ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

বাকৃবি সাংবাদিকের উপর হামলায় সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নিন্দা ও প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ নভেম্বর, ২০২৩ ১৯:৪৩
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাকৃবি সাংবাদিকের উপর হামলায় সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নিন্দা ও প্রতিবাদ

বাকৃবি প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (বাকৃবিসাস) সভাপতি ও দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি আশিকুর রহমানের ওপর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকদের সংগঠন। পাশাপাশি জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এসব সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।

বাকৃবিসাস সভাপতির উপর ছাত্রলীগের হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (জাবিসাস), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (চবিসাস), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (রাবিসাস), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টাস ইউনিটি, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব (শাবি প্রেসক্লাব), কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (কুবিসাস), কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (জাককানইবিসাস), জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (সিকৃবিসাস), হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (হাবিপ্রবিসাস), পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (যবিপ্রবিসাস), কবি নজরুল সরকারি কলেজ সাংবাদিক সমিতি, চুয়েট সাংবাদিক সমিতি এবং স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক ফোরাম।

 গুগল নিউজে ফলো করুন দ্যা রাইজিং ক্যাম্পাস

বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দরা বলেন, গণমাধ্যমের বরাতে আমরা জানতে পেরেছি গত মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল জব্বার মোড়ে অবস্থিত সজীব হোটেলে সাংবাদিক আশিকুর রহমানের অর্ডার করা খাবার ছাত্রলীগ নেতা শাহীনুর রেজা জোরপূর্বক নিয়ে যান। এ বিষয়ে আশিকুর রহমান দোকানির সঙ্গে কথা বলতে গেলে পেছন থেকে শাহীনুর ও সৌরভ ওই সাংবাদিকের ওপর অতর্কিত হামলা করেন। এসময় তাকে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি মারতে মারতে সড়কে নিয়ে যান হামলাকারীরা। যার প্রমাণ সিসিটিভি ফুটেজ থেকেই স্পষ্ট হয়েছে।

এছাড়াও জানা গেছে, অভিযুক্ত শাহীনুর রেজা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসানের অনুসারী এবং শামসুল হক হল ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি। এর আগেও তার বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, নিরাপত্তাকর্মীকে মারধরসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। আগের ঘটনাগুলোর তদন্ত কমিটি হলেও এখন পর্যন্ত কোনো বিচার হয়নি। বিচারহীনতার এ সংস্কৃতি অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে।

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দরা বিবৃতিতে আরও বলেন, ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ কর্তৃক দেশের অধিকাংশ ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো এখন নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। কারণে অকারণে বিভিন্ন ইস্যু তৈরি করে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়ে দমিয়ে রাখার অপচেষ্টা করছে ছাত্রলীগ। ক্যাম্পাসে সাংবাদিক এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসনের। আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করছি যে, বেশিরভাগ ক্যাম্পাসে প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।

এছাড়াও বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের প্রতি এসব চিহ্নিত অপরাধীদের ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের আহ্বান জানান সাংবাদিক নেতৃবৃন্দরা।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    জবি স্বাধীনতা শিক্ষক সমাজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক নূর মোহাম্মাদ

    নিজস্ব প্রতিবেদক
    ২৬ নভেম্বর, ২০২৩ ১৬:২০
    নিজস্ব প্রতিবেদক
    জবি স্বাধীনতা শিক্ষক সমাজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক নূর মোহাম্মাদ

    জবি প্রতিনিধি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন স্বাধীনতা শিক্ষক সমাজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে গ্রহণ করেছেন অধ্যাপক ড. নূর মোহাম্মাদ। তিনি মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক।

    বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) স্বাধীনতা-শিক্ষক সমাজের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. কাজী নাসির উদ্দিন এর সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়েছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীনতা-শিক্ষক সমাজের সভাপতির পদটি শূন্য হওয়ায় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী কমিটি গঠন না হওয়া পর্যন্ত সংগঠনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. নূর মোহাম্মাদ সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

    এর আগে গত নভেম্বর সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক হোসনে আরা জলি সহ তিনজন জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক স্বাধীনতা শিক্ষক সমাজ থেকে অব্যাহতি নিয়ে নীল দলের আরেকটি অংশে যোগ দেন। এতে সভাপতির পদটি শূন্য হয়।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      ইবি ছাত্রলীগ সভাপতির অর্থ লেনদেনের কন্ঠসদৃশ অডিও ভাইরাল

      নিজস্ব প্রতিবেদক
      ২৪ নভেম্বর, ২০২৩ ২২:৩০
      নিজস্ব প্রতিবেদক
      ইবি ছাত্রলীগ সভাপতির অর্থ লেনদেনের কন্ঠসদৃশ অডিও ভাইরাল

      ইবি প্রতিনিধি : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পরিবহন পুলের ড্রাইভার নিয়োগে অর্থ লেনদেনে ইবি ছাত্রলীগ সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাতের 'কণ্ঠসদৃশ' কথোপকথনের দুটি রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি এই কথোপকথনে নিজের সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেছেন।

      গত বুধবার সন্ধ্যায় সানজিদা আক্তার তানিয়া নামক ফেসবুক আইডি থেকে ৪ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের একটি এবং বৃহস্পতিবার রাতে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস নামক পেজ থেকে ৩ মিনিট ১২ সেকেন্ডের আরেকটি অডিও ছড়িয়ে পরে। রেকর্ডকৃত ওই কথোপকথনে মিলন ড্রাইভারের নিয়োগ, নিয়োগের দেড় মাসেও চুক্তিকৃত ২০ লখ টাকা পেতে বিলম্ব হওয়া, নিয়োগের সাথে শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে।

      কথোপকথনে ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাতের কণ্ঠসদৃশ ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ১ মাস সময় নিয়ে ৩ তারিখের কথা বলে আজ ১৫ তারিখ অর্থাৎ দেড় মাস হয়ে গেল। কি করবে না করবে সেটা তো আমার দেখার বিষয় না; আমার দেখার বিষয়? মাগুরা আমার এক ভাই আছে ওকে দিলে ২৫ লাখ টাকা পেতাম আমি। ওই ভাই টাকা নিয়ে বসেছিল, ওই যে আমার বিপুল আছে, চেয়ে নিতে যাবো কেন আমি! এক একজন ২০ লাখ টাকা খুশি হয়ে দিত। ওর চাকরির জন্য হাবিবুরের চাকরি হলো না; হাবিবুর তো আমার ভাগ্নে।

      কথোপকথনে তাকে আরও বলতে শোনা যায়, হেলপারের চাকরির জন্য ২০ লাখ টাকা দিতে চায়, এতো ড্রাইভার! ওতো গাড়ি চালাতেই পারে না, গাড়ির টায়ার পর্যন্ত চেনে না ও। বিকেলে ভিতরে এসে প্রতিদিন গাড়ি চালানো শিখছে; তাহলে সে লোকের তো একটা বিবেক থাকা উচিত! কয় আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি, হেন-তেন সাত সতেরো! ওর তো একটা বিবেক হওয়া উচিত, উচিত না?

      আমি তো একদম সাইলেন্ট হয়ে আছি। তাহলে ওতো হিসাব-নিকাশ ক্লিয়ার করবে। ও ১০ বা ২০ হাজার কম দিবে আরও কম দিক; আমার তো কম নীতি সমস্যা নেই। জয় (সাধারণ সম্পাদক ইবি শাখা ছাত্রলীগ), জয়ের বুঝটা পেয়ে গেছে, পেয়ে যায়নি? দুইটার একটা পেয়ে গেছে। জয় আমাকে বললো ভাই মিলন আপনার আত্মীয় মানুষ আপনার বাড়ির পাশে, যায় হোক না হোক আপনি মিলনের সাথে বুঝে নেন গা।

      জয় ঐটা থেকে আমাকে কিছুই দেইনি। আর জয় যদি এতক্ষন না পেত তাহলে ও তো পাগলা কুত্তার মত হয়ে যেত। জয়ের কী এখন কোন জ্বালা আছে! ওর তো কোন জ্বালা নেই। ওরটা ও পুরোটাই পেয়ে গেছে; মানে সিন্ডিকেটের ৩ তারিখ, ৩ তারিখ বিকালেই পেয়ে গেছে। মানে এখন থেকে দেড় মাস হয়ে গেল; দেড় মাস আগেই নিয়ে নিছে। আর মিলনেরটা আমার উপর দিয়ে দিছে। এবার আমার আম ছালা সব ডুকেছে। এখন ওর চাকরিই যদি না থাকে তাহলে তো......

      ইবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করে বলেন, এই ঘটনার সাথে আমার বিন্দু পরিমাণ সংশ্লিষ্টতা নেই। কেউ যদি প্রমাণ করতে পারে যে চিনির দানা পরিমাণ কিছু আমি পাইছি তবে আমি আমার পদ ছেড়ে চলে যাব। নির্বাচনের সামনে আমার চরিত্র হননের জন্য কেউ ভুয়া আইডি থেকে এসব করতেছে। আমি নিজেও খোঁজ নিচ্ছি এর পেছনে কে আছে। আমি চাই সত্য ঘটনা বেরিয়ে আসুক। আমি নিজেও যদি দোষী হই তবে আমি শাস্তি পেতে রাজি আছি। আমি এখন ক্যাম্পাসের বাহিরে আছি। আমি ক্যাম্পাসে গিয়ে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

      এদিকে বৃহস্পতিবার 'ইসলামিক ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস' নামক আরেক পেজে ছাত্রলীগ সভাপতির টাকা লেনদেনের আরেকটি কন্ঠসদৃশ অডিও জনসম্মুখে আসে।

      এ বিষয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত ডাইভার মিলনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছি। আমার যোগ্যতায় আমার চাকরি হয়েছে। এখানে কোন প্রকার আর্থিক লেনদেনের সংশ্লিষ্টতা নেই। কে বা কারা এ বিষয়টি রটিয়েছে তা আমার জানা নেই।

      এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জয় বলেন, বিষয়টি যেভাবে এসেছে তার কোন সত্যতা নেই। এটা এডিটও হতে পারে অথবা কর্তৃপক্ষের নোংরা ষড়যন্ত্রও হতে পারে। সামনে জাতীয় নির্বাচন তাই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসের পরিবেশ নষ্ট করার একটি পায়তারা

      এ বিষয়ে ইবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, একজন ড্রাইভার কয় টাকা বেতন পাবে সেইখানে ২০ লাখ টাকা! এই টাকা দিয়ে তো একটা গাড়ি কেনা যায়। এ বিষয়ে মিলন ড্রাইভার এবং আরাফাতকে জিজ্ঞেস করেন। এ সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না।

      কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম পান্থ বলেন, সত্যতা যাচাই-বাছাই করতে হবে সেটা পরের হিসেব। কিন্তু এই বিষয়ে যদি সত্যতা থেকে থাকে তাহলে শুধু এই ব্যাপারে না যেকোনো ব্যাপারেই কোন অপরাধীর জায়গা ছাত্রলীগে নেই। সে যদি ছাত্রলীগের পোস্টেড কেউ হয় বা যে কেউ হোক না কেন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        ক্যান্টিনে বসাকে কেন্দ্র করে রাবি ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

        নিজস্ব প্রতিবেদক
        ২৪ নভেম্বর, ২০২৩ ২০:৫৩
        নিজস্ব প্রতিবেদক
        ক্যান্টিনে বসাকে কেন্দ্র করে রাবি ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

        রাবি প্রতিনিধি : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) হলের ক্যান্টিনে বসাকে কেন্দ্র করে দুই শিক্ষার্থীকে কক্ষে গিয়ে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ ভাস্কর সাহার বিরুদ্ধে। শুক্রবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতিহার হলের ক্যান্টিনে এ ঘটনা ঘটে।

        মারধরের শিকার দুই শিক্ষার্থী জাহিদ ও মাহফুজুর রহমান রিফাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে রিফাত মতিহার হল ছাত্রলীগের উপ-গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক। রিফাত শাখা ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত নেতা সাকিবুল হাসান বাকির অনুসারী বলে জানা গেছে।

        এরপর বিকেলে শাখা ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত নেতা সাকিবুল হাসান বাকিসহ তার সঙ্গে থাকা বেশ কয়েকজনের উপর হামলা চালায় রাবি ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ভাস্কর সাহার নেতৃত্বে তার অনুসারীরা।

        অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা ভাস্কর সাহা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লা-হিল-গালিবের অনুসারী।

        এ প্রসঙ্গে সাকিবুল হাসান বাকি বলেন, "মতিহার হলে আমার তিন জন ছোট ভাইকে ভাস্কর সাহা মারধর করে। ওরা আমার সাথে সম্মেলন করেছিল, তাই বারবার ফোন দিচ্ছিল। আমরা ছোট ভাইদের নিয়ে বিকেলে পরিবহণে বসেছিলাম। এমন সময় ভাস্করের নেতৃত্বে তার অনুসারীরা আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। আমাদের সবার অভিভাবক খায়রুজ্জামান লিটন চাচা রাজশাহীতে নেই। উনি আসার পর এ বিষয়ে আমরা তার কাছে অভিযোগ জানাব।"

        প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ক্যান্টিনে খাবার খেতে গিয়ে জায়গায় ফাঁকা পেয়ে খেতে বসেন জাহিদ। খাবারের এক পর্যায়ে ভাস্কর সাহার এক কর্মী এসে জাহিদকে বলে এটা তার জায়গা। কিন্তু জাহিদ তাকে অন্য জায়গায় বসতে বলায় তাদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে খাওয়া শেষ করে জাহিদ তার বন্ধু রিফাতের ১২৯ নং রুমে যান। পরে সেখানে ভাস্করের সাহার নেতৃত্ব কয়েকজন ওই রুমে ঢুকে তাদের দুজনকেই মারধর করেন।

        হামলার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ভাস্কর সাহাকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি।

        বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লা-হিল-গালিব বলেন, "ক্যাম্পাসের মতিহার হলের খাবার টেবিলে বসা নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত হয়। আমি জানতে পেরে আমার সভাপতিকে জানাই। কিন্তু তারা অপেক্ষা না করে ছাত্রলীগের হল শাখা সেক্রেটারির গায়ে হাত তুলেন। তারপরেও সমস্যা সমাধান করার জন্য সভাপতি তাদেরকে বারবার কল দিয়ে মতিহার হলের গেস্ট রুমে আসার জন্য বলেন। আমরা প্রায় ৪৫ মিনিট বসে থাকার পরেও তারা না এসে উল্টো বলে তারা তাদের মতো ব্যবস্থা নিবে। তারপরে মতিহার হলের সেক্রেটারি ভাস্কর সাহা পরিবহনে দাড়ানো ছিল তখন বহিরাগত সন্ত্রাসীর এসে আবার ভাস্করের গায়ে হাত দেয়। পরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়।"

        এদিকে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের গৃহীত সুপারিশ এবং ৫২৫-তম সিন্ডিকেট সভা সূত্রে জানা যায়, মতিহার হলের আবাসিক শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ভাস্কর সাহাকে সতর্ক করা হয়।

        রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আবদুস সালাম স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, ভবিষ্যতে আইন শৃঙ্খলা পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ড করলে ভাস্কর সাহার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

        এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি। মতিহার হলের প্রাধ্যক্ষের সাথে কথা হয়েছে; তিনি ইতোমধ্যেই সেখানে পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছেন। কোনো শিক্ষার্থীকে মারধরের বিষয়টি প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে শাস্তি প্রদান করা হবে।

        ভাস্কর সাহার বিরুদ্ধে আগের অভিযোগগুলোর প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জানান, "আমরা তাকে সতর্ক করেছিলাম; মূলত যে শিক্ষার্থী অভিযোগটি করেছিল সে পরবর্তীতে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়ায় আমাদের পক্ষে তাকে শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।"

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          বেরোবিতে সড়ক অবরোধ করে বিতর্কমঞ্চ,অস্বস্তিতে শিক্ষার্থীরা

          নিজস্ব প্রতিবেদক
          ২৩ নভেম্বর, ২০২৩ ১৯:৭
          নিজস্ব প্রতিবেদক
          বেরোবিতে সড়ক অবরোধ করে বিতর্কমঞ্চ,অস্বস্তিতে শিক্ষার্থীরা

          বেরোবি প্রতিনিধি: রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ১নং গেইট প্রবেশপথে দেবদারু সড়ক অবরোধ করে রাস্তার মাঝে সাজানো হয়েছে আন্ত:বিভাগ সংসদীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতার বিতর্কমঞ্চ।এতে যাতায়াত ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থীরা।

          সরজমিনে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিত দেবদারু রোডে বিতর্কমঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে। সড়কটির পিছনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী ও ক্যাফেটেরিয়া থাকায় বর্তমানে শিক্ষার্থীদের উল্টো পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে।এতে করে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কড়া সমালোচনা করতে দেখা গেছে।

          জানা যায়,বিশ্ববিদ্যালয়টি ষোলো বছরে পদার্পণ করলেও এখন পর্যন্ত একটি অডিটোরিয়ামের দেখা মেলেনি।বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু থেকে কয়েক উপাচার্যের যাওয়া আসা হলেও কোনো উপাচার্যই একটি অডিটোরিয়ামের নিশ্চয়তা দিতে পারে নি।অডিটোরিয়াম না থাকায় খোলা মাঠেই শিক্ষার্থীদের প্রোগ্রাম করতে হয়।

          বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়,যুক্তির মিছিলে ভাঙ্গি মগজের কারফিউ স্লোগানকে সামনে রেখে প্রথমবারের মতো আন্তঃবিভাগ সংসদীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা আগামীকাল শুক্রবার ও শনিবার (২৪ ও ২৫ নভেম্বর) শুরু হতে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইশটি বিভাগকে এ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংগ্রহন করতে বলা হলেও ১৬ টি বিভাগ অংশ নিচ্ছে বিতর্ক প্রতিযোগিতায়।

          ভোগান্তির কথা বলতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাসুদ বলেন,বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ প্রোগ্রামগুলো ক্যাফেটেরিয়ার সামনে হয়। ক্যাফের সামনেই লাইব্রেরি।স্টুডেন্টরা লাইব্রেরিতে পড়তে পারে না। প্রোগ্রামগুলো স্বাধীনতা স্মারক এর সামনে হলে মনে হয় না কোন সমস্যা হবে। আজকে দেখি রাস্তা অবরোধ করে বিতর্ক মঞ্চ তৈরি করতেছে যা আমার কাছে ঠিক হয়নি বলে মনে হয়েছে।

          এ বিষয়ে কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী অনামিকার সাথে। তিনি বলেন,রাস্তায় বিতর্কমঞ্চ তৈরি না করে স্বাধীনতা স্বারক,কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে করলে ভালো হতো।এছাড়াও আমাদের অডিটোরিয়াম থাকলে আমাদের এমন সমস্যায় পড়তে হতো না।

          চারটি মাঠ থাকা সত্বেও রাস্তা অবরোধ করে বিতর্কমঞ্চ তৈরি করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে ডিবেট সোসাইটির চীফ মডারেটর সহযোগী অধ্যাপক উমর ফারুক বলেন, দেখুন আমি এ ব্যাপারে কোনো কথা বলতে চাই না বলেই ফোন কেটে দেন।

          এম কে পুলক আহমেদ

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত