেজ তথ্য দেয়নি। আবার যারা তথ্য দিয়েছে তারা অসম্পূর্ণ তথ্য দিয়েছে। যে তথ্যগুলো আমরা পেয়েছি সেগুলোই আমরা ওয়েবসাইটে আপলোড করেছি।
তিনি আরও বলেন, ৭৩টি বেসরকারি মেডিকেলের মধ্যে ৬টির অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে। কলেজগুলো শিক্ষার্থী ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের প্রতিদ অনুরোধ থাকবে তারা যেন মেডিকেল কলেজগুলো সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে তবেই তাদের সন্তানদের ভর্তি করায়।
সার্বিক বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সভাপতি অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হাসানকে ফোন করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
৪০তম বিসিএসে সুপারশিকৃতদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু ২৬ জুন
৪০তম বিসিএস পরীক্ষা ২০১৮-এর ফলাফলের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য সাময়িকভাবে নির্বাচিত ১ হাজার ৯৬৩ প্রার্থীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। স্বাস্থ্য পরীক্ষা ২৬ জুন থেকে শুরু হয়ে চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাজধানীর ঢাকার ৯টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা নেওয়া হবে। কেন্দ্রগুলো হলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জাতীয় হৃদ্রোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতাল, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর), জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, মহাখালী ও মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, পরীক্ষা প্রতিদিন সকাল সাড়ে আটটায় শুরু হবে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রার্থীদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক গঠিত সংশ্লিষ্ট মেডিকেল বোর্ডের সামনে উপস্থিত হতে হবে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই ওয়েবসাইট থেকে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে হবে। পিএসসির নেওয়া প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রবেশপত্রও ছবিসহ সঙ্গে আনতে হবে।
স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দিষ্ট দিনে বোর্ডের সভাপতির কাছে প্রত্যেক প্রার্থীকে সরকারি ট্রেজারি অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের ১-২৭১১-০০০০-২৬৮১ কোড নম্বরে ৫০ টাকা জমা দিয়ে জমাকৃত মূল ট্রেজারি চালান ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মেডিকেল বোর্ডের সদস্যদের ফি বাবদ অতিরিক্ত নগদ ৫০ টাকা বোর্ডের কাছে জমা দিতে হবে।
চলতি বছরের ৩০ মার্চ ৪০তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এই বিসিএসে ১ হাজার ৯৬৩ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। প্রশাসন ক্যাডারে ২৪৫, পুলিশে ৭২, পররাষ্ট্রে ২৫, কৃষিতে ২৫০, শুল্ক ও আবগারিতে ৭২, সহকারী সার্জন ১১২, পশুসম্পদে ১২৭ জনসহ মোট ১ হাজার ৯৬৩ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে সুপারিশ করা হয়েছে।
বুয়েটের চূড়ান্ত পরীক্ষা কাল
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তির চূড়ান্ত পরীক্ষা আগামীকাল শনিবার অনুষ্ঠিত হবে। দুই শিফটে বুয়েট ক্যাম্পাসে এই পরীক্ষা হবে।
জানা গেছে, চূড়ান্ত পরীক্ষায় ৬ হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবেন। প্রথম শিফটের পরীক্ষা হবে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত। এই শিফটে ‘ক’ ও ‘খ’ গ্রুপের জন্য গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন বিষয়ে লিখিত পরীক্ষা হবে। আর দ্বিতীয় শিফটে বেলা ২টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা ‘খ’ গ্রুপের মুক্তহস্ত অঙ্কন এবং দৃষ্টিগত ও স্থানিক ধীশক্তি বিষয়ে পরীক্ষা হবে।
এর আগে এক বিজ্ঞপ্তিতে বুয়েট জানায়, আবেদন করা শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ১৭ হাজার ৩৪ শিক্ষার্থী প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষায় প্রথম শিফটে ৮ হাজার ৫১৭ এবং দ্বিতীয় শিফটে ৮ হাজার ৫১৭ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। ১০০ নম্বরের এমসিকিউ টাইপ প্রশ্নের মাধ্যমে প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিতির হার ছিল ৯৫% এরও বেশী।
এবারের ভর্তি পরীক্ষায় পার্বত্য চট্টগ্রাম ও অন্যান্য এলাকার ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠিভুক্ত প্রার্থীদের জন্য প্রকৌশল বিভাগসমূহ এবং নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের জন্য মোট ৩টি ও স্থাপত্য বিভাগে ১টি সংরক্ষিত আসনসহ সর্বমোট ১ হাজার ২৭৯টি আসনের বিপরীতে প্রার্থী সংখ্যা ১৭ হাজার ৩৪ জন।
প্রকৌশল, পুরকৌশল, যন্ত্রকৌশল, তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল এবং স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদসমূহের অধীনে ১২টি বিভাগে স্নাতক শ্রেণিতে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা হবে।
বন্যায় ২৯০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা, এসএসসি নিয়ে শঙ্কা
সিলেট সিলেটে বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের ২৯০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ করা হয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় তলিয়ে যাওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বন্যার পানির কারণে এখানকার মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
জেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গকুল চন্দ্র দেবনাথ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জানান, এ পর্যন্ত জেলায় ২৩০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি উঠেছে। এসব বিদ্যালয়ের পাঠদান সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে।
সিলেটে বৃষ্টি ও ঢল এখনো অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবারের বৃষ্টিতে পানি আরও বেড়েছে। এরই মধ্যে কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট উপজেলার বেশির ভাগ এলাকাই পানিতে তলিয়ে গেছে। জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট উপজেলারও বিস্তীর্ণ এলাকা পানিবন্দি। পানি বাড়ছে সিলেট সদর, দক্ষিণ সুরমা, জকিগঞ্জ ও বিশ্বনাথ উপজেলায়। নগরের অনেক এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদ মো. ওয়াদুদ জানান, এ পর্যন্ত জেলার ৬০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসা পানিতে তলিয়ে গেছে। এগুলোতে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা। গোয়াইনঘাটে ৪৮ ও কোম্পানীগঞ্জে ২৬ প্রতিষ্ঠানের সবগুলোতেই পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া কানাইঘাটে ৩৭টি, জৈন্তাপুরে ১২টি, বিশ্বনাথে ১৩টি, সিলেট সদরে ১৯ ও জকিগঞ্জে ১৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
এদিকে, এ পরিস্থিতির মধ্যে আগামী রবিবার থেকে সারা দেশে শুরু হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। বন্যার কারণে পরীক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পাড়ুয়া এলাকার বাসিন্দা সেবুল আহমদের ছেলে এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী। তবে এখন পর্যন্ত পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তনের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি সিলেট শিক্ষা বোর্ড।
সিলেট শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বোর্ডের অধীন থাকা চার জেলায় এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী রয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৪৭৩ জন। এর মধ্যে বন্যাকবলিত জেলা সিলেটে ৪৩ হাজার ৮৪৪ জন ও সুনামগঞ্জে ২৩ হাজার ৭৫২ জন পরীক্ষার্থী আছে। ৪ জেলায় ১৪৯টি পরীক্ষা কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে সিলেটে ৫৯টি ও সুনামগঞ্জে ৩৩টি পরীক্ষাকেন্দ্র আছে।
সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক অরুণ চন্দ্র পাল গণমাধ্যমকে বলেন, বন্যার পানিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তলিয়ে যাওয়ার বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। সিলেট ও সুনামগঞ্জের ৯টি উপজেলার অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তলিয়ে গেছে। বন্যার এই চিত্র্র আজ আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি। এসএসসি পরীক্ষার ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ই সিদ্ধান্ত নেবে।
গুচ্ছে ৩০ ঘণ্টায় আবেদন ছাড়াল ৩৭ হাজার
গুচ্ছভুক্ত ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে তিন ইউনিটে ৩৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের আবেদন করেছেন। আগামী ২৫ জুন রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।
গুচ্ছের টেকনিক্যাল সাব কমিটি সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ৩৭ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী অনলাইনে ভর্তি আবেদন করেছেন। আবেদন সংখ্যা গত শিক্ষাবর্ষের চেয়ে বেশি হবে বলে প্রত্যাশা টেকনিক্যাল সাব কমিটির।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টেকনিক্যাল কমিটির সভাপতি এবং চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নাছিম আখতার। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৭ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য আবেদন করেছেন।
এদিকে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও জিএসটি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের সমন্বিত ভর্তি কমিটির সচিব প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
আবেদন: ২০১৭, ২০১৮ ও ২০১৯ সালের এসএসসি ও সমমান এবং ২০২০ ও ২০২১ সালের এইচএসসি ও সমমান, ডিপ্লোমা-ইন-কমার্স, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (ভোকেশনাল), A লেভেল এবং অন্যান্য সমমান পরীক্ষায় (সমমান নির্ধারণ কমিটি কর্তৃক অনুমোদনক্রমে) উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাই কেবল ভর্তি পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য শাখা হতে এইচএসসি/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে যথাক্রমে ইউনিট-এ, ইউনিট-বি ও ইউনিট-সি-তে আবেদন করতে পারবে।
ইউনিট ভিত্তিক আবেদনের যোগ্যতা: ইউনিট-এ: বিজ্ঞান শাখা হতে এইচএসসি/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ আবেদনকারীদের এসএসসি/সমমান ও এইচএসসি/সমমান উভয় পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) ন্যূনতম জিপিএ ৩.৫০ সহ সর্বমোট জিপিএ কমপক্ষে ৮.০০ থাকতে হবে। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞান শাখাসহ মাদ্রাসা বোর্ড (বিজ্ঞান) এবং ভোকেশনাল (এইচএসসি) বিজ্ঞান শাখা হিসাবে বিবেচিত হবে।
ইউনিট-বি: মানবিক শাখা হতে এইচএসসি/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ আবেদনকারীদের এসএসসি/সমমান ও এইচএসসি/সমমান উভয় পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০ সহ সর্বমোট জিপিএ কমপক্ষে ৬.০০ থাকতে হবে। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মানবিক শাখাসহ মিউজিক, গার্হস্থ্য অর্থনীতি এবং মাদ্রাসা বোর্ড (সাধারণ, মুজাব্বিদ) মানবিক শাখা হিসাবে বিবেচিত হবে।
ইউনিট-সি: বাণিজ্য শাখা হতে এইচএসসি/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ আবেদনকারীদের এসএসসি/সমমান ও এইচএসসি/সমমান উভয় পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০ সহ সর্বমোট জিপিএ কমপক্ষে ৬.৫০ থাকতে হবে। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের বাণিজ্য শাখাসহ ডিপ্লোমা ইন বিজনেস স্টাডিজ, ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা (এইচএসসি) এবং ডিপ্লোমা ইন কমার্স বাণিজ্য শাখা হিসাবে বিবেচিত হবে।
জিসিই-এর ক্ষেত্রে আইজিসিএসই (ও লেভেল) পরীক্ষায় কমপক্ষে ৩টি বিষয়ে বি-গ্রেডসহ ৫টি বিষয়ে পাস এবং আইএএল (এ লেভেল) পরীক্ষায় কমপক্ষে ২টি বিষয়ে B গ্রেডসহ ৩টি বিষয়ে পাস থাকতে হবে। এক্ষেত্রে সরাসরি আবেদনের মাধ্যমে সমমান ও যোগ্যতা নির্ধারণ কমিটি কর্তৃক অনুমোদন ক্রমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। সমমান নির্ধারণের জন্য আবেদনের শেষ তারিখের কমপক্ষে ১২ দিন পূর্বে সরাসরি রেজিস্ট্রার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা-এ যোগাযোগ করতে হবে।
আবেদন করার পদ্ধতি: জিএসটি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার ওয়েবসাইট (www.gstadmission.ac.bd)-এ পাওয়া যাবে।
পরীক্ষার সময়সূচি: ৩০ জুলাই শনিবার ইউনিট-এ (বিজ্ঞান), ১৩ আগস্ট শনিবার ইউনিট-বি (মানবিক) এবং ২০ আগস্ট শনিবার ইউনিট-সি (বাণিজ্য)-এর পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ১২টা হতে দুপুর ১টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা পরীক্ষা হবে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য