শিরোনাম
সার্টিফিকেট-সর্বস্ব নয়, চাই সৃজনশীল মানুষ হওয়ার শিক্ষা: রাষ্ট্রপতি
শিক্ষা যাতে কোনোভাবেই সার্টিফিকেট-সর্বস্ব না হয়, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, ‘সার্টিফিকেট-সর্বস্ব শিক্ষা নয়, নোট মুখস্থ করে পাস নয়, আমরা চাই সৃজনশীল মানুষ হওয়ার শিক্ষা এবং কুসংস্কারমুক্ত আর খোলা মনের আলোকিত ব্যক্তিত্ব গড়ার শিক্ষা।’ গতকাল রোববার বিকেলে ‘বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি’ আয়োজিত আলোচনা সভায় বঙ্গভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি দেওয়া ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার প্রকৃত কেন্দ্র উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বর্তমান বিশ্ব একদিকে যেমন সম্ভাবনাময়, তেমনি তা চ্যালেঞ্জিংও বটে। তাই শিক্ষার্থীদের জন্য যুগোপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানের পাঠক্রম অনুসরণ করতে হবে।’
রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নির্দিষ্টসংখ্যক আসন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষণ এবং সম্ভব হলে বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষা খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার জন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে মুনাফা অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করার নির্দেশ দেন। রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে কিছু সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারে নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের ব্যাপারেও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিনিয়োগকে তাদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। নিয়মনীতি, অবকাঠামো ও শিক্ষাসংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না করে বছর বছর ছাত্র ভর্তি করছে আর সার্টিফিকেট বিতরণ করছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তবুদ্ধির চর্চা ও অনুশীলনের স্থান।’
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এ আলোচনার আয়োজন করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জীবন ও রাজনৈতিক দর্শন, মানবতাবোধ, চিন্তা-চেতনা ও নীতি-নৈতিকতাকে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার সব স্তরে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে গ্রহণ করার উদ্যোগ আমাদেরই নিতে হবে।’
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ ও অনুষ্ঠানের সভাপতি বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন বক্তব্য দেন। এ ছাড়া প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এ কে এম নুরুল ফজল। অনুষ্ঠানে, ‘আমার দৃষ্টিতে দেখা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
১৭তম শিক্ষক নিবন্ধনের প্রিলি জুনে!
১৭তম শিক্ষক নিবন্ধনের প্রিলিমিনারী পরীক্ষা আগামী জুনে নিতে চায় বলে জানিয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। সে লক্ষ্যেই এগুচ্ছে কর্তৃপক্ষ। কক্ষ সংকটের কারণে এতোদিন পরীক্ষার আয়োজন করতে পারেনি তারা। এতে অনিশ্চয়তায় পড়ে প্রায় ১২ লাখ প্রার্থী।
জানা গেছে, ২০২০ সালের ২২ জানুয়ারি ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এনটিআরসিএ। বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই বছরের ১৫ মে সকালে স্কুল পর্যায়ে এবং বিকালে কলেজ পর্যায়ের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়। তবে এর আগেই দেশে করোনা সংক্রমণ শুরু হলে থেমে যায় নিবন্ধন কার্যক্রম। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর গ্রন্থাগার প্রভাষকদের জন্য চলতি বছর সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এনটিআরসিএ।
সূত্র জানায়, রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত একটি কার্যালয়ে এনটিআরসিএ’র জন্য বরাদ্দকৃত দুটি রুম ছিল। এই রুম দুটি ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডকে দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কক্ষ সংকট তৈরি হওয়ায় ১৭তম নিবন্ধনের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করতে পারছে না এনটিআরসিএ।
এদিকে কক্ষ সংকট দূর করার জন্য কাজ করছে এনটিআরসিএ এর একটি টিম। তারা ইতোমধ্যেই কয়েকটি বাসা দেখেছে। শীঘ্রই কক্ষ সংকট দূর হবে বলে জানান টিমের একাধিক সদস্য।
এ সব বিষয়ে এনটিআরসিএর সচিব (উপসচিব) মো. ওবাইদুর রহমান বলেন, ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধনের প্রিলি পরীক্ষা জুনে নিতে চাই। এজন্য সব রকম প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। জায়গা সংকট দূর করতে কক্ষ দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বাসা দেখাও হয়েছে। তবে চূড়ান্ত করা হয়নি। এটি চূড়ান্ত হলে প্রিলি পরীক্ষার তারিখ জানানো হবে।
প্রতিটি বিভাগেই মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, প্রতিটি বিভাগেই মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হবে, সে লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছে। ডেন্টাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীকে বলব। এর আগে একটি ডেন্টাল ইনস্টিটিউট হতে হতে পারে, এটি নেই। কিডনি, চক্ষু আছে।
রবিবার (২০ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব ওরাল হেলথ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটি কর্তৃক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেন্টাল বিশ্ববিদ্যালয়, ডেন্টাল ইনস্টিটিউটের হয়ে গেলে চিকিৎসা ও শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাবে। এটি আমি নিজেই করে দিতে পারব। আশ্বস্ত করতে চাই, দেশে একটি ডেন্টাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, উপজেলা হাসপাতালে মাত্র একজন ডেন্টাল সার্জন রয়েছেন, কিন্তু সেখানে পাঁচ লাখেরও বেশি লোক বসবাস করেন। সেখানে এতো মানুষকে সেবা দেওয়া দুষ্কর। জনবল ও যন্ত্রপাতি আধুনিকায়নের ব্যবস্থা করব।
মন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে লেখাপড়া শুরু হয়েছে, যদিও করোনার কারণে দীর্ঘ দিন স্কুল-কলেজ বন্ধ ছিল। সামাজিক-রাজনৈতিক অনুষ্ঠানও করোনার জন্য বন্ধ ছিল, সেটিও চালু হয়েছে। করোনা নিয়ন্ত্রণে অনেক কাজ করতে হয়েছে।
উচ্চশিক্ষার সকল সেবা ডিজিটালাইজ করা হবে: ইউজিসি
ইনোভেটিভ বাংলাদেশ বিনির্মাণের অংশ হিসেবে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সকল সেবা ডিজিটাল প্লাটফর্মে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির সদস্য ও ইনোভেশন টিমের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর।
তিনি বলেন, ইনোভেটিভ বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউজিসির সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিদ্যমান সেবাসমূহ শতভাগ ডিজিটালাইজ করা হবে।
ইউজিসির ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ই-গভর্ন্যান্স ও উদ্ভাবন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘উদ্ভাবন বিষয়ক প্রশিক্ষণে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে আজ রবিবার (২০ মার্চ) তিনি এ কথা জানান।
সভায় প্রফেসর আলমগীর উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত সেবা সহজলভ্য করতে সংশ্লিষ্টদেরকে উদ্ভাবন, সেবা সহজীকরণে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে উচ্চশিক্ষা খাতের চ্যালেঞ্জ ও প্রস্তুতি বিষয়ে তিনি বলেন, ৪র্থ শিল্প বিপ্লবে শ্রম ও চাকরির বাজারে ব্যাপক প্রতিযোগিতা তৈরি হবে। এক্ষেত্রে যন্ত্র মানুষের স্থান দখল করে নিলেও মেধা, দক্ষতা ও সক্ষমতা দিয়ে মানুষই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করবে। কাজেই, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় উচ্চশিক্ষাস্তরে পাঠ্যক্রম ঢেলে সাজানো, গ্রাজুয়েটদের দক্ষতা ও বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ঘটাতে হবে।
ইউজিসি সচিব ড. ফেরদৌস জামানের সভাপতিত্বে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট, কমিউনিকেশন এন্ড ট্রেনিং বিভাগের পরিচালক মো. মাকছুদুর রহমান ভূঁইয়া বক্তব্য দেন।
সভায় ইউজিসি সচিব ড. ফেরদৌস জামান উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সেবা প্রত্যাশীদের ভোগান্তি কমাতে সেবা সহজিকরণ, গুণগত সেবা প্রদান এবং সংশ্লিষ্টদের নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
কমিশনের সিনিয়র সহকারী পরিচালক ও ইনোভেশন টিমের ফোকাল পয়েন্ট মো. রবিউল ইসলামের সঞ্চালনায় প্রশিক্ষণে রিসোর্সপারসন হিসেবে যুক্ত ছিলেন এটুআই কনসালটেন্ট (উপ সচিব) জিয়াউর রহমান। প্রশিক্ষণে ইউজিসি’র বিভিন্ন পর্যায়ের ২৫ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।
ববিতে গণবিজ্ঞপ্তির ভর্তি চলছে
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তির শেষ কার্যক্রম চলছে। আজ রোববার (২০ মার্চ) গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ভর্তি নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। এরপর আর কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হবে না বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। শূন্য ৩০০ আসনের বিপরীতে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হচ্ছে।
এর আগে, ১৪ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল কমিটির আহ্বায়ক রাহাত হোসেন ফয়সাল বলেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে প্রায় ৩০০ আসন এখনো খালি রয়েছে। শূন্য আসনে ভর্তি কার্যক্রম শেষ করতে ২০ মার্চ মেধা তালিকার ক ইউনিটে ১-৬৫০০ সিরিয়াল পর্যন্ত, খ ইউনিট ১-২৫০০ সিরিয়াল পর্যন্ত এবং গ ইউনিট ১-২৫০০ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ভাইবা নিয়ে ভর্তি নেয়া হবে। পূূর্বে যারা মেধাতালিকায় এসেছিল কিন্তু কোন কারণে ভর্তি হতে পারেনি তারাও চাইলে ভাইবা দিয়ে ভর্তি হতে পারবে।
তিনি আরো জানান, ২০ তারিখেই ভর্তি হতে হবে। ওভাবেই প্রিপারেশন নিয়ে আসতে বলা হবে। যে ২০ তারিখ ৫ টার মধ্যে ভর্তি হতে পারবেনা তার সিট বাতিল হয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ২৭ ফেব্রুয়ারিতে থেকে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের সশরীরে ক্লাস কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য