The Rising Campus
News Media
বৃহস্পতিবার, ২রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

সড়ক দুর্ঘটনায় যবিপ্রবি শিক্ষার্থী নিহত,শিক্ষার্থীদের ৭ দফা দাবী

যবিপ্রবি প্রতিনিধি: সড়ক দুর্ঘটনায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পেট্রোলিয়াম এন্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফারজানা ইয়াসমিন সুমি নিহত হওয়ার ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

রোববার (১ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে যশোর-চৌগাছা সড়কে চুড়ামনকাঠি রেলক্রসিংয়ের পাশে ইট ভাটার সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিকেল সোয়া ৪টার দিকে বিএডিসির একটি ট্রাক (যশোর-ট-১৩৯৪) চৌগাছামুখি যাত্রীবাহী ভ্যানে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই যশোর সদরের কমলাপুর গ্রামের আমজাদ হোসেনের স্ত্রী জোহরা বেগম (৫০) এবং বাগডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে ভ্যানচালক মাসুম (৩৫), যবিপ্রবির পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ফারজানা আক্তার সুমিকে যশোর সদর হাসপাতালে নিলে কর্মরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর শিক্ষার্থী শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মোতাসিন বিল্লাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এঘটনার পর সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়।এসময় তাঁরা ৭ দফা দাবী পেশ করেন।

দাবিগুলো হলো- ১) দুর্ঘটনার সুষ্ঠু বিচার, ২)আহতদের সুচিকিৎসা ও নিহতদের এককোটি টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান,৩)চুড়ামনকাঠি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সড়ক নিরাপদ রাখার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া,৪) আমবটতলাবাজার থেকে বেলতলা পর্যন্ত ফুটপাত নির্মাণ,৫) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে কমপক্ষে ৪ টি স্পীড ব্রেকার দেয়া,৬) গতিসীমা-নির্ধারক সাইনবোর্ড দেয়া,৭)বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে চার লেইন উত্তীর্ণকরন।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আফিকুর রহমান অয়ন বলেন, রাস্তায় মোবাইল কোর্ট বসিয়ে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।ইতিপূর্বে বিভিন্ন সময়ে আমাদের বন্ধু, ছোট ভাই এই বেপরোয়া যানবাহনের জন্য মারা গেছে। আজকে আমাদের এক বোন চলে গেলো, আমরা চাইনা আর কাউকে হারাতে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতিপূর্বে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ পক্ষ কে অবহিত করলেও তাঁরা অবহেলা করেছে। আমাদের সকল দাবী মেনে না নিলে যশোর চুড়ামনকাঠি সড়ক অবরোধ করে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা করা হবে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের ৭ দফা দাবির মেনে নিয়ে একাত্মতা ঘোষণা করেছে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আনোয়ার হোসেন।

উপাচার্যের আশ্বাসে আন্দোলন সাময়িক স্থগিত ঘোষণা করেছে যবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা।তবে দাবী আদায় না হলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তাঁরা ।

0
You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.

  1. হোম
  2. ক্যাম্পাস
  3. সড়ক দুর্ঘটনায় যবিপ্রবি শিক্ষার্থী নিহত,শিক্ষার্থীদের ৭ দফা দাবী

সড়ক দুর্ঘটনায় যবিপ্রবি শিক্ষার্থী নিহত,শিক্ষার্থীদের ৭ দফা দাবী

যবিপ্রবি প্রতিনিধি: সড়ক দুর্ঘটনায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পেট্রোলিয়াম এন্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফারজানা ইয়াসমিন সুমি নিহত হওয়ার ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

রোববার (১ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে যশোর-চৌগাছা সড়কে চুড়ামনকাঠি রেলক্রসিংয়ের পাশে ইট ভাটার সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিকেল সোয়া ৪টার দিকে বিএডিসির একটি ট্রাক (যশোর-ট-১৩৯৪) চৌগাছামুখি যাত্রীবাহী ভ্যানে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই যশোর সদরের কমলাপুর গ্রামের আমজাদ হোসেনের স্ত্রী জোহরা বেগম (৫০) এবং বাগডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে ভ্যানচালক মাসুম (৩৫), যবিপ্রবির পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ফারজানা আক্তার সুমিকে যশোর সদর হাসপাতালে নিলে কর্মরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর শিক্ষার্থী শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মোতাসিন বিল্লাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এঘটনার পর সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়।এসময় তাঁরা ৭ দফা দাবী পেশ করেন।

দাবিগুলো হলো- ১) দুর্ঘটনার সুষ্ঠু বিচার, ২)আহতদের সুচিকিৎসা ও নিহতদের এককোটি টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান,৩)চুড়ামনকাঠি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সড়ক নিরাপদ রাখার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া,৪) আমবটতলাবাজার থেকে বেলতলা পর্যন্ত ফুটপাত নির্মাণ,৫) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে কমপক্ষে ৪ টি স্পীড ব্রেকার দেয়া,৬) গতিসীমা-নির্ধারক সাইনবোর্ড দেয়া,৭)বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে চার লেইন উত্তীর্ণকরন।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আফিকুর রহমান অয়ন বলেন, রাস্তায় মোবাইল কোর্ট বসিয়ে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।ইতিপূর্বে বিভিন্ন সময়ে আমাদের বন্ধু, ছোট ভাই এই বেপরোয়া যানবাহনের জন্য মারা গেছে। আজকে আমাদের এক বোন চলে গেলো, আমরা চাইনা আর কাউকে হারাতে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতিপূর্বে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ পক্ষ কে অবহিত করলেও তাঁরা অবহেলা করেছে। আমাদের সকল দাবী মেনে না নিলে যশোর চুড়ামনকাঠি সড়ক অবরোধ করে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা করা হবে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের ৭ দফা দাবির মেনে নিয়ে একাত্মতা ঘোষণা করেছে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আনোয়ার হোসেন।

উপাচার্যের আশ্বাসে আন্দোলন সাময়িক স্থগিত ঘোষণা করেছে যবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা।তবে দাবী আদায় না হলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তাঁরা ।

পাঠকের পছন্দ

মন্তব্য করুন