শিরোনাম
দিনাজপুরের স্বপ্নপূরীতে জবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, আহত ১২
সাকিবুল ইসলাম, জবিঃ দিনাজপুর স্বপ্নপুরীতে একাডেমিক ফিল্ড ওয়ার্কে গিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থীরা হামলার শিকার হয়েছে। পার্কে কর্মরত স্টাফ কর্তৃক এক নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার জেরে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এঘটনায় এক শিক্ষক সহ অন্তত ১২ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।
রোববার (১২ মার্চ) সন্ধ্যায় দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার কুশদহ ইউনিয়নে অবস্থিত ‘স্বপ্নপুরী’ পার্কের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। আহত ১২ জন শিক্ষার্থীরর মধ্যে দুই শিক্ষার্থীর মাথা ফেটেছে ও এক শিক্ষারথীার পা ভেঙেছে। আহত শিক্ষার্থীরা দিনাজপুরের এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
জানা গেছে, পার্কে রাইডের সময় জগ্ননাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ব্যাগ রেখে চলে আসে। পরবর্তীতে সেই ব্যাগটি আরেক বান্ধবী ফেরত আনতে গেলে সেখানে কর্মরত স্টাফরা ওই নারী শিক্ষার্থীর সাথে খারাপ ও অসৌজন্যমূলক কথাবার্তা বলে। এ নিয়ে ওই নারী শিক্ষার্থীর অন্য বন্ধুরা প্রতিবাদ করলে স্টাফরা জড়ো হয়ে লাঠি-সোঠা, রড নিয়ে শিক্ষার্থীদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।
ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শ্রেয়সী শিকদার বলেন, আমাদের ১৪ তম আবর্তনের শিক্ষার্থীরা বিভাগের ফিল্ডওয়ার্কের কাজে দিনাজপুরের স্বপ্নপুরীতে আসি। সেখানে রাইডে কর্মরত এক ছেলে আমাদের এক বান্ধবীকে ব্যাগ ফেরত আনার সময় টিজ করলে শিক্ষার্থীরা ক্ষীপ্ত হয়। পরে তারা হঠাৎ করে জড়ো হয়ে লাঠি-সোঠা, রড নিয়ে আমাদের ওপর আক্রমণ চালায়। আমাদের অনেক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। আহতদের নিয়ে আমরা এখন দিনাজপুর মেডিকেলে আছি।
ঘটনাস্থলে থাকা ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মহিউদ্দিন বলেন, বিভাগের ফিল্ডওয়ার্কের জন্যে আমরা স্বপ্নপূরীতে যাই। সেখানে রাইডের একজন ছেলে আমাদের একজন ছাত্রীকে উত্তক্ত করলে তাদের সাথে শিক্ষার্থীদের বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে অতর্কিতভাবে তারা রড ও লাঠি দিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর আঘাত করে। আমাদের প্রায় ১২ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। দুইজন শিক্ষার্থীর মাথা ফেটেছে ও তার মধ্যে একজনের হাতও ভেঙেছে। আহত শিক্ষার্থীদের আমরা দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তি করেছি।
এবিষয়ে স্বপ্নপুরী পার্কের স্বত্বাধিকারী ও দিনাজপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন বলেন, এক শিক্ষার্থী ব্যাগ রেখে চলে যায়। পরবর্তীতে আরেক শিক্ষার্থী ফেরত নিতে আসলে স্টাফরা ব্যাগের আসল মালিককে আসতে বলে। আসল মালিক এসে ব্যাগ ফেরত নেয়। কিন্তু আগের জনকে কেনো ব্যাগ ফেরত দেয়া হলো না এ নিয়ে শিক্ষার্থীরা ঝামেলা তৈরি করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর নিউটন হাওলাদার বলেন, ‘আমি ঘটনাটি শোনার পরপরই ওখানকার ওসির সাথে কথা বলেছি। তিনি বিষয়টির সমাধান করবেন বলে জানিয়েছেন। আমরা আরও খোঁজ-খবর নিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করছি।'
এবিষয়ে জানতে চাইলে নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: ফেরদৌস ওয়াহিদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘শিক্ষকসহ শিক্ষার্থীরা থানায় আছেন। মামলার কাজ চলছে। অভিযুক্তরা পুলিশ হেফাজতে আছে।'
জাবিতে নিরাপদ হলসহ ১০ দফা দাবিতে ছাত্রীদের মিছিল
জাবি প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) নিরাপদ হলের দাবিতে মিছিল ও মানববন্ধন করেছে ছাত্রী হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। আজ রবিবার (১২ মার্চ) রাত সাড়ে ৯ টায় মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের খালেদা জিয়া হল থেকে শুরু হয়ে বেগম সুফিয়া কামাল হলের সামনে এসে শেষ হয়।
এ সময় বাঁচার মতো বাঁচতে চাই, নিরাপদ হল চাই, প্রশাসনের নীরবতা মানি না, মানবা না, আমার বোন হ্যারেজড কেন? প্রশাসন জবাব চাই স্লোগান দিতে দেখা যায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের।
এ সময় ছাত্রীরা ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো ২৪ ঘন্টার মধ্যে দোষী ব্যক্তিকে শনাক্ত করে হাজির করতে হবে, দেওয়ালের উচ্চতা মিনিমাম ১০ ফুট বাড়াতে হাবে, হাইওয়ে ফেইসিং সিসিটিভি লাগাতে হবে এবং সবসময় মনিটরিং এর জন্য ১ বা দুইজন লোক রাখতে হবে, চারপাশের মাটি ভরাট করতে হবে এবং ফ্লাড লাইট লাগাতে হবে, গার্ডের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করতে হবে, নিচতলায় প্রতিটি জানালায় কেসিং লাগাতে হবে, হল এটেন্ডেন্ট পিছনেও রাখতে হবে, দুইজন হল সুপারের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে, নিচতলার ডাইনিং ও গণরুমের জানলায় পর্দা নিশ্চিত করতে হবে, নিরপেক্ষ জবাবদিহিতা চাওয়ার অধিকার শিক্ষার্থীদের থাকতে হবে।
যে দাবি গুলো ২৪ ঘন্টার মধ্যে পূরণ করা সম্ভব সেগুলো অবশ্যই পূরণ করতে হবে। যেগুলো ২৪ ঘন্টার মধ্যে পূরণ করা সম্ভব নয় গুলোর উদ্দ্যোগ নিতে হবে। দাবী না মানলে কঠোর পদক্ষেপ নিব বলে হুশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা।
উল্লেখ্য, রবিবার (১২ মার্চ) ভোর সাড়ে চারটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হল, শেখ হাসিনা হল ও খালেদা জিয়া হলে ঢুকে ছাত্রীদের অশ্লীল ও অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালিসহ, হলের জানালার কাঁচ ভাংচুর ও চুরির চেষ্টা চালায় অজ্ঞাত পরিচয়ের এক যুবক।
নোটিশে অনাবাসিকদের 'অবৈধ অনুপ্রবেশকারী' আখ্যা, প্রভোস্টকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি
যবিপ্রবি প্রতিনিধি: যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শেখ হাসিনা ছাত্রী হলে ছাত্রীদের মৌলিক অধিকার খর্ব, হল নোটিশে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনাবাসিক ছাত্রীদের 'অবৈধ অনুপ্রবেশকারী' আখ্যা দেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে যবিপ্রবির ছাত্রীরা।
রবিবার (১২ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইকেল মধুসূদন দত্ত কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার কাম একাডেমিক ভবনের সামনে ‘যবিপ্রবির শেখ হাসিনা হলের অনাবাসিক ও আবাসিক ছাত্রীদের দ্বারা অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে' প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবি করেন। এতে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।
জানা যায়, গত ০৭ ই মার্চ ছাত্রী হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শিরিন নিগার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,"এতদ্বারা যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনাবাসিক ছাত্রীদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, হল অফিস ব্যতিত কোন অনাবাসিক ছাত্রী পূর্ব অনুমতি ব্যতিত শেখ হাসিনা ছাত্রী হলের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারবে না। এরূপ অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে এবং এরূপ অনুপ্রবেশকারীর সাথে সংশ্লিষ্ট আবাসিক ছাত্রীর আবাসিক সিটটিও বাতিল করা হবে।’ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের অনাবাসিক ও আবাসিক শিক্ষার্থীদের মাঝে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়, নানারকম আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে।।শনিবার (১১ মার্চ) প্রতিবাদের অংশ হিসেবে মানববন্ধন করে যবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা।পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার( ১২ মার্চ) উক্ত বিজ্ঞপ্তিটি বাতিল করে 'জরুরি বিজ্ঞপ্তি' দেয় হল প্রভোস্টের কার্যালয়।
বিজ্ঞপ্তে বলা হয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ছাত্রীদের জন্য বর্তমানে একটি মাত্র আবাসিক হল চালু থাকায় তাঁদের পূর্ণাঙ্গ আবাসিক সুবিধা নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে বর্তমানে চালুকৃত একমাত্র ছাত্রী হল, শেখ হাসিনা ছাত্রী হলে নানা সময়ে অনেক অনাবাসিক ছাত্রীদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও প্রাত্যহিক বিভিন্ন সুবিধার জন্য যেতে হয়। তবে গত ০৪.০৩.২০২৩ খ্রি. তারিখে শেখ হাসিনা ছাত্রী হলে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় হলের আবাসিক কিছু ছাত্রী অনাবাসিক ছাত্রীদের হলে প্রবেশের বিষয়ে আপত্তি তোলেন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে, হল প্রশাসন অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের হলে প্রবেশের বিষয়ে নোটিশ জারি করে। নোটিশ জারির পর সকলের সুচিন্তিত মতামত প্রকাশের ধরণে হল প্রশাসন মনে করে, এটি অধিকাংশ ছাত্রীর ‘ঐক্যবদ্ধ মতামত’ ছিল না। এ প্রেক্ষিতে শেখ হাসিনা ছাত্রী হলে যবিপ্রবির অনাবাসিক ছাত্রীদের প্রবেশ সংক্রান্ত নোটিশটি বাতিল করা হলো। আশা করি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পারস্পারিক শ্রদ্ধা, মর্যাদা ও স্নেহের সম্পর্ক পূর্ণরূপে বজায় থাকবে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহনকারী এক অনাবাসিক ছাত্রী বলেন, একজন অনাবাসিক ছাত্রীকে নানা প্রয়োজনে হলে যাওয়া লাগতেই পারে। এর জন্য যদি হল প্রশাসনের কাছে অনুমতি নিতে হয় তাহলে এরচেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না। আর আমি হল প্রশাসনের কাছে জানতে চাই কেন আমাদেরকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বলা হলো যেখানে আমরা পরিচয়পত্র সংগ্রহ করি ছাত্রী হল থেকে।এই কথাটির উপযুক্ত ব্যাখ্যা তিনি দিবেন এবং এটির জন্য যেন তিনি ক্ষমা চান।
আরেক শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন সুচী বলেন , একজন প্রভোস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের কিভাবে 'অবৈধ অনুপ্রবেশকারী' বলে অ্যাখ্যায়িত করে, এর সঠিক জবাব উনাকে দিতে হবে।অন্যথায় উনাকে পদত্যাগ করতে হবে। কোন ক্ষমতাবলে তিনি এমন বলেছেন। আমাদের প্রথম দিনের মানববন্ধনের পর উনি নোটিশটি বাতিল করেছেন কিন্তু উনি এই 'অবৈধ অনুপ্রবেশকারী' কথাটির সঠিক ব্যাখ্যা দেননি৷সঠিক জবাব না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের দাবি অটল থাকবে।
এবিষয়ে শেখ হাসিনা ছাত্রী হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. শিরিন নিগার বলেন,বিভিন্ন সময়ে আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়ে থাকি রুম থেকে জিনিস চুরি হচ্ছে,পরীক্ষার সময়ে আবাসিক ছাত্রীদের রুমে এসে অন্য মেয়েরা গল্প করে এতে পরীক্ষার্থীদের ডিস্টার্ব হয়।এছাড়া নতুন শিক্ষার্থী আসায় আমাদের সিট সংখ্যা কম থাকায় টিভি ও রিডিং রুমে তাঁদেরকে রাখতে হচ্ছে সবমিলিয়ে পড়াশোনায় একটা ঝামেলা হয়। গত জেনারেল মিটিংয়ে কিছু ছাত্রীর এসকল অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হল কর্তৃপক্ষ থেকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিলো।
তিনি আরো বলেন, 'অবৈধ অনুপ্রবেশকারী' শব্দের আগে নোটিশে বলা হয়েছে পূর্ব অনুমতি ব্যতিত কোনো অনাবাসিক শিক্ষার্থী হলের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারবেনা। আগে তো বুঝতে হবে কথাটা কি? তবেই না বোঝা যাবে। তাঁরা তো আমার কাছে এসে বলতে পারতো ম্যাম এইটা শুনতে খারাপ লাগছে, আমি চেঞ্জ করে দিতাম। তাঁরা কোনো মৌখিক বা লিখিত অভিযোগ দেয়নি। পদত্যাগ দাবীর প্রশ্নে তিনি বলেন, তাঁদের(ছাত্রীদের) দাবি যৌক্তিক হলে আমি পদত্যাগ করবো।
ইবি সায়েন্স ক্লাবের 'ট্রেজার হান্টের' চ্যাম্পিয়ন ফার্মেসি বিভাগ
মোস্তাক মোর্শেদ, ইবিঃ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) প্রথম বারের মতো আয়োজিত “সাইন্স অলিম্পিয়াড ও ট্রেজার হান্ট” প্রতিযোগিতায় ট্রেজার হান্ট ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ফার্মেসি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের টিম Met-A-Four.
রবিবার (১২ মার্চ) সাড়ে ৯ টায় ইবি সায়েন্স ক্লাবের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ১৪০ নং কক্ষে আয়োজিত প্রতিযোগিতাটি দুইটি ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত হয়। ট্রেজার হান্ট ক্যাটাগরিতে মোট ১০ টি টিমের মধ্য থেকে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে ফার্মেসি বিভাগের এই টিমটি। চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য ছিলেন উম্মে হাবিবা মাহিম, রেহনুমা রহমান সৃষ্টি, জারিন ফেরদৌস অবনী এবং ইয়াছিন ইমন।
এর আগে, প্রোগ্রামে সায়েন্স অলিম্পিয়াড ক্যাটাগরিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সহ কুষ্টিয়া ঝিনাইদহ ও ক্যাম্পাস সংলগ্ন স্কুল ও কলেজের প্রায় সহস্রাধীক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছেন।
উক্ত প্রোগ্রামে সায়েন্স ক্লাবের সভাপতি শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সায়েন্স ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শাহাজাহান আলী। এসময় প্রতিযোগীদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন অধ্যাপক ড. শাহজাহান আলী
চ্যাম্পিয়ন দলনেতা ফার্মেসি বিভাগের উম্মে হাবিবা মাহিম বলেন, সত্যি বলতে আমি এ ধরনের প্রতিযোগিতায় খুব কমই অংশগ্রহণ করেছি। যখন শুনলাম এই ইভেন্টের ব্যাপারে,হঠাৎ করেই আমরা চারজন সিদ্ধান্ত নিলাম সাহস করে যে,করি। যা হবার হবে। আত্নবিশ্বাস ছিল শুন্যের কোঠায়, তবে ১০টা দলের মধ্যে যখন প্রথমে সিলেক্ট হলাম,ধীরে ধীরে আশা করতে শুরু করলাম। খেলার শুরুতে মনোবল থাকলেও যখন বার বার আটকে যাচ্ছিলাম, ভাবছিলাম শেষ রক্ষা কি হলনা তবে! কিন্তু যখন খুঁজে পেলাম ট্রেজার, সে মুহুর্তের অনুভূতি আসলে ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না।
উল্লেখ্য, ট্রেজার হান্টে রেজিষ্ট্রেশন করা ৪৩ টি টিমের মধ্য থেকে ১০ টি টিমকে পরীক্ষার মাধ্যমে মূলপর্বে সুযোগ দেয়া হয়। মূলপর্বে মোট ১০ টি টাস্ক সবার আগে সম্পন্নকারী দলকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়।
৫০০ জনকে আসামি করে রাবি প্রশাসনের মামলা
রাবি প্রতিনিধিঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ৫০০জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রোববার (১২ মার্চ) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবদুস সালাম বাদী হয়ে নগরীর মতিহার থানায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার পর তসলিম আলী ওরফে পিটার (৪৫) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুর বাজারের বাসের চেইন মাস্টার। নগরীর খোজাপুর এলাকায় তাঁর বাসা।
মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, সংঘর্ষের জন্য বাসের চেইন মাস্টার তসলিমের বড় ভূমিকা আছে। মামলা হওয়ার পরে বিনোদপুর থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংঘর্ষে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হবে।
এর আগে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় বাসের ভেতর এক রাবি শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা-কাটাকাটির জের ধরে সহপাঠীরা বিনোদপুর বাজারে চালক ও হেলপারকে মারধর করেন। বাস থেকে পেটাতে পেটাতে চালককে নামিয়ে মারধর করা হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এতে বাধা দিলে তাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিরোধ লেগে যায়। এরপর রাতভর দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এদিকে ব্যবসায়ীদের ইট-পাটকেলে অন্তত ২০০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এই ঘটনায় আজ সকালেও শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছেন। উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তারকে অবরুদ্ধ করে তাঁরা বিক্ষোভ করেছেন।
দুপুরের পর থেকে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও উত্তেজনা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ বেশ কিছু দাবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তুলে ধরেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও তাদের শান্ত থাকার আহবান জানিয়েছে।
সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কিছুসংখ্যক এলাকাবাসীর যে অপ্রীতিকর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মর্মাহত। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।
এতে উল্লেখ করা হয়, শনিবার সন্ধ্যায় বিনোদপুর গেট সংলগ্ন স্থানীয়রা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় এবং এতে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়। ঘটনার এক পর্যায়ে পুলিশ রাবার বুলেট নিক্ষেপ করার ফলে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এলাকাবাসী ও পুলিশের কতিপয় সদস্যের এসব কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আহত শিক্ষার্থীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ চিকিৎসার সকল ব্যয়ভার বহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা কর্তৃপক্ষের কাছে যেসব দাবি উত্থাপন করেছে, সে বিষয়ে উপাচার্য সংবেদনশীল এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতিমধ্যে স্থানীয় মতিহার থানায় এ ব্যাপারে একটি মামলা দায়ের করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সকল শিক্ষার্থী বিনোদপুর ও আশপাশের মেসে অবস্থান করছে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তৎপর আছে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাবি প্রশাসন মেস মালিক ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে। কর্তৃপক্ষ মনে করে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ। তাদের পরামর্শ ও সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। অতীতে এ রকম পরিস্থিতিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভূমিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় ঐতিহ্যের অংশ হয়ে আছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বর্তমান এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের শান্ত থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য