শিরোনাম
বন্ধ হতে পারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
দেশে করোনা রোগী শনাক্তের হার বাড়ছে প্রতিদিন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ১৪৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। ১০৯ দিন পর শনাক্তের হার ৫ শতাংশকে অতিক্রম করলো। সর্বশেষ শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এখন প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু থাকবে কী-না।
শিক্ষামন্ত্রণালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, করোনা পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে আবারো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হবে। এর আগে এমন কথা বলেছেন খোদ শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
বৃহস্পতিবার গাজীপুরে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমাদের দেশে সংক্রমণের হার কম থাকলেও এখন তা বাড়ছে। বিশ্বব্যাপী অনেকগুলো দেশ, একবারে অনেক উন্নত দেশও করোনায় পর্যুদস্ত অবস্থা। আমাদের ঝুঁকি নেবার কোনো সুযোগ নেই।
মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতেই হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট অফিস নিয়মিতভাবে এ বিষয়টি দেখাশুনা করছে।
করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে বিধি-নিষেধ শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শুরু হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের গুজব। এ বিষয়ে সঙ্গে কথা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রণালয়ের জেষ্ঠ্য জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের। তিনিও গুজবের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, মন্ত্রণালয় এখনও এমন কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। যে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হলে অবশ্যই তা জানিয়ে দেয়া হবে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, অনেকেই এখন অনলাইন একটিভিস্ট ও ইউটিউব থেকে অর্থ উপার্জন করছেন। তারা সব সময়ই কিছু চমকপ্রদ নিউজ দিতে চায়। এই ধরণের ব্যক্তিরাই এমন তথ্য ছড়িয়ে থাকেন। এগুলো সবই বাণিজ্য। বিষয়গুলো আমরা মনিটরিং করছি। তবে যদি প্রয়োজন হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হবে। যেহেতু সারা বিশ্বেই ওমিক্রন বাড়ছে, নানা বিধি-নিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। আমাদের দেশেও সংক্রমণ বাড়লে স্কুল-কলেজ বন্ধ করা হবে।
সংক্রমণ বৃদ্ধির মধ্যেই ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার আওতায় আনতে শর্ত শিথিল করেছে সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২০০১ সালের পর জন্ম নেয়া শিশুর নিবন্ধন করার ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের জন্মনিবন্ধন নম্বর দিতে হবে না।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও জনসমাগম তৈরি করে এমন ধরণের প্রতিষ্ঠান এক মাস বন্ধ রাখার কথা বলেন। এ বিষয়ে অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এক মাসের জন্য বন্ধ রাখা যেতে পারে। সমাজে যেসব বিষয়ে জনসমাগম হয়ে থাকে সেসবও এক মাসের জন্য স্থগিত করে দেয়া উচিত।
দেশে ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম সন্তোষজনক উল্লেখ করে পরিস্থিতি সামাল দিতে গতি আরও বাড়ানোর পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
এর আগে জাতিসংঘ শিশু তহবিল বা ইউনিসেফের গত ২৪ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ দিন প্রাক্-প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তর পর্যন্ত চার কোটির বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরপর ১২ সেপ্টেম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হলেও এখনো শুরু হয়নি প্রাক্-প্রাথমিক ক্লাস কার্যক্রম।
করোনার কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ঘোষণা করে সরকার।এর ৫৪৪ দিন পর প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড মানবিকে আসন বাড়াতে ২৮ কলেজের আবেদন
কলেজের মানবিক বিভাগে মোট আসন ১৫০টি। এমন একটি কলেজ এবার রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে তাদের আসন দ্বিগুণ করার আবেদন করেছে। একইভাবে নামীদামি ২৮টি কলেজ আসন বাড়ানোর আবেদন করেছে। এদের মধ্যে দু–একটি বাদ দিয়ে সবাই মানবিক বিভাগের আসন বাড়ানোর আবেদন করেছে।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে আবেদনকারী কলেজগুলোর তথ্য থেকে জানা গেছে, মাধ্যমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান শাখার পড়াশোনার খরচ বেশি। গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীরা তাই বিজ্ঞান বাদ দিয়ে মানবিক বিভাগ নিয়ে পড়াশোনায় আগ্রহী। আর উচ্চবিত্ত পরিবার থেকে যেসব শিক্ষার্থী বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করছে, তারা শহরের প্রথম সারির কলেজগুলোতে ভর্তি হচ্ছে। এ জন্য মফস্বলের কলেজের বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হওয়ার জন্য শিক্ষার্থী মিলছে না।
বগুড়ার সরকারি শাহ্ এয়তেবাড়িয়া কলেজের মানবিক বিভাগে ১৫০টি আসন রয়েছে। তারা আরও ১৫০টি বাড়ানোর আবেদন করেছে। মানবিক বিভাগের আসন দ্বিগুণ করতে চাইছেন কেন, জানতে চাইলে অধ্যক্ষ ফারুক আহমেদ বলেন, এখানে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী বেশি পাওয়া যায়। বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা না হোক, মানবিক বিভাগে বেশি শিক্ষার্থী থাকলে কলেজটা গমগম করবে। এ জন্যই আবেদন করা হয়েছে।
কলেজের সক্ষমতা কেমন, জানতে চাইলে অধ্যক্ষ বলেন, শিক্ষকের স্বল্পতা আছে। ১৪ কর্মচারীর মধ্যে মাত্র ২ জন রয়েছেন। এখন কলেজে মোট শিক্ষার্থী ১৫৭ জন। তাদের সিংহভাগই মানবিক বিভাগের। বিজ্ঞান বিভাগে ১৫ জন ভর্তি হয়েছে। ক্লাস করে মাত্র ১১ জন।
বগুড়ার সৈয়দ আহম্মদ কলেজের মানবিক বিভাগে আসন ৪০০টি। এবার তারা আরও ২০০ আসন বাড়ানোর জন্য বোর্ডে আবেদন করেছে। জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ মো. সাইদুজ্জামান বলেন, নদী ভাঙন এলাকার দরিদ্র মানুষ এই ব্যয়ভার বহন করতে পারে না। এ জন্য বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনায় এলাকার শিক্ষার্থীদের আগ্রহ নেই। কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ২০০ আসন রয়েছে। শিক্ষার্থী আছে ১৬৮ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের অবস্থা আরও করুণ। কেন শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান বিভাগে পড়তে চাচ্ছে না, বুঝতে পারছেন না তিনি। মানবিক বিভাগে অনেক শিক্ষার্থী তাঁর কলেজে ভর্তি হতে এসে ফিরে যায়। আসন বাড়ানো হলে আরও শিক্ষার্থী এই কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবে, এ জন্য আবেদন করা হয়েছে।
নাটোরের এম কে কলেজের মানবিক বিভাগের আসন সংখ্যা ২৭৫। এই কলেজ থেকে আরও ১২৫টি আসন বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাক বলেন, তাঁর কলেজে বিজ্ঞান বিভাগের আসন খালিই থাকে। আর মানবিক বিভাগে ভর্তির জন্য খুব চাপ থাকে। এলাকার মানুষের চাহিদার কারণেই তিনি মানবিক বিভাগের আসন বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছেন। তা ছাড়া কলেজের আসন সংখ্যা ঠিকই আছে।
জানতে চাইলে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান বলেন, আবেদন করলেই তাঁরা আসন বাড়াতে পারবেন না। মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা পেলে ও যৌক্তিক কারণ থাকলেই শুধু আসন বাড়ানো হবে।
ঢাবিতে সমাবেশ বুধবার সেকেন্ড টাইমের দাবিতে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ দাবিতে আবারও সমাবেশের ডাক দিয়েছেন ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। আগামী বুধবার (১২ জানুয়ারি) এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
ঢাবিতে সেকেন্ড টাইমের দাবিতে আন্দোলনরত একাধিক শিক্ষার্থী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, আগামী বুধবার সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনের (টিএসসি) সামনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সমাবেশে সারাদেশ থেকে শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করবেন। এখান থেকেই তাদের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।
দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঢাবিতে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষার দাবি অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের বক্তব্যের পর। তবুও তারা শেষ পর্যন্ত দেখতে চান। বুধবারের সমাবেশে শিক্ষার্থী উপস্থিতি বেশি হলে পরবর্তীতে আরও বড় কর্মসূচি দেবেন তারা।
এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বর ঢাবিতে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। ওই সমাবেশ প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিলেন। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও শিক্ষার্থীরা সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন।
সমাবেশে এক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী বলেন, দেশের স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জনগনের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত হয়। তাহলে কর্তৃপক্ষ আমাদের দাবি কেন মানবে না। ‘শিক্ষার্থীরা যতবার চাইবে ততবার তাদের ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ দিতে হবে।’
প্রসঙ্গত, দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ রাখলে অনেক মেধাবী ছাত্র ঢাবিতে পড়ার সুযোগ পাবেন না- এ ধারণা থেকে ২০১৪ সালের ১৫ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করে। পরে ঢাবির এ সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তিচ্ছুরা তখন আন্দোলন করেছিলেন। এছাড়া এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে ২৬ জন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর অভিভাবক আদালতে রিটও করেছিলেন।
মাদরাসা-কারিগরির শিক্ষার্থীদের টিকা নিতে হবে ১৩ জানুয়ারির মধ্যে
দেশের সব মাদরাসা ও কারিগরির ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের আগামী ১৩ জানুয়ারির মধ্যে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের উপ-সচিব কাইজার মোহাম্মদ ফারারীর সই করা অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা যায়।
আদেশে বলা হয়, ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে কোভিড-১৯ টিকা নিয়ে ২০২২ শিক্ষাবর্ষে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের উদ্যোগে উপজেলা বা জেলা শিক্ষা অফিসার এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বা সিভিল সার্জনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে আগামী ১৩ জানুয়ারির মধ্যে নির্ধারতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে টিকা দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে।
দেশে আবারও ধীরে ধীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে টিকা ছাড়া ১২ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারবে না বলে সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
সারাদেশে গত ১ নভেম্বর ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের করোনাভাইরাসের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। ওইদিন এ টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। শিক্ষার্থীদের দেয়া হচ্ছে ফাইজারের টিকা।
মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয় সরকার। প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকার পর গত ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল-কলেজ খুললেও প্রতিদিন সব শ্রেণিতে পাঠদান হচ্ছে না।
একাদশে ভর্তির আবেদন শুরু
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন আজ শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে। এবারও ডিজিটাল পদ্ধতিতে লটারির মাধ্যমে কলেজ পাবে আবেদনকারীরা। আগে মোবাইলে এসএমএসে আবেদনের সুযোগ থাকলেও এবার শুধুমাত্র অনলাইনে ভর্তির আবেদন করতে হবে। দুই মাস ভর্তি কার্যক্রম শেষে আগামী ২ মার্চ একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে।
জানা যায়, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে রোডম্যাপ তৈরি করেছে। আবেদনে শিক্ষার্থীরা সর্বনিম্ন পাঁচটি ও সর্বোচ্চ ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচন করবে। এছাড়াও ভর্তির জন্য তিন ধাপে মেধা তালিকা প্রকাশ করা হবে। আবেদনের জন্য ভর্তির ওয়েবসাইটে xiclassadmission.gov.bd পাওয়া যাবে সব তথ্য।
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা বলছেন, এবার প্রায় ২১ লাখ শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাস করেছে। এতো বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত আসন আছে কি না এ নিয়েও তাদের মনে রয়েছে সংশয়। তবে কলেজ সংশ্লিষ্টরা জানান, সব শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার পরও প্রায় ৫ লাখ আসন খালি থাকবে।
ঢাকা শিক্ষাবোর্ড থেকে জানা যায়, ৩০ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীদের সিলেকশন নিশ্চয়ন করতে হবে। সিলেকশন নিশ্চয়ন না করলে তাকে পুনরায় ফিসহ আবেদন করতে হবে। ৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় পর্যায়ের আবেদন নেওয়া হবে। পছন্দক্রম অনুযায়ী প্রথম মাইগ্রেশনের ফল এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের আবেদনের ফল প্রকাশ করা হবে ১০ ফেব্রুয়ারি। ১১-১২ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের সিলেকশন নিশ্চয়ন করতে হবে। এ সময়ের মধ্যে সিলেকশন নিশ্চয়ন না করলে আবেদন বাতিল হবে। ১৩ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় পর্যায়ের আবেদন নিয়ে পছন্দক্রম অনুযায়ী দ্বিতীয় মাইগ্রেশনের ফল এবং তৃতীয় পর্যায়ের আবেদনের ফল প্রকাশ করা হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি। তৃতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি সিলেকশন নিশ্চয়ন করতে হবে। এ সময়ের মধ্যে সিলেকশন নিশ্চয়ন না করলে আবেদন বাতিল হবে।
যারা আবেদন করতে পারবে ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে যারা এসএসসি পাস করেছে তারা আবেদন করতে পারবে। তবে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থীরা ২২ বছর বয়সেও আবেদন করতে পারবে। আর যেসব শিক্ষার্থী এসএসসি ও দাখিলের ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করবে তারা ১৫ জানুয়ারির মধ্যে আবেদন করলেও ফল পরিবর্তনকারীরা ২২ ও ২৩ জানুয়ারি আবেদন করতে পারবে। ২৪ জানুয়ারি পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হবে। আর ২৯ জানুয়ারি প্রথম দফায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে।
অন্যদিকে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোতেও শনিবার (৮ জানুয়ারি) থেকে আবেদন নেওয়ার চিন্তা চলছে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে ভর্তি নীতিমালাসহ এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
কোন প্রতিষ্ঠানে আবেদন ও ভর্তি ফি কতো আবেদন ও নির্বাচন পর্ব শেষে ১৯ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হবে। এবার আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ টাকা। নীতিমালায় ঢাকা ও জেলা পর্যায়ে বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে ভর্তি ফিসহ সব ব্যয় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার ক্ষেত্রে বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে পাঁচ হাজার টাকা, ঢাকা মহানগরের বাইরে তিন হাজার, জেলা পর্যায়ে দুই হাজার আর উপজেলা ও মফস্বলে এক হাজার ৫০০ টাকা আদায় করা যাবে। নির্ধারিত ফির বেশি অর্থ আদায় করা যাবে না। এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সেশনচার্জ ও ভর্তি ফি গ্রহণ করা যাবে। উন্নয়ন ফি আদায় করা যাবে না।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে একাদশ শ্রেণিতে লেখাপড়া হয় এমন কলেজ ও মাদরাসা আছে আট হাজার ৮৬৪টি। অন্যদিকে সরকারি ও বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট আছে ৫৫০টি। কলেজ ও মাদরাসায় আসন আছে ২৪ লাখ ৪০ হাজার ২৪৯টি। পলিটেকনিকে আছে এক লাখ ৬৯ হাজার। সবমিলিয়ে এ স্তরে আসন সংখ্যা ২৬ লাখ ৯ হাজার ২৪৯টি। বিপরীত দিকে এসএসসি, দাখিল এবং এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনালে মোট পাস করেছে ২০ লাখ ৯৬ হাজার ৫৪৬ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে এসএসসিতে ১৬ লাখ ৮৬ হাজার ২১১ জন, দাখিলে দুই লাখ ৭২ হাজার ৭২২ জন আর কারিগরি শাখা থেকে এক লাখ ৩৭ হাজার ৬১৩ জন পাস করেছে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য