শিরোনাম
শাবিপ্রবির আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আবার আলোচনায় বসার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালনরত শিক্ষার্থীদের আবারও আলোচনায় বসার অনুরোধ জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করে শিক্ষামন্ত্রী এই অনুরোধ জানান। আজ শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর হেয়ার রোডে শিক্ষামন্ত্রীর বাসায় এই বৈঠক শুরু হয়। পরে রাতে শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই তাঁরা (শিক্ষার্থীরা) অনশন প্রত্যাহার করুক, তারা আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসুক। এখন যদি অনশনরত অবস্থাতেও বসতে চায় তাও করতে পারে। যেকোনো সমস্যার একমাত্র সমাধান আলোচনা। কাজেই আমরা আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করতে চাই। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য দ্বার সব সময়ই উন্মুক্ত।’

এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পারিবারিক অসুস্থতার কারণে এখন তিনি সিলেটে যেতে পারছেন না। তবে প্রয়োজনে তাঁর প্রতিনিধি যেতে পারেন। শিক্ষার্থীরা যখনই কথা বলতে রাজি হবে তখনই যেতে পারবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।
তবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন এর আগে শিক্ষার্থীরা এত উৎসাহ নিয়ে আলোচনায় বসার জন্য রাজি হয়েও কি কারণে পাল্টে গেল তা খতিয়ে দেখতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী।
বৈঠকে শাবিপ্রবির শিক্ষক প্রতিনিধি ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহ, সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমগীর, উপাচার্যদের সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক হাবিবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গতকাল শুক্রবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির সঙ্গে দেখা করতে ঢাকায় আসেন। প্রতিনিধিদলের মধ্যে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি তুলসী কুমার দাস, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মুহিবুল আলম, ফিজিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন মো. রাশেদ তালুকদার, অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেস অনুষদের ডিন আরিফুল ইসলাম ও ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন খায়রুল ইসলাম।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তিনি আন্দোলনকারী এবং শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চান। সেদিন তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে চাই না। তবে সেখানে আমাদের শিক্ষার্থীরা অনশন করছেন, কেউ কেউ কিছুটা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে গেছেন। আমি এখন ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলেছি, কারও কোনো আশঙ্কাজনক কিছু নেই। যাঁরা এখনো অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের দু-তিনজনকে হয়তো স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। আমি চাই, তাঁদের একটি প্রতিনিধিদল যদি পাঠাতে পারেন। তাঁরাও আসতে চান। যত দ্রুত সম্ভব তাঁরা এলে আলাপ-আলোচনা করতে চাই। শিক্ষক সমিতির নেতাদের সঙ্গেও একটু আলাপ করতে চাই।’ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেও যেকোনো সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব বলে মনে করেন দীপু মনি।
উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে এক সপ্তাহ ধরে উত্তাল শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়। সর্বশেষ গত বুধবার উপাচার্যের বাসার সামনে আমরণ অনশনে বসেছেন ২৪ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে একজনের বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি অনশন শুরুর পরের দিনই বাড়ি চলে যান। বাকি ২৩ অনশনকারীর মধ্যে এখন ১৫ জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। বাকি ৮ শিক্ষার্থী উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সূত্রপাত হয় ১৩ জানুয়ারি। ওই দিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তাঁর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েক শ ছাত্রী। ১৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ছাত্রলীগ ছাত্রীদের আন্দোলনে হামলা চালায়। পরের দিন বিকেলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন। তখন শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা ও তাঁদের লক্ষ্য করে শটগানের গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে পুলিশ। ওই দিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ও শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীরা তা উপেক্ষা করে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। ওই হামলার প্রতিবাদে ঢাকা, রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর, খুলনা, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন নাগরিক ও রাজনৈতিক সংগঠন।
কুমিল্লা জেলা পরিষদে চাকরির সুযোগ
কুমিল্লা জেলা পরিষদ বেশ কয়েকটি শূন্য পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। আগ্রহী প্রার্থীদের নির্ধারিত আবেদন ফরম পূরণ করে ডাকযোগে/ সরাসরি পৌঁছাতে হবে।
১. পদের নাম: সাঁটলিপিকার পদসংখ্যা: ১ যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। দ্রুতলিপিতে প্রতি মিনিটে ইংরেজিতে ১০০ ও বাংলায় ৭০ শব্দ এবং মুদ্রাক্ষরে প্রতি মিনিটে ইংরেজিতে ৫০ ও বাংলায় ৩৫ শব্দের গতিসম্পন্ন হতে হবে। বেতন গ্রেড: ১৩ বেতন স্কেল: ১১,০০০-২৬,৫৯০ টাকা
২. পদের নাম: উচ্চমান সহকারী পদসংখ্যা: ১ যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি ও দাপ্তরিক চিঠিপত্র লেখার কাজে অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। বেতন গ্রেড: ১৪ বেতন স্কেল: ১০,২০০-২৪,৬৮০ টাকা
৩. পদের নাম: নিম্নমান সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক/ কম্পিউটার অপারেটর পদসংখ্যা: ১ যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। প্রতি মিনিটে ইংরেজিতে ৪০ ও বাংলায় ৩০ শব্দ টাইপ করার যোগ্যতাসহ কম্পিউটার চালনায় দক্ষ হতে হবে। বেতন গ্রেড: ১৬ বেতন স্কেল: ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা
৪. পদের নাম: বার্তাবাহক পদসংখ্যা: ১ যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: অষ্টম শ্রেণি পাস। বেতন গ্রেড: ২০ বেতন স্কেল: ৮,২৫০-২০,০১০ টাকা
৫. পদের নাম: প্রহরী পদসংখ্যা: ১ যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: অষ্টম শ্রেণি পাস। বেতন গ্রেড: ২০ বেতন স্কেল: ৮,২৫০-২০,০১০ টাকা
বয়সসীমা আগ্রহী প্রার্থীদের বয়স ২০২২ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে হতে হবে। বীর মুক্তিযোদ্ধা/ শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও নাতি-নাতনি এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়স ৩২ বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য।
আবেদন যেভাবে আগ্রহী প্রার্থীদের সরকার নির্ধারিত এক পাতার চাকরির আবেদন ফরম পূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ কুমিল্লা জেলা পরিষদ কার্যালয়ে ডাকযোগে/ সরাসরি পৌঁছাতে হবে। আবেদন ফরম জেলা পরিষদ, কুমিল্লার ওয়েবসাইট, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট বা এই ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। আবেদনের নিয়ম ও আবেদন ফি জমা দেওয়ার বিস্তারিত প্রক্রিয়া এই লিংক থেকে জেনে নিতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে ১০ টাকা মূল্যের ডাকটিকিটসহ (অব্যবহৃত) নাম-ঠিকানা সংবলিত ১০.৫ ইঞ্চি বাই ৪.৫ ইঞ্চি সাইজের ফেরত খাম সংযুক্ত করতে হবে।
আবেদন ফি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা পরিষদ, কুমিল্লার অনুকূলে ১-৩ নম্বর পদের জন্য ৫০০ টাকা ও ৪-৫ নম্বর পদের জন্য ২০০ টাকা মূল্যের ব্যাংক ড্রাফট/ পে–অর্ডার করে আবেদনপত্রে রশিদ সংযুক্ত করতে হবে।
আবেদনপত্র পাঠানোর ঠিকানা: প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা পরিষদ, কুমিল্লা।
আবেদনপত্র পাঠানোর শেষ সময়: আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষকদের সন্তানেরাই পড়ে অন্য বিদ্যালয়ে
রাজধানীর মিরপুর ১৩ নম্বর সেকশনের শেরেবাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তিতে কোনো টাকা লাগে না। মাসিক বেতনও নেই। বিদ্যালয়ের বড় একটি খেলার মাঠ আছে। ১৭ জন শিক্ষক রয়েছেন, যাঁরা সরকারের বেতনভুক্ত।
এত সব সুবিধার পরও এ বিদ্যালয়েরই সহকারী শিক্ষক আসাদুজ্জামানের সন্তান পড়ছে শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজের প্রাথমিক পর্যায়ে, যেখানে বছরে ব্যয় ৩০ হাজার টাকার মতো। কেন নিজে যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেন, সেখানে সন্তানকে পড়ান না জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক পর্যায় শেষ করে মাধ্যমিকে ভর্তি করতে অনেক ঝক্কি পোহাতে হয়। এ কারণেই তিনি ছেলেকে বেসরকারিতে ভর্তি করেছেন, যেখানে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পড়ানো হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিরপুরের শেরেবাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট চার জন শিক্ষকের সন্তান পড়ে আশপাশের বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বাকিদের প্রাথমিক বিদ্যালয়পড়ুয়া সন্তান নেই। শিক্ষকেরা বলছেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার পরিবেশ ভালো নয়। মান নিয়ে তাঁদেরই অসন্তোষ রয়েছে। এ কারণেই তাঁদের সন্তান বেসরকারিতে পড়ে।
ঢাকা মহানগরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা, পরিবেশ, সংকট—এসব নিয়ে জানতে গত আড়াই মাসে এই প্রতিবেদক একাধিকবার ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেছেন। দেখা গেছে, একেক প্রতিষ্ঠান একেক সমস্যায় রয়েছে। কোথাও শ্রেণিকক্ষের সংকট, কোথাও মাঠ দখল, কোথাও জনবলের ঘাটতি। তবে সব ক্ষেত্রেই সাধারণ যে চিত্রটি দেখা গেছে, একান্ত বাধ্য না হলে কেউ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সন্তানদের ভর্তি করেন না। এমনকি শিক্ষকেরাও নন। ৭টি বিদ্যালয়ে এমন শিক্ষক পাওয়া গেছে, যাঁদের ১৪টি শিশুসন্তান প্রাথমিকে পড়ছে। তবে সরকারিতে পড়ছে মাত্র দুটি।
ঢাকার মতিঝিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক পড়ুয়ার বলেন, ভ্যানগাড়ি চালিয়ে তাঁর স্বামীর যে আয় হয়, তা দিয়ে সংসারই ভালোভাবে চলে না। সামর্থ্য থাকলে মেয়েকে কিন্ডারগার্টেন বা ভালো স্কুলে দিতেন তিনি।
বনফুলের পাশে আস্তাকুঁড় ঢাকা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য বলছে, এই মহানগরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ৩৪২টি। তার একটি মিরপুর পল্লবীর বনফুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। গিয়ে দেখা যায়, মাঝারি আকারের একটি মাঠসহ টিনের ছাউনির একটি ভবনে বিদ্যালয়টি অবস্থিত। তবে পাশেই স্থানীয়রা আবর্জনা ফেলতে ফেলতে একটি আস্তাকুঁড় তৈরি করেছেন। দুর্গন্ধের মধ্যে চলে পাঠদান।
শিক্ষকেরা জানান, এই বিদ্যালয়ে কয়েক বছর আগেই প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী ছিল। সর্বশেষ তা নেমেছে প্রায় ১২০ জনে। শিক্ষক রয়েছেন ৫ জন। প্রধান শিক্ষক মাজেদা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ভালো পরিবেশের অভাবে অনেকেই চলে গেছে। যারা আছে, তাদের অর্ধেক ক্লাসে আসে না।
বাংলাবাজারের বিদ্যালয়টি বন্ধ বাংলাবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পুরান ঢাকার ৬৩ প্যারিদাস রোড ঠিকানায় অবস্থিত। এটি ১৯৭৩ সালে সরকারি হয়। তবে এখন দেখে বোঝার উপায় নেই সেটি একটি বিদ্যালয়। নেই কোনো নামফলক। স্থানীয়রা জানান, ২০১৯ সালের ৩ মার্চ এ বিদ্যালয়ের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। সেই থেকে বন্ধ রয়েছে। তখন ৩০ শিক্ষার্থী ও ৪ জন শিক্ষক ছিলেন।
বিদ্যালয় ভবনে ঢুকে দেখা যায়, দুটি কক্ষে কিছু চেয়ার-টেবিল এলোমেলো পড়ে আছে। চারদিকে নোংরা। দেয়ালে জমেছে শেওলা। দুজন শিক্ষক রয়েছেন। তবে তাঁদের পড়াতে হয় না। এ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাদিয়া মৌ বলেন, প্রধান শিক্ষক শাহনাজ পারভীন এবং তিনি এখনো এই প্রতিষ্ঠানেই আছেন। শিক্ষকদের বাকি দুজন অন্য প্রতিষ্ঠানে প্রেষণে পাঠদান করছেন।
মতিঝিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীসংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৪০০। শিক্ষক আছেন ২৩ জন। শিক্ষকেরা জানিয়েছেন, সেখানে কোনো দপ্তরি, নিরাপত্তা প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী নেই। জানালার গ্রিল কেটে প্রায়ই চুরির ঘটনা ঘটে। করোনার ছুটি চলাকালে প্রজেক্টর, ল্যাপটপ, কম্পিউটার ও সিসিটিভি ক্যামেরা চুরি হয়েছে। রাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক নূর জাহান হামিদা বলেন, নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান, নিচু পদের চাকরিজীবী, দোকানদার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সন্তানেরা এ বিদ্যালয়ে পড়ে। ধনী পরিবারের কিছু সন্তানকে বছরের শুরুতে এই বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। এটা মূলত আশপাশের কোনো বিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর সুযোগ তৈরি করতে। তিনি বলেন, তাঁদের শিক্ষক দরকার। পাশাপাশি অন্তত শৌচাগারগুলো পরিষ্কার রাখতে কর্মী দরকার।
চম্পা-পারুলের মাঠে বহুতল ভবন মিরপুর ২ নম্বর সেকশনের চম্পা-পারুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৭৪ সালে স্থাপিত। শিক্ষকেরা জানান, এর মোট জমি ছিল সাড়ে ১১ কাঠা। বর্তমানে বিদ্যালয় ভবনটি আছে চার কাঠা জমির ওপর। খেলার মাঠটি বেদখল। বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক সুরাইয়া মজুমদার বলেন, মাঠ দখল হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতে পারে না। জমি দখল নিয়ে দুটি মামলা হয়েছে। তবে সুরাহা হয়নি। দখলদারেরা মাঠে ভবন নির্মাণ করে বসবাস করছেন।
শিক্ষকেরা আরও জানান, সেখানে কাগজে-কলমে ২০০ জনের মতো শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে উপস্থিতি থাকে ৪০ শতাংশের কম। শিক্ষক সুরাইয়া মজুমদার আরও বলেন, মানুষের ধারণা, বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন ও স্কুলগুলোতে পড়াশোনা ভালো হয়। তাই অভিভাবকেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সন্তানদের ভর্তি করাতে চান না। দপ্তরি বা আয়া না থাকায় শিক্ষকদেরই সব কাজ করতে হয়। নিরাপত্তা প্রহরী না থাকায় প্রায়ই চুরির ঘটনা ঘটে।
এক ভবনে দুই বিদ্যালয় পুরান ঢাকার সুরিটোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের নিচতলা ও চতুর্থতলায় চলে রমনা রেলওয়ে উচ্চবিদ্যালয়ের কার্যক্রম। ফলে জায়গার অভাবে প্রায়ই ক্লাস নিতে সমস্যা হয় বলে জানান শিক্ষকেরা।
সুরিটোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬৪৩ শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষকের পদ ১৬টি। তবে কর্মরত ১৩ জন। নিয়মিত থাকেন ১০ থেকে ১১ জন। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক ইশরাত জাহান বলেন, করোনাকালের আগে শিক্ষার্থী উপস্থিতির হার ছিল ৮৫ শতাংশ। পরে তা কমে হয়েছে ৬০ শতাংশ। যেসব শিক্ষার্থী আর বিদ্যালয়ে ফিরছে না, তাদের ফেরানোর আর সুযোগ নেই।
বিদ্যালয়টির একটি বড় মাঠ আছে। তবে তাতে বেশির ভাগ সময় ব্যক্তিগত গাড়ি, পিকআপ ও রিকশা-ভ্যান রাখা থাকে। এ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিদ্যালয়ের নিচতলার হলরুমে প্রায়ই বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যাতে বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হয়।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, রমনা রেলওয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়টির যাত্রা শুরু ১৯৭৫ সালে রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে। তবে সেখানে উদ্যান প্রকল্প হওয়ায় বিদ্যালয়টি সরিয়ে নেওয়া হয়। ১৯৮৯ সাল থেকে এটি ঢাকার সুরিটোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনে পরিচালিত হচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তালিকায় এই প্রতিষ্ঠানের নাম আছে। তবে শিক্ষকেরা বলছেন, এটি এখন বেসরকারি বিদ্যালয়।
‘পড়ার পরিবেশ নেই’ ঢাকার ধানমন্ডি ১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩১০ শিক্ষার্থী ও ১৪ শিক্ষক রয়েছেন। বিদ্যালয়ের জমিতেই বসানো হয়েছে ঢাকা ওয়াসার পানি উত্তোলনের পাম্প। তবে সমস্যা বিদ্যালয়টির পরিবেশ নিয়ে। শিক্ষকদের অভিযোগ, বহিরাগতদের উৎপাতে সেখানে পড়াশোনার পরিবেশ নেই।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক ফাহিমা সুলতানা বলেন, যখন-তখন বহিরাগতরা বিদ্যালয়ের ভেতরে এসে ঘোরাঘুরি করে। আগে এই বিদ্যালয় থেকে দুই থেকে তিন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেত। এখন ভালো শিক্ষার্থী এখানে ভর্তি হতে চায় না।
এ বিদ্যালয়ের তিনটি শ্রেণিকক্ষ ও একটি প্রশাসনিক কক্ষে ধানমন্ডি ল কলেজের কার্যক্রম চলে।
ঐতিহ্যবাহী, তবে ম্রিয়মাণ খিলগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯২৮ সালে স্থাপিত। এটি ওই এলাকার পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একটি। তবে বিদ্যালয়টি শিক্ষার দিক দিয়ে এখন ম্রিয়মাণ বলে জানান স্থানীয় ব্যক্তিরা। এই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ৩০০ জনের মতো। শিক্ষক রয়েছেন ৮ জন।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক নাসরীন সুলতানা প্রথম আলোকে বলেন, বিদ্যালয়ে কোনো নিরাপত্তাকর্মী ও দপ্তরি নেই। একজন আয়া দিয়েই সব কাজ করানো হয়। জনবল চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে কোনো সাড়া মেলেনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বেশির ভাগ মানুষ সন্তানদের বেসরকারি ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল, শহীদ বাবুল একাডেমি, ফয়জুর রহমান আইডিয়াল ইনস্টিটিউট, সাউথ পয়েন্ট স্কুলের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করান। একসময় খিলগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই পড়াশোনার মান অনেক ভালো ছিল। এত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল না।
তারা পড়ে বেসরকারিতে ঢাকার খিলগাঁও গভ. কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল সরকারি কর্মচারীদের সন্তানদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করতে। তবে এখন সরকারি কর্মচারীদের সন্তানেরা সেখানে পড়ে না। তারা ভর্তি হয় আশপাশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।
খিলগাঁও গভ. কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী প্রায় ৬০০। শিক্ষক ১৪ জন। প্রধান শিক্ষক খালেদা আকন্দ প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের বিদ্যালয়ে পড়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, হকার ও অন্যান্য পেশার নিম্ন আয়ের মানুষের সন্তানেরা।
একাংশ ফেরেনি ঢাকার ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি সাধারণ চিত্র ছিল, করোনাকালে এই সব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একাংশ আর বিদ্যালয়ে ফেরেনি। করোনাকালে দীর্ঘ ১৮ মাস বন্ধ থাকার পর গত ১২ সেপ্টেম্বর দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলে। সেদিন রাজধানীর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিতির হার ছিল ৬২ শতাংশ। ঢাকা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর এ হার ছিল ৬৮ শতাংশ।
ঢাকা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলেয়া ফেরদৌসী প্রথম আলোকে বলেন, মহানগরীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর মূল সমস্যা হলো এসব বিদ্যালয়ে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষের সন্তানেরা পড়ালেখা করে। গেল বছর করোনাভাইরাসের প্রকোপে এসব অভিভাবকের অনেকেই কাজ হারিয়ে শহর ছেড়ে চলে গেছেন। একটা অংশ কাজে যোগ দিয়েছেন।
যা বলছেন বিশেষজ্ঞ ও অভিভাবকেরা রাজধানীতে অনেক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে, যেগুলো ভবনের দু-তিনটি তলা ভাড়া নিয়ে গড়ে উঠেছে। কোনো কোনো কিন্ডারগার্টেনে শিক্ষকদের বেতন দেওয়া হয় সামান্য। মাঠ নেই। তবু বাড়তি ব্যয় করে সেখানে শিক্ষার্থী ভর্তি করান অভিভাবকেরা। বিপরীতে নিজস্ব ভবন, মাঠ ও সরকারি বেতন পাওয়া শিক্ষক থাকার পরও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সন্তানদের ভর্তি করাতে আগ্রহ নেই নিম্নমধ্যবিত্তের পরিবারগুলোতেও। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সরকারি বিদ্যালয়ে ঘাটতি ব্যবস্থাপনায় ও সরকারের নজরদারিতে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রাক্-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক তাপস কুমার বিশ্বাস বলেন, ভালো পড়াশোনা, ভালো ফল, ভালো পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের বিশেষ যত্ন নিলেই অভিভাবকদের বিশ্বাস ও আস্থা ফিরবে।
অভিভাবকেরা বলছেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সন্তানদের পড়াতে ব্যয় অনেক বেশি। সংসারে চাপ পড়ে। তবু সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই তাঁরা ‘ভালো স্কুলে’ ভর্তি করান। ঢাকার মিরপুরের সালমা ইসলাম বলেন, তাঁর প্রথম শ্রেণি পড়ুয়া সন্তানকে ভর্তি করাতে ২১ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। মাসে বেতন দুই হাজার টাকা। এর বাইরে নানা ছুতোয় বেসরকারি স্কুলগুলো টাকা নেয়। তিনি বলেন, ‘আমি সন্তানকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দিতে চাই। তবে পরিবেশ ও শিক্ষার মান ভালো করা দরকার।’ এই অভিভাবক আরও বলেন, ‘সেদিন খবরে দেখলাম দিল্লির সরকারি বিদ্যালয়গুলো বদলে গেছে। দেশেও সেই উদ্যোগ দরকার।’
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও অনলাইনে পাঠদান চলবে
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও অনলাইনে পাঠদান ও অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম চলবে। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি গতকাল শুক্রবার জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের নতুন কারিকুলাম নিয়ে একটি পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
এ সময় তিনি বলেন, ‘এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি কোনো প্রভাব ফেলবে না। যথাসময়েই ফল প্রকাশ করা হবে।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের টিকাদান চলবে নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতেই। ’ তিনি জানান, আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোচিং সেন্টারও বন্ধ থাকবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্যই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা খুশি মনে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সংক্রমণ কমে এলে দ্রুত ক্লাস খুলে দেওয়া হবে।
কেন্দ্রে এসে জানলো পরীক্ষা স্থগিত, প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ
চলমান পরীক্ষা হঠাৎ করেই স্থগিতের প্রতিবাদে রাজধানীর নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত রাজধানীর সাত সরকারি কলেজের ডিগ্রির শিক্ষার্থীরা৷
শনিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯ টায় নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা৷ তারা জানায়, পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তারা জানতে পারেন পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে৷ আজই তাদের শেষ পরীক্ষা ছিলো ৷
কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী কাওসার হোসেন বলেন, আমরা এমনিতেই ভয়াবহ সেশনজটে আছি৷ আজ শেষ পরীক্ষা থাকলেও কেন্দ্রে এসে জানতে পারি পরীক্ষা স্থগিত৷ আমাদের সাথে এমন প্রহসন কেন৷ আজকের পরীক্ষা নিলে কি হতো।
সাত কলেজের ডিগ্রির এসব শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ইডেন কলেজে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো৷
প্রসঙ্গত, দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্কুল-কলেজ বন্ধসহ বিধিনিষেধ আরোপ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে করা হয়েছে। শুক্রবার (২০ জানুয়ারি) সকালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২১ জানুয়ারি থেকে আগামী ০৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সকল স্কুল, কলেজ ও সমপর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজ নিজ ক্ষেত্রে অনুরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সামাজিক/রাজনৈতিক/ধর্মীয়/রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ১০০-র বেশি জনসমাবেশ করা যাবে না। এসব ক্ষেত্রে যারা যোগদান করবে তাদের অব্যশই টিকা সনদ/২৪ ঘন্টার মধ্যে পিসিআর সার্টিফিকেট আনতে হবে।
এতে আরও বলা হয়, সরকারি/বেসরকারি অফিস, শিল্প কারখানাসমূহে কর্মকর্তা/কর্মচারীদের টিকা সনদ গ্রহণ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে দায়িত্ব বহন করবেন; বাজার-শপিং মল, মসজিদ, বসন্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট, রেলস্টেশনসহ সবধরণের জনসমাবেশে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহারসহ যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে, বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মনিটর করবে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য