শিরোনাম
করোনার পর ১ কোটিরও বেশি মেয়ে স্কুলে নাও ফিরতে পারে: ইউনিসেফ
জাতিসংঘের বিশেষ সংস্থা জাতিসংঘ শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল বলেছেন, নারী-পুরুষের সমতার লড়াই এখনও শেষ হয়নি। কোভিড-১৯ এর আগেও আমাদের সময়ের সবচেয়ে ব্যাপক ও উল্লেখযোগ্য অবিচার হিসেবে লিঙ্গ বৈষম্য ছিল। মহামারির প্রভাবে এই অবিচার আরও কয়েকগুণ বেড়েছে। আজ মঙ্গলবার (৮ মার্চ) আন্তর্জাতিক নারী দিবসে এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন তিনি।
তার মতে, নারী দিবসে আমরা বিশ্বের নারী ও মেয়েদের জন্য আন্তর্জাতিক কমিউনিটির কষ্টার্জিত অর্জনগুলোকে স্বীকার করি। আমরা আমাদের সমাজে নারী ও মেয়েদের উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলো উদযাপন করি।
“ওই অর্জনগুলো যাতে সর্বত্র সব মেয়ের কাছে পৌঁছায় সে জন্য আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি দ্বিগুণ করি। কিন্তু সমতার জন্য লড়াই এখনও শেষ হয়নি। প্রকৃতপক্ষে, করোনার আগেও সবচেয়ে ব্যাপক ও উল্লেখযোগ্য অবিচার হিসেবে লিঙ্গ বৈষম্য টিকে ছিল। মহামারির প্রভাবে এই অবিচার কয়েকগুণ বেড়েছে।”
তিনি বলেন, আমরা যখন করোনার প্রাদুর্ভাবের তৃতীয় বছরে প্রবেশ করছি এবং মহামারি পরবর্তী সময়ের জন্য কাজ করছি, সেক্ষেত্রে সত্যিকারের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় অবশ্যই লৈঙ্গিক সমতা থাকতে হবে।
ক্যাথরিন রাসেল বলেন, করোনা মেয়েদের জীবন ধ্বংস করছে। স্কুল বন্ধ, অর্থনৈতিক চাপ এবং পরিষেবার ব্যাঘাত সবচেয়ে অরক্ষিত মেয়েদের স্বাস্থ্য, সামগ্রিক কল্যাণ ও ভবিষ্যতকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। বিশ্বব্যাপী ১ কোটি ১০ লাখের বেশি মেয়ে মহামারির পরে স্কুলে নাও ফিরতে পারে। আগামী এক দশকে আরও এক কোটি মেয়ে শিশু বিয়ের ঝুঁকিতে আছে। ইউএনএফপিএর মতে, আরও ২০ লাখ নারী যৌনাঙ্গ বিকৃতির শিকার হতে পারে।

ইউনিসেফের এই নির্বাহী পরিচালক বলেন, যেহেতু লকডাউন শিশুদের আরও বেশি সময় তাদের বাড়িতে কাটাতে বাধ্য করে, এক্ষেত্রে গৃহস্থালি কাজের বেশিরভাগই মেয়েদের কাঁধে পড়ে। অনেকে তাদের নির্যাতনকারীর সঙ্গে একসঙ্গে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন এবং তাদের সুরক্ষার জন্য সহায়ক এমন সেবা ও কমিউনিটি থেকে বিচ্ছিন্ন থাকছেন।
যৌন সহিংসতাসহ লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা মেয়েদের একটি প্রজন্মকে তাদের বাকি জীবনের জন্য এই মহামারির পরিণাম ভোগ করতে দিতে পারি না। আমরা যখন মহামারি পরবর্তী সময়ের জন্য কাজ করছি, তখন মেয়েদের অবশ্যই বৈশ্বিক, জাতীয় এবং স্থানীয় মহামারি মোকাবিলা ও পুনরুদ্ধার পরিকল্পনার কেন্দ্রে রাখতে হবে।
এর মানে হলো, মেয়েদের তাদের শিক্ষা পুনরায় শুরু করার সুযোগ দিতে স্কুলগুলো খোলা রাখা। যারা পিছিয়ে পড়েছে তাদের ঘাটতি পূরণে সহায়তা দিতে প্রয়োজনীয় সম্পদের পেছনে বিনিয়োগ করা। অথ্যাৎ মেয়েদের যৌন, প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকারসহ শিক্ষায় পুনরায় বিনিয়োগ করা এবং মানসম্মত ঋতুকালীন স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা সেবাগুলো প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সুযোগ বাড়ানো।
তিনি আরও বলেন, মেয়েদের ক্ষমতায়ন অগ্রশক্তির চালিকাশক্তি। সারা বিশ্বের মেয়েরা তাদের অধিকারের জন্য সোচ্চার হচ্ছে এবং ঠিক এই ধরনের পদক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছে। তাদের কথা আমাদের শুনতে হবে। এর ওপর বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা, শান্তি ও সমৃদ্ধি নির্ভর করে।
সবশেষে তিনি বলেন, আসুন আন্তর্জাতিক নারী দিবসে করোনা সামাল দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়ায় মেয়েদের গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিশ্রুতি দেই। যা মেয়েদের জন্য মহামারি পরবর্তী আরও ন্যায়সঙ্গত ও সমতার একটি বিশ্ব গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। যা আমাদের সবার জন্য আরও উজ্জ্বল, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যত গড়তে সহায়তা করবে।
সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে হাইকোর্টের রুল
সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মেডিকেল ও ডেন্টালের ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এ সংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তির জন্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিবকে তিন দিন সময় দিয়ে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এক রিটের শুনানি শেষে আজ মঙ্গলবার (৮ মার্চ) হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদেশের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বিভূতি তরফদার।
এর আগে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে আয়োজন করতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিলো।
স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব, শিক্ষা সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সভাপতি ও রেজিস্ট্রারকে পাঠানো হয়েছিলো এ নোটিশ। কিন্তু নোটিশের পরও কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় রিট করা হয়।
সুফিয়া খাতুন হাসি নামে এক ভর্তিচ্ছুর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বিভূতি তরফদার এই নোটিশ পাঠিয়েছিলেন।
জানা যায়, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষার নীতিমালা প্রকাশ করে বিএমডিসি। নীতিমালার ৩.৩ ধারায় এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার সিলেবাস অনুযায়ী ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের কথা বলা হয়। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয় দ্বিধা।
তবে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর বলছে, চলতি বছরের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকে পূর্ণ সিলেবাসে পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়। ইতিমধ্যে নীতিমালাও তৈরি হয়ে গেছে। ফলে এটি সংশোধনের আর সুযোগ নেই। তাছাড়া নির্ধারিত তারিখে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানায় স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর।
এদিকে, ২৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে মেডিকেল ভর্তি আবেদন শুরু হয়। যা আগামী ১০ মার্চ পর্যন্ত চলবে। আর ১ এপ্রিল সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সারাদেশে একযোগে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা হবে।
মেডিকেলে ভর্তি আবেদনের সময় বাড়ছে ৫ দিন
২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি আবেদনের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। আজ মঙ্গলবার (৮ মার্চ) অথবা আগামীকাল বুধবার (৯ মার্চ) এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করবে অধিদপ্তর।
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে আবেদনের সময়সীমা না বাড়ানোর চিন্তাভাবনা ছিল কর্তৃপক্ষের। তবে এইচএসসির ফল পুনর্নিরীক্ষার জন্য আবেদনকৃত শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে আবেদনের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা অনলাইনে ভর্তি আবেদনের সুযোগ পেতে যাচ্ছেন।
মঙ্গলবার (৮ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. এ কে এম আহসান হাবীব। তিনি বলেন, আবেদনের সময় পাঁচদিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত ভর্তিচ্ছুরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আর টাকা জমা দেওয়া যাবে ১৬ মার্চ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত।
এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে মেডিকেল ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আগামী ১০ মার্চ আবেদনের সময় শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সেটি বাড়িয়ে ১৫ মার্চ করা হচ্ছে। আর ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র ডাইনলোড করা যাবে ২৬ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত। আর ১ এপ্রিল সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সারাদেশে একযোগে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশি নাগরিক যারা বিদেশি শিক্ষা কার্যক্রম থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন তাদের সার্টিফিকেট সমতাকরণ করতে হবে। এজন্য দুই হাজার টাকা জমা দিয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা ও জনশক্তি উন্নয়ন) বরাবর আবেদন করতে হবে। পূর্ববর্তী বছরের ন্যায় এইচএসসি পাস প্রার্থীদের ক্ষেত্রে মোট নম্বর থেকে ৫ নম্বর এবং পূর্ববর্তী বছরের সরকারি মেডিকেল, ডেন্টাল কলেজ ডেন্টাল ইউনিটে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে মোট নম্বর থেকে ৭ দশমিক ৫ নম্বর কেটে মেধাতালিকা তৈরি করা হবে।
যারা ২০২০ বা ২০২১ সালে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় (পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞানসহ) উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাঁরা ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ মোট ২০০ নম্বর হিসাবে নির্ধারণ করে মূল্যায়ন করা হবে। এক্ষেত্রে এসএসসিতে প্রাপ্ত জিপিএ এর জন্য ৭৫ নম্বর এবং এইচএসসিতে প্রাপ্ত জিপিএর জন্য ১২৫ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। মোট ৩০০ নম্বরের ভিত্তিতে মেধাতালিকা প্রণয়ন করা হবে।
ভর্তি পরীক্ষা ১০০ নম্বরে অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষায় ১০০টি এমসিকিউ প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। প্রতিটির প্রশ্নের মান ১। এমসিকিউ পরীক্ষা হবে ১ ঘণ্টায়। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় পদার্থবিদ্যায় ২০, রসায়নে ২৫, জীববিজ্ঞানে ৩০, ইংরেজিতে ১৫ এবং সাধারণ জ্ঞান, ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ১০ নম্বরের (মোট ১০০) প্রশ্ন থাকবে।
এমসিকিউ পরীক্ষায় প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য শূন্য দশমিক ২৫ নম্বর কাটা যাবে। লিখিত পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে ন্যূনতম ৪০ নম্বর পেতে হবে। এর কম পেলে অকৃতকার্য বলে বিবেচিত হবে। কেবল কৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের মেধাতালিকাসহ ফলাফল প্রকাশ করা হবে।
ক্ষুদে ডাক্তারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ২৭ মার্চ
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ক্ষুদে ডাক্তার কার্যক্রমের আওতায় কিন্ডারগার্টেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং সমপর্যায়ের মাদ্রাসাসহ দেশের সকল সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্ষুদে ডাক্তারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। আগামী ২৭ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত স্বাথ্য পরীক্ষা অব্যাহত থাকবে।
এর আগে গত ২২ থেকে ২৮ জানুয়ারি এই কার্যক্রম হওয়ার কথা ছিল। তবে করোনার কারণে ২১ জানুয়ারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তা আর করা সম্ভব হয়নি।
সোমবার (৭ মার্চ) নতুন সময়সীমা জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি)।
মাউশি পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক মো. বেলাল হোসাইন সাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২ মার্চ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অনুষ্ঠিত টেকনিক্যাল কমিটির সভায় আগামী ২০ মার্চ থেকে ‘জাতীয় কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহ’ এবং ওমিক্রন সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির কারণে স্থগিত হওয়া জানুয়ারি মাসের নির্ধারিত ‘ক্ষুদে ডাক্তার কর্তৃক শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা’ কার্যক্রমটি আগামী ২৭ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল সময়কালীন পালন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। ক্ষুদে ডাক্তার কর্তৃক স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রমটি শুধুমাত্র ১২-১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী বা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম বা সমপর্যায়ের শ্রেণিসমূহে পরিচালিত হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, শিক্ষার্থীসহ ১২-১৬ বছর বয়সী বিদ্যালয়গামী ও বিদ্যালয় বহির্ভূত (পথশিশু, কর্মজীবি শিশু, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থী) সকল শিশুকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিতির মাধ্যমে এক ডোজ কৃমিনাশক ওষুধ সেবন করানো হবে।
এই কার্যক্রমগুলো সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জেলা শিক্ষা অফিসার এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারদের সহযোগিতা প্রদান করতে বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্ষুদে ডাক্তারের দল গঠন করা হবে। প্রাথমিক প্রশিক্ষণের ভিত্তিতে তারা শিক্ষার্থীদের ওজন, উচ্চতা ও দৃষ্টি শক্তি পরীক্ষা করে অস্বাভাবিক শারীরিক বৃদ্ধি, দৃষ্টি শক্তির ত্রুটিসহ নানা বিষয় গাইড শিক্ষকের নজরে আনবেন।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে ক্ষুদে ডাক্তার দল গঠন এবং তাদের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা একটি অভিনব কার্যক্রম। এতে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত হওয়ার ও দলগতভাবে কাজ করার এমনকি সুশৃঙ্খলভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে গিয়ে ক্ষুদে ডাক্তারের দল কোনো শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিসহ দৃষ্টি শক্তিতে ত্রুটি কিংবা স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফরমে উল্লেখিত অন্যান্য বিষয়াদির তথ্যও গাইড শিক্ষকের নজরে আনতে পারছে এবং বিষয়গুলো প্রাথমিক পর্যায়েই সংশোধনের ব্যাপারেও সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
উপবৃত্তিযোগ্য শিক্ষার্থীদের তথ্য অন্তর্ভুক্তিতে নির্দেশনা
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অধীন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের বাস্তবায়নাধীন সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচির আওতাভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ২০২২ সালে ভর্তিকৃত ৬ষ্ঠ শ্রেণি এবং ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির উপবৃত্তিযোগ্য শিক্ষার্থী নির্বাচনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের তথ্য যাচাই-বাছাই, তালিকা প্রণয়ন ও তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীদের তথ্য এইচএসপি এমআইএস সফটওয়্যারে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ মার্চ থেকে শুরু হয়ে শিক্ষার্থীদের তথ্য অন্তর্ভুক্তি কার্যক্রম চলবে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত।
বিষয়টি জানিয়ে সব উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। গত সোমবার (৭ মার্চ) এ চিঠি দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
কর্মসূচির আওতায় উপবৃত্তি পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে, নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা উপবৃত্তি কর্মসূচির বাইরে থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অষ্টম শ্রেণি পাস করে নতুন ভর্তি হয়েছেন, তারা উপবৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। সেক্ষেত্রে নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নবম শ্রেণির কোন শিক্ষার্থী উপবৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবে না। শিক্ষার্থী অন্য কোনো সরকারি উৎস থেকে উপবৃত্তি অথবা অভিভাবক কর্তৃক শিক্ষাভাতা গ্রহণ করলে উপবৃত্তির জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবে না। এছাড়াও শিক্ষা বোর্ড থেকে মেধা বা সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী উপবৃত্তি প্রাপ্তির জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।
১০টি উপজেলার ক্ষেত্রে উপবৃত্তির সফটওয়্যারে এন্ট্রি করা সব শিক্ষার্থী উপবৃত্তির জন্য নির্বাচিত হবে। এ উপজেলাগুলো হলো বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি, আলিকদম, কুড়িগ্রামের সদর, চর রাজিবপুর, চিলমারী ও উলিপুর, দিনাজপুরের কাহারোল ও খানসামা এবং কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর।
শিক্ষার্থী নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দারিদ্র্য নিরূপণের জন্য বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ব্যবহৃত প্রশ্নমালার ওপর ভিত্তি করে একটি নমুনা আবেদনপত্রে আবেদন করতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক ও উপজেলা বা মেট্রোপলিটান এলাকার উপদেষ্টা কমিটি শিক্ষার্থীর আবেদনের তথ্যের সত্যতা যাচাই বাছাই করবে। আবেদনপত্রের তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে এইচএসপি এমআইএসে এসব তথ্য এন্ট্রি করতে হবে। তথ্য এন্ট্রির পর প্রতিষ্ঠান থেকেই তথ্য অনলাইনে উপজেলা বা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে পাঠাতে হবে।
উপজেলা বা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা উপবৃত্তির জন্য উপজেলা বা থানায় পাঠানো সব আবেদনপত্র উপজেলা বা মেট্রোপলিটন এলাকার উপদেষ্টা কমিটির বিবেচনার জন্য পেশ করবেন এবং এডভাইজারি কমিটির অনুমোদন নিয়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীর তথ্য উপজেলা বা থানা থেকে এইচএসপি বা প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টে পাঠাবেন।
সারাদেশের উপবৃত্তি উপকারভোগী শিক্ষার্থী কেন্দ্রীয়ভাবে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট অফিসের এমআইএস সেলের প্রযুক্তিগত সহায়তায় এইচএসপি ইউনিটের মাধ্যমে নির্বাচিত হবে। লৈঙ্গিক ভিত্তিতে নয় বরং দারিদ্র্যের ভিত্তিতে উপকারভোগী শিক্ষার্থী নির্বাচন হবে। ফলে এ প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা কম বেশি হতে পারে। শারীরিক প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গ, প্রাক্তন ছিটমহলের বাসিন্দা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রজন্ম যথাযথ যাচাই বাছাইয়ের পর সরাসরি এ কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হবে। তবে এই ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষ দেওয়া সনদ বা প্রত্যায়ন পত্রের সত্যায়িত কপি এমআইএসে সংযুক্ত এবং সংরক্ষণ করতে হবে। সব শিক্ষার্থীর ১৭ সংখ্যার অনলাইন জন্মসনদ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, উপবৃত্তির জন্য শিক্ষার্থীর তথ্য এইচএসপি ও এমআইএসে এন্ট্রি করলেই উপবৃত্তি পাওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। আবেদনকারী শিক্ষার্থী দেওয়া তথ্য এইচএসপি এমআইএসের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে উপবৃত্তি পাওয়ার জন্য শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হয়। প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ের কমিটি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত আবেদনপত্রের তথ্য যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করবেন।
কমিটির সদস্যরা প্রয়োজনে শিক্ষার্থীর বাড়ি পরিদর্শন করে আবেদনপত্রে দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই করবেন। সত্যতা যাচাই শেষে শিক্ষার্থীদের তথ্য এইচএসপি এমআইএসে এন্ট্রি করে ‘আবেদনপত্রের সব তথ্য সঠিক আছে’ মর্মে একটি প্রত্যায়নপত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান উপজেলা বা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে পাঠাবেন এবং আবেদনপত্রের হার্ডকপি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষণ করবেন।
তবে প্রতিষ্ঠান পর্যায়ের কমিটিতে উপকারভোগী নির্বাচনে কোনো অসত্য তথ্য দিলে বা অনিয়ম করা হলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে বিবেচিত হবে। এ কমিটি প্রয়োজনে যেকোনো সময়ে সভায় মিলিত হতে পারবে।
জানা গেছে, সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি বা বেতন মওকুফ থাকবে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অনুকূলে স্কিম ডকুমেন্ট মোতাবেক নির্ধারিত হারে টিউশন ফি বা বেতন দিতে হবে। উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনক্রমেই টিউশন ফি বা বেতন আদায় করা যাবে না।
নতুন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে পাঠদানের অনুমতি বা স্বীকৃতি পেলে তা সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে। সেক্ষেত্রে এইচএসপি ও এমআইএসের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ডের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ উপজেলা বা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে স্কিম পরিচালক বরাবর আবেদন করতে হবে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য