শিরোনাম
প্রাথমিকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়োগ দিতে চাই সংসদীয় কমিটি
অবসরে যাওয়া প্রাথমিক শিক্ষকদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতে চাই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটি। মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিতে দেশের সব জেলার গুণী শিক্ষকদের তালিকা প্রণয়ন করে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
সংসদীয় কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দক্ষতা ও কৌশল বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদের বিদেশে পাঠিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে তেমন ফলপ্রসূ হয়নি। এতে বিপুল পরিমাণে সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও সেই অনুপাতে লাভ হয়নি। তার বদলে স্বল্প অর্থ ব্যয়ে অবসরে যাওয়া সারাদেশের গুণী শিক্ষকদের অথবা অবসরের জন্য অপেক্ষমানদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া যেতে পারে। জেলাভিত্তিক তাদের তালিকা তৈরি করে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হলে বেশি ফলপ্রসূ হবে।
আরেক সদস্য বলেন, সদ্য জাতীয়করণ হওয়া ২৬ হাজার ১৯৩টি বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষকের পাঠদানের সক্ষমতা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন। এসব শিক্ষকদের দিয়ে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রশিক্ষণ দিয়েও তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়নি। এ সমস্যা সামাধানে তিনি পূর্বের জাতীয়করণ হওয়া বিদ্যালয়ের শিক্ষক অথবা নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ওইসব (সর্বশেষ জাতীয়করণ) বিদ্যালয়ে পদায়নের পরামর্শ দিয়েছেন।
সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জি এম হাসিবুল আলম বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ এবং সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জমি খারিজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে। শিগগির দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জমি খারিজের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সেটি হলে বাউন্ডারি ওয়াল এবং সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত জটিলতা অনেকাংশ নিরসন হবে।
এছাড়াও অবসরে যাওয়া গুণী শিক্ষকদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেনের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও জানান জি এম হাসিবুল আলম।
ভিসির পদত্যাগ দাবিতে মশাল মিছিল, অনশন অব্যাহত
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবিতে রাতভর মশাল মিছিল করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায়ে শিক্ষার্থীদের একাংশ বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো আমরণ অনশন অব্যাহত রাখেন। এতে কমপক্ষে ৭ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার (২১ জানুয়ারী) প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে থেকে মিছিল শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দিক প্রদক্ষিণ করে একই জায়গায় এসে শেষ হয়। মশাল মিছিলে প্রায় পাঁচশ শিক্ষার্থী অংশ নেন। এসময় তারা ভিসির পদত্যাগ দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা গত মঙ্গলবার রাতে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিনকে গত বুধবার দুপুর ১২টার মধ্যে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছিলেন। পদত্যাগ না করায় ওই দিন দুপুরের পর উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অনশন শুরু করেন ২৪ জন ছাত্রছাত্রী।
এরও আগে বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) থেকে বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রভোস্ট জাফরিন আহমেদ লিজার পদত্যাগ ও তিন দফা দাবি নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। আবাসিক হলের পানি, সিট, ইন্টারনেট, খাবারসহ বেশ কিছু সমস্যা নিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রভোস্টের সঙ্গে আলাপ করতে চাইলেও তিনি অসদাচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
পরে ধারাবাহিক বিক্ষোভ চলাকালে একপর্যায়ে গত রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন শিক্ষার্থীরা। উপাচার্যকে মুক্ত করতে পুলিশ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উপর রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে এবং এ ঘটনায় প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত হন। পরে এ আন্দোলন উপাচার্যের পদত্যাগের আন্দোলনে রূপ নেয়। দাবি পূরণ না হওয়ায় গতকাল বুধবার আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকে ২৪ জন আমরণ অনশনে বসেছেন।
জেলার কোথায় কারা দুর্নীতি করে ডিসিরা জানেন: দুদক চেয়ারম্যান
‘আমরা জেলা প্রশাসকদের অনুরোধ করেছি দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলতে। কারণ তারা জানেন, তাদের অফিসের কোথায় দুর্নীতি হয় বা হওয়ার সুযোগ আছে। মাঠ পর্যায়ে তাদের জানাশোনা থাকে।’ দুদক চেয়ারম্যান মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ জানালেন এ কথা।
বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান দুদক চেয়ারম্যান।
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু নিজের অফিস নয়, জেলার কোন কোন জায়গায় দুর্নীতি হয় এবং তাতে কোন কর্মকর্তারা যুক্ত থাকেন, সেটাও জেলা প্রশাসকদের জানার সুযোগ আছে। যে কারণে প্রথমেই আমরা তাদের অনুরোধ করেছি দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে যেন জিরো টলারেন্স নীতিতে চলতে।’

জেলা প্রশাসকরা জনবল বাড়ানোর কথা বলেছেন— এ নিয়ে দুদক কী ভাবছে জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘১৮টি জেলায় দুদকের অফিস নেই। এসব জেলায় জনবল ও বেতন-ভাতা দিয়ে অফিস স্থাপন করাটা যৌক্তিক হবে কিনা সেটা যাচাই করে দেখছি।’
এ সময় সাংবাদিকরা বলেন, দুদকের আইনজীবী প্যানেলের অনেকেই মামলার শুনানিতে উপস্থিত থাকেন না। আবার ওই প্যানেলে রাজনৈতিক প্রভাবে কিছু আইনজীবী ঢুকে পড়েন বলেও অভিযোগ আছে। এ প্রসঙ্গে মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ বলেন, ‘এ অভিযোগ সঠিক নয়। দুদকের আইনজীবী প্যানেল গঠনে আমরা কোনও পক্ষপাতিত্ব করি না। যে আইনজীবীরা দক্ষ ও সৎ তাদেরকেই প্যানেলে নিয়োগ দিই। দুয়েকজন অসুস্থ বা কোনও কারণে অনুপস্থিত থাকতেই পারেন। ফলাও করে অনুপস্থিতির বিষয়ে যা প্রচার হয়, সেটার কোনও ভিত্তি নেই।’
বিয়ে-শাদিসহ সব সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ
দেশে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে, এখন এর হার ২৫ শতাংশ জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, সরকারঘোষিত ১১ দফা বিধিনিষেধের মধ্যে বিয়ে-শাদিসহ বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান, সামাজিক অনুষ্ঠান এখন বন্ধ রাখতে হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ডিসিদের সঙ্গে অধিবেশন শেষে এ কথা জানান তিনি।
ডিসিদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, অনেক সময় কোয়ারেন্টাইন ঢিলেঢালাভাবে হয়। ফাঁকফোকর দিয়ে বের হয়ে যান অনেকেই এবং সংক্রামিত করে। এই বিষয়গুলো বলেছি আপনারা নজরদারিতে রাখবেন, যাতে কোয়ারেন্টাইন ঠিকমতো হয়। এছাড়াও ল্যান্ডপোর্ট, সিপোর্ট, এয়ারপোর্টেও স্ক্রিনিং চলছে। সেগুলো যাতে ঠিকমতো দেখেন ও যাতে সেখানে ফাঁকি না দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, গতকাল সাড়ে ৯ হাজার করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং ১২ জন মারা গেছেন। আতঙ্কিত না হলেও এটা আশঙ্কাজনক ও চিন্তার কারণ। আমরা জেলা প্রশাসকদের বলেছি গতবার দ্বিতীয় ঢেউ বা প্রথমে যেভাবে সহযোগিতা করেছেন এবারও সেভাবে সহযোগিতা আশা করছি। আপনারা (ডিসি) একটি জেলা পর্যায়ে কমিটির সভাপতিত্ব করেন। সেখানে সবাইকে নিয়ে কাজ করবেন। আমাদের স্থানীয় যারা জনপ্রতিনিধি আছেন তাদের নিয়েও কাজ করবেন।
তিনি বলেন, ওমিক্রন যেভাবে বাড়ছে সেটার লাগাম ধরে রাখতে আমাদের কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, ১১ দফা বলতে পারেন। বিধিনিষেধগুলো যাতে বাস্তবায়ন করা হয়। বাস্তবায়নের মূল হাতিয়ার জেলা প্রশাসকরা।
''জেলা পর্যায়ে এটি করতে হবে। যখন বাস, ট্রেন, স্টিমারে লোক চড়বে তাকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। মাস্ক পরতে হবে, সামাজিক দূরত্ব যতটুকু সম্ভব বজায় রাখতে হবে। যারা স্বাস্থ্য মানবে না, এসব অপকর্ম করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলেছি।''
পর্যাপ্ত টেস্ট কিটস আছে ও অক্সিজেনের অভাব নেই জানিয়ে মন্ত্রী জানান, আগের তুলনায় অনেক ভালো অবস্থায় আছি। প্রায় ১৩০টি হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন স্থাপন করা হয়েছে, যেটা আগে ছিলো না। টেলি মেডিসিনের ব্যবস্থা রয়েছে। ২০ হাজার বেড রয়েছে। ৪০ হাজার নতুন লোক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ১৫ হাজার ডাক্তার রয়েছে। ২০ হাজার নার্স রয়েছে, টেকনিশিয়ান রয়েছে। সার্বিক বিষয়ে প্রস্তুতি ভালো।
জনপ্রতিনিধিদের ‘সম্মান না পাওয়ার’ বিষয়ে ডিসিদের সংবেদনশীল হতে নির্দেশনা মন্ত্রীর
সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অনেক সময় স্থানীয় প্রশাসন বা অন্য সরকারি অফিসে ‘সেই ধরনের’ সম্মান না পাওয়ার বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) আরও সংবেদনশীল হতে নির্দেশনা দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।
আজ বৃহস্পতিবার তিন দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলনের শেষ দিনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত বিষয়ে আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই সম্মেলন হচ্ছে।
ডিসিদের দেওয়া নির্দেশনার কথা জানাতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বলেছি, আমাদের সহকর্মীরা, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা, এমনকি সংসদ সদস্য বলেছেন, স্থানীয় প্রশাসন কিংবা অন্য সরকারি অফিস অনেক সময় সেই ধরনের সম্মান দেয় না কিংবা তাঁরা যেহেতু নির্বাচিত হয়েছেন, কিছু অঙ্গীকার করেছেন, সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হয় না। এ বিষয়ে যেন তাঁরা (ডিসি) আরও সংবেদনশীল হন। এটি খুবই দুঃখজনক, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ হয় না। এ জন্যই বলা হয়েছে।’
স্থানীয় পর্যায়ে প্রবাসীদের বিভিন্ন দুঃখ-দুর্দশার কথা জানিয়ে সে বিষয়েও সংবেদনশীল হতে ডিসিদের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এক কোটির বেশি প্রবাসী বিদেশে আছেন। তাঁরা অভিযোগ করেন, তাঁরা ঠিকমতো পাসপোর্ট পান না, পুলিশের ছাড়পত্র হয় না। সময়মতো বিবাহসনদ, জন্মসনদ হয় না। অনেক সময় দেশে এলে হয়রানি করা হয়। তাঁদের ভূমি অনেকে বেদখল করে ফেলে। তাঁদের মরদেহ আনতে অনেক সময় ঠিকমতো তথ্য পাওয়া যায় না। প্রবাসীদের এ ধরনের একাধিক অভিযোগ আছে। এ জন্য তিনি আশা করেন এ বিষয়ে ডিসিরা অনেক বেশি সংবেদনশীল হবেন। যাতে এই ধরনের সেবা সহজে হয়।
মন্ত্রী আরও বলেন, স্থানীয় প্রশাসন যেগুলো নিজেরাই করতে পারে, সেগুলো অনেক সময় ঢাকায় পাঠিয়ে দেয় এবং নিজেদের দায়িত্ব এড়িয়ে যায়। এর ফলে সবাই ঢাকাকেন্দ্রিক হচ্ছেন। এ বিষয়েও সজাগ হতে ডিসিদের বলা হয়েছে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য