সেনাবাহিনীর ৯০তম বিএমএ কোর্সে যোগ দেওয়ার সুযোগ

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনীতে ৯০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আবেদন শুরু হয়েছে। আগ্রহীরা আগামী ৭ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। প্রার্থীদের অবিবাহিত ও জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা

জাতীয় মাধ্যম: মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট বা সমমান পরীক্ষায় যেকোনো একটিতে জিপিএ-৫ ও অন্যটিতে জিপিএ-৪.৫০ পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে।

ইংরেজি মাধ্যম: ও লেভেলে ছয়টি বিষয়ের মধ্যে তিনটিতে ‘এ’ গ্রেড, তিনটিতে ‘বি’ গ্রেড এবং এ লেভেলে দুটি বিষয়েই ন্যূনতম ‘বি’ গ্রেড পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। অথবা ও লেভেলে ছয়টি বিষয়ের মধ্যে দুটিতে ‘এ’ গ্রেড, তিনটিতে ‘বি’ গ্রেড ও একটিতে ‘সি’ গ্রেড এবং এ লেভেলে দুটি বিষয়ের মধ্যে একটিতে ‘এ’ গ্রেড ও একটিতে ‘বি’ গ্রেড পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে।

২০২২ সালের এইচএসসি বা এ লেভেল পরীক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীদের অবশ্যই এসএসসি জিপিএ-৫ বা ও লেভেলে ছয়টি বিষয়ের মধ্যে তিনটিতে ‘এ’ গ্রেড, তিনটিতে ‘বি’ গ্রেড বা সমমান ফলাফল থাকতে হবে।
নির্বাচিত প্রার্থীদের এইচএসসি বা এ লেভেল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের পরই আইএসএসবিতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। উভয় মাধ্যমের ক্ষেত্রে বিএমএ যোগদানের আগে অবশ্যই এইচএসসি বা এ লেভেল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হতে হবে।

বয়স: ২০২৩ সালের ১ জুলাই ১৭ থেকে ২১ বছর (এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য নয়)। সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত প্রার্থীদের জন্য ১৮ থেকে ২৩ বছর।

শারীরিক যোগ্যতা: পুরুষ প্রার্থীদের জন্য উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি, বুকের মাপ স্বাভাবিক ৩০ ও প্রসারণে ৩২ ইঞ্চি, ওজন ৫৪ কেজি। নারী প্রার্থীদের জন্য উচ্চতা ৫ ফুট ২ ইঞ্চি, বুকের মাপ স্বাভাবিক ২৮ ও প্রসারণে ৩০ ইঞ্চি, ওজন ৪৭ কেজি।

বয়স: ২০২৩ সালের ১ জুলাই ১৭ থেকে ২১ বছর (এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য নয়)। সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত প্রার্থীদের জন্য ১৮ থেকে ২৩ বছর।

শারীরিক যোগ্যতা: পুরুষ প্রার্থীদের জন্য উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি, বুকের মাপ স্বাভাবিক ৩০ ও প্রসারণে ৩২ ইঞ্চি, ওজন ৫৪ কেজি। নারী প্রার্থীদের জন্য উচ্চতা ৫ ফুট ২ ইঞ্চি, বুকের মাপ স্বাভাবিক ২৮ ও প্রসারণে ৩০ ইঞ্চি, ওজন ৪৭ কেজি।

অনলাইনে আবেদন পদ্ধতি
আগামী ৭ অক্টোবর ২০২২ তারিখ পর্যন্ত শুধু অনলাইনে আবেদন করা যাবে। আগ্রহীদের এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে হোম পেজের ওপরে ডান কোনায় APPLY NOW–এ ক্লিক করে বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে APPLY করতে হবে। অনলাইনে আবেদন করতে কোনো অসুবিধা হলে ওয়েবসাইটে দেখানো কাস্টমার সাপোর্ট নম্বরে (+৮৮০১৭১৩১৬১৯৭৯) সরাসরি যোগাযোগ করা যাবে।

আবেদন ফি
আবেদনকারী প্রার্থীদের টেলিটক, ট্রাস্ট ব্যাংক টি–ক্যাশ, ভিসা বা মাস্টার কার্ড, বিকাশ, রকেট ইত্যাদির মাধ্যমে এক হাজার টাকা (অফেরৎযোগ্য) আবেদন ফি প্রদান করতে হবে। আবেদন প্রক্রিয়াতেই ওয়েবসাইটে বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করে আবেদন ফি প্রদান করা যায় এবং তাৎক্ষণিকভাবে প্রাথমিক সাক্ষাৎকারের কল-আপ লেটার পাওয়া যায়।

নির্বাচন পদ্ধতি

প্রাথমিক স্বাস্থ্য ও মৌখিক পরীক্ষা: প্রাথমিক নির্বাচনী (স্বাস্থ্য ও মৌখিক) পরীক্ষা আগামী ১৬ অক্টোবর ২০২২ থেকে ২৭ অক্টোবর ২০২২ তারিখ পর্যন্ত বিভিন্ন সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত হবে। কোনো প্রার্থী পরীক্ষার দিন উপস্থিত হতে অপারগ হলে বর্ণিত সময়ের মধ্যে যেকোনো দিন উপস্থিত হয়ে উক্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। তবে পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তনের বিষয়টি পূর্বেই সরাসরি নিজ নিজ পরীক্ষা কেন্দ্রে জানাতে হবে।

লিখিত পরীক্ষা: প্রাথমিক নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ গণিত এবং সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে সাক্ষাৎকার পত্রে উল্লেখিত স্থানে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। লিখিত পরীক্ষা আগামী ১৭ ডিসেম্বর ২০২২ (শনিবার) তারিখ সকাল নয়টায় অনুষ্ঠিত হবে। লিখিত পরীক্ষার ফলাফল ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে এই ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

আন্তঃবাহিনী নির্বাচন পর্ষদ (আইএসএসবি) পরীক্ষা
লিখিত পরীক্ষায় যোগ্য প্রার্থীদের ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত আইএসএসবির কাছে পরীক্ষা বা সাক্ষাৎকারের জন্য নির্ধারিত তারিখে উপস্থিত হতে হবে। পরীক্ষা বা সাক্ষাৎকারের তারিখ আইএসএসবির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এই পরীক্ষা চার দিনে সম্পন্ন হবে এবং যাবতীয় ব্যয় সরকার কর্তৃক বহন করা হবে।

চূড়ান্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা
আইএসএসবি পরীক্ষার পরে প্রার্থীদের চূড়ান্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।

চূড়ান্ত নির্বাচন এবং যোগদান নির্দেশিকা প্রদান
স্বাস্থ্য পরীক্ষায় চূড়ান্ত যোগ্যতা অর্জন সাপেক্ষে প্রার্থীদের সেনাসদর, এজির শাখা (পিএ পরিদপ্তর) কর্তৃক চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থী ঘোষণা এবং পরবর্তী সময়ে যোগদান নির্দেশিকা প্রদান করা হবে।

বিএমএ প্রশিক্ষণ
চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের বিএমএতে তিন বছরের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। বিএমএতে প্রশিক্ষণের সময়ে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করবেন (ব্যাচেলর অব সোস্যাল সায়েন্স ইন সিকিউরিটি

স্টাডিজ)। প্রশিক্ষণ শেষে কমিশন্ড অফিসার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন (সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট)।

সুযোগ–সুবিধা
সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সশস্ত্র বাহিনীর বেতনক্রম অনুযায়ী অফিসার ক্যাডেটরা বেতন ও ভাতা প্রাপ্ত হবেন। পরবর্তী সময়ে কমিশন্ড অফিসার হিসেবে প্রযোজ্য বেতন ভাতা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধা প্রাপ্ত হবেন। প্রশিক্ষণের বিভিন্ন পর্যায়ে এবং কমিশন প্রাপ্তির পর মেধাবী ক্যাডেট এবং অফিসারদের প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশে গমনের সুযোগ পাবেন। নির্বাচিত কমিশনপ্রাপ্ত অফিসাররা পরবর্তী সময়ে এমআইএসটি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি লাভের সুযোগ পাবেন। এ ছাড়া ব্যক্তিগত যোগ্যতার ভিত্তিতে স্নাতকোত্তর, এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাবেন।

নিরাপদ ও মনোরম পরিবেশে মানসম্পন্ন সুসজ্জিত বাসস্থান প্রাপ্তির সুযোগ পাবেন। সামরিক হাসপাতালগুলোতে উন্নতমানের চিকিত্সাসুবিধা ও দূরারোগ্য ব্যাধিতে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে বিধি মোতাবেক নগদ অর্থ প্রদানসহ বিদেশে সুচিকিৎসার সুযোগ পাবেন। নিজ সন্তানদের জন্য ক্যাডেট কলেজ, আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ, মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিউইপি) এবং সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত স্কুল বা কলেজে অধ্যয়নের সুযোগ পাবেন।

বিশেষ নির্দেশনা

চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের বিএমএতে যোগদানের পূর্বে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রস্তুত করতে হবে।

সামরিক মৌলিক প্রশিক্ষণের প্রয়োজনে প্রার্থীদের বিএমএতে যোগদানের পূর্বে সাঁতার শিখতে হবে।

ক্যাডেট কলেজ, বিএনসিসি বা এমসিএসকের ক্যাডেটদের স্ব স্ব কলেজ বা রেজিমেন্টের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।

আবেদনের শেষ তারিখ: ৭ অক্টোবর ২০২২।

বিস্তারিত তথ্য এই লিংকে জানা যাবে।