ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে ইউজিসির ২০ সুপারিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ জানুয়ারি, ২০২২ ১১:৩
নিজস্ব প্রতিবেদক
উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে ইউজিসির ২০ সুপারিশ

দেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের মানোন্নয়নে ইউনিভার্সিটি টিচার্স ট্রেনিং একাডেমি, গবেষণার জন্য সেন্ট্রাল রিসার্চ ল্যাবরেটরি ও ন্যাশনাল রিসার্চ কাউন্সিল প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশিন (ইউজিসি)। এ ছাড়া দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাতে সমন্বিত উদ্যোগ ও বৈশ্বিক র‌্যাঙ্কিং নির্ধারণী সূচকের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে একটি নীতিমালা প্রণয়নের সুপারিশও করা হয়েছে।

সরকারের “স্ট্র্যাটেজিক প্লান ফর হায়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ: ২০১৮, ২০৩০”-এর অংশ হিসেবে ইউজিসি’র উদ্যোগে তিনটি প্রতিষ্ঠান স্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।

ইউজিসি তাদের ‘৪৭তম বার্ষিক প্রতিবেদন-২০২০’-এ সুপারিশগুলো করে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচার্য ও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে ইউজিসি থেকে সদ্যবিদায়ী ২০২১ সালের ৩০ ডিসেম্বর প্রতিবেদনটি দেওয়া হয়।

ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘তিনটি ইনস্টিটিউশন করার যে সুপারিশ করা হয়েছে সেগুলোর জন্য ফিজিবিলিটি স্টাডি করছি আমরা। অটোনোমাস বডি না হলে এসব প্রতিষ্ঠান ঠিকমতো কাজ করতে পারবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ফাউন্ডেশন ট্রেনিংয়ের জন্য ইউনিভার্সিটি টিচার্স ট্রেনিং একাডেমি ও গবেষকদের জন্য সেন্ট্রাল রিসার্চ ল্যাবরেটরির সুপারিশ করা হয়েছে। কীভাবে গবেষকদের দেশে ধরে রাখা যায় সে সংক্রান্ত পলিসি তৈরি করা, কীভাবে গবেষকরা সুবিধা পেতে পারেন; এসব নিয়েও কাজ করবে ওই ইনস্টিটিউশন।’

ইউজিসির সুপারিশে বলা হয়, উচ্চশিক্ষার মান বৃদ্ধি ও সমুন্নত রাখতে দেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির অভিন্ন নীতিমালা করতে হবে।

তালিকার প্রথম সুপারিশে বলা হয়, ‘দেশে পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মোট ১৫৭টি। ইউজিসির দায়িত্ব ও কর্তব্য আগের তুলনায় বেড়েছে। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সামগ্রিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে তদারকি করা কমিশনের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। তদারকি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কমিশনের আইনি ক্ষমতার সীমাবদ্ধতাও অনুভূত হচ্ছে। কাজেই, আর্থিক বরাদ্দ ও অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোসহ কমিশনকে আইনগতভাবে শক্তিশালী করা জরুরি।’

অন্যান্য সুপারিশ

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইউনিভার্সিটি ও ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে কোলাবরেশন বাড়ানোতে হবে। এর জন্য চাহিদাভিত্তিক, উদ্দেশ্যমুখী ও ফোকাস নির্ভর প্রোগ্রাম চালুর মাধ্যমে যোগ্যতাসম্পন্ন গ্র্যাজুয়েট তৈরিতে সরকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিতে পারে। উচ্চশিক্ষায় জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত ও গবেষণাগারের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর জন্য আর্থিক বরাদ্দ রাখার পাশাপাশি ফলাফলভিত্তিক কারিকুলাম প্রণয়ন করা যেতে পারে। দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টিগ্রেটেড ইউনিভার্সিটি ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারের আর্থিক বিধি-বিধান অনুসরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন সমুন্নত রেখে একটি ‘সমন্বিত আর্থিক নীতিমালা ও ম্যানুয়েল’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। দেশে উচ্চশিক্ষা খাতে সরকারি বরাদ্দ জাতীয় বাজেটের মাত্র শূন্য দশমিক ৮৭ শতাংশ। যা যেকোনও বিচারেই অপ্রতুল। কাজেই, জাতীয় বাজেটে উচ্চশিক্ষায় খাতওয়ারি বরাদ্দ চিহ্নিত করে অর্থ সংস্থানের জন্য সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। ২০২২ সালের মধ্যে উচ্চশিক্ষা খাতে জাতীয় বাজেটের ২ শতাংশ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৬ শতাংশ বরাদ্দ রাখার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। অস্তিত্বহীন বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শাখা ক্যাম্পাসে’ ব্যাচেলর, মাস্টার্স, এমফিল— এমনকি পিএইচডি পর্যায়ে শিক্ষার্থী ভর্তির খবর প্রায়ই গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়। সাময়িক অনুমতিপত্র বা সনদপত্র নেওয়া ছাড়া বাংলাদেশে কোনও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন বা পরিচালনাও অবৈধ। সীমিত পরিসরে স্বনামধন্য বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস স্থাপন ও পরিচালনার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। তবে এদের তদারকির জন্য বিদ্যমান বিধিমালা ‘বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের শাখা ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টার পরিচালনা বিধিমালা, ২০১৪'-এর সংশোধন প্রয়োজন। দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আলোচনা করে গবেষণা কার্যক্রম শুরু করা যেতে পারে। এতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ পাবে বিশ্ববিদ্যালয়। যার ফলে পণ্যের উৎকর্ষ বাড়ানো ও তাতে বৈচিত্র্য আনা যাবে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণায় প্লেজিয়ারিজম বা চৌর্যবৃত্তির ঘটনা বাড়ছে। এ নিয়ে কোনও নীতিমালা না থাকায় গবেষণাপত্র চুরির বিষয়টি সংজ্ঞায়িত করা যাচ্ছে না। তাই প্লেজিয়ারিজম বিষয়ক সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি আবশ্যক। তদুপরি শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে গবেষণাকর্মের মান নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির জন্য সফটওয়্যার (যেমন: Turnitin) ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা এবং বাংলা গবেষণাপত্র ও পুস্তকের জন্যও এ ধরনের সফটওয়্যার তৈরি করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উদ্যোগ নিতে পারে। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে সান্ধ্যকালীন/উইকেন্ড/এক্সিকিউটিভ প্রভৃতি কোর্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ ধরনের কোর্স বন্ধ হওয়া জরুরি। তবে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী ইউজিসি’র পূর্বানুমোদনক্রমে ডিপ্লোমা, শর্ট কোর্স, ভোকেশনাল ও ট্রেনিং প্রোগ্রাম পরিচালনা করা যেতে পারে। দেশে উচ্চশিক্ষা স্তরে চার বছর মেয়াদি স্নাতক ডিগ্রিকে ‘প্রান্তিক ডিগ্রি হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে। স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা এবং যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক না থাকায় ডিগ্রি অর্জনের পর সরাসরি মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির সুযোগ না রেখে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ভর্তি প্রক্রিয়া রাখা যেতে পারে। এ নিয়েও সরকার একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় সকল প্রকার যৌন হয়রানি, ইভটিজিং, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, বুলিং, র‍্যাগিং, মাদক ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মুক্তবুদ্ধি চর্চার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানো জরুরি। কোনও শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী যাতে সংবিধান পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে না পারে, সেজন্য নীতিমালা প্রণয়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নির্দেশনা দিতে পারে সরকার। সশরীরে ও অনলাইনে উভয় ধারার সমন্বয়ে ‘ব্লেন্ডেড লার্নিং’ নীতিমালা প্রণয়ন করা যেতে পারে। তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিতকল্পে সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ পাচ্ছেন ইবির ১৬ শিক্ষার্থী

    নিজস্ব প্রতিবেদক
    ৩ জানুয়ারি, ২০২২ ১০:৫৯
    নিজস্ব প্রতিবেদক
    বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ পাচ্ছেন ইবির ১৬ শিক্ষার্থী

    বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের গবেষণা প্রকল্পের আওতায় ২০২১-২০২২ অর্থবছরে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (এনএসটি) ফেলোশিপ পাচ্ছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ১৬ জন শিক্ষার্থী।

    শনিবার (১ জানুয়ারি) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এতে ফেলোশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভৌতবিজ্ঞান ক্যাটাগরিতে ৪ জন শিক্ষার্থী এবং জীব ও চিকিৎসা বিজ্ঞানে ১১ জন ও নবায়ন গ্রুপে একজন শিক্ষার্থী মনোনীত হয়েছেন।

    জীববিজ্ঞান ও চিকিৎসা বিজ্ঞানে ফেলোশিপ পেয়েছেন, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাব্বির আহমেদ, মো. আল-আমিন মিলন, মেহরাব হোসেন ফাহিম, জহুরুল হক, মো. মাসুদুর রহমান, মো. নাজমুল হুদা এবং হুমায়রা আফিয়া। ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের তানিয়া আক্তার, তামান্না খাতুন, রিক্তা খাতুন এবং ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তানিয়া আফরোজ তমা।

    ভৌতবিজ্ঞান গ্রুপের আওতায় ফেলোশিপ পেয়েছেন ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের তহমিনা খন্দকর মিতু ও মুবাসসিরা মুক্তা, বায়োটেকনোলজি বিভাগের মো. শাহিদুল ইসলাম এবং ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের রামপ্রসাদ দেবনাথ। নবায়ন গ্রুপের আওতায় ফেলোশিপ পেয়েছেন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো. নাসির উদ্দীন খান।

    বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ভৌতবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং খাদ্য ও কৃষিবিজ্ঞান এই তিন ক্যাটাগরিতে এবার ফেলোশিপ পাচ্ছেন মোট ২ হাজার ৪৪৬ শিক্ষার্থী। নবায়ন ক্যাটাগরিতে পেয়েছেন ৪২ জন শিক্ষার্থী।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      সরাসরি মাস্টার্সে ভর্তি বন্ধ করতে চায় ইউজিসি

      নিজস্ব প্রতিবেদক
      ৩ জানুয়ারি, ২০২২ ১০:৫৪
      নিজস্ব প্রতিবেদক
      সরাসরি মাস্টার্সে ভর্তি বন্ধ করতে চায় ইউজিসি

      অনার্স পাসের পর সরাসরি মাস্টার্সে ভর্তির সুযোগ না রেখে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ভর্তি প্রক্রিয়া চালু করার একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

      ইউজিসি ৪৭তম বার্ষিক প্রতিবেদনে এ প্রস্তাব করেছে। গত বৃহস্পতিবার ইউজিসির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির হাতে এ প্রতিবেদন তুলে দেওয়া হয়।

      ইউজিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে উচ্চশিক্ষাস্তরে চার বছর মেয়াদি স্নাতক ডিগ্রিকে প্রান্তিক ডিগ্রি হিসেবে গণ্য করা হয়। মাস্টার্স পর্যায়ে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম বাছাই করা মেধাবী স্নাতকদের জন্য উন্মুক্ত রাখা প্রয়োজন। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবকাঠোমোগত সুযোগ-সুবিধা এবং যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক না থাকলেও সেখানে মাস্টার্স ডিগ্রি প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর সরাসরি মাস্টার্স ডিগ্রিতে ভর্তির সুযোগ না রেখে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ভর্তি প্রক্রিয়া চালু করা দরকার। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর স্নাতকোত্তর গবেষণা কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্কলারশিপ-টিচিং অ্যাসিস্টেন্টশিপ-ফেলোশিপের ব্যবস্থা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

      সুপারিশে বলা হয়েছে, দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টিগ্রেটেড ইউনিভার্সিটি ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট প্ল্যাটফর্ম তৈরির জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একটি সফটওয়্যার প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারের আর্থিক বিধি-বিধান অনুসরণে ইচ্ছে মতো আইনের ব্যাখ্যা দিয়ে কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান আর্থিক নিয়মের ব্যত্যয় ঘটছে। ইউজিসিতে এ ধরনের প্রমাণ মিলেছে। একটি সমন্বিত আর্থিক নীতিমালা ও ম্যানুয়েল প্রণয়ন করতে বলা হয়েছে।

      সুপারিশে আরও বলা হয়েছে, দেশে উচ্চশিক্ষা খাতে সরকারি বরাদ্দ জাতীয় বাজেটের মাত্র ০ দশমিক ৮৭ শতাংশ, যা যেকোনো বিচারে অপ্রতুল। কাজেই জাতীয় বাজেটে উচ্চশিক্ষায় খাতওয়ারী বরাদ্দ চিহ্নিত করে ইউজিসিকে ২০২২ সালের মধ্যে উচ্চশিক্ষা খাতে জাতীয় কাজের ২ শতাংশ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৬ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব, উচ্চশিক্ষার মানবৃদ্ধিতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়নে অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন, সুপরিচিত বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাসে সীমিত আকারে ব্যাচেলর, মাস্টার্স, এমফিল-পিএইচডি করার অনুমোদন, বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি বন্ধে একটি নীতিমালা প্রণয়ন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্যকালীন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি কোর্স বন্ধ করে ডিপ্লোমা, শর্ট কোর্স, ভোকেশনাল ও ট্রেনিং প্রোগ্রাম চালুসহ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মূল ধারায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

      এসব বিষয়ে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমগীর রোববার বলেন, ইউজিসি বার্ষিক প্রতিবেদনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন হবে।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        কুবির ৫১ শিক্ষার্থী পেল ডিনস্ অ্যাওয়ার্ড

        নিজস্ব প্রতিবেদক
        ২ জানুয়ারি, ২০২২ ২১:১৩
        নিজস্ব প্রতিবেদক
        কুবির ৫১ শিক্ষার্থী পেল ডিনস্ অ্যাওয়ার্ড

        কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) প্রথমবারের মতো স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ৫১ জন শিক্ষার্থীকে ডিনস্ অনার অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে। আজ রোববার বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভার্চুয়াল ক্লাস রুমে এ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে স্নাতক পর্যায়ে আট শিক্ষাবর্ষের ১৮ জন ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ছয় শিক্ষাবর্ষের ৩৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।

        জানা যায়, অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের স্নাতক ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ এবং স্নাতকোত্তরে ২০১০-১১ থেকে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের মোট ৫১ জন শিক্ষার্থীকে ডিনস্ অনার অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে স্নাতক পর্যায়ের আট শিক্ষাবর্ষের সর্বমোট ১৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।

        শিক্ষার্থীরা হলেন-গণিত বিভাগের হোমায়রা দিল আফরোজ ও ফারহানা ইয়াসমিন; পরিসংখ্যান বিভাগের উম্মুল খায়ের সুমি ও সোনিয়া আকতার; অর্থনীতি বিভাগের নয়ন তারা ও স্বর্ণা মজুমদার; ব্যবস্থাপনা বিভাগের সংগীতা বসাক, মো. রফিকুল ইসলাম ও শাকিলা ফেরদৌস; এআইএস বিভাগের অরূপা সরকার ও রাবেয়া জামান; মার্কেটিং বিভাগের নাসরিন আকতার ঝুমুর ও তানজীনা ইয়াসমিন; ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের রিপা আকতার; সিএসই বিভাগের নয়ন বণিক; আইসিটি বিভাগের আমেনা বেগম, মো. কামরুল হাসান এবং পিন্টু চন্দ্র পাল।

        স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ছয়টি শিক্ষাবর্ষ থেকে সর্বমোট ৩৩ জনকে অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন-গণিত বিভাগের সামিয়া তাহের, খাদিজা বেগম, পারভীন আকতার, হোমায়রা দিল আফরোজ ও মাহিনুর আকতার; পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সানজিদা হক ও অন্তরা তাজরীন তৃণা; পরিসংখ্যান বিভাগের কনকন আচার্য; রসায়ন বিভাগের শারমিন আক্তার রুপা ও মো. আলাউদ্দিন হোসাইন; অর্থনীতি বিভাগের মো. মাসুদ রানা, মো. সাইফুল ইসলাম, স্বর্ণা মজুমদার ও সায়েদা সুরাইয়া সুলতানা; নৃবিজ্ঞান বিভাগের ইসরাত জাহান লিপা; ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের মো. জাহিদ হাসান, সঙ্গীতা বসাক, মো. রফিকুল ইসলাম ও শাকিলা ফেরদৌস; এআইএস বিভাগের ফাহমিদা হোসাইন, তৃণা সাহা, ফাহিমুল কাদের সিদ্দিকী ও মো. কাউসার খান; মার্কেটিং বিভাগের মো. আওলাদ হোসেন, নাসরিন আকতার ঝুমুর, খালেদা আকতার, জাহিদুল ইসলাম পাটোয়ারী ও তানজীনা ইয়াসমিন; সিএসই বিভাগের মেশকাত জাহান ও তাপসী গোস্বামী এবং আইসিটি বিভাগের আমেনা বেগম, নাবিলা মেহজাবিন ও মোহাম্মদ কামরুল হাসান।

        অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হ‌ুমায়ূন কবির, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহ. আমিনুল ইসলাম আকন্দ ও রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের।

        এ ভার্চুয়াল অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান। সভাপতিত্ব করেন ডিনস্ অনার অ্যাওয়ার্ড উপকমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. শেখ মকছেদুর রহমান।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          সেমিস্টার ফির ৭০ শতাংশ পর্যন্ত স্কলারশিপ

          নিজস্ব প্রতিবেদক
          ২ জানুয়ারি, ২০২২ ২১:৮
          নিজস্ব প্রতিবেদক
          সেমিস্টার ফির ৭০ শতাংশ পর্যন্ত স্কলারশিপ

          আপনি যদি উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য ইউরোপের দেশগুলোয় যেতে চান, তাহলে ফিনল্যান্ড হতে পারে আপনার সুন্দর ঠিকানা। দেশটির বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয় তাদের মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির আবেদন-প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে। চলুন, জেনে নেওয়া যাক র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে থাকা ইউনিভার্সিটি অব ইস্টার্ন ফিনল্যান্ডে মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির প্রক্রিয়া সম্পর্কে–

          উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য এক দেশ থেকে অন্য দেশে ছুটে চলেছেন শিক্ষার্থীরা। নির্দিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনার জন্য তাঁরা বেছে নিচ্ছেন বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে থাকা সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশ পাড়ি জমাচ্ছেন আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলোয়। আপনি যদি উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য ইউরোপের দেশগুলোয় যেতে চান, তাহলে ফিনল্যান্ড হতে পারে আপনার সুন্দর ঠিকানা। উন্নত জীবনযাপন ও সুখী দেশের তালিকায় শীর্ষে থাকা দেশটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য দিয়ে থাকে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা। চির সবুজে ঘেরা দ্বীপ রাষ্ট্রটিতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সহজ করতে নিয়মিত রাখছে নির্দিষ্ট কাজের সময় ও সুযোগ।

          উল্লেখ্যযোগ্য বিশ্ববিদ্যালয়

          ইউনিভার্সিটি অব ইস্টার্ন ফিনল্যান্ড, ইউনিভার্সিটি অব হেলসেঙ্কি, মেট্রোপোলিয়া ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লাইড সায়েন্সেস ইত্যাদি।

          যেসব অনুষদে ভর্তি হতে পারবেন

          ইকোনমিকস অ্যান্ড বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এডুকেশন ফরেস্ট সায়েন্সেস হিউম্যানিটিজ হেলথ সায়েন্সেস ল ন্যাচারাল সায়েন্সেস সোশ্যাল সায়েন্সেস শিক্ষাগত যোগ্যতা

          মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীদের অবশ্যই চার বছরমেয়াদি স্নাতক (সম্মান) কোর্স শেষ করতে হবে।

          তবে যাঁদের স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়নি, তাঁরাও আবেদন করতে পারবেন; তবে ভর্তির প্রক্রিয়া চলাকালে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে

          অবশ্যই ট্রান্স ক্রিপ্ট জমা দিতে হবে।

          ভাষাগত দক্ষতা

          ইউনিভার্সিটি অব ইস্টার্ন ফিনল্যান্ডে ভর্তির জন্য আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের অবশ্যই ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার সনদ জমা দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে আইইএলটিএস বা টোফেলের ফলাফল গ্রহণ করা হবে। আইইএলটিএস স্কোর সব মিলিয়ে ন্যূনতম থাকতে হবে ৭ এবং লিখিত অংশে ন্যূনতম ৬.৫ হতে হবে। টোফেলের ক্ষেত্রে সব মিলিয়ে ন্যূনতম ১০০ ও লিখিত অংশে ২৪ থাকতে হবে। এ ছাড়া পিটিই, সিএই, সিপিই পরীক্ষার ফলাফলও গ্রহণযোগ্য হবে।

          স্কলারশিপ

          শিক্ষার্থীদের মোট সেমিস্টার ফির ৭০ শতাংশ পর্যন্ত স্কলারশিপ দেওয়া হবে। এ ছাড়া প্রতিটি অনুষদের প্রতিটি বিভাগ থেকে মেধাবী ও সেমিস্টার ফি প্রদানে অপারগ দুজন শিক্ষার্থীকে ফিনল্যান্ড সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ বৃত্তিতে ৫ হাজার ডলার দেওয়া হবে, যা বাংলাদেশি টাকায় ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৪৪২ টাকা।

          ছাত্র সংসদ

          শিক্ষার্থীদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন করে গড়ে তুলতে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ব্যবস্থা করে ইউনিভার্সিটি অব ইস্টার্ন ফিনল্যান্ড। ছাত্র সংসদের জন্য খুবই কম পরিমাণ ফি শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষাবর্ষে দিতে হবে। তবে এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দূরপাল্লার যোগাযোগ, সরকারি সেবা ও রেস্টুরেন্টে খাওয়াদাওয়ার খরচ বহুলাংশে কমে যাবে।

          শিক্ষার্থীর মেধাক্রম প্রক্রিয়া

          ভাষা দক্ষতার ওপর ২০% লিখিত পরীক্ষার ওপর ২০% একাডেমিক পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ৪০% মোটিভেশন লেটারের ওপর ২০% আবেদনের শেষ তারিখ

          ১৯ জানুয়ারি ২০২২ পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত