শিরোনাম
যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষা রিচ অক্সফোর্ড স্কলারশিপ
যুক্তরাজ্যে অবস্থিত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বৈশ্বিক র্যাঙ্কিং অনুসারে প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি। বিশ্ববিদ্যালয়টিকে ইংরেজি ভাষাভাষী জগতের সবচেয়ে পুরোনো বিশ্ববিদ্যালয় বলা হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন আর্থসামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক পরিবেশের শিক্ষার্থীদের অধ্যয়নের সুযোগ দেওয়ার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অক্সফোর্ডে গাঁটের পয়সা খরচ করে পড়াশোনা করা বেশ ব্যয় বহুল। তবে শিক্ষার্থীদের এমন বৈচিত্র্য নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্কলারশিপ দেওয়া হয়; যাতে আর্থিক প্রতিবন্ধকতার কারণে কারও উচ্চশিক্ষা বাধাগ্রস্ত না হয়। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত তেমনই একটি স্কলারশিপ হলো ‘রিচ অক্সফোর্ড স্কলারশিপ’। এর আওতায় শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফ করা হয়। এ ছাড়া নানান সুযোগ-সুবিধাও দেওয়া হবে। এই স্কলারশিপটি কেবল স্নাতকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এই স্কলারশিপের সময়সীমা ৩ থেকে ৪ বছর।
যেসব বিষয়ে আবেদন করা যাবে
আর্কিওলজি; বায়োকেমিস্ট্রি; বায়োলজি; বায়োমেডিকেল
সায়েন্স; রসায়ন; ইতিহাস;
কম্পিউটার সায়েন্স;
আর্থ সায়েন্স; ইকোনমিকস;
ইংলিশ লিটারেচার; চারুকলা;
আইন; গণিত; মেডিসিন;
ভাষাতত্ত্ব; সংগীত; দর্শন; পদার্থবিজ্ঞান;
অর্থনীতি ও ব্যবস্থাপনা
সুযোগ-সুবিধা
সম্পূর্ণ কোর্স ফি মওকুফ করা হবে। জীবনযাত্রার খরচ বাবদ মাসিক উপবৃত্তি প্রদান করা হবে। প্রতিবছর বিমানে আসা-যাওয়ার টিকিট প্রদান করা হবে। আবেদনের যোগ্যতা
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তির অফার পেতে হবে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে হবে। আবেদনকারীদের সর্বোচ্চ একাডেমিক অবস্থান থাকতে হবে। প্রার্থীকে তাঁর পড়াশোনা শেষ করার পর তাঁদের দেশে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করতে হবে। যে আবেদনকারী কখনো স্নাতক স্তরে পড়াশোনা করেননি, তাঁকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আবেদনের প্রক্রিয়া
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় কয়েকটি কলেজের সমন্বয়ে গঠিত। স্নাতকে যখন আবেদন করবেন, তখন আপনাকে নির্দিষ্ট কলেজে আবেদন করতে হবে, সরাসরি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা যায় না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা, গবেষণাগার ও কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরিচালনা করে। অর্থাৎ বিষয় নির্বাচন করার পর আপনাকে খুঁজতে হবে কোন কোন কলেজ আপনার পছন্দের বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করে।
যদি আপনি রসায়ন নিয়ে পড়তে চান, তাহলে রসায়ন যেসব কলেজে পড়ানো হয়, সেগুলো থেকে আপনাকে কলেজ নির্বাচন করতে হবে। প্রতিটি কলেজে তারা যেসব বিষয় পড়ায়, সেগুলোর জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন থাকে।
তাই রসায়নের জন্য যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁদের সবার সঙ্গে আপনাকে প্রতিযোগিতা করতে হবে না; বরং যাঁরা রসায়নে পড়ার জন্য ওই কলেজে আবেদন করবেন, শুধু তাঁদের সঙ্গেই আপনাকে প্রতিযোগিতা করতে হবে। ওয়েবসাইট: https://
oxfordsummercourses.com/apply/
আবেদনের শেষ সময়:
৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২
শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার’, স্বাধীনতা শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের নিন্দা
চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে ‘শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির বিরুদ্ধে একটি মহলের ষড়যন্ত্র ও কাল্পনিক অপপ্রচারে’ গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দেশের শিক্ষক কর্মচারীদের বৃহৎ জোট 'স্বাধীনতা শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশন'।
শুক্রবার বিকেলে স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ (স্বাশিপ) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও স্বাধীনতা শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশনের প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান আলম সাজু।
সভায় বক্তারা বলেন, সফল রাষ্ট্র নায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অত্যন্ত সফলভাবে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করে বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয়েছে। অতিমারি করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিক্ষাখাত। যে মুহূর্তে শিক্ষামন্ত্রী চরম বিপর্যস্ত এই খাতকে একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করানোর জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সে মুহূর্তে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি ক্রয়ের সঙ্গে নিজের ও পরিবারের কোনরূপ সম্পৃক্ততা না থাকা সত্বেও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করে জনমনে বিভ্রান্ত ছড়ানো হচ্ছে। এতে শুধু শিক্ষামন্ত্রীই নন প্রকারন্তে সরকারের ভাবমর্যাদাও ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে।
এ সময় বক্তারা এহেন মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা জানান এবং শিক্ষাকে জাতীয়করণসহ এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে একটি টেকসই শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য মন্ত্রী যে লড়াই করে যাচ্ছেন তাতে স্বাধীনতা শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন সর্বদা তার পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার করেন।
সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ অধ্যক্ষ পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ মোনতাজ উদ্দিন মর্তুজা, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ নুর হোসেন, বাংলাদেশ বেসরকারি কারিগরি শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিন বাবুল ও সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মোকসেদুর রহমান, স্বাধীনতা মাদরাসা শিক্ষক পরিষদের সভাপতি আবু নাইম মো. মোস্তাফিজুর রহমান, যুগ্ম-সম্পাদক অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান, প্রধান শিক্ষক পরিষদের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি কামরুজ্জামান মাসুদ, সাধারণ সম্পাদক এ কে এম ওবায়দুল্লাহ, বাংলাদেশ মাদরাসা জেনারেল টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হারুন অর রশিদ, স্বাধীনতা স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম ফরায়েজি, স্বাধীনতা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি এম আরজু, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান, স্বাধীনতা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্মচারী পরিষদের সভাপতি শাহজাহান খান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ, স্বাশিপ কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি প্রফেসর সাজিদুল ইসলাম, যুগ্ম-সম্পাদক সাইদুর রহমান পান্না, উপাধ্যক্ষ হরিচাঁদ মন্ডল সুমন, অধ্যক্ষ সলিম উল্লাহ সেলিম ও দপ্তর সম্পাদক ইকবাল হোসেন প্রমুখ।
এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের সময় পেছাচ্ছে
ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের কথা থাকলেও সেটি পেছানো হতে পারে। ফল তৈরির কাজ এখনো শেষ করতে না পারায় এটি পেছানো হতে পারে।
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ৯টি সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে নম্বর পাঠানোর কাজ শেষ হয়েছে। এখন কেন্দ্রীয়ভাবে সফটওয়্যারের মাধ্যমে সার্বিক ফল তৈরির কাজ চলছে। করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ফল তৈরির কাজে কিছুটা ধীরগতি এসেছে। অর্ধেক জনবল নিয়ে এই কাজ করতে হচ্ছে। এজন্য নির্ধারিত সময়ে ফল তৈরির কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না।
সূত্র আরও জানায়, সামগ্রিক ফল তৈরির পর তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হবে। এরপর মন্ত্রণালয় থেকে তিনটি তারিখ নির্বাচন করে তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী যেদিন সময় দেবেন সেদিনই ফল প্রকাশ করা হবে। তবে এবার এই প্রক্রিয়া এখনো শুরুই হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা বোর্ডের এক কর্মকর্তা রবিবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এইচএসসি পরীক্ষার ফল তৈরির কাজ চলছে। ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে ফল প্রকাশের কথা থাকলেও সেটি সম্ভব হবে না। আমাদের অনেক কাজ বাকি রয়েছে। এই কাজগুলো শেষ করতে কিছুটা সময় লাগবে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড সভাপতি ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর নেহাল আহমেদ বলেন, এইচএসসি পরীক্ষার ফল এখনো প্রস্তুত হয়নি। কিছু কাজ বাকি আছে। সেগুলো দ্রুত শেষ করার জন্য বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত গত ২ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়ে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলে তত্ত্বীয় পরীক্ষা। চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থী প্রায় ১৪ লাখ। গতবারের চেয়ে পরীক্ষার্থী বেড়েছে ৩৩ হাজার ৯০১ জন।
ঢাবির হলগুলোতে বেড়েছে সর্দি-কাশি ‘রুমমেটরা আতঙ্কিত হতে পারে, তাই অনেকে টেস্ট করাচ্ছে না’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আবাসিক হলগুলোর অধিকাংশ শিক্ষার্থীই ‘সর্দি-কাশি’তে ভুগছেন। করোনার প্রাথমিক লক্ষণ হলেও শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই বিষয়টিকে দেখছেন সিজনাল ফ্লু হিসেবে। হল প্রশাসন বলছে করোনা টেস্ট করাচ্ছে এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা হাতেগোনা।
রবিবার (২৯ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি সর্দি-কাশির চিকিৎসা নিতেই আসছে অধিকাংশ শিক্ষার্থী।
স্যার এ এফ রহমান হলের শিক্ষার্থী আবদুর রহিম বলেন, ‘কয়েকদিন হালকা সর্দি-কাশি। ডাক্তার দেখাইনি। প্যারাসিটামল খাচ্ছি। করোনা তো এখন সিজনাল ফ্লু হয়ে গেছে। তাই আর আতঙ্কে নেই। যতটুকু পারছি স্বাস্থ্যবিধি মানার চেষ্টা করছি।’
আরেক শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘সর্দি-কাশি শীতকালে এমনিতে সবারই হয়। এ জন্য হলেই আছি। করোনা টেস্ট বাড়তি ঝামেলা মনে হচ্ছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শামসুন্নাহার হলের দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী বললেন, ‘হলে অনেকেরই সর্দি-কাশি রয়েছে। সবাই বিষয়টাকে স্বাভাবিকভাবেই নিচ্ছে। রুমমেটরা আতঙ্কিত হতে পারে, তাই অনেকে টেস্ট করাচ্ছে না। আবার, যার পজিটিভ আসবে, তাকে তো আইসোলেশনে থাকতে হবে।’
হলের শিক্ষার্থীরা করোনা টেস্ট কেমন করাচ্ছে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি ও বিজয় একাত্তর হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আবদুল বাছির বলেন, ‘করোনা টেস্ট করাচ্ছে খুবই কম। তবে এখন পর্যন্ত কোনও শিক্ষার্থী করোনা আক্রান্ত হয়ে হলে অবস্থান করছে বলে আমাদের জানা নেই। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাস্ক ব্যাবহার নিয়ে উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে। সর্দি-কাশিকে তারা সিজনাল ফ্লু হিসেবেই দেখছে। স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে তাদের আরও সচেতন হওয়া উচিত।’
শামসুন্নাহার হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক লাফিফা জামাল জানান, ‘হল প্রশাসনের কাছে নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই। অনেকেরই জ্বর-সর্দি-কাশি আছে। কেউ কেউ টেস্ট করাচ্ছে। যাদের পজিটিভ আসছে তারা বাড়িতে চলে যাচ্ছে। পজিটিভ হওয়ার পর হলে আছে এমন শিক্ষার্থী নেই।’
১০৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৮টিতেই নেই ভিসি-ট্রেজারার
ভিসি (ভাইস-চ্যান্সেলর), প্রো-ভিসি (ভাইস-চ্যান্সেলর) ও ট্রেজারার— যেকোন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম সঠিকভাবে চলতে এই তিনটি পদ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী, এ তিন পদে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর। কিন্তু অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বছরের পর বছর কাউকে নিয়োগ না দিয়ে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চালাচ্ছেন মালিকরা।
এদিকে, চ্যান্সেলর কর্তৃক এই তিন পদে নিয়োগ না দেওয়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে লাল তালিকাভুক্তি করার ঘোষণা দেওয়া হলেও তা বাস্তাবায়ন করেনি তদারক সংস্থা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। গত সেপ্টেম্বর মাসে এ ঘোষণা দেওয়ার ৫ মাস পরও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।
বর্তমানে দেশে ১০৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় চালু রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৪০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর কর্তৃক মনোনীত ভিসি-ট্রেজারার দুটি পদই রয়েছে। আর বাকি ৬৮টিতে দুটি পদই শূন্য। অন্যদিকে, শুধু প্রো-ভিসি পদ শূন্য ৮২টি বিশ্ববিদ্যালয়ে।
জানতে চাইলে ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগের সদস্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ বলেন, যেকোন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চ্যান্সেলর কর্তৃক মনোনীত ভিসি-ট্রেজারার থাকা জরুরি। সেটা না থাকলে তো চ্যান্সেলরের প্রতিনিধি হিসেবে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে কেউ আর থাকলো না। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনেও সেটাই বলা আছে। তবে প্রো-ভিসি না থাকলে আমরা কিছু বলি না। অনেক সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রো-ভিসির পদ শূন্য আছে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী, এ তিন পদে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয় চ্যান্সেলর। তবে প্রাথমিক কাজটি করে থাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ইউজিসির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছ থেকে প্রস্তাব আসার (প্যানেল) পর তারাই সরকারের কাছে এসব পদে নিয়োগের জন্য প্রস্তাব পাঠায়। সেটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে যায়।
আইন অনুযায়ী, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ এই তিন পদে নিয়োগ দিতে একেকটি পদের বিপরীতে তিনজন অধ্যাপকের নাম প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। সেগুলোর ইউজিসির মাধ্যমে যাচাই করে সরকারের উচ্চপর্যায়ে পাঠায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর হিসেবে রাষ্ট্রপতি একজনকে নিয়োগ দেন।
তবে দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ম না মেনে নিজেরাই এসব পদ ভারপ্রাপ্ত হিসেবে নিয়োগ দিয়ে বছরের পর বছর শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালায়। অভিযোগ রয়েছে, অনেক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যোগ্য ব্যক্তিদের প্যানেল সরকারের কাছে না পাঠিয়ে নিজেদের মতো করে একটি প্যানেল পাঠায়। পরে সেটি আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরত আসে। এরপর থমকে যায় এই নিয়োগ প্রক্রিয়া। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড এবং মালিকরা তাদের পছন্দের ব্যক্তিকে ভারপ্রাপ্তের দায়িত্ব দিয়ে কাজ চালিয়ে নেয়।
লাল তালিকায় ভিসি-ট্রেজারারবিহীন বিশ্ববিদ্যালয় থাকবে কিনা, জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ বলেন, এসব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সময় দেওয়া হয়েছিল। এরমধ্যে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি-ট্রেজারারের তালিকা পাঠিয়েছে, আবার অনেক পাঠায়নি। আগামীতে বসে আমরা এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো।
ভিসি-ট্রেজারার আছে যে ৪০ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনডিপেনডেন্ট ইউনির্ভাসিটি, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম, আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, লিডিং ইউনিভার্সিটি, বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি, সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, সিটি ইউনিভার্সিটি, নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, উত্তরা ইউনিভার্সিটি, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এন্ড টেকনোলজি, লিবারেল আর্টস বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ, ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি, জেড এইচ সিকদার বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয়, সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি, ফেনী ইউনিভার্সিটি, পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটি, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস, নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, রাজশাহী সাইন্স এন্ড টেকনোলজি ইউনিভার্সিটি, শেখ ফজিলাতুন্নোছা মুজিব ইউনিভার্সিটি, রণদা প্রসাদ সাহা বিশ্ববিদ্যালয়, গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি সৈয়দপুর, বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি, বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কুমিল্লা, ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি চট্টগ্রাম, বান্দরবান ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব বি. বাড়িয়া, ইউনিভার্সিটি অব স্কিল এনরিচম্যান্ট এন্ড টেকনোলজি এবং আরটিএম আল-কবির টেকনিক্যাল ইউনির্ভাসিটি।
প্রো-ভিসি আছে মাত্র ২৬ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রো-ভিসি আছে- নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম, আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, স্টেট ইউনির্ভাসিটি, নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, পুন্ড্র ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, গ্রীন ইউনিভার্সিটি, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ ইউনির্ভাসিটি অব বিজনেস এন্ড টেকনোলজি, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, লিবারেল আর্টস বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ, হামদর্দ ইউনিভার্সিটি, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন এন্ড টেকনোলজি, সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি, নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, চট্টগ্রাম।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য