ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

চট্টগ্রাম বন্দর আশপাশের দেশগুলোর অর্থনীতির জন্যও হৃৎপিণ্ডস্বরূপ : প্রধান উপদেষ্টা

অনলাইন ডেস্ক
১৪ মে, ২০২৫ ১৬:১৮
অনলাইন ডেস্ক
চট্টগ্রাম বন্দর আশপাশের দেশগুলোর অর্থনীতির জন্যও হৃৎপিণ্ডস্বরূপ : প্রধান উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, চট্টগ্রাম বন্দর শুধু বাংলাদেশের নয়, আশপাশের দেশগুলোর অর্থনীতির জন্যও হৃৎপিণ্ডস্বরূপ। এই বন্দর ব্যবহারের সুযোগ পেলে নেপাল, ভুটান এমনকি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্যও (সেভেন সিস্টার্স) লাভবান হবে।

বুধবার (১৪ মে) সকালে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) ৫ নম্বর ইয়ার্ড পরিদর্শনের সময় বন্দর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এই বন্দর কেবল বাংলাদেশের হৃৎপিণ্ড নয়, বরং তা হয়ে উঠতে পারে এই অঞ্চলের দেশগুলোর জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল। তাই নেপাল, ভুটান কিংবা সেভেন সিস্টার্স— সবার জন্য এটি একটাই হৃৎপিণ্ড। নেপালের তো সমুদ্রবন্দর নেই, আমাদের এই হৃৎপিণ্ডের মাধ্যমে তাদের চলতে হবে। আমরা সেই সংযোগ তৈরি করতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘হৃৎপিণ্ডে যুক্ত হলে শুধু তারা নয়, আমরাও উপকৃত হবো। এটি কোনো দয়াদাক্ষিণ্য নয়, পারস্পরিক লাভের বিষয়। যারা এই সংযোগ থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন রাখবে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা চাই সবাই মিলে এই বন্দর থেকে শক্তি গ্রহণ করুক, যেনো অর্থনীতির গতি বাড়ে।’

চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে নিজের শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, ‘এই বন্দর আমার জন্য অপরিচিত কিছু নয়। ছোটবেলায় এখানে বড় হয়েছি, ছাত্রাবস্থায়ও এসেছি জাহাজ দেখতে। তখন দেখতাম, জাহাজ থেকে শ্রমিকেরা কাঁধে করে মাল তুলছে। পরে ক্রেন এলো। সেই পর্যায় পেরিয়ে আজকের আধুনিক বন্দরে রূপ নিয়েছে চট্টগ্রাম।’

তবে বন্দরের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘সবকিছু পাল্টে গেলেও বন্দরের পরিবর্তন কেন এত ধীরগতি? এটা নতুন প্রশ্ন নয়। চট্টগ্রামবাসী হিসেবে অনেকবার এই ভোগান্তি দেখেছি। রাস্তায় যানজট, ট্রাক ঠাসা, মাল খালাসে বিলম্ব, ট্রেন মিস— এসব সমস্যা পুরনো। এসব ভেবে আগেও লেখালেখি করেছি, এবার দায়িত্বে এসে শুরু থেকেই নজর দিচ্ছি, কীভাবে বন্দরের কার্যকারিতা বাড়ানো যায়।’

বাংলাদেশের অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরই হলো আমাদের ভরসার জায়গা। এটিকে উপেক্ষা করে দেশের অর্থনীতির নতুন অধ্যায়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এই পথ খুলে দিলে অর্থনীতির পথও খুলে যাবে। না খুললে যত চেষ্টা করি, উন্নতির স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে।’

মন্তব্য

সম্পদের তথ্য গোপন মামলায় জোবাইদা রহমানের হাইকোর্টে জামিন

অনলাইন ডেস্ক
১৪ মে, ২০২৫ ১২:৯
অনলাইন ডেস্ক
সম্পদের তথ্য গোপন মামলায় জোবাইদা রহমানের হাইকোর্টে জামিন

সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী জোবাইদা রহমানকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে সাজার বিরুদ্ধে জোবাইদা রহমানের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন আদালত।

বুধবার (১৪ মে) বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে জোবাইদা রহমানের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মাকসুদ উল্লাহ, অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন।

এর আগে, মঙ্গলবার (১৩ মে) তিন বছরের কারাদণ্ডের আপিলের জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী জোবাইদা রহমানকে ৫৮৭ দিনের বিলম্ব মার্জনা করেন হাইকোর্ট।  

জোবাইদা রহমানের আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তারেক রহমান, জোবাইদা রহমান ও তার মা সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে রাজধানীর কাফরুল থানায় মামলা করে দুদক।

মামলার বিচার শেষে ২০২৩ সালের ২ আগস্ট জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় তারেক রহমানকে দুটি অভিযোগে নয় বছর ও তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের তৎকালীন বিচারক মো. আছাদুজ্জামান। রায়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইন ২০০৪- এর ২৬(২) ধারায় তারেক রহমানকে তিন বছর ও ২৭(১) ধারায় ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া তাকে তিন কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

জোবাইদা রহমানকে ২৭(১) ধারায় তিন বছর কারাদণ্ড দেন। তাকেও জরিমানা করা হয়েছে ৩৫ লাখ টাকা।

এদিকে গত বছরের শেষের দিকে এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জোবাইদা রহমানের সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করে সরকার। সেই গেজেটে বলা বলা হয়, ডা. জোবাইদা রহমানের সাজা স্থগিতের বিষয়ে দাখিল করা আবেদন এবং আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইন ও বিচার বিভাগের মতামতের আলোকে ২২ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপন (১০ অক্টোবর, ২০২৪ ইং তারিখের বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত) সংশোধনপূর্বক আইনের ক্ষমতাবলে মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত, ঢাকা এর মেট্রো বিশেষ মামলা নং-৩৪১/২০২২ [কাফরুল থানার মামলা নং-৫২, তারিখ-২৬-০৯-২০০৭] -এ তার বিরুদ্ধে প্রদত্ত দণ্ডাদেশ আদালতে আপিল দায়েরের নিমিত্ত বিনাশর্তে ১ (এক) বছরের জন্য স্থগিত করা হলো।

মন্তব্য

আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করায় মন খারাপ ভারতের

অনলাইন ডেস্ক
১৩ মে, ২০২৫ ২০:২৫
অনলাইন ডেস্ক
আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করায় মন খারাপ ভারতের

বাংলাদেশে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাংবাদিক সম্মেলনে এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, কোনো উপযুক্ত পদ্ধতি অনুসরণ না করেই আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ একটি উদ্বেগজনক ঘটনা।

তিনি বলেন, (বাংলাদেশে) গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা যেভাবে খর্ব করা হচ্ছে এবং রাজনৈতিক পরিসর (পলিটিক্যাল স্পেস) সঙ্কুচিত হয়ে আসছে তাতে একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারত স্বভাবতই উদ্বিগ্ন বোধ করছে।

একই সঙ্গে বাংলাদেশে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন আয়োজন করার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেছে ভারত।

রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, বাংলাদেশে দ্রুত একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক (ইনক্লুসিভ) নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিকে আমরা জোরালো সমর্থন জানাই।

প্রসঙ্গত, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগের সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এর ফলে ‘আওয়ামী লীগ’ নামে দলটির নেতাকর্মীরা বাংলাদেশে আর রাজনীতি করতে পারবেন না।

শুধু তাই নয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনে দলটির বিচার হবে। এ বিচারের আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ এবং তাদের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে। 

ওইদিন একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। এতে কোনো রাজনৈতিক দল, তার অঙ্গ-সংগঠন বা সমর্থকগোষ্ঠীকে শাস্তি দিতে পারবেন ট্রাইব্যুনাল। 

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধন প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়।

রাইজিং ক্যাম্পাস/আরকেএস

মন্তব্য

ব্যাটারি রিকশা বন্ধে ওয়ার্কশপ ও চার্জিং পয়েন্ট বন্ধ করা হবে

অনলাইন ডেস্ক
১৩ মে, ২০২৫ ১৯:৪১
অনলাইন ডেস্ক
ব্যাটারি রিকশা বন্ধে ওয়ার্কশপ ও চার্জিং পয়েন্ট বন্ধ করা হবে

রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধে এসব রিকশার ওয়ার্কশপ ও চার্জিং পয়েন্ট বন্ধ করা হবে বলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ জানিয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আসাদগেট এলাকায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও ডিএনসিসির ব্যাটারিচালিত অবৈধ রিকশার বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান পরিচালনাকালে এ কথা বলেন তিনি। 

প্রশাসক বলেন, 'ঢাকার মূলসড়কে কোনো রিকশা চলাচল করতে পারবে না। রিকশা চলাচল করবে অভ্যন্তরের সড়কে। ব্যাটারিচালিত অবৈধ রিকশাগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ডেসকোর সহয়তায় এসব রিকশার চার্জিং পয়েন্ট ও উৎপাদনের ওয়ার্কশপগুলো বন্ধ করা হবে।'

তিনি বলেন, 'সমীক্ষায় দেখা গেছে ২০ শতাংশ দুর্ঘটনা এই ব্যাটারিচালিত রিকশার কারণে হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নারী ও শিশুরা। এগুলো কোনো নীতিমালা বা যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়নি। প্রায়ই দেখা যায় পথচারীদের উপর রিকশা উঠে যাচ্ছে, অনিয়ন্ত্রিত গতির কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।' 

ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ও সড়কে গণপরিবহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে। বুয়েটের সহায়তায় ইতোমধ্যে ব্যাটারিচালিত নিরাপদ রিকশার নকশা প্রস্তুত করে কয়েকটি কোম্পানিকে প্রস্তুতের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

মোহাম্মদ এজাজ বলেন, 'এ মাসের মধ্যে ডিএনসিসি রিকশা চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে। প্রশিক্ষণ শেষে উত্তীর্ণরা বৈধ লাইসেন্স পাবেন এবং অনুমোদিত কোম্পানির তৈরি রিকশা শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় চালাতে পারবে।'

তবে, এক এলাকার বৈধ রিকশা অন্য এলাকায় যেতে পারবে না এবং যাত্রী ভোগান্তি কমাতে ভাড়া নির্ধারিত থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।  

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, 'একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে একটি রিকশার লাইসেন্স দেওয়া হবে। চলমান রিকশা বাণিজ্য বন্ধ করা হবে।' 

আজকের অভিযানে মূলসড়কে চলাচলরত প্রায় ১০০টির বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়।  

মন্তব্য

এনবিআর বিলুপ্তির কারণ কি? যা জানালো সরকার

অনলাইন ডেস্ক
১৩ মে, ২০২৫ ১৯:০
অনলাইন ডেস্ক
এনবিআর বিলুপ্তির কারণ কি? যা জানালো সরকার

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি বড় কাঠামোগত সংস্কার ঘোষণা করেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলুপ্ত করে রাজস্ব খাতকে দুটি পৃথক বিভাগে ভাগ করে রাজস্ব নীতি বিভাগ এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। দক্ষতা উন্নত করা, স্বার্থের দ্বন্দ্ব হ্রাস করা এবং দেশের কর ভিত্তি সম্প্রসারণ করা, কর প্রশাসন থেকে কর নীতি নির্ধারণকে পৃথক করার লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ মে) বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবের পাঠানো এক বার্তায় তা জানানো হয়েছে।

বার্তায় বলা হয়, ৫০ বছরেরও বেশি সময় আগে প্রতিষ্ঠিত এনবিআর ধারাবাহিকভাবে তার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত প্রায় ৭.৪%, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বনিম্ন। বিশ্বব্যাপী গড় ১৬.৬%, যেখানে মালয়েশিয়ার ১১.৬%। জনগণের উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা অর্জনের জন্য, বাংলাদেশকে অবশ্যই তার কর-জিডিপি অনুপাত কমপক্ষে ১০% এ উন্নীত করতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য এনবিআর পুনর্গঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর নীতি প্রণয়ন এবং তা কার্যকর করার জন্য একটি একক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নেওয়া উচিত নয়— এই ধরনের ব্যবস্থা স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি করে এবং অদক্ষতা বৃদ্ধি করে। বছরের পর বছর ধরে, বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে আসছে যে নীতিমালাগুলো প্রায়শই ন্যায্যতা, প্রবৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার চেয়ে রাজস্ব সংগ্রহকে অগ্রাধিকার দেয়।

আরও বলা হয়, এই পুনর্গঠন কেবল একটি আমলাতান্ত্রিক রদবদল নয়। এটি একটি ন্যায্য, আরও সক্ষম কর ব্যবস্থা গড়ে তোলার দিকে একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। বাংলাদেশের সব নাগরিকের চাহিদা পূরণ এবং তাদের আশা বাস্তবায়নের জন্য নীতি নির্ধারণ এবং পরিচ্ছন্ন কর প্রশাসন শক্তিশালী করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দীর্ঘদিন ধরে চলমান বেশ কিছু সমস্যা এনবিআরকে জর্জরিত করেছে বলে উল্লেখ্য করা হয়।

স্বার্থের দ্বন্দ্ব

নীতি নির্ধারণ এবং প্রয়োগ উভয়কেই এক ছাদের নিচে রাখার ফলে কর নীতির সঙ্গে আপস এবং ব্যাপক অনিয়মের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান ব্যবস্থায়, কর আদায়ের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কোনো জবাবদিহিতা কাঠামোর আওতায় নেই এবং প্রায়শই জনস্বার্থের সঙ্গে আপস করে কর খেলাপিদের কাছ থেকে অর্থ প্রদানের জন্য আলোচনা করতে সক্ষম হন। অনেক ক্ষেত্রে, কর আদায়কারীরা কর ফাঁকি দাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এবং ব্যক্তিগত স্বার্থে তাদের তা করতে সহায়তা করতে অনিচ্ছুক। কর আদায়কারীদের কর্মক্ষমতা বস্তুনিষ্ঠভাবে পরিমাপ করার জন্য কোনো ব্যবস্থা এবং প্রক্রিয়া নেই। তাদের কর্মজীবনের অগ্রগতি পরিমাপযোগ্য কর্মক্ষমতা সূচকের সঙ্গে যুক্ত করা হয়নি।

অদক্ষ রাজস্ব সংগ্রহ

দ্বৈত আদেশ নীতি প্রণয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি উভয়ের উপরই মনোযোগ কমিয়ে দিয়েছে। ফলস্বরূপ, করের জাল সংকীর্ণ রয়ে গেছে। রাজস্ব আদায় সম্ভাবনার তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে।

দুর্বল শাসনব্যবস্থা

এনবিআর অসংগত প্রয়োগ, দুর্বল বিনিয়োগ সুবিধা এবং পদ্ধতিগত শাসন সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছে। যার সবকটিই বিনিয়োগকারীদের আস্থা হ্রাস করেছে। আইনের শাসনকে দুর্বল করে দিয়েছে।

আমলাতান্ত্রিক ওভারল্যাপ

বিদ্যমান কাঠামো—যেখানে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের প্রধানও এনবিআরের নেতৃত্ব দেন- বিভ্রান্তি এবং অদক্ষতা তৈরি করেছে, কার্যকর কর নীতি নকশা এবং প্রদানকে ব্যাহত করেছে।

নৈতিকতা হ্রাস এবং অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা

সংস্কার প্রক্রিয়া অভিজ্ঞ কর ও শুল্ক কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। যাদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন যে, তাদের পাশে রাখা হতে পারে বা উপেক্ষা করা হতে পারে।

পুনর্গঠন কীভাবে সাহায্য করবে

নতুন কাঠামোটি একটি পরিষ্কার, আরও জবাবদিহিমূলক কাঠামোর মাধ্যমে এই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যাগুলো মোকাবিলা করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

দায়িত্বের স্পষ্ট বিভাগ

রাজস্ব নীতি বিভাগ কর আইন প্রণয়ন, হার নির্ধারণ এবং আন্তর্জাতিক কর চুক্তি পরিচালনার জন্য দায়ী থাকবে। রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ প্রয়োগ, নিরীক্ষা এবং সম্মতি তত্ত্বাবধান করবে। এই পৃথকীকরণ নিশ্চিত করে যে, কর আদায়কারী কর্মকর্তারা কর আদায়কারীদের মতো নন, যা যেকোনো ধরনের যোগসাজশের সুযোগ দূর করে।

উন্নত দক্ষতা এবং শাসনব্যবস্থা

প্রতিটি বিভাগকে তার মূল আদেশের ওপর মনোনিবেশ করার অনুমতি দিয়ে সংস্কারটি বিশেষীকরণ বৃদ্ধি করবে, স্বার্থের দ্বন্দ্ব হ্রাস করবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক অখণ্ডতা উন্নত করবে।

সম্প্রসারিত কর ভিত্তি এবং শক্তিশালী প্রত্যক্ষ কর ব্যবস্থা

এ সংস্কার করের জাল সম্প্রসারণ করবে। পরোক্ষ করের ওপর নির্ভরতা হ্রাস করবে এবং দক্ষ পেশাদারদের উপযুক্ত ভূমিকায় নিয়োগ করে প্রত্যক্ষ কর আদায়কে শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উন্নত, আরও উন্নয়নমুখী নীতি

একটি নিবেদিতপ্রাণ নীতি ইউনিট কেবলমাত্র স্বল্পমেয়াদি রাজস্ব লক্ষ্য দ্বারা পরিচালিত প্রতিক্রিয়াশীল নীতির পরিবর্তে প্রমাণ-ভিত্তিক, ভবিষ্যতমুখী কর কৌশল তৈরি করতে পারে।

বৃহত্তর বিনিয়োগকারীদের আস্থা

স্বচ্ছ, পূর্বাভাসযোগ্য নীতি এবং একটি পেশাদার কর প্রশাসন বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে এবং বেসরকারি খাত থেকে অভিযোগ কমাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদ
    সর্বাধিক পঠিত