শিরোনাম
জাতীয়করণের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো শিক্ষকদের অবস্থান
পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জাতীয়করণের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়েছেন এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের সংগঠন ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী জাতীয়করণ প্রত্যাশী মহাজোট’।
মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) সকাল থেকেই তারা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নেন। এর আগে গত ১০ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ১০ জানুয়ারি থেকে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা করেন শিক্ষক নেতারা।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা পূর্ণাঙ্গ সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। পাঠ্যক্রম, আইন ও একই মন্ত্রণালয়ের অধীনে শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালিত হলেও সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিরাট পার্থক্য বিদ্যমান।’
বৈষম্য তুলে ধরে শিক্ষকরা বলেন, ‘গাড়ি ভাড়া, উৎসব ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, পদোন্নতি না থাকা, সন্তানের শিক্ষা ভাতা, হাউজ লোন, বদলি প্রথা, চাকরি শেষে পেনশনের সুবিধা না পাওয়া, অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টে শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে প্রতি মাসে বেতনের ১০ শতাংশ কেটে রাখা হলেও ৬ শতাংশের বেশি সুবিধা এখনো দেওয়া হয় না এবং বৃদ্ধ বয়সে সেই টাকা প্রাপ্তির অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।’ অধিকাংশ শিক্ষক নিজ জেলার বাইরে চাকরি করেন তাদের জন্য বদলি ব্যবস্থা চালু জরুরি বলে মনে করেন তারা।
এছাড়াও অধ্যক্ষ থেকে কর্মচারী নামমাত্র ১ হাজার টাকা বাড়িভাড়া, ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা ও ২৫ শতাংশ উৎসব ভাতা পান। বিশ্বের কোনো দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এত বৈষম্য রয়েছে কি না তা তাদের জানা নেই। এসময় বৈষম্য দূরীকরণে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, ‘শুধু প্রাতিষ্ঠানিক আয় থেকে কোনো ধরনের ভর্তুকি ছাড়াই প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা সম্ভব।’
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী জাতীয়করণ প্রত্যাশী মহাজোটের আহ্বায়ক মাঈন উদ্দিন, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি তালুকদার আব্দুল মান্নাফ, মহাসচিব মো. মেজবাহুল ইসলাম প্রিন্সসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শিক্ষকরা।
মির্জা ফখরুল ও তার স্ত্রী করোনা আক্রান্ত
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও তার স্ত্রী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে দুজনেই শারীরিকভাবে অনেকটা সুস্থ আছেন।
মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে তাদের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। বিএনপি সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
সূত্র আরও জানিয়েছে, কয়েকদিন ধরে হালকা ঠান্ডা জ্বরে ভুগছিলেন মির্জা ফখরুল। এ কারণেই করোনা পরীক্ষার নমুনা দেন তিনি। বর্তমানে তারা দুজনেই রাজধানীর উত্তরার বাসায় আইসোলেশনে রয়েছেন বলেও জানা গেছে।
করোনা সংক্রমণের দায় বিএনপিকে নিতে হবে : তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিধিনিষেধ না মেনে বিএনপি কর্মসূচি চালালে করোনা সংক্রমণের দায় তাদেরকে নিতে হবে।
আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মিন্টু রোডের বাসভবনে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী। সরকার জনস্বার্থে বিধিনিষেধ জারি করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচারণা এবং ভোট গ্রহণ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, সরকার করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে। তবে বিএনপি নেতারা করোনা ও করোনার টিকা নিয়ে মিথ্যাচার করছেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপির ধ্বংসাত্বক রাজনীতি জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা আবারো সেই পথে হাঁটালে জনগণ তাদেরকে চিরতরে প্রত্যাখ্যান করবে।
এদিকে, গতকাল সোমবার করোনা রোধে ১১ দফা নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।
ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে এইচএসসির ফল
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শেষ হয়েছে গত ৩০ ডিসেম্বর। আগামী মাসের (ফেব্রুয়ারি) প্রথম সপ্তাহে-এর ফল প্রকাশ করা হতে পারে। এবং সে লক্ষে আজ মঙ্গলবার দেশের সকল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকরা বৈঠকে বসেছেন বলে জানা গেছে।
করোনা সংক্রমণের কারণে শিক্ষার্থীদের সশরীরে ক্লাস না হওয়া বিভাগভিত্তিক তিনটি নৈর্বাচনিক বিষয়ে ছয়টি পত্রে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ২ ডিসেম্বর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছিলো। ওইদিন শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন পরীক্ষা শেষ হওয়ার এক মাসের মধ্যে ফল প্রকাশ করা হবে।
ফল প্রকাশের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম আমিরুল ইসলাম জানান, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল তৈরীর কাজ শুরু করা হচ্ছে। নতুন পদ্ধতিতে এবছরের পরীক্ষা হওয়ায় ফল প্রকাশের জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। সে কারণে মঙ্গলবার দেশের সকল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকরা বৈঠক করে এসব বিষয়ে প্রস্তাবনা তৈরি করবে। সকাল ১১টায় এ বৈঠক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানান তিনি।
ফল প্রকাশের প্রস্তুতির বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদ জানান, ৩০ দিনের মধ্যে যাতে ফল প্রকাশ করা যায় সে লক্ষ্যে কাজ চলছে।
তিনিও ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে এইচএসসি ফল প্রকাশের সম্ভাবনার কথা জানান।
তবে জানা যায়, এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের তিনটি বিষয়ের পরীক্ষা হলেও তাদের পত্র কিন্তু ছয়টি। তাই কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, ২০২১ শিক্ষাবর্ষে ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ১৩ লাখ ৯৯ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। এবার দেশের সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডে শুধু এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন ১১ লাখ ৩৮ হাজার ১৭ জন। আর মাদরাসা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষা দিয়েছেন এক লাখ ১৩ হাজার ১৪৪ জন। এছাড়া কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি বিএম ও ভোকেশনাল পরীক্ষা দিয়েছেন এক লাখ ৪৮ হাজার ৫২৯ জন।
সাভারে স্কুলে ভর্তির দাবিতে সড়ক অবরোধ
সাভারে ভর্তি হতে না পেরে দ্বিতীয় দিনের মতো স্কুলের প্রধান গেটের সামনে অবস্থান নিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিবাবকরা। ভর্তির দাবিতে স্কুলটির সামনের সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা ও অভিভাবকরা।
মঙ্গলবার বেলা ১১ টার সময় সাভার অধরচন্দ্র স্কুলের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে সড়কটি অবরোধ করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
শিক্ষার্থীরা জানায়, বিদ্যালয়ের প্রাথমিক শাখার প্রধান শিক্ষক রোকেয়া হক আশ্বাস দিয়েছিলেন লটারি হলেও প্রাথমিক শাখার সব শিক্ষার্থী মাধ্যমিক শাখায় ভর্তির সুযোগ পাবে। কিন্তু আমরা প্রায় ৭০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাচ্ছি না। আমাদের বিভিন্ন মহল থেকে আশ্বাস দেয়া হয়েছিলো। গতকাল সোমবার পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষায় রাখা হয়েছিলো। এখনও পর্যন্ত আমরা এই বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্ত পাইনি।
এ বিষয়ে একজন অভিভাবকের সঙ্গে কথা বললে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, দীর্ঘদিন এই প্রতিষ্ঠানে আমাদের সন্তানেরা পড়াশোনা করছে। এবং স্কুল থেকে বলা হয়েছিলো সর্বাধিক সুযোগ দেয়া হবে এইসব শিক্ষার্থীদের। হঠাৎ করে কেন বা কি কারনে তারা তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে আমরা এখনও জানিনা। বিভিন্নভাবে আমাদেরকে আশ্বাস দিলেও সেই প্রতিশ্রুতি এখনও পালন করছে না শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আমরা আমাদের সন্তানদের এখন কোথায় নিয়ে যাব তা ভেবে পাচ্ছিনা।
অধরচন্দ্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রতন পিটার গোমেজ বলেন, সরকারি প্রক্রিয়ায় স্কুলে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। বর্তমানে নতুন করে ভর্তির কোনো সুযোগ নেই। যারা রাস্তায় নেমেছে তারা মূলত লটারি মানতে পারছেন না।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য