শিরোনাম
তিন মাস আগে এসএসসির রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ নিয়ে নানা মত
পরীক্ষার তিন মাস আগে বাদ পড়া শিক্ষার্থীদের এসএসসিতে অংশগ্রহণের জন্য রেজিস্ট্রেশন করার সুযোগ দিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। এর মাধ্যমে ২০২০ সালে নবম শ্রেণিতে করোনার কারণে বাদপড়া শিক্ষার্থীদের চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন শুরু হচ্ছে আগামী ১৩ মার্চ থেকে।
করোনার কারণে বাদপড়া শিক্ষার্থী ও বোর্ড পরিবর্তনের বা ছাড়পত্রের মাধ্যমে নতুন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা ১৬ মার্চ পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ পাবে। ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড মঙ্গলবার (৮ মার্চ) এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হয়েছে পক্ষ ও বিপক্ষ মত।
বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক অধ্যাপক মো. আবুল মনছুর ভূঁঞা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বোর্ডের আওতায় অনুমোদিত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২০২০ সালে নবম শ্রেণির (২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শেষ হয়েছে। করোনা মহামারির কারণে বাদপড়া শিক্ষার্থী ও বোর্ড পরিবর্তনের মাধ্যমে আসা শিক্ষার্থীরা ১৩ মার্চ থেকে ১৬ মার্চের মধ্যে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে।
এ জন্য সোনালী সেবার মাধ্যমে ১৭১ টাকা বিলম্ব ফি ছাড়া জমা দিতে হবে বলে জানানো হয়েছে। আরো বলা হয়, নির্দিষ্ট সময়ের পর বাদপড়া শিক্ষার্থীদের আর রেজিস্ট্রেশন করা হবে না। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন না করলে এর দায়দায়িত্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকে বহন করতে হবে বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে পরীক্ষার ৩ মাস আগে রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ দেওয়া নিয়ে মত তৈরি হয়েছে পক্ষে ও বিপক্ষে। শিক্ষকদের অনেকের মতে, এতে বাদপড়া শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
অপরদিকে কেউ কেউ বলছেন, তিন মাসে আগে রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ দেওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান পরীক্ষার্থী সংখ্যা অনৈতিকভাবে বাড়ানোর সুযোগ পাবে। ভুয়া পরীক্ষার্থীদের অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলেও অভিযোগ করছেন।
চলতি বছর ১৯ জুন থেকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হতে পারে বলে ঘোষণা করেছে ঢাকা শিক্ষাবোর্ড। আগামী ১৩ এপ্রিল থেকে রেজিস্ট্রেশনধারী শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ শুরু হবে অনলাইনে। আর ১৯ মে থেকে প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা শুরু হবে।
টিকা ছাড়াই ক্লাসে শিক্ষার্থীরা, অনলাইন ক্লাসও বন্ধ!
দুই ডোজ টিকার শর্তে গত ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে সারাদেশে মাধ্যমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে সশরীরে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়। তবে দেশের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনো শিক্ষার্থীদের দুই ডোজ টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। বিশেষত রাজধানীর এমন অনেক স্কুল-কলেজ রয়েছে, যেখানে দুই ডোজ টিকা না পেয়ে ক্লাসে যেতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। তাদের জন্য রুটিন মাফিক অনলাইন ক্লাস নেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও সেটি হচ্ছে না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের। এতে সর্বোপরি ব্যাহত হচ্ছে টিকা না পেয়ে ঘরে বসে থাকা ওইসব ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ালেখা। এ অবস্থায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) বলছে, আগামী দু-এক সপ্তাহের মধ্যে সব শিক্ষার্থীকে টিকার দ্বিতীয় ডোজের আওতায় আনা হবে। চলতি মাসেই শতভাগ শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু হবে ক্লাস কার্যক্রম।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর শীর্ষ পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বেশিরভাগ শিক্ষার্থী টিকার এসেছে। তবে সারাদেশে এখনো টিকার প্রথম ডোজ পাওয়া ২৬ লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি।
প্রথম শ্রেণি থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত চলা রাজধানীর মিরপুরে ৬০ ফিট রোড এলাকার আল নাহিয়ান বিদ্যানিকেতনে সরেজমিনে দেখা গেছে, স্কুলটি গড়ে তোলা হয়েছে কিন্ডারগার্টেনের আদলে। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক সংখ্যা ১২ জন।
প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান জানান, তাদের পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত স্কুলের অনুমোদন রয়েছে। পাশের স্কুল থেকে বোর্ড পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। যে স্কুল থেকে রেজিস্ট্রেশন করা হয় সেই স্কুলের মাধ্যমেই অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে প্রথম ডোজের টিকা দিলেও এখনো আড়াইশোর মতো শিক্ষার্থী দ্বিতীয় ডোজ টিকার আওতায় আসেনি।
তিনি বলেন, প্রায় দুই বছর স্কুল বন্ধ ছিল। শিক্ষক সংখ্যা কম, তার ওপরে যদি শিক্ষার্থীরা ক্লাসে না আসে তাহলে তারা পিছিয়ে পড়বে। অভিভাবকরাও তা চায় না বলে সন্তানদের ক্লাসে নিয়ে আসে। তখন আর আমাদের কিছু করার থাকে না। টিকার দ্বিতীয় ডোজের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে টিকা দেওয়া সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় দুই হাজার ৩০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৯৫ শতাংশ করোনার দুই ডোজ টিকা পেয়েছে। টিকা না পেয়ে যারা সশরীরে ক্লাসে আসতে পারছে না তাদের অনলাইন ক্লাস করানো হচ্ছে না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ষষ্ঠ শ্রেণির একাধিক শিক্ষার্থী জাগো নিউজকে জানিয়েছে, তাদের কয়েকজন সহপাঠী টিকার দ্বিতীয় ডোজের সময় না হওয়ায় নিতে পারেনি। তারা ক্লাসে আসতে পারছে না। আগে স্যার-ম্যাডামরা অনলাইনে ক্লাস করালেও এখন করাচ্ছে না। ক্লাসে আসতে না পারায় ওদের অনেক মন খারাপ। অনলাইন ক্লাস হলেও পড়ালেখায় ব্যস্ত থাকতো। প্রতিদিন ক্লাসে যা পড়ানো হচ্ছে সেগুলো স্কুলের গ্রুপে দিয়ে ওদের পড়তে বলা হচ্ছে।
টিকা দ্বিতীয় ডোজের বিষয়ে খোঁজ নিতে আসা সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীর মা আসমা রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, গত ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে স্কুলে ক্লাস শুরু হলেও তার মেয়েকে আসতে দেওয়া হচ্ছে না। করোনার দুই ডোজ টিকা না পাওয়ায় সে ক্লাসে আসতে পারছে না। কবে দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেওয়া হবে সেটি জানতেই তিনি স্কুলে এসেছেন।
তিনি বলেন, অধিকাংশ শিক্ষার্থী টিকা পাওয়ায় শিক্ষকরা অনলাইন ক্লাস বন্ধ করে দিয়েছেন। সে কারণে মেয়েটা পড়লেখা করতে চায় না। ক্লাসে এলে সময়টা ভালো কাটে, পড়ালেখায়ও ব্যস্ত থাকে। তার মতো যারা টিকা পায়নি তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছে বলে জানান এ অভিভাবক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র শিক্ষক সৈয়দা নারগীস আক্তার বলেন, আমাদের ৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থী টিকার দুই ডোজের আওতায় এসেছে। যাদের এখনো দ্বিতীয় ডোজের সময় হয়নি তারাই শুধু বাকি রয়েছে। আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে আর কেউ বাকি থাকবে না।
যারা ক্লাসে আসতে পারছে না তাদের জন্য সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক অনলাইন ক্লাস নেওয়া হচ্ছে কি না, জানতে চাইলে তিনি ‘রুটিন অনুযায়ী অনলাইন ক্লাস নেওয়া হচ্ছে’ বলে জানান। যদিও সেই রুটিন দেখাতে পারেননি তিনি।
এদিকে টিকার তত্ত্বাবধানকারী প্রতিষ্ঠান মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে ১২-১৭ বছরের ১ কোটি ৩৯ লাখ ৬৩ হাজার ৯৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১ কোটি ৩৬ লাখ ৯ হাজার ৬২৭ জন শিক্ষার্থী করোনার প্রথম ডোজের টিকা পেয়েছে। এর মধ্যে ১ কোটি ১০ লাখ ৪০ হাজার ৩৪৬ জনকে দ্বিতীয় ডোজের আওতায় আনা হয়েছে। দ্বিতীয় ডোজের বাইরে রয়েছে ২৬ লাখ ৪৯ হাজার ২৮১ জন। সে হিসাবে এখনো মাধ্যমিকে ২ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮ জন শিক্ষার্থী টিকার প্রথম ডোজ পায়নি।
দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগে ২৭ লাখ ৬ হাজার ৪৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৬ লাখ ৮৬ হাজার ২৪৬ জন প্রথম ডোজ পেয়েছে। দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছে ২০ লাখ ৭০ হাজার ৭১৬ জন। টিকার আওতায় প্রথম ডোজ ৯ শতাংশ ও দ্বিতীয় ডোজ ৭৬ শতাংশ রয়েছে।
বরিশাল বিভাগে ৯ লাখ ৬৮ হাজার ১৯০ জনের মধ্যে প্রথম ডোজ ৯ লাখ ১ হাজার ২৬১ জন এবং দ্বিতীয় ডোজের টিকা পেয়েছে ৬ লাখ ৪০ হাজার ৩১৭ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে প্রথম ডোজ ৯৩ শতাংশ ও দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছে ৬৬ শতাংশ শিক্ষার্থী।
চট্টগ্রামে ১৭ লাখ ৪৬ হাজার ৬১ জনের মধ্যে প্রথম ডোজ ১৭ লাখ ৫ হাজার ৮২৫ জন এবং দ্বিতীয় ডোজের টিকা পেয়েছে ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৮ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে প্রথম ডোজ ৯৮ শতাংশ ও দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছে ৭৪ শতাংশ।
কুমিল্লায় ১২ লাখ ১৮ হাজার ৪৫৪ জনের মধ্যে প্রথম ডোজ ১১ লাখ ৯৮ হাজার ৮৫৪ জন অর্থাৎ ৯৮ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছে ১০ লাখ ৩৭ হাজার ৭৭০ জন, ৮৫ শতাংশ। খুলনায় ১৪ লাখ ৭৫ হাজার ২৯১ জনের মধ্যে প্রথম ডোজ ১৪ লাখ ৬৮ হাজার ২৫২ জন অর্থাৎ শতভাগ, দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছে ১১ লাখ ২২ হাজার ১৬৫ জন, ৭৬ শতাংশ।
ময়মনসিংহে ১৬ লাখ ৫৫ হাজার ৭৪৯ জনের মধ্যে প্রথম ডোজ ১৬ লাখ ৫০ হাজার ৪৫৪ জন অর্থাৎ শতভাগ, দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছে ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৯৭৪ জন, ৯৩ শতাংশ। রাজশাহীতে ১৭ লাখ ৪২ হাজার ৮৯৪ জনের মধ্যে ১৭ লাখ ৪ হাজার ২৯১ জন প্রথম ডোজ, ৯৮ শতাংশ আর দ্বিতীয় ডোজ ১৫ লাখ ৬৪ হাজার ৫৪০ জন, ৯০ শতাংশ।
রংপুরে ১৬ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭৯ জনের মধ্যে ১৫ লাখ ৯৬ হাজার ২৬৬ প্রথম ডোজ, ৯৮ শতাংশ আর দ্বিতীয় ডোজ ১১ লাখ ১৮ হাজার ৪৩১ জন, ৬৮ শতাংশ। সিলেটে ৮ লাখ ১৫ হাজার ৩৩৩ জনের মধ্যে ৭ লাখ ৭৮ হাজার ১৭৫ জন প্রথম ডোজ, ৯৫ শতাংশ আর ৬ লাখ ৬৪ হাজার ৫০৫ জন দ্বিতীয় ডোজ অর্থাৎ ৮২ শতাংশ শিক্ষার্থী টিকা পেয়েছে।
শিক্ষার্থীদের টিকাদান শুরুর পর এক পর্যন্ত সারাদেশে সব মিলিয়ে প্রথম ডোজ ৯৮ শতাংশ আর দ্বিতীয় ডোজের টিকা পেয়েছে ৭৯ শতাংশ শিক্ষার্থী।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ বলেন, যেসব শিক্ষার্থী টিকার দুই ডোজ পেয়েছে তাদেরই শুধু সশরীরে ক্লাসে আসতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যারা ক্লাসে আসতে পারবে না তাদের জন্য নিয়মিত অনলাইন ক্লাস নিতে হবে। এ নির্দেশনা কেউ অমান্য করলে তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সারাদেশে জোরালোভাবে শিক্ষার্থীদের টিকা কার্যক্রম চলছে। আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রথম ডোজ পাওয়া শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় ডোজের আওতায় আনা হবে। চলতি মাস থেকে পুরোদমে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করা হবে।
৮৯ আসনের বিপরীতে মেডিকেল-ডেন্টালের তৃতীয় মাইগ্রেশন
সারা দেশের সরকারি মেডিকেল এবং ডেন্টাল কলেজ ও ইউনিটগুলোতে ফাঁকা আসনের বিপরীতে তৃতীয় ধাপের মাইগ্রেশন শেষ করার উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। এ লক্ষ্যে শূন্য হওয়া আসনের তথ্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) পাঠানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২২ ডিসেম্বর মেডিকেলের প্রথম ধাপের মাইগ্রেশন ও অপেক্ষমান তালিকা প্রকাশ করে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। ৩৩৪ আসনের বিপরীতে মাইগ্রেশন সম্পন্ন হয়েছিল। এরপর গত ৮ ফেব্রুয়ারি ১১১ আসনের বিপরীতে দ্বিতীয় ধাপের মাইগ্রেশনের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এখন তৃতীয় ধাপের মাইগ্রেশন সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, তৃতীয় ধাপে মেডিকেল ও ডেন্টাল মিলে মোট ৮৯ আসনের বিপরীতে মাইগ্রেশন সম্পন্ন করা হবে। এর মধ্যে এমবিবিএস এ মাইগ্রেশন হবে ৩৭টি আসনের বিপরীতে। যার মধ্যে সাধারণ কোটায় ৩৩ জন, উপজাতী ৩ এবং মুক্তিযোদ্ধা কোটায় একজনের মাইগ্রেশন সম্পন্ন হবে। আর ডেন্টালের মাইগ্রেশন হবে ৫২ আসনের বিপরীতে। এর মধ্যে ৫১টি সাধারণ এবং একটি উপজাতীয় কোটার।
মঙ্গলবার (৮ মার্চ) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. এ কে এম আহসান হাবীব। তিনি বলেন, এমবিবিএস এর মাইগ্রেশন হবে ৩৭টি আসনের বিপরীতে। আর ডেন্টালের মাইগ্রেশন হবে ৫২ আসনের বিপরীতে।
কবে নাগাদ মাইগ্রেশনের তালিকা প্রকাশ করা হবে— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, এটি এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়৷ মাইগ্রেশন সম্পন্ন করতে বুয়েটের কাছে তথ্য পাঠানো হয়েছে। তারা তালিকা প্রস্তুত করে যখন আমাদের পাঠাবে আমরা সেদিনই এটি প্রকাশ করব।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২ এপ্রিল সারা দেশে একযোগে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস কোর্সের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এর একদিন পর ৪ এপ্রিল পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এবার দেশের সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে আসন ছিল ৪ হাজার ৩৫০টি।
আলিমের রেজিস্ট্রেশন কার্ড বিতরণ শুরু ১৫ মার্চ
চলতি বছরের আলিম পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন কার্ড বিতরণ শুরু হবে আগামী ১৫ মার্চ। ৩১ মার্চ পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে। মঙ্গলবার (০৮ মার্চ) মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রার মো. সিদ্দিকুর রহমান সাক্ষরিত অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
অফিস আদেশে বলা হয়, ‘আলিম পরীক্ষা-২০২২ (শিক্ষাবর্ষ-২০২০-২০২১) এর রেজিস্ট্রেশন কার্ড আগামী ১৫ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত আঞ্চলিক কার্যালয় ও বোর্ডের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। উল্লেখিত সময়সীমার মধ্যে রেজিস্ট্রেশন কার্ড সংগ্রহ করে কোনো প্রকার ভুলত্রুটি পরিলক্ষিত হলে সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ অত্র বোর্ডের রেজিস্ট্রার বরাবর আবেদন করতে হবে।’
এর আগে চলতি বছরের দাখিল ও আলিম পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। ঘোষণা অনুযায়ী, দাখিল পরীক্ষা শুরু হবে ১৯ জুন। আর আলিম শুরু হচ্ছে ২২ আগস্ট থেকে।
প্রসঙ্গত, করোনা সংক্রমণের কারণে দীর্ঘদিন আটকে ছিল ২০২১ সালের এসএসসি-এইচএসসি ও সমমানের দাখিল-আলিম ও অন্যান্য পরীক্ষা। এরপর গত বছরের শেষ দিকে দাখিল ও আলিম শুধু গ্রুপভিত্তিক তিনটি বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়। আর অন্যান্য বিষয়ে সাবজেক্ট ম্যাপিং করে ফল প্রকাশ করা হয়।
করোনার পর ১ কোটিরও বেশি মেয়ে স্কুলে নাও ফিরতে পারে: ইউনিসেফ
জাতিসংঘের বিশেষ সংস্থা জাতিসংঘ শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল বলেছেন, নারী-পুরুষের সমতার লড়াই এখনও শেষ হয়নি। কোভিড-১৯ এর আগেও আমাদের সময়ের সবচেয়ে ব্যাপক ও উল্লেখযোগ্য অবিচার হিসেবে লিঙ্গ বৈষম্য ছিল। মহামারির প্রভাবে এই অবিচার আরও কয়েকগুণ বেড়েছে। আজ মঙ্গলবার (৮ মার্চ) আন্তর্জাতিক নারী দিবসে এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন তিনি।
তার মতে, নারী দিবসে আমরা বিশ্বের নারী ও মেয়েদের জন্য আন্তর্জাতিক কমিউনিটির কষ্টার্জিত অর্জনগুলোকে স্বীকার করি। আমরা আমাদের সমাজে নারী ও মেয়েদের উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলো উদযাপন করি।
“ওই অর্জনগুলো যাতে সর্বত্র সব মেয়ের কাছে পৌঁছায় সে জন্য আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি দ্বিগুণ করি। কিন্তু সমতার জন্য লড়াই এখনও শেষ হয়নি। প্রকৃতপক্ষে, করোনার আগেও সবচেয়ে ব্যাপক ও উল্লেখযোগ্য অবিচার হিসেবে লিঙ্গ বৈষম্য টিকে ছিল। মহামারির প্রভাবে এই অবিচার কয়েকগুণ বেড়েছে।”
তিনি বলেন, আমরা যখন করোনার প্রাদুর্ভাবের তৃতীয় বছরে প্রবেশ করছি এবং মহামারি পরবর্তী সময়ের জন্য কাজ করছি, সেক্ষেত্রে সত্যিকারের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় অবশ্যই লৈঙ্গিক সমতা থাকতে হবে।
ক্যাথরিন রাসেল বলেন, করোনা মেয়েদের জীবন ধ্বংস করছে। স্কুল বন্ধ, অর্থনৈতিক চাপ এবং পরিষেবার ব্যাঘাত সবচেয়ে অরক্ষিত মেয়েদের স্বাস্থ্য, সামগ্রিক কল্যাণ ও ভবিষ্যতকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। বিশ্বব্যাপী ১ কোটি ১০ লাখের বেশি মেয়ে মহামারির পরে স্কুলে নাও ফিরতে পারে। আগামী এক দশকে আরও এক কোটি মেয়ে শিশু বিয়ের ঝুঁকিতে আছে। ইউএনএফপিএর মতে, আরও ২০ লাখ নারী যৌনাঙ্গ বিকৃতির শিকার হতে পারে।

ইউনিসেফের এই নির্বাহী পরিচালক বলেন, যেহেতু লকডাউন শিশুদের আরও বেশি সময় তাদের বাড়িতে কাটাতে বাধ্য করে, এক্ষেত্রে গৃহস্থালি কাজের বেশিরভাগই মেয়েদের কাঁধে পড়ে। অনেকে তাদের নির্যাতনকারীর সঙ্গে একসঙ্গে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন এবং তাদের সুরক্ষার জন্য সহায়ক এমন সেবা ও কমিউনিটি থেকে বিচ্ছিন্ন থাকছেন।
যৌন সহিংসতাসহ লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা মেয়েদের একটি প্রজন্মকে তাদের বাকি জীবনের জন্য এই মহামারির পরিণাম ভোগ করতে দিতে পারি না। আমরা যখন মহামারি পরবর্তী সময়ের জন্য কাজ করছি, তখন মেয়েদের অবশ্যই বৈশ্বিক, জাতীয় এবং স্থানীয় মহামারি মোকাবিলা ও পুনরুদ্ধার পরিকল্পনার কেন্দ্রে রাখতে হবে।
এর মানে হলো, মেয়েদের তাদের শিক্ষা পুনরায় শুরু করার সুযোগ দিতে স্কুলগুলো খোলা রাখা। যারা পিছিয়ে পড়েছে তাদের ঘাটতি পূরণে সহায়তা দিতে প্রয়োজনীয় সম্পদের পেছনে বিনিয়োগ করা। অথ্যাৎ মেয়েদের যৌন, প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকারসহ শিক্ষায় পুনরায় বিনিয়োগ করা এবং মানসম্মত ঋতুকালীন স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা সেবাগুলো প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সুযোগ বাড়ানো।
তিনি আরও বলেন, মেয়েদের ক্ষমতায়ন অগ্রশক্তির চালিকাশক্তি। সারা বিশ্বের মেয়েরা তাদের অধিকারের জন্য সোচ্চার হচ্ছে এবং ঠিক এই ধরনের পদক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছে। তাদের কথা আমাদের শুনতে হবে। এর ওপর বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা, শান্তি ও সমৃদ্ধি নির্ভর করে।
সবশেষে তিনি বলেন, আসুন আন্তর্জাতিক নারী দিবসে করোনা সামাল দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়ায় মেয়েদের গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিশ্রুতি দেই। যা মেয়েদের জন্য মহামারি পরবর্তী আরও ন্যায়সঙ্গত ও সমতার একটি বিশ্ব গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। যা আমাদের সবার জন্য আরও উজ্জ্বল, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যত গড়তে সহায়তা করবে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য