শিরোনাম
মাউশির প্রতিবেদন মাধ্যমিকের ৫৭% শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসে অনুপস্থিত
করোনাকালে ৭৯ শতাংশ শিক্ষার্থী সংসদ টিভিতে প্রচারিত ক্লাসে আগ্রহ দেখায়নি।
তদারক করা বিদ্যালয় ৩০৫৭টি।
২৯% বিদ্যালয় অনলাইন ক্লাসের উপস্থিতির তথ্য সংরক্ষণ করেনি।
সময়সূচি মেনে ক্লাস নিয়েছে ৮১% বিদ্যালয়।
করোনাকালে অনলাইন ক্লাস চালু হলেও সরকারি–বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী টানতে পারেনি। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) তদারক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক স্কুলগুলোর ৫৭ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসে অংশ নেয়নি। শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করতে পারেনি টেলিভিশনে প্রচারিত ক্লাসও। ৭৯ শতাংশ শিক্ষার্থী এসব ক্লাসে আগ্রহ দেখায়নি।
মাউশি দেশের শিক্ষা প্রশাসনের আটটি আঞ্চলিক (মোট অঞ্চল নয়টি) কার্যালয়ের মাধ্যম গত আগস্ট মাসে ৩ হাজার ৫৭টি বিদ্যালয় তদারক করে প্রতিবেদনটি তৈরি করে। সারা দেশে মাধ্যমিক স্কুল আছে ১৮ হাজারের বেশি। এসব স্কুলে মোট শিক্ষার্থী এক কোটির বেশি।
অনলাইন শিক্ষার জন্য যে উপকরণের প্রয়োজন, তা সব শিক্ষার্থীর কাছে সমানভাবে নেই। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা এলাকার শিক্ষার্থীদের কাছে এসব উপকরণের অভাব আছে। আছে ইন্টারনেটের কম গতি ও কারিগরি জটিলতাও।
করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি শুরু হয়। প্রায় দেড় বছর বন্ধের পর গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বল্প পরিসরে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি অনলাইন ক্লাসও অব্যাহত রাখার ঘোষণা আছে। ২০২০ সালের ২৯ মার্চ প্রথমে মাউশি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘আমার ঘরে আমার স্কুল’ শিরোনামে সংসদ টেলিভিশনে পাঠদান সম্প্রচার শুরু করে। এরপর অনলাইনে ক্লাস শুরু হয়।
এ সময়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম কেমন চলছে, তা জানতে তদারক কার্যক্রম চালায় মাউশি। তদারকের আওতায় আসা বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ৯১ শতাংশের বেশি প্রতিষ্ঠান অনলাইন ক্লাস কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে খুলনা ও কুমিল্লা অঞ্চলে তদারক করা শতভাগ স্কুল অনলাইন ক্লাস চালু করে।
শ্রেণি শিক্ষকদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে প্রধান শিক্ষকেরা অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীর উপস্থিতির তথ্য সংরক্ষণ করেন। উপস্থিতির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রায় ৪৩ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসে উপস্থিত ছিল। অনলাইনে ক্লাস কার্যক্রম গ্রহণ করেনি এমন বিদ্যালয় ছিল দুই শতাধিক, যার মধ্যে ১৭৯টি এমপিওভুক্ত। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী তাঁদের মূল বেতনের পুরোটাই সরকার থেকে পান। ২৯ শতাংশ বিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাসের শিক্ষার্থীর উপস্থিতির তথ্য সংরক্ষণ করা হয়নি।
করোনাকালে সময়সূচি মেনে ক্লাস নিয়েছে ৮১ শতাংশ বিদ্যালয়। অনলাইনে মোট ৭০ হাজার ১৪২টি ক্লাস হয়। এর মধ্যে মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করে ক্লাস নেওয়া হয় ২১ হাজার ৯০৪টি। ব্ল্যাকবোর্ড বা হোয়াইট বোর্ড ব্যবহার করে ৪২ হাজারের বেশি ক্লাস নেওয়া হয়। আর ‘শিক্ষক বাতায়ন’–এর ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবহার করে ক্লাস নেওয়া হয় ১০ হাজারের বেশি। অনলাইন ক্লাসের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে ফেসবুক লাইভ ও জুম। এ ছাড়া ইউটিউব, গুগল মিট, মেসেঞ্জার, স্কাইপসহ অন্যান্য মাধ্যমও ব্যবহার করা হয়েছে।
অনলাইনে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আশানুরূপ হয়নি বলে মনে করেন গতকাল মঙ্গলবার থেকে অবসরোত্তর ছুটিতে যাওয়া মাউশির মহাপরিচালক সৈয়দ গোলাম ফারুক। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এ জন্য ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ (বিষয়ভিত্তিক নির্ধারিত বাড়ির কাজ) গ্রহণের মাধ্যমে এই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করা হয়।
করোনাকালে শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে গত বছরের জানুয়ারিতে ‘এডুকেশন ওয়াচ’ নামে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল গণসাক্ষরতা অভিযান। তাতে দেখা যায়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের ৬৯ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী অনলাইন, টেলিভিশনের মতো মাধ্যমে দূরশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নেয়নি।
অনলাইন ক্লাস নিয়ে মাউশির প্রতিবেদন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গণসাক্ষরতা অভিযানের উপপরিচালক কে এম এনামুল হক বলেন, মফস্বল এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় অনলাইন ক্লাসের উদ্দেশ্য অনেকটাই ব্যাহত হয়। অনলাইন ক্লাসকে সচল রাখতে হলে সব শিক্ষার্থীর জন্য স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ও ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জরুরী নির্দেশ
ফের ঊর্ধ্বমুখী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংক্রমণের অবস্থা মনিটরিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে প্রতিদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের করোনা সংক্রান্ত তথ্য পাঠাতে হবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি)।
মঙ্গলবার রাতে মাউশির মহাপরিচালক (অতি: দা:) শাহেদুল খবির চৌধুরীর সই করা অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা যায়।
এতে বলা হয়- মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে জারি করা গাইডলাইন, নির্দেশনাপত্র এবং কোডিড-১৯ সংক্রান্ত বিধির আলোকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে সুরক্ষিত রাখার জন্য দৈনিক ভিত্তিতে মনিটরিং করার লক্ষ্যে একটি চেকলিস্ট প্রস্তুত করা হয়েছে। কোভিড-১৯ সংক্রমণ পুনরায় বৃদ্ধি পাওয়ায় মনিটরিং চেকলিস্টের তথ্যগুলো গুগল ফরমের মাধ্যমে প্রতিদিন বেলা ৫টার মধ্যে পাঠাতে হবে।
করোনা পরিস্থিতি ক্লাসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বৈঠকে জবি প্রশাসন
করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়ায় নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। এসময়ে সশরীরে নাকি অনলাইনে ক্লাস চালু রাখা হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বৈঠকে বসছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। আজ বুধবার (১২ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক।
এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. রবীন্দ্রনাথ মন্ডল বলেন, বর্তমান করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা অনলাইনে ক্লাস শুরু করবো নাকি সশরীরে এই বিষয়ে আজ দুপুর আড়াইটার সময় উপাচার্যের নেতৃত্বে একটি মিটিং আছে। সেখানে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
এর আগে, করোনার প্রকোপ বাড়ায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে ক্লাস বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। যদিও এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তারা বলেছেন, এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হবে। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় সশরীরে ক্লাস চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বলছে, স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে তারা ক্লাস-পরীক্ষা চালু রাখবেন। স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কিনা সেবিষয়ে কঠোরভাবে তদারকি করবেন তারা।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি বলেন, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৯৫ ভাগ শিক্ষক-শিক্ষার্থী করোনার ভ্যাকসিন নিয়েছেন। সুতরাং বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের কোনো যৌক্তিকতা নেই।
সম্প্রতি কয়েক সপ্তাহ ধরে করোনার প্রকোপ বেড়েছে সারাদেশে। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে শনাক্তের হার। করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৩০ জন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ১১টি বিধিনিষেধ আরোপ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন। প্রজ্ঞাপনে মাস্ক ব্যবহারে কঠোরতা, সভা-সমাবেশ বন্ধ ও গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলার বিষয়ে জোর দেয়া হয়েছে।
চার জেলায় নতুন প্রকল্প উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের চার জেলায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) প্রকল্পের আওতায় নবনির্মিত চারটি প্রকল্প উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার (১২ জানুয়ারি) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব প্রকল্প উদ্বোধন করেন।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতায় নবনির্মিত প্রকল্প চারটি হলো: ঢাকা এয়ারপোর্ট মহাসড়কে শহিদ রমিজ উদ্দীন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন পথচারী আন্ডারপাস, সিলেট শহর বাইপাস-গ্যারিসন লিংক ৪ মহাসড়ক, বালুখালী (কক্সবাজার)-ঘুনধুম (বান্দরবান) সীমান্ত সংযোগ সড়ক এবং রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ারচর চেংগী নদীর উপর ৫০০ মিটার দীর্ঘ সেতু।
প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সেনাপ্রধান এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং চিফ মেজর জেনারেল ইবনে ফজল শায়েকুজ্জামানসহ বিভিন্ন পদস্থ কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। প্রকল্পের স্পট থেকে সরকারি কর্মকর্তা ও উপকারভোগীরাও অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।
আমাদের দাবি একটাই, সেকেন্ড টাইম দিতে হবে (ভিডিও)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষার সুযোগের দাবিতে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। আজ বুধবার (১২ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান নেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তবে প্রক্টরিয়াল টিমের বাধায় সেখানে বেশি সময় অবস্থান করতে পারেননি তারা।
এরপর রাজু ভাস্কর্য থেকে মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে অবস্থান নেন তারা।
এসময় তারা- ‘আমাদের দাবি একটাই, সেকেন্ড টাইম দিতে হবে; দাবি মোদের একটাই, ঢাবিতে সেকেন্ড টাইম চাই; দিতে হবে দিতে হবে, সেকেন্ড টাইম দিতে হবে; আমাদের দাবি মানতে হবে, মানতে হবে মানতে হবে; উই ওয়ান্ট সেকেন্ড টাইম ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য