The Rising Campus
Education, Scholarship, Job, Campus and Youth
বৃহস্পতিবার, ১৮ই এপ্রিল, ২০২৪

প্রশংসায় ভাসছেন ৫৫ বছরের বেলায়েত

৫৫ বছর বয়সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাসকয়েক আগে রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন বেলায়েত শেখ। কিন্তু ঢাবির পর রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিলেও কোনোটিতেই উত্তীর্ণ হননি বেলায়েত।

অবশেষে রাজশাহীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগের ভর্তি পরীক্ষায় পাশ করেছেন তিনি। সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রকাশিত ফল পেয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাসে বেলায়েত জানান, ‘আলহামদুলিল্লাহ রাজশাহী বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগে ভর্তি পরীক্ষায় পাশ করেছি। মায়ের অনুমতি পেলেই ভর্তি হব ইনশাল্লাহ।’

ইতিমধ্যে তার ফেসবুক স্ট্যাটাসটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকে তার স্ট্যাটাসটি শেয়ার করে প্রশংসা করেছেন। বেলায়েতের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে সবাই প্রশংসা করেছেন। এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের পাতায় পাতায় বেলায়েতের বন্দনা দেখা যাচ্ছে।

আল-আমিন নামে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী নিজের ক্যাম্পাসে বেলায়েতকে স্বাগত জানিয়ে ফেসবুকে লিখেছেন, আমার ইউনিভার্সিটিতে বেলায়েত চাচাকে স্বাগতম। তিনি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় সাংবাদিকতা সাবজেক্টে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

শরীফুল ইসলাম তাজ নামে একজনে বেলায়েতকে অভিনন্দন জানিয়ে লিখেছেন, অদম্য ইচ্ছাশক্তির অধিকারী বেলায়েত শেখ। টানা বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার পর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন জ্ঞান পিপাসু ৫৫ বছরের বেলায়েত। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এটি একটি মাইলফলক।

শিক্ষক সমাজের দৃষ্টি কেড়েছে বেলায়েতের সাফল্য। আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রামের সাবেক শিক্ষক মো. আব্দুল হামিদ চৌধুরী লিখেছেন, চারদিকের অজস্র মেকি অভিনন্দন আর কৃত্রিম বন্দনার ফুল জুড়ি দেখতে দেখতে যখন আমরা ভীষণ ক্লান্ত হই, তখন আমার কাছে মনে হয়েছে এই মানুষটাকে ঠিকঠাক এপ্রেসিয়েশান না দিলে একজন দুঃসাহসিক অভিযাত্রীকে অবমাননা করা হবে।

তিনি লিখেন, জীবনের ৫৫টি সোনালী বসন্ত পার করে এসেও, পড়ন্ত বিকেলে দেখিয়ে দিয়েছেন নিজের অদম্য স্পৃহার জলন্ত অগ্নিশিখা। রাজশাহীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগে ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫৫ বছর বয়সী বেলায়েত শেখ। অনিন্দ্য অভিনন্দন।

সাংবাদিক ফরিদুর রেজা খান বেলায়েতকে অভিভন্দন জানিয়ে লিখেছেন, আমার জীবনে দেখা প্রচন্ড শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের মানুষদের মাঝে বেলায়েত ভাই (বেলায়েত শেখ) অন্যতম একজন। হার না মানা এই মধ্যবয়স্ক যোগাযোগ ও গণমাধ্যম নিয়ে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক (সম্মান) সম্পন্ন করার সুযোগ পেয়েছেন। তার জন্য শুভকামনা।

বেলায়েত শেখের জন্ম ১৯৬৮ সালে। তার বাড়ি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায়। দুই ছেলে ও এক মেয়ের বাবা তিনি। বড় ছেলে বিয়ে করে ব্যবসা করছেন। ছোট ছেলে শ্রীপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়ছেন। একমাত্র মেয়েকে গাজীপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে স্নাতক প্রথম বর্ষে পড়ার সময় বিয়ে দেন বেলায়েত।

২০১৯ সালে ঢাকার বাসাবোর দারুল ইসলাম আলিম মাদ্রাসা থেকে দাখিল (এসএসসি) পাস করেন তিনি। এরপর ২০২১ সালে রাজধানীর রামপুরার মহানগর কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। একই বছর তার ছেলে এসএসসি পাস করে। এসএসসিতে জিপিএ ৪.৪৩ এবং এইচএসসিতে জিপিএ ৪.৫৮ পান তিনি।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.

  1. প্রচ্ছদ
  2. ক্যাম্পাস
  3. প্রশংসায় ভাসছেন ৫৫ বছরের বেলায়েত

প্রশংসায় ভাসছেন ৫৫ বছরের বেলায়েত

৫৫ বছর বয়সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাসকয়েক আগে রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন বেলায়েত শেখ। কিন্তু ঢাবির পর রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিলেও কোনোটিতেই উত্তীর্ণ হননি বেলায়েত।

অবশেষে রাজশাহীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগের ভর্তি পরীক্ষায় পাশ করেছেন তিনি। সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রকাশিত ফল পেয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাসে বেলায়েত জানান, ‘আলহামদুলিল্লাহ রাজশাহী বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগে ভর্তি পরীক্ষায় পাশ করেছি। মায়ের অনুমতি পেলেই ভর্তি হব ইনশাল্লাহ।’

ইতিমধ্যে তার ফেসবুক স্ট্যাটাসটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকে তার স্ট্যাটাসটি শেয়ার করে প্রশংসা করেছেন। বেলায়েতের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে সবাই প্রশংসা করেছেন। এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের পাতায় পাতায় বেলায়েতের বন্দনা দেখা যাচ্ছে।

আল-আমিন নামে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী নিজের ক্যাম্পাসে বেলায়েতকে স্বাগত জানিয়ে ফেসবুকে লিখেছেন, আমার ইউনিভার্সিটিতে বেলায়েত চাচাকে স্বাগতম। তিনি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় সাংবাদিকতা সাবজেক্টে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

শরীফুল ইসলাম তাজ নামে একজনে বেলায়েতকে অভিনন্দন জানিয়ে লিখেছেন, অদম্য ইচ্ছাশক্তির অধিকারী বেলায়েত শেখ। টানা বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার পর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন জ্ঞান পিপাসু ৫৫ বছরের বেলায়েত। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এটি একটি মাইলফলক।

শিক্ষক সমাজের দৃষ্টি কেড়েছে বেলায়েতের সাফল্য। আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রামের সাবেক শিক্ষক মো. আব্দুল হামিদ চৌধুরী লিখেছেন, চারদিকের অজস্র মেকি অভিনন্দন আর কৃত্রিম বন্দনার ফুল জুড়ি দেখতে দেখতে যখন আমরা ভীষণ ক্লান্ত হই, তখন আমার কাছে মনে হয়েছে এই মানুষটাকে ঠিকঠাক এপ্রেসিয়েশান না দিলে একজন দুঃসাহসিক অভিযাত্রীকে অবমাননা করা হবে।

তিনি লিখেন, জীবনের ৫৫টি সোনালী বসন্ত পার করে এসেও, পড়ন্ত বিকেলে দেখিয়ে দিয়েছেন নিজের অদম্য স্পৃহার জলন্ত অগ্নিশিখা। রাজশাহীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগে ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫৫ বছর বয়সী বেলায়েত শেখ। অনিন্দ্য অভিনন্দন।

সাংবাদিক ফরিদুর রেজা খান বেলায়েতকে অভিভন্দন জানিয়ে লিখেছেন, আমার জীবনে দেখা প্রচন্ড শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের মানুষদের মাঝে বেলায়েত ভাই (বেলায়েত শেখ) অন্যতম একজন। হার না মানা এই মধ্যবয়স্ক যোগাযোগ ও গণমাধ্যম নিয়ে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক (সম্মান) সম্পন্ন করার সুযোগ পেয়েছেন। তার জন্য শুভকামনা।

বেলায়েত শেখের জন্ম ১৯৬৮ সালে। তার বাড়ি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায়। দুই ছেলে ও এক মেয়ের বাবা তিনি। বড় ছেলে বিয়ে করে ব্যবসা করছেন। ছোট ছেলে শ্রীপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়ছেন। একমাত্র মেয়েকে গাজীপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে স্নাতক প্রথম বর্ষে পড়ার সময় বিয়ে দেন বেলায়েত।

২০১৯ সালে ঢাকার বাসাবোর দারুল ইসলাম আলিম মাদ্রাসা থেকে দাখিল (এসএসসি) পাস করেন তিনি। এরপর ২০২১ সালে রাজধানীর রামপুরার মহানগর কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। একই বছর তার ছেলে এসএসসি পাস করে। এসএসসিতে জিপিএ ৪.৪৩ এবং এইচএসসিতে জিপিএ ৪.৫৮ পান তিনি।

পাঠকের পছন্দ

মন্তব্য করুন