The Rising Campus
Education, Scholarship, Job, Campus and Youth
বুধবার, ২৬শে জুন, ২০২৪

লক্ষ্মীপুরে সুপারির ব্যবসায় হাজার কোটি টাকা ব্যবসার সম্ভাবনা

নারকেল-সুপারিতে ভরপুর মেঘনা উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুর’- এই ব্যবসার সঙ্গে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিও জড়িত এই উপকূলীয় জনপদের। কারণ জেলার ৭ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে উৎপাদিত সুপারিতে ১ হাজার কোটি টাকারও বেশি লেনদেনের সম্ভাবনা  তৈরী হয়েছে। গাছ থেকে সুপারি পাড়া, বিক্রি ও সংরক্ষণের জন্য এই মৌসুমে জেলায় কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়। সুপারি উৎপাদনে দেশসেরা লক্ষ্মীপুর জেলা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম-খুলনা-ময়মনসিংহ সহ অন্যান্য বিভাগীয় ও জেলা শহরে পাঠানো হয় এখানকার সুপারি।

এবার উৎপাদিত একেকটি সুপারি দেড় থেকে দুই টাকা দরে বিক্রি করছেন কৃষকরা। ব্যবসায়ীরাও লাভের আশায় সুপারি কিনে মজুত করছেন প্রচুর পরিমানে। তবে বিভিন্ন কারণে ব্যবসায়ীদের মাঝে লাভের চেয়ে লোকসানের আশঙ্কা বেশি দেখা যাচ্ছে। গেল বার লোকসান সম্মুখিন হওয়ায় এবারও তারা সেই শঙ্কায় ভুগছেন। জেলা শহরের উত্তর তেমুহনী ও সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়নের রসুলগঞ্জ বাজার ও দালাবাজারের প্রায় ১০ জন ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

অন্যদিকে এবার সারাদেশের মতো লক্ষ্মীপুরেও বৃষ্টি কম হয়েছে। ফলে সুপারি আকারে একটু ছোট হয়েছে। উৎপাদনও তুলনামুলকভাবে কম হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। তবে সুপারির দাম কমেনি। স্বল্প সুপারিতে কৃষকরা প্রচুর লাভবান হয়েছে। অধিকাংশ সুপারি বাগান কারো পরিকল্পিত সৃষ্টি নয়। এসব সুপারি গাছ পূর্ব পুরুষের লাগানো এবং বাড়ির আশপাশে ছড়িয়ে থাকা গাছ থেকেই উৎপাদিত এই বিপুল পরিমান সুপারি। তবে কিছু সচেতন ব্যক্তি রয়েছেন, যারা বছরে একাধিকবার গাছ ও বাগানের আগাছা পরিষ্কার করেন। এছাড়াও গাছের আশপাশে সার ব্যবহার করেন যার ফলে সুপারির উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

লক্ষ্মীপুর পৌরসভা ও রসুলগঞ্জ এলাকার পাঁচ ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পুরো জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে তারা সুপারি সংগ্রহ করেন। একেকটি সুপারি দুই টাকা পর্যন্ত কিনতে হয়েছে। আকার অনুযায়ী প্রতি পোণ (৮০) সুপারি ১৩০-১৮০ টাকা পর্যন্ত কিনেছেন তারা। এতে প্রতি কাউন (১৬ পোন) সুপারি ২৫০০-২৬০০ টাকা পড়েছে। তারা সুপারি ভিজিয়ে ও শুকিয়ে বিক্রি করে থাকেন। এসব প্রক্রিয়াজাত করতে প্রতি কাউন সুপারিতে আরও ২-৩ হাজার টাকা খরচ পড়ে। এবার জেলায় বৃষ্টি কম হওয়ায় সুপারি উৎপাদন কম হয়েছে। এজন্য বাজারে সুপারি কম, দামও বেশি। গত বার তারা বেশি দামে সুপারি ক্রয় করলেও, লোকসানে বিক্রি করতে হয়েছে। এবারও দাম কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অক্টোবর থেকে জানুয়ারি সুপারির মৌসুম। তবে অক্টোবরের শেষ সময় থেকে নভেম্বরের শেষ সময় পর্যন্ত সুপারি সবচেয়ে বেশি সংগ্রহ করা হয়। লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ, রায়পুর, সদর, রামগতি ও কমলনগর উপজেলার প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় সুপারি বিক্রি করতে দেখা যায় কৃষক ও গৃহস্থদের। আর সাপ্তাহিক হাটগুলো জমে ওঠে সুপারি ব্যবসায়ী ও কৃষকদের উপস্থিতিতে। গ্রামের গৃহবধূদেরকেও সুপারি বিক্রি করতে হাটে দেখা যায়।

সুপারির বড়বাজার গুলোর মধ্যে রয়েছে রায়পুর উপজেলার হায়দরগঞ্জ, খাসেরহাট, মোল্লারহাট, মান্দারি, কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট, মিতালীবাজার, পানপাড়া,  আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ, রামগঞ্জ উপজেলার মীরগঞ্জ, রসুলগঞ্জ, চন্দ্রগঞ্জ, কাঞ্চনপুর, দল্টা, সদর উপজেলার দালালবাজার, রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডারের সবচেয়ে বড় অস্থায়ী সুপারির বাজার বসে। চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা লক্ষ্মীপুরে এসে সুপারি কিনে দেশের নানা প্রান্তে নিয়ে যান। সেখান থেকে আবার বিদেশেও পাঠান আড়তদাররা।

সদর উপজেলার রসুলগঞ্জ বাজার এলাকার বাসিন্দা মাঈন উদ্দিন চৌধুরী জানান, তার প্রায় ৫ একর জমিতে তার সুপারি বাগান রয়েছে। গত বছর তিনি প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার সুপারি বিক্রি করেছেন। এবার উৎপাদন তুলনামুল কম হয়েছে। ফলে এবার প্রায় চার লাখ টাকার সুপারি বিক্রি করতে পেরেছেন। পূর্ব-পুরুষের লাগানো গাছ হলেও তিনি বাগান পরিপূর্ণ পরিচর্যা করেন।

মৌসুমী সুপারি ব্যবসায়ী মাসুদ খান বলেন, এবার ৮০ হাজার টাকায় একটি সুপারি বাগান লিজ নিয়েছিলাম। কিন্তু বৃষ্টি না হওয়ায় উৎপাদন কম হয়েছে। ওই বাগান থেকে আমি মাত্র ২০ হাজার টাকার সুপারি বিক্রি করতে পেরেছি। এছাড়া ব্যবসার উদ্দেশ্যে ৩০০ কাউন সুপারি কিনে সংরক্ষণ করেছি। প্রতি কাউন সুপারি ২৬০০ টাকা পড়েছে।

জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, লক্ষ্মীপুরে ৭ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে সুপারি বাগান রয়েছে। এবার সুপারি থেকে হাজার কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। সুপারি থেকে গেল বছর প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা আয় করেছে লক্ষ্মীপুরের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। সদর উপজেলার পশ্চিমাঞ্চল ও রায়পুর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি সুপারি উৎপাদন হয়। এখানে উৎপাদিত সুপারিগুলো ভিজিয়ে ও শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। যা সারাবছর ধরে বিক্রি হয়।

আরও পড়ুন: ব্রাজিলের পতাকা টাঙাতে গিয়ে কক্সবাজারে কিশোরের মৃত্যু

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.