The Rising Campus
Education, Scholarship, Job, Campus and Youth
মঙ্গলবার, ৫ই মার্চ, ২০২৪

মা শব্দের নেই কোনো সংজ্ঞা

মেহনাজ বিনতে আলী নাসাঃ মা! ছোট্ট এক অক্ষরের শব্দ হলেও বিশালতা সাগরের চেয়েও বেশি। যদি আমাকে প্রশ্ন করা হয়, মা মানে কি? এক কথায় আমার উত্তর হবে মা মানে পৃথিবী। হাজার হাজার শব্দ দিয়েও যদি মাকে সংজ্ঞায়িত করি, তবুও হয়ত মায়ের সংজ্ঞায়ন শেষ হবে না। এই মাহাশূন্যের যেমন কোন সীমা নেই, ঠিক তেমনি মায়ের ভালবাসার কোন সীমা থাকে না। চিরন্তন একটি আশ্রয়ের নাম হল মা।

১৪ মে বিশ্ব মা দিবস। মা দিবস নিয়ে বলতে গেলে প্রথমেই যে শব্দগুলো মাথায় আসে সেগুলো হচ্ছে, “সম্মান”, “ভালোবাসা”, “শ্রদ্ধা”। মা দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো মাকে যথাযথ সম্মান দেয়া। এইদিনে মায়েদের জন্য তার সন্তানেরা উপহার আনে, নিজের হাতে রান্না করে মাকে খাওয়াবে বলে, কেক কেটে উৎযাপন করে দিনটি। মা হলো একটা গভীর মমতার নাম। যে মা জন্ম দিয়েছেন, লালন-পালন করেছেন তাকে শ্রদ্ধা-সম্মান জানানোর জন্যই দিনটি পালন করা হয়। যদিও মাকে ভালোবাসা, সম্মান জানানোর জন্য কোনো নির্দিষ্ট দিনক্ষণের দরকার হয় না, তবুও দিনটি আজ মায়েদের। পুরাণ থেকে কোরআন, বাইবেল থেকে ত্রিপিটক প্রতিটি ধর্মে, প্রতিটি ধর্ম গ্রন্থে মা এর মর্যাদা নিয়ে কথা বলা হয়েছে, মাকে দেয়া হয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান। কোরআন এ বলা আছে, মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত। কিন্তু বাস্তবে আজ ভিন্নচিত্র। কতো শত কষ্ট, ত্যাগ এর মধ্যে দিয়ে মা আমাদের পৃথিবীর আলো দেখিয়েছেন, শিখিয়েছেন কথা বলা। মায়ের কোনো ছুটি নেই। সকালে ঘুম থেকে উঠে রাতে ঘুমনোর আগ পর্যন্ত মায়ের কাজের শেষ নেই। কার কি লাগবে, কে কি খাবে, কে কোন ড্রেসটা পড়বে সব মায়ের একা সামলাতে হয়। সকালে বের হওয়ার আগে দেখি মা কাজ করছে, সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরেও দেখি মা কাজ করছে। মায়ের কোনো ক্লান্তি নেই, নেই কোনো অবসাদ। সবার মুখে হাসি থাকলেই মা খুশি। অথচ পান থেকে চুন খসলেই আমরা অনেকেই মায়ের ওপর রাগারাগি করি, উচ্চকন্ঠে কথা বলে উঠি। অসুস্থ মাকে দেখাশোনা ঝামেলা মনে করে ছেলে তাকে ফেলে আসছে রাস্তায়। সোশ্যাল স্ট্যাটাস এর সাথে মা মানানসই না, উনি একটু পুরনো ধাঁচের বলে তাকে রাখছে ঘরবন্দী আর না হয় পাঠিয়ে দিচ্ছে বৃদ্ধাশ্রমে। আমাদের কারো কারো জীবন এখন এতোই ব্যস্ত হয়ে গিয়েছে যে মায়ের সাথে কিছুক্ষন কথা বলার সময় পাওয়া দায়।

মাকে ভালোবাসতে হবে, সম্মান করতে হবে কিন্তু সেটা কেবল একদিনের জন্য না। কেবল মা দিবসেই মাকে উপহার দিয়ে, কেক কেটে আমাদের দায়িত্ত্ব যেন শেষ না হয়ে যায়। মায়ের খেয়াল রাখতে হবে রোজ, মায়ের যত্ন নিতে হবে, ভালোবাসতে হবে। ছোটবেলায় আমাদের শখ আহ্লাদ পূরণের দায়িত্ব যেমন ছিলো মায়ের, তেমনি এখন মায়ের শখ আহ্লাদ পূরণের দায়িত্ব নিতে হবে আমাদের। মায়ের বয়স হয়েছে, ওষুধ খেয়েছে কিনা খোঁজ নিন। রোজ ভার্সিটি কিংবা অফিস যাওয়ার আগে একবার মায়ের সাথে দেখা করে যান, বাসায় ফিরে মাকে জিজ্ঞেস করুন, মা কেমন আছো? এতেই মা ব্যাপক খুশি হয়ে যাবে, হয়তো আর অর্ধেক অসুখও ভালো হয়ে যেতে পারে। মাকে খুশি করতে কিন্তু এরচেয়ে খুব বেশি কিছু লাগে না।

কেবল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেনো আমাদের মায়ের প্রতি ভালোবাসা সীমাবদ্ধ না থাকে। মায়ের প্রতি আন্তরিকতা বাড়ুক মায়ের সাথেই। মা দূরে থাকলে তাকে কল করে কিছুক্ষণ কথা বলুন,মাকে সময় দিন। আর কাছে থাকলে তাকে জড়িয়ে ধরে বলুন, “মা তোমাকে অনেক ভালোবাসি।”

শিক্ষার্থী, লোক প্রশাসন বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.

  1. প্রচ্ছদ
  2. সম্পাদকীয়
  3. মা শব্দের নেই কোনো সংজ্ঞা

মা শব্দের নেই কোনো সংজ্ঞা

মেহনাজ বিনতে আলী নাসাঃ মা! ছোট্ট এক অক্ষরের শব্দ হলেও বিশালতা সাগরের চেয়েও বেশি। যদি আমাকে প্রশ্ন করা হয়, মা মানে কি? এক কথায় আমার উত্তর হবে মা মানে পৃথিবী। হাজার হাজার শব্দ দিয়েও যদি মাকে সংজ্ঞায়িত করি, তবুও হয়ত মায়ের সংজ্ঞায়ন শেষ হবে না। এই মাহাশূন্যের যেমন কোন সীমা নেই, ঠিক তেমনি মায়ের ভালবাসার কোন সীমা থাকে না। চিরন্তন একটি আশ্রয়ের নাম হল মা।

১৪ মে বিশ্ব মা দিবস। মা দিবস নিয়ে বলতে গেলে প্রথমেই যে শব্দগুলো মাথায় আসে সেগুলো হচ্ছে, "সম্মান", "ভালোবাসা", "শ্রদ্ধা"। মা দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো মাকে যথাযথ সম্মান দেয়া। এইদিনে মায়েদের জন্য তার সন্তানেরা উপহার আনে, নিজের হাতে রান্না করে মাকে খাওয়াবে বলে, কেক কেটে উৎযাপন করে দিনটি। মা হলো একটা গভীর মমতার নাম। যে মা জন্ম দিয়েছেন, লালন-পালন করেছেন তাকে শ্রদ্ধা-সম্মান জানানোর জন্যই দিনটি পালন করা হয়। যদিও মাকে ভালোবাসা, সম্মান জানানোর জন্য কোনো নির্দিষ্ট দিনক্ষণের দরকার হয় না, তবুও দিনটি আজ মায়েদের। পুরাণ থেকে কোরআন, বাইবেল থেকে ত্রিপিটক প্রতিটি ধর্মে, প্রতিটি ধর্ম গ্রন্থে মা এর মর্যাদা নিয়ে কথা বলা হয়েছে, মাকে দেয়া হয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান। কোরআন এ বলা আছে, মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত। কিন্তু বাস্তবে আজ ভিন্নচিত্র। কতো শত কষ্ট, ত্যাগ এর মধ্যে দিয়ে মা আমাদের পৃথিবীর আলো দেখিয়েছেন, শিখিয়েছেন কথা বলা। মায়ের কোনো ছুটি নেই। সকালে ঘুম থেকে উঠে রাতে ঘুমনোর আগ পর্যন্ত মায়ের কাজের শেষ নেই। কার কি লাগবে, কে কি খাবে, কে কোন ড্রেসটা পড়বে সব মায়ের একা সামলাতে হয়। সকালে বের হওয়ার আগে দেখি মা কাজ করছে, সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরেও দেখি মা কাজ করছে। মায়ের কোনো ক্লান্তি নেই, নেই কোনো অবসাদ। সবার মুখে হাসি থাকলেই মা খুশি। অথচ পান থেকে চুন খসলেই আমরা অনেকেই মায়ের ওপর রাগারাগি করি, উচ্চকন্ঠে কথা বলে উঠি। অসুস্থ মাকে দেখাশোনা ঝামেলা মনে করে ছেলে তাকে ফেলে আসছে রাস্তায়। সোশ্যাল স্ট্যাটাস এর সাথে মা মানানসই না, উনি একটু পুরনো ধাঁচের বলে তাকে রাখছে ঘরবন্দী আর না হয় পাঠিয়ে দিচ্ছে বৃদ্ধাশ্রমে। আমাদের কারো কারো জীবন এখন এতোই ব্যস্ত হয়ে গিয়েছে যে মায়ের সাথে কিছুক্ষন কথা বলার সময় পাওয়া দায়।

মাকে ভালোবাসতে হবে, সম্মান করতে হবে কিন্তু সেটা কেবল একদিনের জন্য না। কেবল মা দিবসেই মাকে উপহার দিয়ে, কেক কেটে আমাদের দায়িত্ত্ব যেন শেষ না হয়ে যায়। মায়ের খেয়াল রাখতে হবে রোজ, মায়ের যত্ন নিতে হবে, ভালোবাসতে হবে। ছোটবেলায় আমাদের শখ আহ্লাদ পূরণের দায়িত্ব যেমন ছিলো মায়ের, তেমনি এখন মায়ের শখ আহ্লাদ পূরণের দায়িত্ব নিতে হবে আমাদের। মায়ের বয়স হয়েছে, ওষুধ খেয়েছে কিনা খোঁজ নিন। রোজ ভার্সিটি কিংবা অফিস যাওয়ার আগে একবার মায়ের সাথে দেখা করে যান, বাসায় ফিরে মাকে জিজ্ঞেস করুন, মা কেমন আছো? এতেই মা ব্যাপক খুশি হয়ে যাবে, হয়তো আর অর্ধেক অসুখও ভালো হয়ে যেতে পারে। মাকে খুশি করতে কিন্তু এরচেয়ে খুব বেশি কিছু লাগে না।

কেবল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেনো আমাদের মায়ের প্রতি ভালোবাসা সীমাবদ্ধ না থাকে। মায়ের প্রতি আন্তরিকতা বাড়ুক মায়ের সাথেই। মা দূরে থাকলে তাকে কল করে কিছুক্ষণ কথা বলুন,মাকে সময় দিন। আর কাছে থাকলে তাকে জড়িয়ে ধরে বলুন, "মা তোমাকে অনেক ভালোবাসি।"

শিক্ষার্থী, লোক প্রশাসন বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

পাঠকের পছন্দ

মন্তব্য করুন