শিরোনাম
প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে কবি-আবৃত্তিকারদের ভূমিকা রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে কবি ও আবৃত্তিকারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কথা বলার চেয়ে, একটা কবিতা, একটা নাটক, সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ের কাছাকাছি পৌঁছানো যায়। কবিতার শক্তি অনেক।
বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) থেকে শুরু হয়েছে বঙ্গবন্ধু জাতীয় আবৃত্তি উৎসব এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব জাতীয় আবৃত্তি পদক প্রদান অনুষ্ঠান। গণভবন থেকে অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা পদক পেয়েছেন তাদের অভিনন্দন। অনুষ্ঠানে সশরীরে যেতে পারলে ভালো লাগতো। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারির কারণে আমার যাতায়াত সীমিত। তাছাড়া একটু পরেই সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতে হবে।
তিনি বলেন, আবৃত্তি উৎসব আয়োজন করায় আমি অনেক আনন্দিত। আমি নিজেও এমন উৎসবে বহুবার গিয়েছি। পেছনের সারিতে বসেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়ার যে সংগ্রাম শুরু হয়েছিল, সেই সংগ্রামের পুরোধা ছিলেন মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের একজন ছাত্র। তিনি এর প্রতিবাদ শুরু করেন। ছাত্রলীগ নামে সংগঠন গড়ে তোলেন এবং তখনকার অন্যান্য ছাত্র সংগঠনসহ সবাইকে নিয়ে তিনি ভাষা সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলেন। আন্দোলনের ডাক দেন। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ প্রথম ধর্মঘট। সেই ধর্মঘটে শেখ মুজিব তখনকার ছাত্র নেতাসহ অনেকে গ্রেপ্তার হন। সেই থেকে আমাদের সংগ্রাম শুরু।
শেখ হাসিনা বলেন, কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক, আবৃত্তিকার যা কিছু দিয়ে গেছেন সেটা আমাদের সম্পদ। নীল দর্পন নাটকের মধ্য দিয়ে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন যেভাবে এগিয়ে গিয়েছিল বা একটি কবিতার শক্তি যে কত বেশি সেটা তো আমরা নিজেরাই জানি। '৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর যখন কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করা যাচ্ছে না, তখন কবিতার মধ্য দিয়ে প্রতিবাদের ভাষা বেরিয়ে আসে। মানুষ সেখানে উদ্বুদ্ধ হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর এ দেশের আন্দোলনের ক্ষেত্রে সব থেকে বেশি অবদান রয়েছে কবিদের এবং আবৃত্তিকারদের।
১১ দিন পর খুলেছে শাবিপ্রবির প্রধান গেট
সব অবরোধ তুলে নিয়ে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। এতে দীর্ঘ ১১ দিন পর খুলেছে শাবিপ্রবির প্রধান গেট।
বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেট, প্রশাসনিক ভবন, একাডেমিক ভবনসহ সবকিছু খুলে দেওয়া হয় বলে জানান আন্দোলনরত শিক্ষার্থী মুহাইমিনুল বাসার রাজ।
এর আগে বুধবার (২৬ জানুয়ারি) দিনগত রাতে সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী রোজারিও বলেন, আমরা অনশন ভাঙলেও এক দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাবো।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেট, একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন খুলে দেওয়া হবে। আমরা কোনো সহিংস আন্দোলন করতে চাই না। তাই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
রোজারিও বলেন, উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনে অনশনরত থাকার পর মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার ও ইয়াসমিন হক ম্যামের অনুরোধে শিক্ষার্থীরা অনশন থেকে সরে আসে। তবে উপাচার্যের পদত্যাগের আগ পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। এখন শুধু আন্দোলনের ভাষা পরিবর্তন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা স্যারকে মাধ্যম করে পাঁচটি দাবি উত্থাপন করে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অর্থদানের অভিযোগে গ্রেফতার পাঁচ সাবেক শিক্ষার্থীর জামিন মঞ্জুর, অজ্ঞাতনামা শিক্ষার্থীদের নামে করা মামলা প্রত্যাহার, অনশনকারী শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা খরচ বহন, ভিসির মদদে সংঘটিত নারকীয় পুলিশি হামলায় গুরুতর আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়া ইত্যাদি।
প্রাথমিকের শিক্ষকদের জন্য বড় সুখবর
অবসরে যাওয়া গুণী শিক্ষকদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়ার প্রস্তাব করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটি। ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে দেশের সব জেলার গুণী শিক্ষকদের তালিকা প্রণয়ন করে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের পরামর্শ দেয়া হয়।
সম্প্রতি এক বৈঠকে কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রাথমিক বিদালয়ের শিক্ষকদের দক্ষতা ও কৌশল বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদের বিদেশে পাঠিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে তেমন ফলপ্রসূ হয়নি। এতে বিপুল পরিমাণে সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও সেই অনুপাতে লাভ হয়নি। তার বদলে স্বল্প অর্থ ব্যয়ে অবসরে যাওয়া সারাদেশের গুণী শিক্ষকদের অথবা অবসরের জন্য অপেক্ষামানদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া যেতে পারে। জেলাওয়ারি তাদের তালিকা তৈরি করে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হলে বেশি ফলপ্রসূ হবে। জেলাভিত্তিক সেল গঠন করে পাইলট প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে এসব শিক্ষকদের খুঁজে বের করে তালিকা প্রণয়ন করার প্রস্তাব দেন তিনি।
মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সদ্য জাতীয়করণ হওয়া ২৬ হাজার ১৯৩টি বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষকের পাঠদানের সক্ষমতা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন। এসব শিক্ষকদের দিয়ে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রশিক্ষণ দিয়েও তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়নি। এ সমস্যা সামাধানে তিনি পূর্বের জাতীয়করণ হওয়া বিদ্যালয়ের শিক্ষক অথবা নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ওইসব (সর্বশেষ জাতীয়করণ) বিদ্যালয়ে পদায়নের পরামর্শ দিয়েছেন।
অনলাইনে শিক্ষক বদলি শুরুর আগে এ কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়ে কমিটির আরেক সদস্য বলেন, পিছিয়ে থাকা শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য মনস্তাত্ত্বিকভাবে উদ্বুদ্ধকরণের প্রতি গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন। দেশের ৬৪ জেলার শিক্ষকদের শেখানের কৌশল এবং দক্ষতা যাচাই করে প্রতিবেদন দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
কমিটির আরেক সদস্য বেগম মেহের আফরোজ বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থাকলে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের ক্ষেত্রে মাঠ সংরক্ষণের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। একটি মাঠ দুটি বিদ্যালয়ের মালিকানাধীন থাকলে সেক্ষেত্রে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মালিকানাধীন জমির সীমানা নির্ধারণ করে আলোচনা করে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করা যেতে পারে। শুধুমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা ঘিরে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে পরবর্তীতে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এক্ষেত্রে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি খারিজ করার পরামর্শ দিয়েছেন।
সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জি এম হাসিবুল আলম বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ এবং সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জমি খারিজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে। শিগগির দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জমি খারিজের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সেটি হলে বাউন্ডারি ওয়াল এবং সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত জটিলতা অনেকাংশ নিরসন হবে।
এছাড়াও অবসরে যাওয়া গুণী শিক্ষকদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেনের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও জানান জি এম হাসিবুল আলম।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক সঙ্কট নিরসনে বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি ফেব্রুয়ারিতে
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শূন্য পদ পূরণে আগামী মাসে বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে যাচ্ছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। এই গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পেয়েছে তারা।
এনটিআরসিএ সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে ৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগে ৩য় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদনকারীদের অধিকাংশই ইনডেক্সধারী হওয়ায় এবং মহিলা কোটা ও অন্য ক্ষেত্রে যোগ্য প্রার্থী না থাকায় ১৫ হাজার ৩২৫টি পদ ফাঁকা রয়ে যায়। এই অবস্থায় শিক্ষক সঙ্কট দূর করতেই বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে যাচ্ছে সংস্থাটি।
জানতে চাইলে এনটিআরসিএ সচিব মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তিতে ফাঁকা থাকা পদগুলো পূরণের জন্য আমরা মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুমতি চেয়েছিলাম। ইতোমধ্যে তারা অনুমতিও দিয়েছে। তাই শিগগিরই আমরা বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি দিব।
বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি কবে প্রকাশ করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা ফেব্রুয়ারির মধ্যেই এটি প্রকাশ করব।
নারী কোটা আগেও পূরণ হয়নি, এবার পূরণ হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, যদি নারী কোটা পূরণ না হয় সেক্ষেত্রে কিভাবে এই পদ পূরণ করা যায়, সেটা নিয়ে আমরা সচিব স্যারের সাথে কথা বলব।
১৬ তম নিবন্ধনকারীদের বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তির বদলে ই-রিকুইজিশনের মাধ্যমে ৪র্থ গণবিজ্ঞপ্তির দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, আগে আমরা বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবো, তারপর চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি।
এসময় বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তিতে ১ থেকে ১৬তম নিবন্ধনধারীরা আবেদন করতে পারবেন বলেও জানান তিনি।
৪০তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত
৪০ তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা অনিবার্য কারণে স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পিএসসির পরিচালক (ক্যাডার) মো. নেয়ামত উল্যাহ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় ৪০ তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হলো। তবে আগামীকালের পরীক্ষা নেওয়া হবে।
পরবর্তীতে কম সময়ের নোটিশে পরীক্ষার্থীরা যাতে স্থগিত মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে সে জন্য তাদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
গত বছরের ২৭ জানুয়ারি ৪০ তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে পিএসসি। ৪০ তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় আবেদন করেছিলেন ৪ লাখ ১২ হাজার ৫৩২ জন প্রার্থী। এর মধ্যে পরীক্ষা দিয়েছেন ৩ লাখ ২৭ হাজার পরীক্ষার্থী।
তাঁদের মধ্যে প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ হন ২০ হাজার ২৭৭ জন। ২০১৮ সালের আগস্টে ৪০ তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি।
৪০ তম বিসিএসে মোট ১ হাজার ৯০৩ জন ক্যাডার নেওয়া হবে। এতে প্রশাসন ক্যাডারে ২০০ জন, পুলিশে ৭২, পররাষ্ট্রে ২৫, করে ২৪, শুল্ক আবগারিতে ৩২ ও শিক্ষা ক্যাডারে প্রায় ৮০০ জন নিয়োগ দেওয়া হবে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য