শিরোনাম
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল পরীক্ষা স্থগিত
পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ধরনের পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এসব পরীক্ষার সময়সূচি পরবর্তীতে জানানো হবে।
আজ শুক্রবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে আজ থেকে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্কুল কলেজ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এই নির্দেশনাও আজ থেকেই কার্যকর হবে।
এছাড়াও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে করোনা সংক্রমণরোধে ৫ টি জরুরী নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
প্রথম নির্দেশনায় ১৬ দিন বন্ধ থাকবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে বলা হয়েছে। ২১জানুয়ারী থেকে ৬ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত সকল স্কুল, কলেজ বন্ধ থাকবে।
দ্বিতীয় নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজ নিজ ক্ষেত্রে অনুরূপ ব্যবস্থাগ্রহণ করবে।
তৃতীয় নির্দেশনায় রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় সমাবেশ,অনুষ্ঠানসমূহে ১০০ জনের বেশী সমাবেশ করা যাবে না। এসব ক্ষেত্রে যারা যোগদান করবেন, তাদের অবশ্যই ভ্যাকসিন সার্টিফিকেট অথবা ২৪ ঘন্টার মধ্যে পিসিআর সার্টিফিকেট আনতে হবে।
চতুর্থ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিল্প কারখানাসমূহের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অবশ্যই ভ্যাকসিন সার্টিফিকেট গ্রহণ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে দায়িত্ববহন করবে।
পঞ্চম ও শেষ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাজার, মসজিদ, বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট, রেলস্টেশনসহ সবধরণের জনসমাবেশে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি মনিটর করবে।
শাবিপ্রবির আন্দোলনে চক্রান্ত দেখছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) চলমান আন্দোলন দেশকে অস্থিতিশীল করার অব্যাহত চক্রান্তের অংশ মনে করে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখতে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা।
আজ শুক্রবার সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানান ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ফরিদা ইয়াসমিন ও মহাসচিব অধ্যাপক মো. নিজামুল হক ভূঁইয়া।
ফেডারেশনের বিবৃতিতে বলা হয়, শাবিপ্রবির উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ হলের সব সমস্যা সমাধানে ছাত্রীদের কাছে এক মাস সময় চেয়েছিলেন। তবে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে সময় না দিয়ে দাবি মেনে নিতে আলটিমেটাম দিয়ে আবার আন্দোলন শুরু করেন। ১৬ জানুয়ারি সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা গোলচত্বর এলাকায় অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। উপাচার্য ডিনদের এক সভায় যাওয়ার সময় হঠাৎ একদল উচ্ছৃঙ্খল শিক্ষার্থী তাঁকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেন। এ সময় উপাচার্যের সঙ্গে থাকা কয়েক শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী তাঁকে আইসিটি ভবনে নিয়ে যান। সেখানে অবরুদ্ধ অবস্থায় একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এমন অবস্থায় পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করতে যায়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে।
ফেডারেশন বলেছে, অভিযোগ রয়েছে, সরকারবিরোধী সুযোগসন্ধানী মহল ইতিমধ্যে আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে হলে নতুন প্রাধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু একটি মহল শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে পরিণত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।
ফেডারেশন মনে করে, শাবিপ্রবির উপাচার্যের পদত্যাগ সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায় নয়। বরং তা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে পারে। শাবিপ্রবির বর্তমান উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়টি ও এর শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছেন।
বিবৃতিতে ফেডারেশনের দুই নেতা আরও বলেন, সমাধানযোগ্য একটি বিষয়কে উপাচার্যের পদত্যাগের আন্দোলনে রূপান্তর করার উদ্দেশ্য নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এটি দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে বিরাজমান শান্ত পরিবেশ বিঘ্নিত করে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে একটি মহলের দেশকে অস্থিতিশীল করার অব্যাহত চক্রান্তের একটি অংশ বলে তাঁরা মনে করেন। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তাঁরা।
একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক সব দাবিদাওয়া মেনে নিয়ে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য শাবিপ্রবি কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে ফেডারেশন।
নিরাপদ সড়কের দাবিতে আবারও বিক্ষোভ করলেন শিক্ষার্থীরা
সকাল সাতটার দিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে একই পরিবারের তিনজনের। এর প্রায় তিন ঘণ্টা পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজধানীর রামপুরা ব্রিজে আবারও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে রামপুরার আশপাশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠাসহ ১১ দফা দাবি গত ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের আলটিমেটাম দেওয়া ছিল। কিন্তু দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা হয়নি। তাই আমরা আবার সড়কে।’
কর্মসূচির শুরুতে শিক্ষার্থীরা রামপুরা ব্রিজের হাতিরঝিল অংশের এক পাশে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ মানববন্ধন করেন। এ সময় নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিভিন্ন পোস্টার তাঁদের হাতে ছিল। কর্মসূচি শেষে নিরাপদ সড়কের দাবি জানিয়ে স্লোগান দিতে দিতে শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে চলে যান।

বেসরকারি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘একের পর এক সড়কে মৃত্যুর মিছিল চলতেই আছে। সবকিছু নিয়ন্ত্রণের বাইরে, প্রশাসন কোনোভাবে সড়কে শৃঙ্খলা আনতে পারছে না। তাই আমরা আবার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিরাপদ সড়কের দাবিতে এসেছি।
খিলগাঁও মডেল কলেজের উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থী ও কর্মসূচির মুখপাত্র সোহাগী সামিহা বলেন, ‘আমরা ২০ দিনের বেশি সময় দেওয়ার পরও প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ দেখিনি। সড়কে সাংবাদিকরাও মারা যাচ্ছেন, দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা, ছোট ছোট শিশুরা, সড়কে দেশের মেধাবী সম্পদ পিষে মারা যাচ্ছে। শ্রমজীবীরা মারা যাচ্ছেন।
শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত সুপারিশপত্র দিল এনটিআরসিএ
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩৮ হাজার ২৮৩ জন প্রার্থী নিয়োগের চূড়ান্ত সুপারিশপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। টেলিটকের ওয়েবসাইট থেকে প্রার্থীরা সুপারিশপত্র ডাউনলোড করতে পারছেন। শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে সুপারিশপত্র দেয়া হয়।
সুপারিশপত্র ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন
ঢাবির পরীক্ষা চলবে, হল থাকবে খোলা
সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে আগামী ১৪ দিনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সশরীরে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন ভিসি অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান। বিভাগগুলো অনলাইনে ক্লাস ও পরীক্ষা নিতে পারবে। তবে খোলা থাকবে আবাসিক হলগুলো। আজ শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) এসব তথ্য জানিয়েছেন ভিসি।
এসময় তিনি আরও বলেন, সীমিত পরিসরে অফিস কার্যক্রম চলবে। হল বন্ধ করলে শিক্ষার্থীরা বিপদে পড়বে। তাই এখনই হল বন্ধ করা হবে না। নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে হলে অবস্থান করবে শিক্ষার্থীরা।
দেশে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় স্কুল-কলেজ ও সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আগামী দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে আজ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এরপরই এসব সিদ্ধান্ত নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাসুদ কামাল বলেন, হলে অবস্থান করার জন্য হল প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের জন্য আমাদের কিছু নির্দেশনা দেয়াছিলো। সেগুলো মেনেই হলে অবস্থান করবে শিক্ষার্থীরা। স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে প্রশাসন। তিনি আরও বলেন, করোনার প্রকোপ পর্যবেক্ষণ করে হল বন্ধের বিষয়টি নিয়ে আমরা পরে আলোচনা করবো।
এর আগে, ২০২০ সালের মার্চের মাঝামাঝিতে করোনার কারণে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করা হয়। দফায় দফায় বাড়ে সেই ছুটি। দেড় বছর পর ২০২১ সালের সেপ্টম্বরে খুলে দেওয়া হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।
দক্ষিণ আফ্রিকার বতসোয়ানা থেকে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে। করোনার অন্য যে কোনো ধরনের তুলনায় ওমিক্রন খুব দ্রুত ছড়ায় বলে সতর্ক করেছিলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য