The Rising Campus
Education, Scholarship, Job, Campus and Youth
সোমবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

সাইবার নিরাপত্তা কি? নিজেকে নিরাপদ রাখতে করণীয়

আধুনিক সমাজে ইন্টারনেট ছাড়া কোন কিছু চিন্তাই করা যায় না। আপনি চাইলেও এটিকে এড়িয়ে যেতে পারবেন না। দৈনন্দিন জীবন যেভাবে তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে পড়েছে তাতে করে তথ্য-প্রযুক্তি তথা সাইবার জগতে আপনি যদি নিজের নিরাপত্তার বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ না করেন তাহলে আপনি পিছিয়ে পড়বেন। কারন তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিনিয়ত আপডেইট হচ্ছে।

সাইবার বা ইন্টারনে কম্পিউটার বা মোবাইলের সাথেই সম্পর্কিত নয়। বরং আধুনিক সকল ধরনের ইলেট্রনিক ডিভাইসই এই সিকিউরিটির আওতায় পড়ে। সেটা টিভি, ফ্রিজ, ওভেন যে কোন কিছুই হতে পারে। ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত প্রতিটি ডিভাইসের নিরাপত্তার সাথে আপনার নিরাপ্তা জড়িত।

আজকের দিনে ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক কাজে নিয়মিত ইন্টারনেট ব্যবহার একটি অপরিহার্য বিষয়। এই ইন্টারনেট জীবনকে করে তুলেছে সহজ। তবে ইন্টারনে যেমন সুফল বয়ে এনেছে তেমনি এর আছে ক্ষতিকর হাজারো প্রভাব। বর্তমানে আপনি যে ইন্টারনেট ব্যবহার করে লেখাটি পড়ছেন, তা কি আপনার জন্য নিরাপদ? নিরাপত্তা নিশ্চিতে আপনার কোন ঘারটি নেই তো? আজকের এই লেখায় সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে আলোচনা করবো-

সাইবার সিকিউরিটি কি?

সাইবার সিকিউরিটি বলতে মূলত ডিজিটাল জগতে যেসক কর্মকান্ড তথ্য ও নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাকেই বুঝায়। ইন্টারনেটে হ্যাকিং বা ম্যালওয়ার অ্যাটাক থেকে বাচতে যেসব ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হয় তা সবই সাইবার সিকিউরিটির মধ্যে পড়ে।

এখানে সাইবার বলতে বুঝায় কম্পিউটার, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, তথ্য প্রযুক্তি এবং ভার্চুয়াল জগত আর সিকিউরিটি বলতে বুঝায় নিরাপত্তা। মূলত কম্পিউটার, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ডাটা ইত্যাদির নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হল সাইবার সিকিউরিটি এর কাজ। সাইবার সিকিউরিটি বলতে বুঝায় আমরা যেসকল প্রযুক্তি , কর্মকান্ড ও মেশিন দিয়ে বিভিন্ন নেটওয়ার্ক, ডিভাইস, প্রোগ্রাম এবং তথ্য সুরক্ষা দিয়ে থাকি । মূলত ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড এ আমরা যেসব কর্মকান্ডের মাধ্যমে তথ্য এবং নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা ভ্যালিডেট করি বা নিশ্চিত করি তাই হল সাইবার সিকিউরিটি।

কিভাবে আপনি সাইবারে আক্রমনের শিকার হতে পারেন?

হ্যাকারের জন্য যদি আপনি আপনার ডিবাইসে ভারনাবিলিটি বা নিরাপত্তা ক্রটি রেখে দেন তাহলে সাইবার নিরপত্তা হুমকিতে আছেন। হ্যাকার কর্তৃক আপনি কিভাবে আক্রান্ত হলেন তার উপর ভিত্তি করে সাইবার এটাককে বেশ কয়েক ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।

১) ব্যক্তিগত তথ্যে আক্রমন: হ্যাকার আপনার ব্যক্তিগত তথ্য চুরির মাধ্যমে আপনার ব্যাংক একাউন্ট, ক্রেডিট কার্ডের গোপন নাম্বার চুরি করলে তা ব্যক্তিগত তথ্যে আক্রমন বলে ধরা হয়। হ্যাকারা আপনার ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিয়ে তা ওয়েবসাইটের কালবাজার বলে খ্যাত ডার্ক ওয়েবে সেল করে দেয়। এমটি হলে আপনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে যেতে পারে।

২) এটাক অন ইন্টেগ্রিটি: এই ধরনের আক্রমনের মাধ্যমে হ্যাকার বা সাইবার ক্রিমিনাল আপনার তথ্যগুলো প্রকাশ করে দিতে পারে। এর মাধ্যমে সাইবার ক্রিমিনালরা ইন্ডিভিজুয়াল কারো ক্ষতি করে থাকে। সেই ব্যক্তি বা তার প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে এই আক্রমন হয়ে থাকে।

৩) এটাক অন এভেইলএবলিটি: এক্ষেত্রে সাইবার ক্রিমিনাল আপনার এক্সেস অবরুদ্ধ করে দিতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনার কম্পিউটার বা ডিভাইসে থাকা সকল কিছুর বন্ধ হয়ে যাবে। আপনি কোন কিছুই আর ব্যবহার করতে পারবেন না। ইভেন আপনার সেভ করা কোন ওয়ার্ড ফাইলেও আর আপনার এক্সেস থাকবে না। তবে এক্ষেত্রে যদি পূর্বেই আপনি আপনার ডেটা বা ফাইলের ব্যাকআপন রাখেন তাহলে বেচে যেতে পারেন।

৪) ম্যালওয়ার: তথ্য প্রযুক্তি যুগে আপনাকে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন সাইটে ভিজিট করতে হচ্ছে, ক্লিক করতে হচ্ছে নানা লিংকে। সাইবার ক্রিমিনালরা ক্রটিযুক্ত সাইটে আপনার জন্য জাল বিছিয়ে রাখে। সাইবার ক্রিমিনাল সাধারণত ম্যালওয়ার দিয়ে বিভিন্ন এপপস বা সেবা প্রদানের আড়ালে আপনার ক্ষতি করে।

৫) ভালনারবিলিটি: ভালনারবিলিটি মানে হলো কোন কোড বা সার্ভারে সমস্যা থাকা। এই ভালনারিবিলিটিজনিত কোন সমস্যা আপনার ওয়েবসাইটে থাকলে হ্যাকারদের রাস্তা সহজ হয়ে যায় আপনার তথ্য চুরি করার জন্য।

৬) ফিশিং: ফিশিং সম্পর্কে আপনারা কমবেশি সবাই জানেন, নাম না জানলেও এর কবলে পড়েছেন আপনারা। বিষয়টি এমন, মাঝে মাঝে কোন ব্রাউজার অপেন করলে সেখানে অন্য একটি সাইটের লগ ইন পেজ শো করছে। আপনারা যখনই হ্যাকারদের তৈরি করা সাইটে আপনার ইমেইল আর পাসওয়ার্ড দিয়ে দিলেন তখনি সেই ইনফরমেশন তার কাছে চলে গেল। আপনি পড়ে গেলেন সাইবার ক্রিমিনালের খপ্পরে।

৭) ব্যাকডোরঃ ব্যাকডোর বলতে পিছনের দরজা বুঝানো হয়। আপনারা অনেক সময় বিভিন্ন ফ্রি সফটওয়্যার ব্যবহার করার জন্য ডাউনলোড করেন। তখনি সেসব লিংকে হ্যাকাররা শিকার করার জন্য বসে থাকে।

কিভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন?

আপনি যদি সাইবার জগত সম্পর্কে খুববেশি নাও জানেন তাতে সমস্যা নেই। তবে আপনাকে অবশ্যই কিভাবে নিজেকে নিরাপদ রাখতে হয় তা জানা আবশ্যক। একজন সাধারণ ব্যবহারকারী হিসেবে নিজেকে সিকিউর রাখতে কিছু তথ্য জানা প্রয়োজন। তাই অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে মেনে চলতে পারেন নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো-

>> আপনার নিজস্ব ওয়েবসাইট থাকলে সেই ওয়েবসাইটের ইনফরমেশন চুরি হতে পারে। যেহেতু ইন্টারনেট কখনই শতভাগ নিরাপদ না। তাই ব্যাকআপ তৈরি করে রাখুন। যাতে সাইবার ক্রিমিনালের হাত থেকে আপনার তথ্য নিরাপদ থাকে।

>> আর্থিক লেনদেনের সাথে জড়িত কোম্পানিগুলো সাধারণত হ্যাকারদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। তাই যেখানে সেখানে লগিন করা থেকে বিরত থাকুন।

>> ফ্রি পাব্লিক ওয়াই ফাই ব্যাবহারে বিরত থাকুন।

>> ওয়েবসাইট বা এপপসে আপনার পাসওয়ার্ড সেভ করে রাখা থেকে বিরত থাকুন।

>> অপরিচিত লিঙ্ক বা ওয়েবসাইট ব্যাবহার থেকে বিরত থাকুন।

>> ক্র্যাক সফটওয়্যার থেকে বিরত থাক।

সাইবার সিকিউরিটি কোন আতঙ্কের নাম নয়। একটু সচেতন থাকলেই সাইবার জগন আপনার জন্য নিরাপদ হয়ে উঠতে পারে। তাই সকলের মধ্যে সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে প্রতিরোধ মনোভাব জাগ্রত করুন। ২০০৬ সালে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে সাইবার ক্রিমিনালদের শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাই সাইবার ক্রিমিনাল আপনার ঘরে হানা দেওয়ার আগেই এই বিষয়ে সতর্ক হয়ে উঠুন। প্রতারকদের হাত থেকে নিজেদের বাঁচান  এবং পরিবারের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করুন।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.

  1. প্রচ্ছদ
  2. বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তি
  3. সাইবার নিরাপত্তা কি? নিজেকে নিরাপদ রাখতে করণীয়

সাইবার নিরাপত্তা কি? নিজেকে নিরাপদ রাখতে করণীয়

আধুনিক সমাজে ইন্টারনেট ছাড়া কোন কিছু চিন্তাই করা যায় না। আপনি চাইলেও এটিকে এড়িয়ে যেতে পারবেন না। দৈনন্দিন জীবন যেভাবে তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে পড়েছে তাতে করে তথ্য-প্রযুক্তি তথা সাইবার জগতে আপনি যদি নিজের নিরাপত্তার বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ না করেন তাহলে আপনি পিছিয়ে পড়বেন। কারন তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিনিয়ত আপডেইট হচ্ছে।

সাইবার বা ইন্টারনে কম্পিউটার বা মোবাইলের সাথেই সম্পর্কিত নয়। বরং আধুনিক সকল ধরনের ইলেট্রনিক ডিভাইসই এই সিকিউরিটির আওতায় পড়ে। সেটা টিভি, ফ্রিজ, ওভেন যে কোন কিছুই হতে পারে। ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত প্রতিটি ডিভাইসের নিরাপত্তার সাথে আপনার নিরাপ্তা জড়িত।

আজকের দিনে ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক কাজে নিয়মিত ইন্টারনেট ব্যবহার একটি অপরিহার্য বিষয়। এই ইন্টারনেট জীবনকে করে তুলেছে সহজ। তবে ইন্টারনে যেমন সুফল বয়ে এনেছে তেমনি এর আছে ক্ষতিকর হাজারো প্রভাব। বর্তমানে আপনি যে ইন্টারনেট ব্যবহার করে লেখাটি পড়ছেন, তা কি আপনার জন্য নিরাপদ? নিরাপত্তা নিশ্চিতে আপনার কোন ঘারটি নেই তো? আজকের এই লেখায় সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে আলোচনা করবো-

সাইবার সিকিউরিটি কি?

সাইবার সিকিউরিটি বলতে মূলত ডিজিটাল জগতে যেসক কর্মকান্ড তথ্য ও নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাকেই বুঝায়। ইন্টারনেটে হ্যাকিং বা ম্যালওয়ার অ্যাটাক থেকে বাচতে যেসব ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হয় তা সবই সাইবার সিকিউরিটির মধ্যে পড়ে।

এখানে সাইবার বলতে বুঝায় কম্পিউটার, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, তথ্য প্রযুক্তি এবং ভার্চুয়াল জগত আর সিকিউরিটি বলতে বুঝায় নিরাপত্তা। মূলত কম্পিউটার, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ডাটা ইত্যাদির নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হল সাইবার সিকিউরিটি এর কাজ। সাইবার সিকিউরিটি বলতে বুঝায় আমরা যেসকল প্রযুক্তি , কর্মকান্ড ও মেশিন দিয়ে বিভিন্ন নেটওয়ার্ক, ডিভাইস, প্রোগ্রাম এবং তথ্য সুরক্ষা দিয়ে থাকি । মূলত ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড এ আমরা যেসব কর্মকান্ডের মাধ্যমে তথ্য এবং নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা ভ্যালিডেট করি বা নিশ্চিত করি তাই হল সাইবার সিকিউরিটি।

কিভাবে আপনি সাইবারে আক্রমনের শিকার হতে পারেন?

হ্যাকারের জন্য যদি আপনি আপনার ডিবাইসে ভারনাবিলিটি বা নিরাপত্তা ক্রটি রেখে দেন তাহলে সাইবার নিরপত্তা হুমকিতে আছেন। হ্যাকার কর্তৃক আপনি কিভাবে আক্রান্ত হলেন তার উপর ভিত্তি করে সাইবার এটাককে বেশ কয়েক ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।

১) ব্যক্তিগত তথ্যে আক্রমন: হ্যাকার আপনার ব্যক্তিগত তথ্য চুরির মাধ্যমে আপনার ব্যাংক একাউন্ট, ক্রেডিট কার্ডের গোপন নাম্বার চুরি করলে তা ব্যক্তিগত তথ্যে আক্রমন বলে ধরা হয়। হ্যাকারা আপনার ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিয়ে তা ওয়েবসাইটের কালবাজার বলে খ্যাত ডার্ক ওয়েবে সেল করে দেয়। এমটি হলে আপনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে যেতে পারে।

২) এটাক অন ইন্টেগ্রিটি: এই ধরনের আক্রমনের মাধ্যমে হ্যাকার বা সাইবার ক্রিমিনাল আপনার তথ্যগুলো প্রকাশ করে দিতে পারে। এর মাধ্যমে সাইবার ক্রিমিনালরা ইন্ডিভিজুয়াল কারো ক্ষতি করে থাকে। সেই ব্যক্তি বা তার প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে এই আক্রমন হয়ে থাকে।

৩) এটাক অন এভেইলএবলিটি: এক্ষেত্রে সাইবার ক্রিমিনাল আপনার এক্সেস অবরুদ্ধ করে দিতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনার কম্পিউটার বা ডিভাইসে থাকা সকল কিছুর বন্ধ হয়ে যাবে। আপনি কোন কিছুই আর ব্যবহার করতে পারবেন না। ইভেন আপনার সেভ করা কোন ওয়ার্ড ফাইলেও আর আপনার এক্সেস থাকবে না। তবে এক্ষেত্রে যদি পূর্বেই আপনি আপনার ডেটা বা ফাইলের ব্যাকআপন রাখেন তাহলে বেচে যেতে পারেন।

৪) ম্যালওয়ার: তথ্য প্রযুক্তি যুগে আপনাকে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন সাইটে ভিজিট করতে হচ্ছে, ক্লিক করতে হচ্ছে নানা লিংকে। সাইবার ক্রিমিনালরা ক্রটিযুক্ত সাইটে আপনার জন্য জাল বিছিয়ে রাখে। সাইবার ক্রিমিনাল সাধারণত ম্যালওয়ার দিয়ে বিভিন্ন এপপস বা সেবা প্রদানের আড়ালে আপনার ক্ষতি করে।

৫) ভালনারবিলিটি: ভালনারবিলিটি মানে হলো কোন কোড বা সার্ভারে সমস্যা থাকা। এই ভালনারিবিলিটিজনিত কোন সমস্যা আপনার ওয়েবসাইটে থাকলে হ্যাকারদের রাস্তা সহজ হয়ে যায় আপনার তথ্য চুরি করার জন্য।

৬) ফিশিং: ফিশিং সম্পর্কে আপনারা কমবেশি সবাই জানেন, নাম না জানলেও এর কবলে পড়েছেন আপনারা। বিষয়টি এমন, মাঝে মাঝে কোন ব্রাউজার অপেন করলে সেখানে অন্য একটি সাইটের লগ ইন পেজ শো করছে। আপনারা যখনই হ্যাকারদের তৈরি করা সাইটে আপনার ইমেইল আর পাসওয়ার্ড দিয়ে দিলেন তখনি সেই ইনফরমেশন তার কাছে চলে গেল। আপনি পড়ে গেলেন সাইবার ক্রিমিনালের খপ্পরে।

৭) ব্যাকডোরঃ ব্যাকডোর বলতে পিছনের দরজা বুঝানো হয়। আপনারা অনেক সময় বিভিন্ন ফ্রি সফটওয়্যার ব্যবহার করার জন্য ডাউনলোড করেন। তখনি সেসব লিংকে হ্যাকাররা শিকার করার জন্য বসে থাকে।

কিভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন?

আপনি যদি সাইবার জগত সম্পর্কে খুববেশি নাও জানেন তাতে সমস্যা নেই। তবে আপনাকে অবশ্যই কিভাবে নিজেকে নিরাপদ রাখতে হয় তা জানা আবশ্যক। একজন সাধারণ ব্যবহারকারী হিসেবে নিজেকে সিকিউর রাখতে কিছু তথ্য জানা প্রয়োজন। তাই অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে মেনে চলতে পারেন নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো-

>> আপনার নিজস্ব ওয়েবসাইট থাকলে সেই ওয়েবসাইটের ইনফরমেশন চুরি হতে পারে। যেহেতু ইন্টারনেট কখনই শতভাগ নিরাপদ না। তাই ব্যাকআপ তৈরি করে রাখুন। যাতে সাইবার ক্রিমিনালের হাত থেকে আপনার তথ্য নিরাপদ থাকে।

>> আর্থিক লেনদেনের সাথে জড়িত কোম্পানিগুলো সাধারণত হ্যাকারদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। তাই যেখানে সেখানে লগিন করা থেকে বিরত থাকুন।

>> ফ্রি পাব্লিক ওয়াই ফাই ব্যাবহারে বিরত থাকুন।

>> ওয়েবসাইট বা এপপসে আপনার পাসওয়ার্ড সেভ করে রাখা থেকে বিরত থাকুন।

>> অপরিচিত লিঙ্ক বা ওয়েবসাইট ব্যাবহার থেকে বিরত থাকুন।

>> ক্র্যাক সফটওয়্যার থেকে বিরত থাক।

সাইবার সিকিউরিটি কোন আতঙ্কের নাম নয়। একটু সচেতন থাকলেই সাইবার জগন আপনার জন্য নিরাপদ হয়ে উঠতে পারে। তাই সকলের মধ্যে সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে প্রতিরোধ মনোভাব জাগ্রত করুন। ২০০৬ সালে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে সাইবার ক্রিমিনালদের শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাই সাইবার ক্রিমিনাল আপনার ঘরে হানা দেওয়ার আগেই এই বিষয়ে সতর্ক হয়ে উঠুন। প্রতারকদের হাত থেকে নিজেদের বাঁচান  এবং পরিবারের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করুন।

পাঠকের পছন্দ

মন্তব্য করুন