শিরোনাম
কুয়াশা উৎসবে মেতেছে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়
সকাল সোয়া সাতটা। চারপাশ ঘন কুয়াশায় ঢাকা। এর মধ্যে খোলা মঞ্চে শুরু হয়েছে গান। ধ্রুপদি বাংলা গান। সাজানো বিশাল মাঠে দল বেঁধে ঘুরছেন শিক্ষার্থীরা। অনেকেই ছবি তোলায় ব্যস্ত। সবার মধ্যে যেন উৎসবের আমেজ।
আজ বৃহস্পতিবার এ দৃশ্য দেখা গেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়াশা উৎসবে।
নানা আয়োজনে গতকাল বুধবার সন্ধ্যার পর আনুষ্ঠানিকভাবে ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী কুয়াশা উৎসব। গতকাল রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সৌমিত্র শেখর ফানুস উড়িয়ে এ উৎসবের উদ্বোধন করেন। আজ মধ্যরাত পর্যন্ত চলবে এ উৎসব।
কুয়াশা উৎসব আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আল জাবির প্রথম আলোকে বলেন, ‘কুয়াশাকে অনেকেই নিরাশার প্রতীক মনে করে। সে ধারণা পাল্টে কুয়াশাকেই আশার প্রতীক মনে করাতে এ আয়োজন। এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রত্যন্ত অঞ্চলে হওয়ায় এখানে ঘন কুয়াশা পড়ে। নাগরিক জীবনে এখন মানুষ কুয়াশা খুব বেশি দেখতে পায় না। এ ছাড়া আমাদের প্রত্যেকেরই শীত নিয়ে রয়েছে শৈশব স্মৃতি। শীতে নবান্ন ঘিরে গ্রামে গ্রামে হতো নানা আয়োজন। সেসব স্মৃতি আমাদের জীবনে চলার সঙ্গী হয়ে থাকে। কুয়াশা উৎসবে আমরা সবাই সেসব দিনের স্মৃতিও মন্থন করতে পারি। এককথায় কুয়াশার মধ্যেও আমরা সবাইকে আশা দেখাতে চাই। তাই এ আয়োজন।’
২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো কুয়াশা উৎসবের আয়োজন করা হয়। এবার চলছে দ্বিতীয়বারের আয়োজন।
এ উৎসব আয়োজনের সূচিতে রয়েছে আবহমান বাংলার নানা ঐতিহ্য বহন করে এমন সব অনুষ্ঠান। রয়েছে আদিবাসী নৃত্য, নজরুল উৎসর্গে নৃত্য, গান ও কবিতা, লোকগান, কীর্তন, চলচ্চিত্র প্রদর্শনীসহ আরও অনেক আয়োজন।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের সহযোগী পরিচালক এস এম হাফিজুর রহমান বলেন, কুয়াশা উৎসবটি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজনে না হলেও এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মিলেই আয়োজন করেছেন। শিক্ষার্থীরা আয়োজন খুব উপভোগ করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নওশাদ আল সাইম জানান, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়াশা উৎসবটি একটি সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীরা এ উৎসবে যোগ দিয়েছেন। এ ছাড়া ত্রিশালের সাধারণ মানুষও এ উৎসবে এসেছেন।
দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে আজ সকালের পর্বে ধ্রুপদি বাংলা গানের পর্বের পর বিরতি চলে। বেলা সাড়ে তিনটা থেকে দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়ে চলবে রাত ১১টা পর্যন্ত। এর মধ্যে নাটক, সাহিত্যবিষয়ক আলোচনা, কবিতা পাঠ, আদিবাসীদের পরিবেশনা ও লোকগান হবে।
এক ডোজ টিকা নিলেই ১২ বছরের বেশি বয়সীরা স্কুলে যেতে পারবে
মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এখন থেকে ১২ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের স্কুলে যেতে হলে করোনার অন্তত এক ডোজ টিকা নিতে হবে, না হলে স্কুলে যেতে পারবে না।
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সভার সিদ্ধান্ত জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এসব কথা বলেন। তিনি বলেন এই বিষয়ে গত সোমবার (৩ জানুয়ারি) আন্তমন্ত্রণালয় সভায় আলোচনা হয়েছিল। আজকে তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ সময় এর আগে দেওয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার কথাও উল্লেখ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
তখন সাংবাদিকেরা জানতে চান, তাহলে কি বার্তাটি এমন যে এখন থেকে ১২ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের স্কুলে যেতে হলে করোনার অন্তত এক ডোজ টিকা নেওয়া লাগবেই? জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন হ্যাঁ। নির্দেশনা দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছে যে টিকা ছাড়া কেউ স্কুলে আসতে পারবে না। ৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এটি নিশ্চিত করেছে। মৌখিকভাবে তারা নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছে, হয়তো অফিশিয়ালি যায়নি। এ সময় সাংবাদিকেরা আরও জানতে চান, এখনো তো অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া হয়নি, তাহলে এটি কীভাবে হবে? জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, টিকা তো এখন গ্রামগঞ্জে সহজলভ্য, এ জন্যই আরোপ করা।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে নির্ধারিত বিষয়ের বাইরে করোনার নতুন ধরন অমিক্রন মোকাবিলায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এর আগে ৩ জানুয়ারি আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকেও আলোচনা হয়েছিল।
আন্তমন্ত্রণালয় সভার আলোচনা, এর আগে এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য এবং আজকের নির্দেশনার কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, করোনার টিকা কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে। বুস্টার ডোজের কার্যক্রম আরও কীভাবে বিস্তৃত করা যায়, সেটি দেখতে হবে। বুস্টার ডোজ দেওয়ার বয়স ৬০ বছর বা তার বেশি রাখা হবে নাকি আরও কমানো যায়, সেটা চিন্তা করতে হবে, কারণ, পর্যাপ্ত টিকা আছে।
খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, অমিক্রনের বিষয়ে বিশেষভাবে বলা হয়েছে, এখন থেকে রেস্তোরাঁ, শপিং মল, প্লেন ও ট্রেনে যাঁরা যাবেন, তাঁদের একটি সময় দিয়ে করোনার দ্বিতীয় ডোজ টিকা ছাড়া যাতে না যায়, সে রকম একটি চিন্তাভাবনার দিকে যেতে হবে। এ রকম বিধি আরোপের একটি বিষয় আসছে।
রেস্তোরাঁয় এই বিষয়টি কীভাবে তদারক করা হবে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রতিটি শহরে তদারক দল (ভিজিলেন্স টিম) থাকবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেখবে। কারিগরি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সময় দিয়ে এটি করা হবে। কারণ, অমিক্রন ঠেকাতে গেলে কিছু কঠোর ব্যবস্থায় যেতে হবে।
করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে অন্যান্য সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনার কথা বলতে গিয়ে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বাড়ির বাইরে কোনো অবস্থায় মাস্ক ছাড়া যাওয়া যাবে না। এখন থেকে এ বিষয়ে সচেতনতা ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে চেষ্টা করতে হবে। এ ছাড়া সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সমাগম সীমিত রাখতে হবে। মাস্ক পরা ও স্বাস্থ্যবিধি বাধ্যতামূলক করতে হবে।
করোনা পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে হয়তো গণপরিবহনে ৫০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে চলাচলের সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে জানান আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি বলেন, এখনো তা হয়নি। বিধিনিষেধ (লকডাউন) দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর মন্ত্রীরা সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষ থেকে সভায় যোগ দেন।
বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির জরুরি সভা শুক্রবার
বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি প্রায় সাড়ে তিন বছর পর জরুরি সভা ডেকেছে। শুক্রবার সকাল ১০টায় রাজধানীর ঢাকা কলেজে সভাটি অনুষ্ঠিত হবে বলে জনিয়েছেন বিদায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার।
জানা যায়, প্রায় সাড়ে তিন বছর পর ১৫ হাজার বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারদের এ সংগঠনটির সভা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।
এর আগে গত ২৩ ডিসেম্বর সেলিম উল্লাহ খোন্দকার স্বাক্ষরিত জরুরি সভার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘সমিতির গঠনতন্ত্রের ধারা-৮ এ বলা হয়েছে, দুই বছরের দায়িত্ব গ্রহণ শেষে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব না হলে দুই মাস করে চার মাস সময় নিতে পারবে কেন্দ্রীয় কমিটি। এরপরও নির্বাচন না হলে বিলুপ্ত হবে কমিটি। পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে ২০ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করতে হবে। এই কমিটি তিন মাসের মধ্যে তফসিল ও ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন করবে। অন্যথায় সাধারণ সভা বা জরুরি সভা আহবান করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ব্যত্যয় ঘটিয়ে একতরফা এবং অবৈধভাবে ভোটার তালিকা প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণের প্রেক্ষিতে জরুরি সাধারণ সভা আহবান করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সভাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ায় সমিতির কার্যক্রম গতি হারিয়েছে। অতীতে এতো দীর্ঘ সময় নির্বাচনবিহীন অবস্থায় থাকেনি বিসিএস শিক্ষা সমিতি। এই সভা আহ্বানের ফলে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। স্বাধীনতা বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সংসদের নেতৃবৃন্দ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। এই সভা থেকেই তারা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা ও একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমেছে
দেশে বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমেছে। ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫.৮৬ শতাংশ শিক্ষার্থী কম ভর্তি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) ৪৭তম বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ৩ লাখ ২৮ হাজার ৬৮৯ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। ২০১৯ সালে শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিল ৩ লাখ ৪৯ হাজার ১৬০ জন।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা ৯৭ হাজার ৫০৪ জন। বিদেমী শিক্ষার্থীর সংক্যা ১ হাজার ৫৫০ জন। সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষার্থী সংখ্যা ২৪ হাজার ৬৮৯ জন।
শিক্ষার্থী সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৯ হাজার ৭৭৪ জন। এর পরের অবস্থানে রয়েছে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠানটিতে ১৩ হাজার ১৫৯জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছে। শিক্ষার্থী সংখ্যায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি। বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষার্থী সংখ্যা ১২ হাজার ২৯১ জন।
ইউজিসি বলছে, করোনাভাইরাসের কারণে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশও ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে দেশের বেসরকারি খাত। যার মধ্যে অন্যতম বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। বিগত দশ বছরের মধ্যে ২০১৬, ২০১৯ এবং ২০২০ সাল ব্যতীত প্রতিবছরই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। আলোচ্য বছরের শিক্ষার্থী সংখ্যা হ্রাস পাওয়ার অন্যতম কারণ ছিল করোনা ভাইরাস মহামারী।
বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
রাজধানীর বিজয় সরণিতে ‘বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘর’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৃহস্পতিবার (৬ জানুয়ারি) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে জাদুঘরটির উদ্বোধন করেন তিনি।
বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘর তরুণদের দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে সশস্ত্র বাহিনীতে যোগদানে উদ্বুদ্ধ করতে আশা প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, এখানে আমাদের নৌবাহিনীর জন্য আলাদা জায়গা আছে, সেনাবাহিনীর জন্য জায়গা আছে, বিমান বাহিনীর সবারই আলাদা আলাদা প্রদর্শনীর ব্যবস্থা আছে। তিনি বলেন, কাজেই প্রত্যেকটা বিষয় নিয়েই আমাদের শিশু, তরুণ বা বয়োবৃদ্ধ যারাই আসবে তারা যেমন জ্ঞান অর্জন করবে, সেইসঙ্গে এখানে আরেকটি বিষয় হবে। আমাদের সশ্রস্ত্র বাহিনীতে যারা তরুণ প্রজন্ম তারাও যোগদান করতে আরও আগ্রহী হবে। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অবদান রাখতে তারা উদ্বুদ্ধ হবে। এটাই আমি মনে করি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাজেই জাদুঘরটা শুধু প্রদর্শনীর জন্যই না, এটা আমাদের এ তরুণ প্রজন্মকে তাদের ভেতরে যেমন একটা আকর্ষণ হবে বা দেশপ্রেম উদ্বুদ্ধ হবে এবং দেশপ্রেম জাগ্রত হয়ে তারা আমাদের সশ্রস্ত্র বাহিনীতে আমাদের সার্বভৌমত্ব-স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যোগদান করতে আগ্রহী হবে।
বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘরটির নান্দনিক সৌন্দর্য্যের কথা তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, সামরিক জাদুঘরকে অত্যন্ত আধুনিক করে গড়ে তোলা। যে সেটা এত দৃষ্টি নন্দন হয়, এটা যেন সারা বিশ্বের যত সামরিক জাদুঘর হয়েছে তার মধ্যে যেন শ্রেষ্ঠ জাদুঘর হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। সেটাই আমার আকাঙ্ক্ষা ছিল।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি সত্যিই আনন্দিত, সত্যিই এটাকে আমি মনে করি এখনো, আমি অবশ্য একেবারে সরেজমিনে দেখিনি, প্রাথমিক পর্যায়ে যখন তৈরি শুরু হয় তখন কিছুটা দেখেছি, আর বার বার যখন যতটুকু ডেভেলপ হয়েছে আমি ছবিগুলো দেখেছি। যখন যেটা নির্দেশনা দেওয়ার আমি দিয়েছি। আমি যতটুকু এখন দেখলাম আমি মনে করি এটা হবে সারা পৃথিবীর মধ্যে সর্বশেষ্ঠ সুন্দর, আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন একটি সামরিক জাদুঘর।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম শাহীন ইকবাল, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য