The Rising Campus
News Media

আসমি – ফিলিলের ২ দিন ব্যাপী আন্তর্জাতিক সিম্পোজিয়ামের সমাপনী

আমান উল্লাহ, বাকৃবিঃ এপ্রোপ্রিয়েট স্কেল মেকানাইজেশন ইনোভেশন হাব (আসমি) বাংলাদেশ ও পোস্ট-হারভেস্ট লস রিডাকশন ইনোভেশন ল্যাব (ফিলিল) বাংলাদেশ ফেজ-২ এর দুইদিন ব্যাপী আন্তর্জাতিক সিম্পোজিয়ামের সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে ঢাকার লেকশোর হোটেলের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের আয়োজনে বাংলাদেশে কৃষির রূপান্তর: উপযুক্ত পরিমাপে যান্ত্রিকীকরণ ও ফসল কর্তন পরবর্তী ক্ষতি কমানোর উদ্ভাবনসমূহ শীর্ষক ওই সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত হয়।

সমাপনী পর্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক এবং আসমি-বাংলাদেশ ও ফিলিল-বাংলাদেশ ফেজ-২ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর ড. মো. মঞ্জুরুল আলম।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে অধ্যাপক ড. মো. মঞ্জুরুল আলম বলেন, বাংলাদেশের কৃষি মানুষের জীবিকা থেকে আধা-বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তরিত হচ্ছে যেখানে কৃষির যান্ত্রিকীকরণই এই পরিবর্তনের অন্যতম চালিকা। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে সঠিক স্কেলের মেশিনের মাধ্যমে কৃষিতে সময়, খরচ ও শ্রম সাশ্রয়ী এবং পোস্টহারভেস্ট লস কমানো সংক্রান্ত কাজে অধিক পরিমাণে যান্ত্রিকীকরণ করা প্রয়োজন যা কৃষিপণ্যে মূল্য সংযোজন করবে। স্থানীয় উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশে কৃষি যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশের ক্রমবর্ধমান বাজার দখল করা সম্ভব। এক্ষেত্রে অনুকূল ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরির জন্য বিভিন্ন সাব-সেক্টরসমূহের হস্তক্ষেপ জরুরী। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কৃষি উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থাকে সর্বোত্তম ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে বিশেষত: স্মার্ট ফার্মি, প্রিসিশন এগ্রিকালচার (মেশিন ভিশন, ড্রোন, ন্যানো টেকনোলজি ইত্যাদি), নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কৃষি, ড্রাই ও কোল্ড চেইন, নবায়নযোগ্য বায়োগ্যাস ইত্যাদি ক্ষেত্রে এবং সোলার নেক্সড স্মার্ট মাইক্রো গ্রেড ইত্যাদি। টেকসই উন্নয়নের জন্য স্মার্ট ও ডিজিটালাইজ্ড কৃষি উদ্ভাবনে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) উৎসাহিত করতে হবে। গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়াগ এবং কৃষি উদ্ভাবন হাব প্রতিষ্ঠাকে উৎসাহিত করতে হবে। উদীয়মান ৪জি প্রযুক্তি স্থাপনের জন্য জাতীয় নীতি, কৌশল ও কাঠামো প্রণয়ন প্রয়োজন।

আসমি-বাংলাদেশ ও ফিলিল-বাংলাদেশ ফেজ-২ প্রকল্পের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক ড. চয়ন কুমার সাহা বলেন, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ফসল কর্তন পরবর্তী ক্ষতি কমানোর মাধ্যমে টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন আমাদের মূল উদ্দেশ্য। এ জন্যেই আমরা ২ দিন ব্যাপি সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করেছি। এই সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে যারা শস্য উৎপাদন এবং প্রক্রিয়াকরণে যান্ত্রিকীকরণ নিয়ে কাজ করছে তাদের সবাইকে নিয়ে একটি প্লাটফর্ম তৈরি করতে চাই। যার মাধ্যমে নীতিনির্ধারকদের আমরা জানাতে পারবো খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ফসল কর্তন পরবর্তী ক্ষতি কমানোর ক্ষেত্রে আমাদের কি কি সমস্যা আছে, কি কি চ্যালেঞ্জ আছে এবং সমস্যাগুলো দূর করতে আমারে করণীয় বিষয়। দেশ-বিদেশের যারা খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করেন আন্তর্জাতিক এই সিম্পোজিয়ামে টেকনিক্যাল, প্যানেল এবং পোস্টার উপস্থাপনের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে করণীয় উল্লেখ করেছেন। এর মাধ্যমে আমরা সঠিক নীতি বাস্তবায়ন করে টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে সক্ষম হবো।

বাকৃবির কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সিম্পোজিয়ামের সমাপনী অনুষ্ঠানে আমেরিকার কানসাস স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিড দি ফিউচার ইনোভেশন ল্যাব ফর দি রিডাকশন অফ পোস্টহারভেস্ট লস প্রোগ্রামের ডিরেক্টর ড. জেগার হার্ভে, ইউনিভার্সিটি অফ ইলিনয়ের এপ্রোপ্রিয়েট স্কেল মেকানাইজেশন কনসোর্টিয়ামের (এএসএমসি) ডিরেক্টর ড. প্রশান্ত কে. কালিতা, ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চীফ এক্সিকিউটিভ অফিসার আবুল কাশেম শিরিণ, সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ সরকারের নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. আব্দুস সামাদ এবং পল্লী উন্নয়ন একাডেমীর সাবেক মহাপরিচালক ড. এম এ মতিন। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষকবৃন্দ, কৃষি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকতাবৃন্দ, ছাত্র, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ শতাধিক ব্যক্তি অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দাতাসংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং প্রতিনিধিবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

0
You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.