ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩
 
শিরোনাম

ইউজিসির তত্ত্বাবধানে যেভাবে কার্যকর হবে সাত কলেজের সমন্বিত কাঠামো

নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ মার্চ, ২০২৫ ১৩:৫০
নিজস্ব প্রতিবেদক
ইউজিসির তত্ত্বাবধানে যেভাবে কার্যকর হবে সাত কলেজের সমন্বিত কাঠামো

বাঙলা কলেজ প্রতিনিধি: কয়েক মাসের টানা আন্দোলন আর ২৬শে জানুয়ারি রাতভর তীব্র সংঘর্ষের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাত কলেজকে আলাদা করার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয়টির কর্তৃপক্ষ। এই সাতটি কলেজের সমন্বয়ে পৃথক একটি বিশ্ববিদ্যালয় করার পরিকল্পনাও করছে সরকার। সেই বিশ্ববিদ্যালয় না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তত্ত্বাবধানে একটি সমন্বিত কাঠামোর অধীন চলবে এই সাত কলেজের কার্যক্রম।

সমন্বিত কাঠামোর পরিচালক হিসেবে কাজ করবেন এই সাত কলেজের যেকোনো একজন অধ্যক্ষ। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর, ভর্তি দপ্তর, রেজিস্ট্রার দপ্তর এবং হিসাব দপ্তরের প্রতিনিধিরাও থাকবেন।

গত ২ মার্চের এক চিঠিতে ইউজিসির এমন সুপারিশ বাস্তবায়ন করার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে অনুরোধ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সরকারি কলেজগুলোকে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রথম দফায় রাজধানীর এই সাত কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়।

এই সাত সরকারি কলেজ হলো ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ। এই কলেজগুলোতে শিক্ষার্থীসংখ্যা প্রায় দুই লাখের কাছাকাছি। শিক্ষক এক হাজারের কিছু বেশি।

অধিভুক্তির পর থেকেই সময়মতো পরীক্ষা না হওয়া, মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ না থাকা, নিয়মিত ক্লাস না হওয়া, ফলাফল বিপর্যয়, পরিক্ষায় খাতার অবমূল্যায়নসহ আরো নানা ইস্যুতে তীব্র অসন্তোষ আছে শিক্ষার্থীদের মাঝে। দীর্ঘ সাত বছর পার হলেও এসব সমস্যার কোনো সুরাহা হয়নি। ফলে বারবার আন্দোলনে নামতে হয়েছে এই সাতটি কলেজের শিক্ষার্থীদের।

সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সাত কলেজের চলতি ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে তাদের অধীনে ভর্তি না করার সিদ্ধান্ত নেয়। এমন সিদ্ধান্তের ফলে চলতি শিক্ষাবর্ষের ভর্তির কার্যক্রম জটিলতার মুখে পড়ে। এরই মধ্যে এই সাত কলেজের জন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার পরিকল্পনা নেয় সরকার, যার রূপরেখা নিয়ে কাজ করছে ইউজিসি। বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের লক্ষ্যে সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নাম প্রস্তাবের আহ্বান করেছে সংস্থাটি।

তবে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা যেহেতু সময়সাপেক্ষ ব্যাপার, সেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী ব্যবস্থায় এই সাত কলেজ কীভাবে চলবে তার একটি রূপরেখার প্রস্তাব করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে ইউজিসি। যেটি বাস্তবায়নের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছে মন্ত্রণালয়।

ইউজিসির সুপারিশপত্রে বলা হয়েছে, যেসব শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন চলমান শিক্ষা কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বর্তমান ব্যবস্থাই চালু রাখবে। আর ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের যাবতীয় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে চলবে। একটি সনদপ্রাপ্ত পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় বা সমকক্ষ প্রতিষ্ঠান না হওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে এ কাঠামোর অধীন চলবে এই সাত কলেজের কাজ। এই কাঠামোর কার্যক্রম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরে হবে। এ ক্ষেত্রে এই কাঠামোর পরিচালক হিসেবে যে কলেজের অধ্যক্ষ কাজ করবেন, সেই কলেজে এই কাঠামোর কার্যালয় হবে। কাঠামোর অধীন সব হিসাব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাদা ব্যাংক হিসাবে পরিচালিত হবে।

এ কাঠামোর রূপটি কেমন হবে, সেটিরও প্রস্তাব করে দিয়েছে ইউজিসি। এতে বলা হয়েছে, এই কাঠামোয় ইউজিসির একজন সদস্যের নেতৃত্বে নজরদারি সংস্থা থাকবে। এই নজরদারি সংস্থায় পরিচালক হিসেবে থাকবেন এই সাত কলেজের মনোনীত যোগ্য ও প্রশাসনিক কাজে অভিজ্ঞ একজন অধ্যক্ষ।

ইউজিসি বলছে, এই কাঠামোয় শিক্ষার্থীসংক্রান্ত প্রশাসনিক কার্যক্রমের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরের প্রতিনিধি থাকবেন। এ ছাড়া পরীক্ষা ও হিসাবসংক্রান্ত কাজের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ও হিসাব বিভাগের প্রতিনিধিরা থাকবেন। আর ভর্তির জন্য থাকবেন অনলাইন ভর্তি কমিটি।

প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটে জরুরি ভিত্তিতে অনুমোদন নিতে হবে। এ ছাড়া সাত কলেজের ভর্তি, পরীক্ষা ও অন্য কার্যক্রমের তথ্য আদান-প্রদানের জন্য নিজ নিজ কলেজের অধ্যক্ষের নিয়ন্ত্রণে ‘হেল্প ডেস্ক’ থাকবে। ইউজিসি এই কাঠামোর বিষয়ে সময়ে সময়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবে।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    বউ বলেছে অস্কার জিতলেই ৪র্থ সন্তানের বাবা হতে পারবে: অভিনেতা

    নিজস্ব প্রতিবেদক
    ৪ মার্চ, ২০২৫ ১৩:৩৬
    নিজস্ব প্রতিবেদক
    বউ বলেছে অস্কার জিতলেই ৪র্থ সন্তানের বাবা হতে পারবে: অভিনেতা

    ডেস্ক রিপোর্ট: লস অ্যাঞ্জেলসে ৯৭তম অ্যাকাডেমি পুরস্কারের মঞ্চে হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা কেইরান কালকিনে ‘আ রিয়াল পেইন’ ছবির জন্য সেরা সহ-অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন। আর মঞ্চে অস্কার হাতে নিয়ে বক্তৃতা দিতে গিয়েই তিনি যা বললেন, তাতে অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড-এর অনুষ্ঠানে সবাই হাসাহাসি করেছে।

    এদিন রবার্ট ডাউনি জুনিয়রের হাত থেকে পুরস্কার নিয়ে কেইরান কালকিনকে রসিকতা করে বলতে শোনা যায়, ‘হে ঈশ্বর, এটা দারুণ আমি জানতামও না অসংখ্য ধন্যবাদ। আমার কাছে এটা বড় প্রাপ্তি।’

    তিনি বলেন, ‘দাঁড়ান, আপনাদের সকলের সঙ্গে একটা কথা শেয়ার করি। জ্যাজের সঙ্গে আমার একটা চুক্তি হয়েছিল সন্তান নিয়ে সেটাই বলব। দয়া করে মিউজিক চালিয়ে দেবেন না কেউ। এক বছর আগে, আমি জ্যাজকে বলেছিলাম, আমার তৃতীয় সন্তান চাই।’

    তার কথায়, ‘ও আমাকে শর্ত দিয়েছিল যদি আমি এমি পুরস্কার জিতে ফিরি, তাহলেই সন্তান নিয়ে আসবে। ও ভাবেনি আমি জিততে পারি। সে যাই হোক! শো শেষের পর যখন পার্কিং লট দিয়ে যাচ্ছি তখন জ্যাজ আমাকে বলে- হে ঈশ্বর, আমি তোমাকে কথাটা বললাম, মানে এবার আমায় তৃতীয় সন্তান নিয়ে আসতে হবে।’

    শেষে বলেন, ‘আমি পালটা বলি, আমার চার নম্বর সন্তানও চাই। জ্যাজ আমাকে আবার শর্ত দেয় যে তুমি অস্কার জিতলেই আমি তোমাকে চতুর্থ সন্তান দেব।’

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      জবি শিক্ষার্থীর উপর যুবদল নেতার হা-মলা

      নিজস্ব প্রতিবেদক
      ৪ মার্চ, ২০২৫ ১২:৫১
      নিজস্ব প্রতিবেদক
      জবি শিক্ষার্থীর উপর যুবদল নেতার হা-মলা

      জবি প্রতিনিধি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১৮ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সম্রাটকে মারধর করেছে পুরান ঢাকার যুবদল নেতা শহীদুল্লাহ্। এসময় সম্রাটকে ছাড়িয়ে আনতে ঘটনাস্থলে গেলে ইতিহাস বিভাগের ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী হাবিবসহ দুইজনকে আটকে রাখে বলে অভিযোগ পাওয়া যায় স্থানীয় যুবদলের লোকজনের বিরুদ্ধে ।

      আজ(সোমবার) রাত ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে রাজধানীর ধোলাইখাল এলাকায় কথা কাটাকাটির জের ধরে এই ঘটনা ঘটে।

      প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সম্রাট ধোলাইখাল এলাকার একটি মার্কেটের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় ভুলক্রমে নির্মাণাধীন এক ঢালাইয়ের উপরে পা দেন। এতে স্থানীয় লোকজন এসে তাকে ধাক্কা দিলে সেও প্রতিহত করার চেষ্টা করে। এরপর স্থানীয় লোকজন মিলে এই শিক্ষার্থীকে মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তার সহপাঠীদের কল দিলে হাবিবসহ দুইজন ঘটনাস্থলে আসেন। এরপর স্থানীয় লোকজন হাবিবসহ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ শিক্ষার্থীকে মারধর করে আটক করে রাখে। পরে ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালে নেয়া হয়।

      সুত্রে জানা যায়, স্থানীয় লোকজনের মধ্যে কয়েকজন যুবদলের লোক ছিলো। তারা স্থানীয়দের নিয়ে শিক্ষার্থীদের মারধর করে। জানা যায়, যুবদল নেতার নাম শহিদুল হক শহীদ।তিনি নবাবপুর দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক।

      এদিকে এঘটনা ফেসবুকে ছাড়ানোর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একত্র হয়ে পুরান ঢাকার নবাবপুর এলাকার একটি ক্লাব ভাংচুর করে। এসময় রাত ১ টার দিকে ওয়ারী থানার পুলিশ আসে ঘটনাস্থলে।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        রাজশাহী কলেজে ফরম পূরণে বাড়তি টাকা আদায়ের অভিযোগ

        নিজস্ব প্রতিবেদক
        ৪ মার্চ, ২০২৫ ১২:১১
        নিজস্ব প্রতিবেদক
        রাজশাহী কলেজে ফরম পূরণে বাড়তি টাকা আদায়ের অভিযোগ

        কলেজ প্রতিনিধি: ‎জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত ‎রাজশাহী কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফরম পূরণের ফি'র পরিমাণ অন্যান্য সরকারি কলেজের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি নেওয়া হচ্ছে অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, ফরম পূরণে কলেজ প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত এমন অস্বাভাবিক ফি'র পরিমাণ পরিশোধ তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

        ‎কলেজ প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ৩ মার্চ থেকে ১৩ মার্চ পর্যন্ত ফরম পূরণ চলবে। পরদিন আরেকটি বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়ভিত্তিক ফি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। সেখানে দেখা যায়, রাজশাহী কলেজের প্রায় সবগুলো বিষয়ে ৭,৫৯১ টাকা থেকে ৯,১৭১ টাকা পর্যন্ত ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। ‎ ‎অন্যদিকে, রংপুর কারমাইকেল কলেজে একই কার্যক্রমের জন্য ফি ৪,২৭৫ থেকে ৪,৭৫০ টাকার মধ্যে রাখা হয়েছে। এছাড়া রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজেও ১,৮০০ থেকে ২,০০০ টাকা কম নেওয়া হচ্ছে। ‎ ‎এ বিষয়ে রাজশাহী কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ আব্দুল মাজেদ রাজশাহী কলেজের একটি ফেইসবুক গ্রুপে পোস্টের মাধ্যমে জানায়, রাজশাহী কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফরম ফিলাপের অস্বাভাবিক ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। যেটা পরিশোধ করতে গিয়ে আমাদের অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রীর জন্য খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার এবং কারো কারো ক্ষেত্রে এই অস্বাভাবিক ফি পরিশোধ করা একেবারেই অসম্ভব। তিনি এই অস্বাভাবিক ফি কমিয়ে শিক্ষার্থীবান্ধব ফি'র করার দাবি জানান।

        তিনি উল্লেখ করেন, সকল শিক্ষার্থীর উচিত কলেজ অধ্যক্ষ স্যার বরাবর একটি দরখাস্ত দেওয়া এবং সেই দরখাস্তে প্রত্যেক ডিপার্টমেন্টের অনার্স চতুর্থ বর্ষের স্টুডেন্টদের পক্ষ থেকে স্বাক্ষর নিশ্চিত করা।

        এ বিষয়ে রাজশাহী কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খালিদ বিন ওয়ালিদ (আবির) ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, রাজশাহী কলেজে অনেক অস্বচ্ছল পরিবারের মেধাবী ছেলে-মেয়ে লেখাপড়া করে। এখানে কারে বাবা কৃষক, কারো বাবা ভ্যান চালক, কারো বাবা শ্রমিক। ওছাড়াও শিক্ষার্থীদের মধ্যেও অনেকেই আছে যারা নিজে পরিশ্রম করে উপার্জন করে নিজের পড়াশোনার খরচ চালায়। কিন্তু কলেজ প্রশাসন ক্রমান্বয়ে ফরম পূরনের ফি বাড়িয়েই চলেছে।

        তিনি এই বিষয়ে কলেজ প্রশাসনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে ফরম পূরনের ফি কমানোর দাবি জানান।

        বাংলাদেশের ইসলামী ছাত্রশিবির রাজশাহী কলেজ শাখার সভাপতি মো: মাহমুদুল হাসান বলেন, দেশ সেরা রাজশাহী কলেজের অধিকাংশ মেধাবী শিক্ষার্থীরা নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে তাতে শিক্ষার্থীরা নানাভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

        এ বিষয়ে তিনি দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে ফরম পূরণের টাকার পরিমাণ কমিয়ে আনার বিষয়ে কলেজ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

        ‎ফরম পূরণের অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়ে রাজশাহী কলেজে অধ্যক্ষ প্রফেসর মু. যহুর আলীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, বিগত বছরের তুলনায় ফি কমই নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও অন্যান্য কলেজের তুলনা দেখানো হলে তিনি বলেন, অন্যান্য কলেজের সাথে তুলনা করে লাভ নেই আমাদের বিগত বছরের ফিস এর সাথে তুলনা করে দেখেন।

        এছাড়াও কোন কোন খাতে টাকা নেওয়া হচ্ছে বা অতিরিক্ত ফি আদায় করা হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি একটু বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, আপনার কাছে কি প্রমাণ আছে? তাছাড়া তিনি বলেন আপনি যেহেতু জানতে চেয়েছেন আমি খোঁজ নিয়ে একটু পর জানাচ্ছি। পরবর্তীতে জানানোর কথা বললেও তিনি আর কোন ফোন করেননি।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          কুবির ক্যাফেটেরিয়ায় পচা ও বাসি ইফতার বিক্রয়ের অভিযোগ

          নিজস্ব প্রতিবেদক
          ৩ মার্চ, ২০২৫ ২২:২৭
          নিজস্ব প্রতিবেদক
          কুবির ক্যাফেটেরিয়ায় পচা ও বাসি ইফতার বিক্রয়ের অভিযোগ

          কুবি প্রতিনিধি: পবিত্র রমজানে পচা ও বাসি ইফতার সামগ্রী বিক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার বিরুদ্ধে। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে পোকাযুক্ত ও বাসি খাবার পরিবেশন করে সমালোচনায় ছিল এ কাফেটেরিয়া।

          আজ সোমবার (৩রা মার্চ) বিকেল ৫ টায় আজহার ও শাহাআলম নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী কাফেটেরিয়া থেকে ছোলা বুট কিনে সেগুলো পচা ও বাসি খাবার ছিল বলে অভিযোগ করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী প্রক্টরও এর সত্যতা খুঁজে পান।

          খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইফতার করার উদ্দেশ্যে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থী কাফেটেরিয়া থেকে ছোলা বুট ক্রয় করে নেন। পরবর্তীতে পচা ও বাসি হওয়ায় তারা সেগুলো ফেরত দিতে এসে কেনো এ ধরনের খাবার বিক্রি করা হয় তা ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালক (মান্নু মজুমদারের অনুপস্থিতিতে) শরীফের কাছে জানতে চান। এরমধ্যে ক্যাফেটেরিয়ায় কর্মরত কর্মচারীরা একেকজন একেকরকম বক্তব্য দিতে থাকেন। এসময় তাদের পরস্পরের কথার মধ্যে সামঞ্জস্য না থাকায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন শিক্ষার্থীরা।

          এছাড়াও প্রতিনিয়তই ক্যাফেটেরিয়ার বিরুদ্ধে ভেজাল ও নিম্নমানের খাবার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে শিক্ষর্থীদের। তাদের অভিযোগ, কয়েক দিনের রান্না পচা-বাসি কোন খাবারও ফেলে দেয়া হয় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তারা সেখানে খাবার নিতে গেলে তাদের জন্য আলাদা করে ভালো খাবার রাখা হয়। অপরদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা গেলে তাদের দেয়া হচ্ছে এসব পচা ও বাসি খাবার। এছাড়াও শনিবারে ট্যুরিস্টদের জন্য বিশেষভাবে ক্যাফেটেরিয়া খোলা রাখলেও শিক্ষার্থীদের জন্য বন্ধ থাকে কাফেটেরিয়া।

          এবিষয়ে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের আবাসিক শিক্ষার্থী শাহাআলম বলেন, ইফতারের জন্য আমরা ক্যাফেটেরিয়া থেকে ৬০ টাকার বুট কিনি। যেটা পঁচা ও বাসি ছিল। খাবারগুলো আজকের ছিলোনা। কিন্তু কর্মচারীরা সেটি মানতে নারাজ। শুক্রবার ও শনিবার শিক্ষার্থীদের জন্য বন্ধ থাকলেও ট্যাুরিস্টদের জন্য কাফেটেরিয়া খোলা থাকে। আমরা চাই এ ক্যাফেটেরিয়া যারা বর্তমান পরিচালনা করছে তাদের রদবদলের মাধ্যমে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হোক। পাশাপাশি শিক্ষকরাও মনিটরিং করলে ভালো চলবে বলে মনে করি।

          ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, গতকালের কিছু অবশিষ্ট বুট ছিল। বাসি খাবার কেন বিক্রি করা হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, বুটগুলো ভালো ছিল তাই প্যাকেট করা হয়েছিলো। খারাপ হলে আমরা বিত্রি করতাম না। তবে আজকেও ইফতারের পর বিশাল অংশ বুট অবশিষ্ট থেকে যায়। এ বুট কি আগামীকাল বিক্রি করা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি সরিয়ে নিয়ে বলেন এগুলা আর বিক্রি করা হবে না।

          শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পেয়ে দেখতে আসেন ক্যাফেটারিয়ার পরিচালক কমিটির সদস্য সচিব ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. দলিলুর রহমান ও সহকারী প্রক্টর মাহমুদুল হাসান। মো. দলিলুর রহমান বলেন, আমরা সরেজমিনে এসে খাবারটি বাসি পেয়েছি। অতিরিক্ত কিছু ছোলা বুট ছিল যা আগামীকাল ব্যবহার করতে পারে বলে আমরা এগুলাকে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছি। এ বিষয়ে আমাদের পরিচালনা কমিটিতে যারা রয়েছে তাদেরকে নিয়ে আগামীকাল বসে ক্যাফেটেরিয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিব। অতি দ্রুত টেন্ডারের মাধ্যমে ক্যাফেটেরিয়ার দায়িত্ব পরিবর্তন করা হবে।

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত