সেসিপের চূড়ান্ত সুপারিশপত্র কবে— জানে না এনটিআরসিএ

সেন্ডোরি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (সেসিপ) প্রকল্পে নিয়োগের প্রাথমিক সুপারিশপ্রাপ্ত ৬৬৪ জনের চূড়ান্ত সুপারিশপত্র কবে দেয়া হবে সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানাতে পারেনি বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)।

এনটিআরসিএ বলছে, সেসিপ প্রকল্পে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের পুলিশ ভেরিফিকেশন চলমান রেখে নিয়োগের চূড়ান্ত সুপারিশপত্র দিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো এ বিষয়ে অনুমোদন দেয়া হয়নি। মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত সুপারিশপত্র দেয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এনটিআরসিএ সদস্য (পরীক্ষা মূল্যায়ন ও প্রত্যয়ন) এ বি এম শওকত ইকবাল শাহীন বলেন, সেসিপ প্রকল্পে সুপারিশপ্রাপ্তদের চূড়ান্ত নিয়োগপত্র কবে দেয়া হবে সে বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। বিষয়টি মন্ত্রণালয় ভালো বলতে পারবে। সুপারিশপত্র দেয়ার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অনুমতি পেলে সেটি দিয়ে দেয়া হবে।

এদিকে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ৩৮ হাজারের বেশি শিক্ষকের পুলিশ ভেরিফিকেশন চলমান রেখে নিয়োগের চূড়ান্ত সুপারিশপত্র দেয়া হলেও সেসিপ প্রকল্পে ৬৬৪ জনকে সুপারিশপত্র না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রার্থীরা। বিষয়টি সমাধানে শিক্ষা মন্ত্রী, শিক্ষা সচিব ও এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান বরাবর স্মারকলিপিও জমাও দিয়েছেন তারা। তবে এখনো কোনো সুরাহা হয়নি।

বিভিন্ন সময় জমা দেওয়া স্মারকলিপিতে প্রার্থীরা জানান, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) শিক্ষক নিয়োগের ৩য় গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৩৮ হাজার শিক্ষকের চুড়ান্ত সুপারিশপত্র দেয়া হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় সেসিপ প্রকল্পে ৬৬৪ জন শিক্ষকের চূড়ান্ত নিয়োগ না হওয়ার কারণে বেকার, অসহায় এসব প্রার্থীরা চরম মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। অনিশ্চয়তা ও হতাশায় তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে।

তারা বলেন, মুজিববর্ষে আমাদের এই নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। প্রিলি, রিটেন ও ভাইবা পাশ করে চূড়ান্ত নিয়োগ সম্পন্ন না হওয়ায় আমরা পারিবারিক, সামাজিক ও আর্থিকভাবে প্রতিনিয়ত চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। এদিকে সারাদেশে সেসিপ প্রকল্পের আওতাভুক্ত অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষক পদ শূন্য। যে উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে সেসিপ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল; শূন্যপদে যথাসময়ে শিক্ষক নিয়োগ করতে না পারায় সেই উদ্যোগ ভেস্তে যেতে বসেছে। শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ঠিক রাখা, কার্যকরী পাঠদান ও ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করার জন্য সেসিপ প্রকল্পে আওতাভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ অত্যন্ত জরুরী।

তারা আরও জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদানের স্বাভাবিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও দক্ষ শিক্ষকের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত পাঠদান নিশ্চিত করতে সেসিপ প্রকল্পে ৬৬৪ জন শিক্ষকের চূড়ান্ত যোগদান জরুরী। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে ৬৬৪ জন শিক্ষকের চূড়ান্ত সুপারিশপত্র প্রদানের দাবি জানাচ্ছি।