The Rising Campus
Education, Scholarship, Job, Campus and Youth
রবিবার, ১৪ই এপ্রিল, ২০২৪

শিশুদের সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটাতে খুবির গবেষণা প্রকল্প

শিশুদের সৃজনশীল ও বিশ্লেষণাত্মক চিন্তার বিকাশ ঘটাতে স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের সক্রিয় শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে খুলনার দুই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষণীয় ও সৃজনশীল দেয়াল চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে খুবির নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা (ইউআরপি) ডিসিপ্লিন। আজ সোমবার সকাল ১০টায় খুলনার ৫ নম্বর ঘাট সংলগ্ন এরশাদ আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে শিক্ষণীয় ও সৃজনশীল দেয়াল চিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরবর্তীতে বেলা ১১টায় নগরীর লবণচরায় ইসলামপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেয়াল চিত্র প্রদর্শিত হয়।

শিশুদের মনজাগতিক বিকাশ ও বিশ্লেষণাত্মক চিন্তার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাসটেইনেবল হেলথদি, লার্নিং সিটিস অ্যান্ড নেইবারহুডসের (এসএইচএলসি) এক আন্তর্দেশীয় গবেষণা প্রকল্পের আওতায় এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে জানা যায়।

এসএইচএলসি প্রকল্পের ইন-কান্ট্রি কো-ইনভেস্টিগেটর অধ্যাপক তানজিল সওগাত এর সভাপতিত্বে খুলনার জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।

এ সময় খুলনার জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার খুবির এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, ‘শিশুদের সৃজনশীলতা বিকাশের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আরও বলেন, কাউকে পেছনে ফেলে নয় বরং সবাইকে সঙ্গে নিয়েই টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করে যেতে হবে।’

প্রকল্প পরিচালক ড. শিল্পী রায়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সাদিকুর রহমান খান এবং অন্যতম অতিথি হিসেবে এরশাদ আলী স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সামসুল আলম মিয়া স্বপন উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে সরেজমিনে দেখা যায়, চিত্রকর্ম গুলিতে তাদের এলাকার স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং নগরায়ণের বিভিন্ন সমস্যাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া স্কুলগুলোর সীমানাপ্রাচীর, শ্রেণিকক্ষের দেয়াল, ছাদ ও মেঝেজুড়ে বিভিন্ন প্রাণীদের ছবি আঁকা হয়েছে। তার পাশেই বিভিন্ন বর্ণের নাম দিয়ে শিক্ষার্থীদের ওই বর্ণের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া স্কুলের ছাদে বিভিন্ন ধরনের আকৃতির মাধ্যমে সৌরজগতের সকল গ্রহ, ছবির মাধ্যমে প্রকৃতিতে গাছের অবদান এবং পিরামিড একে প্রয়োজনীয় খাদ্যতালিকার চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

শ্রাবণী নামের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, ‘চিত্রাঙ্কন কর্মশালায় অনেক রং দিয়ে ছবি আঁকা অনেক আনন্দের ছিল। আমরা এখন থেকে খেলতে খেলতে শিখব।’

এ বিষয়ে গবেষণা প্রকল্পের বাংলাদেশ অংশের প্রকল্প পরিচালক ও খুবির ইউআরপি ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক ড. শিল্পী রায় জানান, ‘স্কুল কার্যক্রমে শিশুদের সৃজনশীল অংশগ্রহণ এবং তাদের পারিপার্শ্বিক পরিবেশ সম্পর্কে মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়ন প্রশংসাযোগ্য। এ ধরনের কার্যক্রম গবেষণা পরিমণ্ডলকে বিস্তৃত ও সমৃদ্ধ করবে। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে টেকসই নগরায়ণের বার্তা পৌঁছে দেবে।’

উল্লেখ্য, এসএইচএলসি একটি আন্তর্দেশীয় গবেষণা প্রকল্প, যার আওতায় খুবির নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা ডিসিপ্লিন উন্নয়নশীল দেশগুলির স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং নগরায়ণের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর টেকসই সমাধান নিয়ে গত চার বছর কাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের খুলনার প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের শিশুদের স্কুলে সক্রিয় শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করার জন্য স্কুলে দেয়াল-চিত্রাঙ্কন এবং শিশুদের জন্য গত দুই মাস ব্যাপী চিত্রাঙ্কন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.

  1. প্রচ্ছদ
  2. ক্যাম্পাস
  3. শিশুদের সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটাতে খুবির গবেষণা প্রকল্প

শিশুদের সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটাতে খুবির গবেষণা প্রকল্প

শিশুদের সৃজনশীল ও বিশ্লেষণাত্মক চিন্তার বিকাশ ঘটাতে স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের সক্রিয় শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে খুলনার দুই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষণীয় ও সৃজনশীল দেয়াল চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে খুবির নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা (ইউআরপি) ডিসিপ্লিন। আজ সোমবার সকাল ১০টায় খুলনার ৫ নম্বর ঘাট সংলগ্ন এরশাদ আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে শিক্ষণীয় ও সৃজনশীল দেয়াল চিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরবর্তীতে বেলা ১১টায় নগরীর লবণচরায় ইসলামপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেয়াল চিত্র প্রদর্শিত হয়।

শিশুদের মনজাগতিক বিকাশ ও বিশ্লেষণাত্মক চিন্তার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাসটেইনেবল হেলথদি, লার্নিং সিটিস অ্যান্ড নেইবারহুডসের (এসএইচএলসি) এক আন্তর্দেশীয় গবেষণা প্রকল্পের আওতায় এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে জানা যায়।

এসএইচএলসি প্রকল্পের ইন-কান্ট্রি কো-ইনভেস্টিগেটর অধ্যাপক তানজিল সওগাত এর সভাপতিত্বে খুলনার জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।

এ সময় খুলনার জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার খুবির এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, 'শিশুদের সৃজনশীলতা বিকাশের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আরও বলেন, কাউকে পেছনে ফেলে নয় বরং সবাইকে সঙ্গে নিয়েই টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করে যেতে হবে।'

প্রকল্প পরিচালক ড. শিল্পী রায়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সাদিকুর রহমান খান এবং অন্যতম অতিথি হিসেবে এরশাদ আলী স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সামসুল আলম মিয়া স্বপন উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে সরেজমিনে দেখা যায়, চিত্রকর্ম গুলিতে তাদের এলাকার স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং নগরায়ণের বিভিন্ন সমস্যাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া স্কুলগুলোর সীমানাপ্রাচীর, শ্রেণিকক্ষের দেয়াল, ছাদ ও মেঝেজুড়ে বিভিন্ন প্রাণীদের ছবি আঁকা হয়েছে। তার পাশেই বিভিন্ন বর্ণের নাম দিয়ে শিক্ষার্থীদের ওই বর্ণের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া স্কুলের ছাদে বিভিন্ন ধরনের আকৃতির মাধ্যমে সৌরজগতের সকল গ্রহ, ছবির মাধ্যমে প্রকৃতিতে গাছের অবদান এবং পিরামিড একে প্রয়োজনীয় খাদ্যতালিকার চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

শ্রাবণী নামের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, 'চিত্রাঙ্কন কর্মশালায় অনেক রং দিয়ে ছবি আঁকা অনেক আনন্দের ছিল। আমরা এখন থেকে খেলতে খেলতে শিখব।'

এ বিষয়ে গবেষণা প্রকল্পের বাংলাদেশ অংশের প্রকল্প পরিচালক ও খুবির ইউআরপি ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক ড. শিল্পী রায় জানান, 'স্কুল কার্যক্রমে শিশুদের সৃজনশীল অংশগ্রহণ এবং তাদের পারিপার্শ্বিক পরিবেশ সম্পর্কে মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়ন প্রশংসাযোগ্য। এ ধরনের কার্যক্রম গবেষণা পরিমণ্ডলকে বিস্তৃত ও সমৃদ্ধ করবে। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে টেকসই নগরায়ণের বার্তা পৌঁছে দেবে।'

উল্লেখ্য, এসএইচএলসি একটি আন্তর্দেশীয় গবেষণা প্রকল্প, যার আওতায় খুবির নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা ডিসিপ্লিন উন্নয়নশীল দেশগুলির স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং নগরায়ণের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর টেকসই সমাধান নিয়ে গত চার বছর কাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের খুলনার প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের শিশুদের স্কুলে সক্রিয় শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করার জন্য স্কুলে দেয়াল-চিত্রাঙ্কন এবং শিশুদের জন্য গত দুই মাস ব্যাপী চিত্রাঙ্কন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

পাঠকের পছন্দ

মন্তব্য করুন