শিরোনাম
এক দশক রাজনীতি করেও ছাত্রদলে পদহীন ওরা
প্রথমবারের মতো কমিটি পূর্ণাঙ্গ না করেই মেয়াদ শেষ করেছে ছাত্রদলের বর্তমান কমিটি। ফলে দীর্ঘদিন রাজনীতি করার পরও অনেক নেতাকর্মী রয়েছেন পদহীন। কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার দাবিতে পদপ্রত্যাশীরা অনশনসহ নানা কর্মসূচিও পালন করেছেন। সর্বশেষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন তারা। কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া কমিটির অন্য কাউকে মধুর ক্যান্টিনে বসতে দিচ্ছেন না পদপ্রত্যাশীরা। অভিযোগ উঠেছে, পদ আঁকড়ে ধরে রাখতেই কমিটি পূর্ণাঙ্গ করছেন না ছাত্রদলের শীর্ষ দুই নেতা।
২০১৯ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর কাউন্সিলরদের ভোটের মাধ্যমে সভাপতি হিসেবে ছাত্রদলের দায়িত্ব পান ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ইকবাল হোসেন শ্যামল। পরে ২১ ডিসেম্বর ৬০ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে ছাত্রদল। গত ১৫ জানুয়ারির মধ্যে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার কথা দিয়েছিলেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। ৩০০ জনের মতো পদপ্রত্যাশী জীবনবৃত্তান্তও জমা দিয়েছিলেন।
পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন রাজনীতি করেও বিরোধী দলের রাজনীতিতে পদহীন থাকা অনেক কষ্টের। একদিকে মামলা, পুলিশের হয়রানি অন্যদিকে নিজের কোনো পদ না থাকায় বাড়িতেও মুখ দেখাতে পারছি না। নিয়মিত দলের কর্মসূচিগুলোতে অংশ নিচ্ছি। মিছিল-মিটিং করে যাচ্ছি। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক শুধু বারবার আশ্বাসই দিয়ে যাচ্ছেন। বলেছেন, ১৫ জানুয়ারির মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন ইউনিট কমিটি দিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ করবেন। কিন্তু এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটির কোনো প্রক্রিয়াই দেখছি না।
পদপ্রত্যাশীরা আরও জানান, দীর্ঘদিন রাজনীতি করার পর কমিটিতে স্থান না পাওয়ায় অনেক নেতাকর্মী হতাশ হয়ে পড়েছেন। রাজনীতি বিমুখ হচ্ছেন তারা। এতে দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৪-২০০৫ সেশনের আবু তাহের গত বিশ্ববিদ্যালয় কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বর্তমানে তিনি ছাত্রদলের কোনো পদে নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৫-২০০৬ সেশনের খায়রুল আলম সুজন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৬-২০০৭ সেশনের রোকনুজ্জামান রোকন। ২০০৭-২০০৮ সেশনের আনোয়ার পরভেজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু থেকে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত থাকলেও এখন পর্যন্ত সংগঠনের কোনো পদ পাননি তারা। প্রায় ১৪/১৬ বছর রাজনীতি করছেন তারা। গত বিশ্ববিদ্যালয় কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন শেখ আল ফয়সাল ও ঝলক মিয়া। ১নং সহ সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মো. মুতাছিম বিল্লাহ। দীর্ঘদিন ধরে তারাও ছাত্রদলের কোনো পদে নাই। বিভিন্ন ইউনিট মিলিয়ে এমন আরও অন্তত ২৫০ থেকে ৩০০ জন নেতাকর্মী দীর্ঘদিন রাজনীতি করেও বর্তমানে পদহীন আছেন। এদের মধ্যে বেশির ভাগই নিজ নিজ ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এম এম মূছা, আসাদুজ্জামান আসাদ, মো, রেজোয়ান আহমেদ, দিপু পাটোয়ারী, জাহাঙ্গীর আলম, শাহ আলম, ওয়াসিম খান মুক্ত, ইব্রাহীম খলিল ফিরোজ, গাজী হারুনুজ্জামান, সাঈদ আহমেদ, তৌহিদুল ইসলাম, জুবায়ের আহমেদ, সরকার সোহেল, মনজুরুল রিয়াদ, শফিকুল ইসলাম, সাকির আহমেদ, নাজমুল হোসেন, ইমরান আলী সরকার, আবদুস সাত্তার রনি, নাদির শাহ পাটোয়ারী, মিঠুন চক্রবর্তী, সালেহ আদনান, শরীফুল ইসলাম, ওমর সানি, মুস্তাফিজুর রহমান ফরহাদ, মাহফুজ, জিএম ফখরুল ইসলাম, মহাসিন ভূইয়া।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুরুজ মণ্ডল, আসাদুজ্জামান আসলাম, মিল্লাত ভুইয়া, সুজন মোল্লা, আতাউর রহমান বুলেট, মো. আলী হাওলাদার, নাজমুল ইসলাম হাবীব, আবুল খায়ের ফরাজী, সালাউদ্দিন আহমেদ, সানোয়ার হোসেন মিঠু, জুলকার নাইন, ইব্রাহীম কবির মিঠু, আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল, সাইফুল ইসলাম সিয়াম, জাকিরুদ্দিন আবীর, রুহুল আমিন টুটুল, শামীম হোসেন, ঢাকা কলেজের সাহাদাত সোহাগ, মাহী বিশ্বাস, সাইফুল ইসলাম তুহিন, আলীজা মিজান, আনিস, জহির হাসান মোহন, মামুন দেওয়ান, মুধা মাসুদ, আসিক আহমেদ, মারজান, ইসলামুল হক চঞ্চল, রাসেল মোল্লা। কবি নজরুল কলেজের আরিফুর রহমান আরিফ, মো. মিলন হাওলাদার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু আহমেদ, সোহান, শাহরিয়ার হক মজুমদার (শিমুল), তিতুমীর কলেজের আবুল হাসান চৌধুরী, মনিরুল ইসলাম পিন্টু, রিয়াজ হোসেন, জিয়া, রকি সোহেল, হাফীজুল্লাহ হীরা, মো. রুহুল আমীন, রেজওয়ানুল হক সবুজ, জাহাঙ্গীর আলম জীবন, বুলবুল হোসেন, মো. জহিরুল ইসলাম, খান মামুন, নাসরিন রহমান পপি, রফিকুল ইসলাম রফিক, আল আমিন, সাজ্জাদুল হানিফ সাজ্জাদ, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের নাজমুল, নিশাত, আকন মামুন, এ এম সুমন, ঢাকা মহানগর উত্তর তানভীর আল হাদী, হিমেল আল ইমরান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আবদুস সালাম হিমেল, ঢাকা মহানগর পূর্ব জসিমউদ্দিন সরদার জীবন, আসাদুজ্জামান আশা, ঢাকা মহানগর পশ্চিম এর ইব্রাহীম খলিল, সম্রাট খান। এছাড়া তাহসান রেজা, মাকসুদুর রহমান সুমিত, শাকিল চৌধুরী, খোরশেদ আলম রকি প্রমুখ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন পদপ্রত্যাশী জানান, বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আগের কমিটির মতো দীর্ঘদিন পদে থাকতে চায়। যার কারণে তারা কমিটি পূর্ণাঙ্গ করছেন না। এভাবে দীর্ঘদিন ঢাকার ইউনিটগুলো কখনোই কমিটিহীন ছিলো না।
তারা আরও বলেন, কিছু হলেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দোহাই দেন তারা। বেশ কয়েকটা ঘটনায় ধরাও পড়েছেন তারা। বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ওপর আমাদের আস্থা নেই। তারা আরও জানান, দলের ক্ষতির কথা চিন্তা করে আমরা কঠোর কোনো কর্মসূচি দিচ্ছি না। বাধ্য হলে তখন আমাদের করার কিছুই থাকবে না। অবিলম্বে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করে কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মেলনও চাই আমরা। একই সঙ্গে তারা আরও বলেন, গতবারের ঢাউস কমিটি চাই না আমরা। ২৫০ থেকে ৩০০ এর মধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করারও দাবি জানান তারা।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক পদপ্রত্যাশী বলেন, চাকরি কেন্দ্রিক ক্যারিয়ার পেছনে ফেলে আদর্শকে ভালোবেসে সংগঠন করছি। কিন্তু দীর্ঘদিন সংগঠন করার পরও গুটি কয়েক মানুষের ব্যক্তিস্বার্থের বলি হয়ে আমরা আজ পদ ছাড়া ঘুরচ্ছি।
এ বিষয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল বলেন, কমিটি প্রস্তুত আছে। খুব দ্রুত প্রকাশ করা হবে।
পুলিশকে বিশ্বমানের করতে চাই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘পুলিশ সত্যিকারের জনগণের পুলিশ হয়ে উঠছে। তারা সব সময়ই জনগণের পাশে থাকে। করোনাকালে পুলিশ যেভাবে জনগণকে সেবা দিয়েছে, তা সত্যিই অভূতপূর্ব। পুলিশকে বিশ্বমানের করতে চাই। এজন্য যা যা করা দরকার, আমরা তা-ই করছি।’
রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়াম বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাগণের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
জঙ্গি দমনে বাংলাদেশ পুলিশ রোল মডেলে পরিণত হয়েছে, দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলে দেশ জঙ্গিমুক্ত হয়েছে। পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট, অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটসহ (এটিইউ) বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিট করা হয়েছে। পুলিশের জন্য যখন যেটা প্রয়োজন আমরা সেটাই করে যাচ্ছি। পুলিশ স্টাফ কলেজকে বিশ্বমানের করা হয়েছে। পুলিশ সদস্যরা বর্তমানে যেভাবে কাজ করছেন ভবিষ্যতেও সেভাবেই দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে আরও সফলতার সঙ্গে কাজ করবেন।’
তিনি বলেন, ‘পুলিশ কর্মকর্তারা বেশকিছু যৌক্তিক দাবি উত্থাপন করেছেন। কিছু অসঙ্গতির কথা তুলে ধরেছেন। আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে যেসব দাবি-দাওয়া পূরণ করতে পারব, সেগুলো অচিরেই পূরণ করা হবে। যেসব দাবি-দাওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শের প্রয়োজন, সেগুলো নিয়ে আমরা তার সঙ্গে কথা বলব। পুলিশের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য তাদের একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজন। পুলিশ বাহিনীকে আমরা ঢেলে সাজিয়েছি। নতুন নতুন ইউনিট সৃজন করেছি, জনবল বৃদ্ধি করেছি। বর্তমান সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যেসব ইউনিট প্রয়োজন ছিল, সেগুলো আমরা প্রতিষ্ঠা করেছি।’
পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আখতার হোসেন। মতবিনিময় সভায় অতিরিক্ত আইজিপি, ঢাকাস্থ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রধান, সব মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও পুলিশ সুপাররা উপস্থিত ছিলেন।
স্কুল খোলা রাখার আহ্বান ইউনিসেফের
করোনা যেন শিশুদের পড়াশোনাকে আর ব্যাহত করতে না পারে সেজন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়ে সরকারগুলোর প্রতি স্কুল খোলা রাখার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশুদের উন্নতি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিশেষ সংস্থা ইউনিসেফ।
শুক্রবার ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান। করোনার ‘ওমিক্রন’ ধরনটি ছড়িয়ে পড়ায় স্কুল পুরোপুরি বা আংশিক বন্ধ থাকার কারণে বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৬১ কোটি ৬০ লাখ শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, সংকটময় পরিস্থিতিতে সবসময় কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বজুড়ে শিক্ষা ব্যবস্থায় যে নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে তা আমরা স্বীকার করি। তবে এক্ষেত্রে ঝুঁকি খুবই বেশি। শিশুদের স্কুলে রাখার জন্য সম্মিলিতভাবে আমাদের পক্ষে সম্ভব সবকিছু করতে হবে।
হেনরিয়েটা ফোর বলেন, অগ্রাধিকার প্রাপ্য জনগোষ্ঠীকে পুরোপুরি সুরক্ষিত করার পর এবং টিকার যথেষ্ট প্রাপ্তি নিশ্চিত হলে ইউনিসেফ শিশুদের টিকাদানকে সমর্থন করে। সশরীরে স্কুলে যাওয়ার জন্য টিকাদানকে পূর্বশর্ত করবেন না।
কারণ হিসেবে তিনি বলেন, কোভিড-১৯ টিকা প্রাপ্তি সাপেক্ষে সশরীরে স্কুলে যাওয়ার শর্ত আরোপ করলে তা শিশুদের শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ না পাওয়া এবং ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সুপারিশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইউনিসেফ শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের টিকাদান ছাড়াই স্কুলগুলো খোলা রাখার এবং কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণ কৌশল যাতে পড়াশোনা ও সামাজিক জীবনের অন্যান্য দিকগুলোতে শিশুদের অংশগ্রহণকে সহজতর করে তা নিশ্চিত করার সুপারিশ করে।
প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড দাবি
যৌক্তিকতা ও ন্যায্যতার আলোকে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড দেওয়ার দাবি জানিয়েছে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদ।
শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সমন্বয়ক মু. মাহবুবুর রহমান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, শিক্ষকদের দৃঢ় বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের কখনো হতাশ করবেন না। শুধু প্রধানমন্ত্রীর কাছে ন্যায্য দাবি উপস্থাপন করছি।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সমীপে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডের যৌক্তিকতা নিয়ে কয়েকটি চাকরির তুলনামূলক তথ্য তুলে ধরা হয়।
মাহবুবুর রহমান বলেন, প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক (২য় বিভাগ) সমমান হলেও ১০ম গ্রেড পেতে শুধুমাত্র আমলাতান্ত্রিক প্রতিবন্ধকতা। প্রাথমিক শিক্ষকরা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উন্নত জীবনের স্বল্পদর্শনে উদ্বুদ্ধ করেন। পড়াশুনা শেষ করে মহৎ পেশায় নতুন নিয়োগ পাওয়া একজন শিক্ষক ১৩তম গ্রেডে ১১ হাজার টাকা বেতন স্কেলে মোট ১৭ হাজার ৬০০ টাকা পান। মাসিক এ বেতনে সংকুলান না হয়ে অনেক ক্ষেত্র ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে হতাশা নিয়ে জীবন অতিবাহিত করছেন। মাসিক এ বেতন দিয়ে উন্নত জীবন সম্ভব নয়।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকরা শিক্ষাগত যোগ্যতা বিবেচনায় প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডের দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
ইসি আইন এক অনন্য মাইল ফলক: কাদের
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন বাংলাদেশের ইতিহাসে গণমানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আইন এক অনন্য মাইল ফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। এই আইন প্রণয়নের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া আরও একধাপ এগিয়ে যাবে।
শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) নিজের সরকারি বাসভবনে ব্রিফিংকালে একথা বলেন তিনি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদে জনগণের বহুল প্রত্যাশিত ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার (ইসি) নিয়োগ বিল’ পাস হয়েছে ৷ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া সংবিধানের অভিপ্রায় অনুযায়ী দেশের পঞ্চাশ বছর পর বিলটি পাস হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীসহ জাতীয় সংসদের সব সদস্যের প্রতি আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে গণতন্ত্র ও জনমানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশে শক্তিশালী ইসি গঠন ও এটিকে শক্তিশালী করতে যা কিছু হয়েছে তা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই অর্জিত হয়েছে। তিনি বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মতো ইসিকে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী করতে আওয়ামী লীগের শাসনামলে সব রকম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সংবিধানের আলোকে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দেশের জনগণের ভোটের অধিকার রক্ষার জন্য স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ইসি গঠনে এই আইন অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।
এই আইনকে কেউ কেউ অসৎ রাজনৈতিক উদ্দেশে ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে যে মন্তব্য করেছেন সে প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি মহাসচিবের এই আইন না মানার বক্তব্য দুরভিসন্ধিমূলক। তবে যে দল বা ব্যক্তি দেশের জনগণের বিরুদ্ধে, রাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে কোটি কোটি ডলার খরচ করে লবিস্ট নিয়োগ করে দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র করে, তাদের কাছ থেকে এ ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্যই প্রত্যাশিত ছিল।
তিনি বলেন, বিএনপি মহাসচিব দেশ বিরোধী, মুক্তিযুদ্ধের পরিপন্থী গণধিকৃত গোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে ইসি গঠন আইনের বিরুদ্ধে যে বক্তব্য রেখেছেন তা বাংলাদেশের গণতন্ত্র, জাতীয় সংসদের সব সদস্য, দেশের সংবিধান এবং আইনের শাসনের প্রতি নির্মম উপহাস ছাড়া আর কিছু নয়। দেশের আইন ও সংবিধানের প্রতি বিএনপির কোনো বিশ্বাস নেই। তাই বিএনপি জনগণের ভোট নয়, বিদেশি প্রভুদের তুষ্ট করেই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করতে চায়। বিএনপি লবিস্ট নিয়োগের বিষয়টি স্বয়ং মির্জা ফখরুল নিজের মুখেই স্বীকার করেছেন। শুধু তাই নয় বিএনপি মহাসচিবের নিজে স্বাক্ষর করে দেশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মার্কিন প্রশাসনের রাজনৈতিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চিঠি দেওয়া জাতির জন্য এটি অত্যন্ত লজ্জার বিষয়। তিনি আরও বলেন, বিএনপি এখন নির্বাচন ছাড়া ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করতে উন্মত্ত হয়ে উঠেছে। বিএনপি এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে জাতির কাছে স্পষ্ট করতে হবে, তারা কাদের দেওয়া টাকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট নিয়োগ করেছেন? বাংলাদেশ থেকে এই অর্থ কোন চ্যানেলে বিদেশে পাচার করা হয়েছে? তার হিসাব কি বিএনপি নির্বাচন কমিশনের কাছে দিয়েছেন?
ওবায়দুল কাদের বিএনপি মহাসচিবের কাছে এতসব প্রশ্নের জবাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তা না পারলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাংলাদেশের রাজনীতি করার কোনো নৈতিক ও আইনগত অধিকার থাকবে না।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য