ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

ঢাবির ঘ ইউনিট বহাল রাখতে উপাচার্যকে স্মারকলিপি ছাত্র অধিকার পরিষদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ ১৫:১৯
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাবির ঘ ইউনিট বহাল রাখতে উপাচার্যকে স্মারকলিপি ছাত্র অধিকার পরিষদের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ঘ ইউনিট বহাল রাখার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানকে স্মারকলিপি দিয়েছে ছাত্র অধিকার পরিষদ।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ঘ ইউনিট বাদ দিয়ে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ থেকে চারটি ইউনিটের (ক, খ, গ ও চ) অধীনে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

আজ সোমবার বেলা একটার দিকে উপাচার্যের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসাইন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটির অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন জিয়া রহমান ও অনুষদের ১৬ বিভাগের চেয়ারপারসনকে এই স্মারকলিপির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে ঘ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে আসছে। বাংলাদেশের ভঙ্গুর শিক্ষাব্যবস্থার কারণে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে শহরের সঙ্গে তালমিলিয়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। এ জন্য অনেক শিক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিকের পর ঘ ইউনিটের (বিভাগ পরিবর্তন ইউনিট) মাধ্যমে নিজ নিজ বিভাগ পরিবর্তনের সুযোগ নেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হুট করে ঘ ইউনিট বাতিলের নির্দেশনা দিলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত ও পরিষ্কার কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ছাত্র অধিকার পরিষদ মনে করে, ঘ ইউনিট বন্ধ করে নিজ নিজ অনুষদে ভর্তি পরীক্ষা নিলে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীরা প্রথম বর্ষেই সম্পূর্ণ নতুন একটি বিষয়ের মুখোমুখি হবে‍ন। এটি তাঁদের একাডেমিক সফলতার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে‍। লাখ লাখ ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্পষ্ট সিদ্ধান্তের কারণে ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছেন। অনেকে ঘ ইউনিটের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিলেন। শিক্ষার্থীরা কারও হাতের ক্রীড়নক নন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ বিষয়ে পরিষ্কার বক্তব্য ও ঘ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা বহাল রেখে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করা উচিত।

স্মারকলিপিতে নিবেদক হিসেবে ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আখতার হোসেনের নাম উল্লেখ করা হলেও স্মারকলিপি দেওয়ার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না। স্মারকলিপি দেওয়ার পর সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, উপাচার্য ঘ ইউনিটের বিষয়ে দ্রুত স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এ ছাড়া বিভাগ পরিবর্তনের বিষয়ে সুযোগ রাখার নিশ্চয়তার কথাও বলেছেন। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত না এলে পরিষদ সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন করবে।

উচ্চমাধ্যমিকের বিভাগ পরিবর্তন করে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের অনেকের প্রথম পছন্দ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘ ইউনিট। ৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ভর্তি কমিটির সভায় এই ইউনিট বাতিল করে বিভাগ পরিবর্তনের বিকল্প কৌশলের নীতিমালা প্রণয়নে ডিনস সাব-কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষকদের একটি অংশ ঘ ইউনিট বহাল রাখতে আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ঘ ইউনিট বাদ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে শুরু থেকেই ধোঁয়াশা ছিল। ২০২০ সালের নভেম্বরের আগে ঘ ইউনিট রদ বা বহাল রাখার বিষয়ে কোথাও কোনো আলোচনা ছিল না। সেই বছরের ৮ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমিটির একটি বিশেষ সভা হয়। আলোচ্যসূচিতে না থাকলেও সেই সভার শেষ পর্যায়ে নিজে থেকেই ঘ ইউনিট ও চারুকলা অনুষদভুক্ত চ ইউনিট বন্ধ করার প্রস্তাব তোলেন উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান। এর পেছনে পরীক্ষার বোঝা ও ভোগান্তি কমানোর যুক্তি দেন তিনি। পরে অবশ্য শুধু ঘ ইউনিট বাতিল করার সিদ্ধান্ত হয়।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    এনসিটিবির নতুন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফরহাদ

    নিজস্ব প্রতিবেদক
    ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ ১৫:১০
    নিজস্ব প্রতিবেদক
    এনসিটিবির নতুন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফরহাদ

    জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক মো. ফরহাদুল ইসলাম। তিনি এত দিন এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

    আজ সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে ফরহাদুল ইসলামকে এনসিটিবির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি গত ডিসেম্বরে অবসরোত্তর ছুটিতে যাওয়া অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।

    শিক্ষার বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে এনসিটিবি গুরুত্বপূর্ণ একটি সংস্থা। এনসিটিবির মাধ্যমেই সারা দেশের প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করা হয়। আর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যের বইও দেওয়া হয় এ সংস্থার মাধ্যমে।

    এদিকে আগেই নিয়োগ পাওয়া মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে আজ যোগ দিয়েছেন নেহাল আহমেদ। এই পদটি শিক্ষা ক্যাডারের সর্বোচ্চ পদ। নেহাল আহমেদ এর আগে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার সংকট যেখানে

      নিজস্ব প্রতিবেদক
      ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ ১৫:৫
      নিজস্ব প্রতিবেদক
      গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার সংকট যেখানে

      ভোগান্তি কমাতে গত বছর প্রথমবারের মতো ২০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছভুক্ত হয়ে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করে। তিনটি ইউনিটে ২৩ হাজার ১০৪টি আসনের বিপরীতে ভর্তি পরীক্ষা নেয় কর্তৃপক্ষ। শুরুর দিকে এই উদ্যোগকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা সাধুবাদ জানালেও পরে নানা ব্যবস্থাপনা ত্রুটির কারণে আস্থা ধরতে রাখতে পারেনি পদ্ধতিটি। শিক্ষার্থীদের দাবি, গুচ্ছ পদ্ধতি ভোগান্তি কমানোর চেয়ে বরং বাড়িয়েছে।

      গত বছর ১৭ অক্টোবর ভর্তি পরীক্ষা নেয় গুচ্ছ কর্তৃপক্ষ। সবশেষ ইউনিটের ফল প্রকাশ করা হয় ৩ নভেম্বর। তবে অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ভর্তি করানো শুরু করে জানুয়ারি থেকে। ফল প্রকাশের তিন মাস পার হলেও এখনো বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভর্তি কার্যক্রম শেষ করতে পারেনি। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ই আসন সংখ্যা পূরণ করতে পারেনি। পছন্দের বিষয় না পেয়ে ভর্তি হননি অনেক শিক্ষার্থী। আরেকটি ব্যাচের ভর্তি পরীক্ষা সন্নিকটে। এখানো আগের বছরের ভর্তি কার্যক্রম শেষ করে ক্লাস শুরু করতে না পারায় হতাশ শিক্ষার্থীরা। ব্যবস্থাপনা ত্রুটি দূর করে গুচ্ছ পদ্ধতিতে গতি আনার তাগিদ দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা। তারা গুচ্ছ পদ্ধতির বেহাল অবস্থার জন্য কমিটির সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করেছেন।

      ২০টি বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছভুক্ত হয়ে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করলেও পরবর্তীতে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো নিয়ে কমিটির মধ্যে সমন্বয়হীনতা ছিলো। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আলাদা আলাদা ভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো শুরু করে। ভর্তির কার্যক্রমও শুরু করে আলাদা সময়ে। সমন্বয়হীনতার কারণে একই সময়ে দুইটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাক্ষাৎকারের তারিখ ঘোষণাও করতে দেখা যায়। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেদিন সাক্ষাৎকারের জন্য শিক্ষার্থীদের ডাকা হয় একই দিন সাক্ষাৎকার ছিলো পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ফলে ভোগান্তিতে পড়ে শিক্ষার্থীরা। আবার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আলাদাভাবে ভর্তি করানোর কারণে পছন্দের বিষয় না পাওয়ায় একজন শিক্ষার্থীকে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তি হতে হয়। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন শিক্ষার্থীরা। এদিকে কয়েক ধাপে মেধাতালিকা প্রকাশ করেও শিক্ষার্থী পাচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

      সমন্বয়হীনতার কথা স্বীকার করেছেন গুচ্ছ ভর্তির টেকনিক্যাল কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ নূর। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির এই উপাচার্য বলেন, ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী না পাওয়ায় ভর্তি কার্যক্রমে ধীরগতি রয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো গেলে এ সংকট অনেকাংশে কমে যাবে। যদিও আমি এ প্রস্তাব শুরু থেকেই দিয়ে এসেছি। হয়তো বাকীরা তখন এমন অবস্থা তৈরি হবে বুঝতে পারেন নি। শুধু নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করলে হবে না গুচ্ছের বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গেও সমন্বয় করতে হবে।

      তিনি আরও বলেন, আলাদাভাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভর্তি নেয়ায় একজন শিক্ষার্থীকে পছন্দের বিষয়ে পড়তে হয়তো বিশ্ববিদ্যালয় বদল করতে হচ্ছে। একজন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে পরে সে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পছন্দের বিষয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। তখন সে জগন্নাথের ভর্তি বাতিল করে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যাচ্ছে। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। বারবার আসা যাওয়ার কারণে ভোগান্তিতেও ভুগছে।

      ড. মুনাজ বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এমন সমস্যা হতো না। এছাড়া ভর্তি কার্যক্রম দেরিতে শুরু করার কারণেও এমন সমস্যা হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আগে ভর্তি করিয়েছে শিক্ষার্থীদের। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও ভর্তি নিয়েছে। ফলে শিক্ষার্থী সংকট তৈরি হয়েছে। কারণ এই শিক্ষার্থীগুলোই একাধিক জায়গায় উত্তীর্ণ হয়েছে। আগামীতে সমন্বয়হীনতা কমে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

      এদিকে বিদ্যমান ত্রুটি দূর করা গেলে গুচ্ছ পদ্ধতি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে বলে মনে করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেন, গুচ্ছের কারণে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ভোগান্তি কমেছে।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        ঢাবির দুই ইউনিটে ফাঁকা আসন পূরণের দাবি ভর্তিচ্ছুদের

        নিজস্ব প্রতিবেদক
        ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ ১৫:২
        নিজস্ব প্রতিবেদক
        ঢাবির দুই ইউনিটে ফাঁকা আসন পূরণের দাবি ভর্তিচ্ছুদের

        ২০২০-২১ সেশনের স্নাতক ভর্তি পরীক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ‘ক’ ও ‘ঘ’ ইউনিটের ফাঁকা আসনগুলোতে অপেক্ষমান তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীদের ভর্তি করানোর দাবি জানানো হয়েছে। আজ সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধন শেষে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং সংশ্লিষ্ট দুেই ইউনিটের ডিন বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয় বলে জানান তারা।

        শিক্ষার্থীরা জানান, গত ৬ জানুয়ারি ভর্তি কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর ‘ক’ ও ‘ঘ’ ইউনিটের বিভিন্ন বিভাগ থেকে অনেক শিক্ষার্থী তাদের ভর্তি বাতিল করেছে। পাশাপাশি তারা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজগুলো এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। এদিকে ডিন অফিসগুলো থেকে জানানো হয়েছে যে, এই দুই ইউনিটে আর কোন ভর্তি কার্যক্রম চলবে না। ফাঁকা সিটগুলো ফাঁকাই থাকবে। অন্যদিকে ‘খ’ ও ‘গ’ ইউনিটে খালি আসন পূরণ করার জন্য ইতিমধ্যে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।

        তারা আরো জানান, গত ৫ ডিসেম্বর ৬০০০ সিরিয়াল পর্যন্ত শিক্ষার্থীদেরকে ডাকা হয়েছে এবং SIF ফর্ম জমা নেয়া হয়েছে এই জন্য যে, ভর্তি কার্যক্রম শেষ হবার পর আসন খালি থাকা সাপেক্ষে অপেক্ষমান শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারবে। কিন্তু হঠাৎ করে আসন খালি রাখার সিদ্ধান্ত আমাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। যে কারণে আমরা চরম হতাশা আর সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছি।

        মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী সাদিয়া ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থী জানান, মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিংসহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাঁকা আসন পূরণ করা হচ্ছে। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন তা হচ্ছে না? তিনি প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ফাঁকা আসনগুলো পূরণ করার দাবি জানান।

        তাইফুর তানজিম নামের একজন বলেন, ঢাবিতে আমরা ওয়েটিং লিস্টে থাকায় অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই নাই। আমরা অনতিবিলম্বে ঢাবির ফাঁকা আসনগুলো পূরণের দাবি জানাই। ভিসি মহোদয় আমাদের দাবি না মানলে আমরা পরবর্তীতে আরো কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হব।

        আরেক শিক্ষার্থী রমন চন্দ্র দাস বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আশায় আমরা অন্য কোথাও ভর্তি হইনি। এখানে ভর্তি না হলে আমাদের শিক্ষাজীবনে ব্যাঘাত ঘটবে। ভিসি মহোদয় আমাদের ভর্তি নেওয়ার ব্যাপারে আশ্বস্ত করতে না পারেন তাহলে আমরা আমরণ অনশন করবো এবং রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করবো।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিযুদ্ধে মূল লড়াই ৫৫ হাজার আসনে

          নিজস্ব প্রতিবেদক
          ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ ১০:১২
          নিজস্ব প্রতিবেদক
          বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিযুদ্ধে মূল লড়াই ৫৫ হাজার আসনে

          ২০২১ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৩ লাখ ৬ হাজার ৭১৮ শিক্ষার্থী। এরমধ্যে ফলাফলের সর্বোচ্চ সূচক জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ লাখ ৮৯ হাজার ১৬৯ জন। অন্যদিকে, এবার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি মেডিকেল-ডেন্টাল কলেজগুলোতে আসন রয়েছে ৫৫ হাজারের মতো।

          ফলে উত্তীর্ণ হওয়া উচ্চমাধ্যমিকের এসব শিক্ষার্থী তো দূরের কথা ফলাফলের সর্বোচ্চ সূচক পেয়েও অনেকেই ভর্তি হতে পারবেন না পছন্দের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এ কারণে এবারও শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভর্তিতে তীব্র প্রতিযোগিতা করতে হবে।

          তবে উচ্চশিক্ষায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ১৩ লাখেরও বেশি আসন রয়েছে। আর এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশ উচ্চশিক্ষায় আসে না। এর ফলে উচ্চশিক্ষায় আসনের কোনো সংকট নেই। বরং কয়েক লাখ আসন ফাঁকা থাকবে। তবে মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তিযুদ্ধে নামতে হবে শিক্ষার্থীদের।

          বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) সূত্র জানা যায়, দেশে বর্তমানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫০। খুলনা শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও কিশোরগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামী শিক্ষাবর্ষে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এছাড়া চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।

          এছাড়া ১০৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম চালু থাকা ১০০টিতে আসন প্রায় দুই লাখ পাঁচ হাজার, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে ৮ লাখ ৭২ হাজার ৮১৫, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত মাদ্রাসায় ৬০ হাজার, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে ৭৭ হাজার ৭৫৬, দুটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৪০, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজে ২৩ হাজার ৩৩০, ৪টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ৭২০, ৬টি টেক্সটাইল কলেজে ৭২০, বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টালে সাড়ে ৭ হাজার, সরকারি-বেসরকারি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি প্রতিষ্ঠানে ৫ হাজার ৬০০, ১৪টি মেরিন অ্যান্ড এরোনটিক্যাল কলেজে ৬৫৪, ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ২৯০টি আসন রয়েছে।

          সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে মানসম্মত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাও হাতে গোনা। এছাড়া এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছেন। জিপিএ-৪ থেকে ৫-এর মধ্যে থাকা শিক্ষার্থীর সংখ্যাও প্রায় ছয় লাখ। তাদের অনেকেই জিপিএ ৫ প্রাপ্তদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ফলে পছন্দের আসন নিয়ে তুমুল যুদ্ধে নামতে হবে শিক্ষার্থীদের।

          অন্যদিকে, শিক্ষার্থীরা অপেক্ষা করছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য। সেখানে ভর্তির সুযোগ না পেলে অন্য অধিভুক্ত কলেজ কিংবা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির চেষ্টা করবেন।

          এইচএসসি পাশ করা একাধিক শিক্ষার্থী জানান, সব শিক্ষার্থীই পছন্দের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে চায়। সে হিসাবে প্রথম পছন্দ বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের বুয়েট, মেডিকেল কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

          ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, এবার উচ্চশিক্ষায় আসনের ক্ষেত্রে কোনো সংকট হবে না। তবে মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সংকটে পড়তে হবে। আমাদের উচ্চশিক্ষার ৭০ শতাংশ আসনই অধিভুক্ত কলেজে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ না পেয়ে সেখানে শিক্ষার্থী ভর্তি হয়।

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত