The Rising Campus
Education, Scholarship, Job, Campus and Youth
শুক্রবার, ১২ই জুলাই, ২০২৪

ফারিহা মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েই ছুটে গেলেন আইসিইউতে

ফারিহা আফরিন গুলেন–বারি সিনড্রোম বা জিবিএস রোগে আক্রান্ত হয়ে ২০১৮ সালে হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে আইসিইউয়ের কষ্টের দিনগুলি কাটিয়ে উঠে  চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে পুরোদমে শুরু করেন পড়াশোনা। তাতে সফলতাও পেয়েছেন। সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। তিনি সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।

গত সোমবার (১৩ মার্চ) মিষ্টি নিয়ে মা লাইলা আঞ্জুমকে সঙ্গে নিয়ে রামেক হাসপাতালের আইসিইউতে হাজির হন ফারিহা। মিষ্টিমুখ করান চিকিৎসক ও নার্সদের।

ফারিহা আফরিন আইসিইউ ইনচার্জ ডা. আবু হেনা মোস্তফার কথা স্মরণ করে বলেন, ‘আমি উনার (চিকিৎসক) প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞ। আল্লাহর পর তিনিই (চিকিৎসক) আমাকে সেবা-যত্ন করে সুস্থ করেছেন। আল্লাহর রহমতে উনার (চিকিৎসক) সেবায় আমি বেঁচে আছি।’

ফারিহা আফরিন নগরের বুলনপুর ঘোষপাড়ার বাসিন্দা। সরকারি প্রমথনাথ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (পিএন) থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেন তিনি। এরপর কাশিয়াডাঙ্গা কলেজ থেকে এএইচএসসি সম্পন্ন করেন। ফারিহার বাবা মো. আনোয়ার হোসেন কৃষিভিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। মা লায়লা আঞ্জুমান হাজী সাফিনা কলেজের প্রদর্শক। বড় ভাই এলএম হাসনাইন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) পড়াশোনা করেন।

ফারিহা আফরিন বলেন, সময়টা ছিল ২০১৮ সালের ৮ ডিসেম্বর। ওটা আমার জীবনের সবচেয়ে কষ্টের দিন। ওই দিন আমি আইসিইউতে ভর্তি হই। আমার অনুভূতি ছিল, তবে আমি কিছু বলতে পারছিলাম না। চোখের পাতাও নড়াতে পারছিলাম না। আমি শ্বাসও ঠিক মতো নিতে পারছিলাম না। আমাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল। এভাবে একমাস ছিলাম আইসিইউতে। আইসিইউতে ভর্তির প্রায় ১৫ দিন পরে কথা বলতে শুরু করি। ডাক্তারদের বলতাম, স্যার আমি কখন বাড়িতে যাব। ডাক্তার বলতেন, আরও সুস্থ হও, তারপর ছুটি দেওয়া হবে। এভাবে দিন যেতে যেতে ৩১ ডিসেম্বর আমাকে ছুটি দেয়। তখন আমি বাসায় ফিরি। রামেক হাসপাতালের আইসিইউয়ের ইনচার্জ আবু হেনা মোস্তফা স্যার আমার অনেক সেবা করেছেন। সেখানে এক মাস চিকিৎসা নিয়ে আল্লাহর রহমনে এখনো ভালো আছি।

ফারিহা আফরিন বলেন, ছোটবেলায় আমার শ্বাসকষ্ট ছিল। আমি নিয়মিত ইনহেলার নিতাম। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশানা অবস্থায় ভালো হয়ে যায় শ্বাসকষ্ট। যখন চিকিৎসকরা আমার চিকিৎসা করতো তখন থেকেই আমার ইচ্ছা হয়, আমি চিকিৎসক হবো। আমার পরিবারও চায়, আমি ভবিষ্যতে চিকিৎসা বিষয়ে লেখাপড়া করে চিকিৎসক হই। তবে আমাদের বই কিনে পড়ার মতো টাকা ছিল না। আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের। আমি বেশির ভাগ সময় ইন্টারনেটে ফ্রি পিডিএফ বই ডাউনলোড করে পড়াশোনা করতাম।

রামেক আইসিইউ ওয়ার্ডের ইনচার্জ ডা. আবু হেনা মোস্তফা  বলেন, আল্লাহ চেয়েছে বলে সে সুস্থ হয়েছে। আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে সব রোগীকেই আমরা যত্ন নিই। এই মেয়েটি আমাকে মনে রেখেছে।

কাশিয়াডাঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল করিম শাহ বলেন, মেয়েটি মেধাবী। সে অসুস্থ ছিল, আইসিইউতে ছিল। সে ভালো লেখাপড়া করত। নিয়মিত ক্লাসে আসত। পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করেছে। এ বছর এইচএসসিতে কাশিয়াডাঙ্গা কলেজ থেকে দুইজন জিপিএ-৫ পেয়েছে। তারা দুজনই বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে ফারিহা একজন।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.