শিরোনাম
জাবিতে ডিপ ইকোলজি এর নেতৃত্বে মোসাদ্দেক - ফারিয়া
জাবি প্রতিনিধি : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিপ ইকোলজি এন্ড স্নেক কনজারভেশন ফাউন্ডেশন এর আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী মোসাদ্দেকুর রহমানকে সভাপতি এবং ৪৯ ব্যাচের সৈয়দা অনন্যা ফারিয়াকে সেক্রেটারি করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৬মে) সকাল ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে সংগঠনের উপদেষ্টা সহযোগী অধ্যাপক ইখতিয়ার উদ্দিন ভূঁইয়া এ কমিটি ঘোষণা করেন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ডিপ ইকোলজি এন্ড স্নেক কনজার্ভেশন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোঃ মাহফুজুর রহমান।
নবগঠিত কমিটির সভাপতি মোসাদ্দেকুর রহমান বলেন, ডিপ ইকোলজি এন্ড স্নেক কনজারভেশন ফাউন্ডেশনের কাজ শুরু হয়েছিলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই। প্রথমে সাপ নিয়ে কাজ করলেও তা এখন অনেক বিস্তৃত হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি এই পৃথিবীর প্রত্যেক প্রাণীর বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। “সুস্থ পৃথিবীর জন্য প্রকৃতির সাথে সহাবস্থান” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সবার সহযোগিতায় সংগঠনের বিস্তৃতির এ ধারা অব্যাহত রাখতে চাই।
সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা অনন্যা ফারিয়া বলেন, ডিইএসসিএফ জাবি শাখার নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির হাত ধরে জাবিতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা আরো সুসংবদ্ধভাবে কাজ করতে পারব বলে আশা করছি।
এছাড়াও কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন হাসিব জামান, কোষাধ্যক্ষ আনিকা রাহী, দপ্তর সম্পাদক ওসমান সরদার, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মেহেরুন্নেসা নীলা এবং তিনজন নির্বাহী সদস্য যথাক্রমে সীজেন সরকার, মো. নাজমুল ইসলাম ও লাবীবা আহমেদ।
প্রশাসনের অগোচরে রাতের আধারে জবি ক্যাম্পাসের গাছ কর্তন
সাকিবুল ইসলাম, জবি প্রতিনিধি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজ এর প্রধান ফটকের পাশের গাছটি কেটে ফেলা হয়েছে। বিশালাকৃতির কাঠ লিচু গাছটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে না জানিয়ে কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ঈমাম সালাউদ্দীনের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করছে।
জানা যায়, বুধবার রাত নয়টার পর থেকে সারারাত ধরে গাছটি কাটা হয়। গত তিন পূর্বে নারিকেল গাছের ডালপালা কাটার অনুমতি নিয়ে কাঠ লিচু গাছটি কেটে ফেলা হয়েছে। মজবুত এ গাছটি কেটে টুকরো করে বিক্রির উপযোগী করে রাখা হয়েছে। গাছটির অল্প কিছু ডালপালা মসজিদের টিনের চালের ছাদের উপরে ছিলো। তবে অর্ধশত বছরের পুরনো গাছটি কোনো বড় ধরনের কারন ছাড়াই কেটে ফেলা হয়েছে বলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে সরজমিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম, বৃক্ষরোপণ ও কর্তন কমিটির সদস্যরা গাছ কাটার স্থানটি পরিদর্শন করেন এবং বিশ্বিবদ্যালয়ের উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষকে অবগত করেন। এ নিয়ে এরই মধ্যে শিক্ষার্থী সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মাঝেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গাছ কাটার কাজ পাওয়া লিটন জানান, বড় হুজুর (সালাউদ্দীন) আমাকে গাছ কাটতে বলেছেন। উনি আমাকে দুই হাজার টাকা ও ডালপালা, লাকড়ি নিয়ে যেতে বলেছেন, বিনিময়ে গাছটি কেটে ফেলতে বলেন। আমি লোকজন নিয়ে গতকাল সারারাত ধরে গাছ কেটেছি। আজকে রাতে লাকডিগুলো নেয়ার সময় স্যারেরা আমাকে এসব নিয়ে যেতে নিষেধ করেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ঈমাম সালাউদ্দীন বলেন, মসজিদের যেনো ক্ষতি না হয় সেজন্য আমি গাছটি কাটতে বলেছিলাম৷ সাবেক ট্রেজারার আমাকে বলেছিলেন গাছের জন্য কোনো সমস্যা হলে সেটা কেটে ফেলার জন্য৷ কাউকে না জানিয়ে গাছ কাটা আমার অন্যায় হয়েছে। আমি এ ঘটনায় ক্ষমাপ্রার্থী।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি কর্মকর্তা কামাল হোসেন বলেন, আমি আজ সারাদিন সচিবালয়ে ছিলাম। এবিষয়ে আমি কিছু জানি না, আমাকে কেউ কিছু জানায়নি৷
এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. মোস্তফা কামাল বলেন, শুনেছি বিশ্ববিদ্যালয়ের লিচু গাছটি কেটে ফেলা হয়েছে। এটার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনুমোদন নিয়েছে কি না দেখতে হবে। যদি অনুমোদন না নিয়ে থাকে তাহলে এবিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মসজিদের কমিটির দায়িত্বে থাকা কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ বলেন, আমি নারিকেল গাছের ডালপালা ছাটাইয়ের বিষয়ে অবগত ছিলাম। গাছ কাটার ব্যাপারে আমাকে জানানো হয়নি। আমি সংবাদ পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঈমামকে চার্চ করেছি এবং বিষয়টি উপাচার্যকে অবগত করেছি। তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক বলেন, আমি এস্টেট কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছি সরেজমিনে পরিদর্শন করে রিপোর্ট জমা দেয়ার জন্য। রিপোর্ট হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। বিশ্ববিদ্যালয়ের গাছ কাটার অধিকার কারোর নেই। এখানে কমিটি আছে তাদের মতামত নিয়ে গাছ কাটতে হবে। সবকিছুই নিয়মের মধ্যে থেকে করতে হবে। শনিবার গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা রয়েছে তাই সেই জায়গা পরিষ্কার করার নির্দেশও দিয়েছি।
জাবিতে ছাত্ররাজনীতি বিষয়ক সম্পূরক আলাপ আগামীকাল
জাবি প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) 'বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতি এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তরুণদের অংশগ্রহণ' শীর্ষক সম্পূরক আলাপ অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল।
বৃহস্পতিবার (২৫ মে) বিকাল সাড়ে ৫টায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান আয়োজকেরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে বিকাল ৪ টা থেকে ৭ টা পর্যন্ত এ আলাপ অনুষ্ঠিত হবে।
অনুষ্ঠানে যমুনা টেলিভিশনের মাহফুজ মিশুর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি এমপি। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: নূরুল আলম। অনুষ্ঠানে অন্যানদের সাথে বক্তব্য রাখবেন ছাত্র আন্দোলনকর্মী নজির আমিন চৌধুরী জয়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন এবং পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি রেং ইয়ং ম্রো।
অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ওবায়দুল্লাহ বলেন, সাধারণত ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের মতামত প্রকাশ করে৷ সরকারের পলিসি মেকিং পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ হয় না। আগামীকালের সম্পূরক আলাপের মাধ্যমে সচেতন শিক্ষার্থীরা তাদের মতামত নিয়ে সরাসরি পলিসি মেকারদের কাছে নিজেদের প্রত্যাশা তুলে ধরতে পারবে৷
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোস্যাইটি এর সভাপতি মাহির আসিফুর রহমান বলেন, আমাদের সম্পূরক আলাপে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে দেশের স্বনামধন্য পলিসি মেকারদের সম্মিলন ঘটবে। শিক্ষার্থীরা তাদের প্রত্যাশা নিয়ে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পাবে৷
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশন এবং আলাপন এর সহযোগিতায় সম্পূরক আলাপের তৃতীয় সিজন অনুষ্ঠিত হবে।
খুবি উপাচার্যের বর্ণীল শিক্ষাজীবন
খুবি প্রতিনিধি: উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন একজন বাংলাদেশী শিক্ষাবিদ ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২তম উপাচার্য। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বনায়ন ও কাঠ প্রযুক্তি ডিসিপ্লিনের একজন অধ্যাপক এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্য থেকে নিযুক্ত দ্বিতীয় উপাচার্য।
প্রফেসর ড.মাহমুদ হোসেন ১৯৭২ সালের ২২ আগস্ট বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলার মধ্য কচুবুনিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মোজাম্মেল হোসেন ও মাতা জাহানারা বেগম।
তিনি বাগেরহাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৮৭ সালে মাধ্যমিক, বাগেরহাট সরকারি পি.সি. কলেজ থেকে ১৯৮৯ সালে উচ্চমাধ্যমিক, ১৯৯৩ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইন্সটিটিউট থেকে বনবিদ্যায় স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৯৮ সালে তিনি মালয়েশিয়ার পুত্রা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যানগ্রোভ বাস্তুবিদ্যায় স্নাতকোত্তর এবং ২০০৪ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বনায়ন ও কাঠ প্রযুক্তি ডিসিপ্লিনের প্রভাষক পদে ১৯৯৯ সালে যোগদান করেন। তিনি ২০০১ সালে সহকারী অধ্যাপক, ২০০৫ সালে সহযোগী অধ্যাপক এবং ২০০৯ সাল থেকে অধ্যাপক পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অধ্যাপনার পাশাপাশি তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য, বনায়ন ও কাঠ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, বোর্ড অব এ্যাডভান্স স্ট্যাডিজের সদস্য, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফে০ডারেশনের সহ-সভাপতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
২০২১ সালের ২৫শে মে অধ্যাপক ড.মাহমুদ হোসেন চার বছর মেয়াদে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২তম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্য থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত ২য় উপাচার্য।
উপাচার্য অধ্যাপক ড.মাহমুদ হোসেন দেশি ও আন্তর্জাতিক জার্নালে ১০৫টির অধিক গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন। ২০২১ সাল পর্যন্ত তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৩টি এবং অনুবাদ গ্রন্থের সংখ্যা ২টি। দেশি ও বিদেশি সংস্থার অর্থায়নে তিনি বহু গবেষণা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন। তার উদ্যোগ ও নেতৃত্বে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের প্রথম সয়েল আর্কাইভ স্থাপিত হয়েছে। কর্মমেয়াদের দুই বছরে উপাচার্যের দক্ষ নেতৃত্বে, সর্বক্ষেত্রে এসেছে আধুনিকতা, একাডেমিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে এসেছে গতিশীলতা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও গবেষণায় গুরুত্ব প্রদান, যা ছিলো চোখে পড়ার মতো।
উপাচার্য হিসেবে প্রশাসনিক ব্যস্ততার মাঝেও একজন শিক্ষক হিসেবে নিয়মিত ক্লাস নেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন। সুন্দরবনের ওপর রয়েছে তার গবেষণার খ্যাতি। সুন্দরবনসহ দেশের বৃক্ষরাজি, পরিবেশ ও প্রতিবেশ তথা জীববৈচিত্র্য নিয়ে তার বিভিন্ন গবেষণা নিবন্ধ আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে- বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ইন্টারন্যাশনাল হাইফেক্টর জার্নালে গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশনায় রেজিস্ট্রেশন ফিস প্রদান, প্রত্যেক স্কুলকে প্রত্যেক বছর কমপক্ষে একটি জাতীয়/আন্তর্জাতিক সম্মেলন এবং প্রত্যেক বছর প্রত্যেক ডিসিপ্লিনে কমপক্ষে একটি সেমিনার/কর্মশালা আয়োজন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান স্কুলের জন্য একটি গ্রিনহাউস স্থাপন। জীববিজ্ঞানভিত্তিক ৭টি বিভাগসমূহের জন্য মাঠ গবেষণারে প্রয়োজনীয় জমিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আগামী একশত বছরের চাহিদা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিরিখে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ২০৩ একর জমি অধিগ্রহণ, কেন্দ্রীয় গবেষণাগারে স্থাপিত গবেষণা যন্ত্রপাতির আইএসও সার্টিফাইড করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কাজে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের আবাসনের সুবিধার্থে একটি ইন্টারন্যাশনাল হল তৈরি।
এখানেই শেষ নয়, তিনি এডি সাইন্টিফিক ইনডেক্স নামের আন্তর্জাতিক সংস্থার ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে প্রকাশিত বিশ্বসেরা বিজ্ঞানীদের তালিকায় মর্যাদাপূর্ণ স্থান লাভ করেন। এই তালিকায় মাহমুদ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ও বনায়নে এবং পৃথকভাবে বনায়ন উভয় শ্রেণীতে ১ম , দেশে বনায়ন বিজ্ঞানীদের মধ্যে ৪র্থ , এশিয়ার বিজ্ঞানীদের মধ্যে ১৫১তম ও বিশ্বের বিজ্ঞানীদের মধ্যে ৮২৫তম স্থান লাভ করেন
শিক্ষক,গবেষক ও উপাচার্য প্রফেসর ড.মাহমুদ হোসেন তার দুই বছর মেয়াদ পূর্তির প্রাক্কালে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলার গড়ার স্বপ্ন পূরণে ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়কে অভীষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে নিতে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান সৃষ্টিতে নানামুখী উদ্যোগ ও পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে।
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২৪ তম নজরুল জন্মজয়ন্তী উদযাপিত
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিঃ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৪ তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ মে) সকালে জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পুষ্প স্তবক অর্পণ করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এম.পি. ও উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রারসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের গাহি সাম্যের গান মঞ্চে শুরু হয় আলোচনা সভা। উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখরের সভাপতিতে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এম.পি.।
তিনি বলেন, "রবীন্দ্রনাথ ঠাঁকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম যা চেয়েছেন সেগুলো বাস্তবায়ন করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন-সাত কোটি বাঙ্গালিরে হে মুগ্ধ জননী, রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করনি। একই কথা কিন্তু শোনা গেছে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ভাষণে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ও জাতীয় কবি নজরুলের মনের যে সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা, সেটিকে অনুভব করে সেই বক্তব্যের প্রতিফলন ঘটিয়েছেন বঙ্গবন্ধু।"
নজরুল চর্চায় নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় আরও বেশি এগিয়ে আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন মাননীয় প্রতিমন্ত্রী।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর তাঁর বক্তব্যের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, "১৯৭২ সালের ২৪ মে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশে এনেছিলেন। এরপর নজরুল আর ভারতে ফেরত যাননি। ১৯৭৬ সালে তিনি পরলোকগমন করেন। তাঁর মৃত্যুর পর বাংলাদেশের মাটিতে কবির সমাধি সৌধ নির্মিত হয়। সমাধিসৌধ বাঙালির পবিত্র অঙ্গন। বঙ্গবন্ধু সেদিন নজরুলকে বাংলাদেশে না নিয়ে এলে এদেশে নজরুলের আগমন সত্যিই হতো কী না সে প্রশ্ন থেকে যায়। একমাত্র বঙ্গবন্ধুর আন্তরিক প্রচেষ্টা ও ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর মধ্যকার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও যোগাযোগের কারণে সেদিন কোন পাসপোর্ট, ভিসা, ইমিগ্রেশন ছাড়াই নজরুলকে বাংলাদেশে আনা সম্ভব হয়েছিল।"
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি নন্দনকানন হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিকে পুর্নব্যক্ত করে উপাচার্য বলেন, "শিক্ষা, গবেষণা ও উন্নয়ন-এই তিন মটো নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই আমরা একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ণ করেছি, আন্তর্জাতিক কনফারেন্স করেছি, গবেষণা মেলা করেছি। একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এসব কিছুর মধ্য দিয়ে আমরা জননেত্রী শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশের অভিযাত্রায় যাত্রী হতে চাই। সে অভিযাত্রার দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে চাই।"
সভায় ‘নজরুলের কাব্য প্রতিভার উন্মেষ ও বিকাশ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. নজরুল ইসলাম। আলোচনা করেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. আহমেদুল বারী।
সভাটি সঞ্চালনা করেন রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হুমায়ুন কবীর। আরও বক্তব্য দেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মো. রিয়াদ হাসান, কর্মকর্তা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রামিম আল করিম, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসানসহ অন্যরা।
বিকেল তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভার্চুয়াল সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক সেমিনার। কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুশাররাত শবনমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ভারতের বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. সুমিতা চক্রবর্তী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন গৌরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. সৌরেন বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. তৃপ্তি সরকার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মনিরা পারভীন ও নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আসিফ ইকবাল আরিফ। আলোচনা করেন সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মেহেদী উল্লাহ। একই অনুষ্ঠানে ইন্সটিটিউট অব নজরুল স্টাডিজ কর্তৃক নজরুল জীবন ও কর্মবিষয়ক গবেষণা প্রকল্পের বৃত্তি প্রদান করা হয়।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য