শিরোনাম
পাঁচ দাবিতে ঢাকা আলিয়ার শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন
সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়া প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের ভবন নির্মাণ, হল ও মাদরাসা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (৮ জানুয়ারি) মাদরাসার প্রশাসনিক অফিসের সামনে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন। এসময় দ্রুত ক্যাম্পাস খুলে দেওয়া ও প্রিন্সিপালের পদত্যাগের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের দাবি, হল ছাড়তে মাদরাসা প্রশাসন অযৌক্তিকভাবে একের পর এক নোটিশ দিচ্ছে। এতে করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিব্রত। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ বন্ধ করতে হবে। আলিয়া মাদরাসার নিজস্ব জায়গায় অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
জানা গেছে, রাজধানী বখশিবাজারের ঢাকা আলিয়া মাদরাসার একমাত্র ছাত্রাবাস ‘আল্লামা কাশগরী (র.) হল’। এই হল সুপারের বাসা ভেঙে ছাত্রাবাসের ভেতরে মাদরাসা ও কারিগরি অধিদপ্তরের ভবন করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে হঠাৎ হল বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাদরাসার শিক্ষা কার্যক্রমও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এ নিয়ে মাদরাসা প্রাঙ্গণে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা হল না ছাড়লে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে হেনস্থা করারও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
শিক্ষার্থীদের ৫ দফা দাবি— >> কোনো অবস্থাতেই আবাসিক হল বন্ধ করা যাবে না >> শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসন করতে হবে >> হল প্রাঙ্গণে অধিদপ্তর নির্মাণ করা যাবে না >> শিক্ষার্থীদের ওপর আরোপিত সব হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করতে হবে >> শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে কোনো ধরনের বাণিজ্য চলবে না
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৬ জানুয়ারি) অনশন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায় না হলে গণঅনশনের কথাও জানান শিক্ষার্থীরা।
শিগগির আসছে কঠোর বিধিনিষেধের নির্দেশনা
আশঙ্কাজনকভাবে দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। সংক্রমণ ঠেকাতে কারিগরি কমিটির প্রস্তাবনা অনুযায়ী আগামী দু’একদিনের মধ্যেই কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণের জন্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। জেলা-উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালের নার্স-চিকিৎসকরা সেবা দেয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। সব ধরনের দোকান-পাট রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে।
তিনি বলেন, টিকা সনদছাড়া রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করা যাবে না। যাত্রীবাহী বাস-ট্রেন-লঞ্চসহ সব পরিবহনে অর্ধেক যাত্রী বহন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শীঘ্রই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নির্দেশনা আসবে।
শনিবার দুপুরে মানিকগঞ্জ শুভ্র সেন্টারে মানিকগঞ্জ সদর ও সাটুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার হতদরিদ্র মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
এ সময় মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে ভয়াবহভাবে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। স্কুল-কলেজ খোলা রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করার জন্য আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই।
জাহিদ মালেক বলেন, দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা আগের চেয়ে ৪০০ গুণ বেশি। চলমান ইউপি নির্বাচনসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যানবাহনে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। এটা খুবই উদ্বেগজনক। নিয়ম না মানলে দেশকে হুমকির মুখে ঠেলে দেয়া হবে।
মাস্কছাড়া বাইরে গেলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত জেল-জরিমানা করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আছে বলেই এখনো অর্থনীতির চাকা ঘুরছে। কল-কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যেতে পারছে। এই পরিস্থিতি বজায় রাখার জন্য সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুর রহমান, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যুবায়ের হোসেন, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফসার উদ্দিন সরকার, সাটুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফাজ উদ্দিনসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু রাখতে চায় সরকার: শিক্ষামন্ত্রী
সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে চায় না। সে কারণে টিকা কার্যক্রমের উপর বেশি জোর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। তবে এর আওতায় প্রাথমিকস্তরের শিক্ষার্থীদের আনা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।
শনিবার রাজধানীর একটি কলেজের রজতজয়ন্তী উৎসব অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এমন কথা বলেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে গত দেড় বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হয়েছে। নতুন করে আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে চায় না সরকার। এ কারণে শিক্ষার্থীদের টিকা কার্যক্রমের উপর বেশী গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ১২ বছর বয়স থেকে ভ্যাক্সিনেশন এর আওতায় শিক্ষার্থীদের আনা সম্ভব হলেও প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের এর আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না বলে তাদের নিয়ে বেশি উদ্বেগ রয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রী আরো বলেন, নতুন করে করোনা পরিস্থিতি বেড়ে গেলে সবচেয়ে বেশি শিক্ষা ব্যবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবারো বন্ধ করে দিলে কতদিনে আবার সচল করা সম্ভব হবে তা অনিশ্চিত। সে কারণে আমরা চাই ভ্যাকসিনেশনের আওতায় শিক্ষার্থীদেরকে এনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান চালিয়ে যেতে।
এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছিলো করোনা সংক্রমণ বেড়ে গেলে বন্ধ করা হতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীসহ সকলের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যাপারটি নিশ্চিত করতেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হতে পারে বলেই জানিয়েছিলো খোদ শিক্ষামন্ত্রী নিজে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, নতুন কারিকুলাম হবে দক্ষতা নির্ভর। শুধুমাত্র পরীক্ষা নির্ভর ও সনদ সর্বস্ব শিক্ষা নয়, শিক্ষা হতে হবে দক্ষতা নির্ভর। যা শিখছি তা যেন আমরা প্রয়োগ করতে পারি। শিখলাম, পরীক্ষা দিলাম, ভুলে গেলাম, এতে কোনো লাভ নেই। আমাদের সমস্যা সমাধান করতে শিখতে হবে, তার সঙ্গে সততা, মানবিকতা ও দেশপ্রেম থাকতে হবে। না হলে অর্জিত শিক্ষার কোনো মূল্য থাকবে না। দারিদ্র যেন কোনো শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার পথে বাধা হয়ে না দাড়ায়।
বন্ধ হতে পারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
দেশে করোনা রোগী শনাক্তের হার বাড়ছে প্রতিদিন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ১৪৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। ১০৯ দিন পর শনাক্তের হার ৫ শতাংশকে অতিক্রম করলো। সর্বশেষ শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এখন প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু থাকবে কী-না।
শিক্ষামন্ত্রণালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, করোনা পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে আবারো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হবে। এর আগে এমন কথা বলেছেন খোদ শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
বৃহস্পতিবার গাজীপুরে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমাদের দেশে সংক্রমণের হার কম থাকলেও এখন তা বাড়ছে। বিশ্বব্যাপী অনেকগুলো দেশ, একবারে অনেক উন্নত দেশও করোনায় পর্যুদস্ত অবস্থা। আমাদের ঝুঁকি নেবার কোনো সুযোগ নেই।
মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতেই হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট অফিস নিয়মিতভাবে এ বিষয়টি দেখাশুনা করছে।
করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে বিধি-নিষেধ শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শুরু হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের গুজব। এ বিষয়ে সঙ্গে কথা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রণালয়ের জেষ্ঠ্য জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের। তিনিও গুজবের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, মন্ত্রণালয় এখনও এমন কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। যে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হলে অবশ্যই তা জানিয়ে দেয়া হবে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, অনেকেই এখন অনলাইন একটিভিস্ট ও ইউটিউব থেকে অর্থ উপার্জন করছেন। তারা সব সময়ই কিছু চমকপ্রদ নিউজ দিতে চায়। এই ধরণের ব্যক্তিরাই এমন তথ্য ছড়িয়ে থাকেন। এগুলো সবই বাণিজ্য। বিষয়গুলো আমরা মনিটরিং করছি। তবে যদি প্রয়োজন হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হবে। যেহেতু সারা বিশ্বেই ওমিক্রন বাড়ছে, নানা বিধি-নিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। আমাদের দেশেও সংক্রমণ বাড়লে স্কুল-কলেজ বন্ধ করা হবে।
সংক্রমণ বৃদ্ধির মধ্যেই ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার আওতায় আনতে শর্ত শিথিল করেছে সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২০০১ সালের পর জন্ম নেয়া শিশুর নিবন্ধন করার ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের জন্মনিবন্ধন নম্বর দিতে হবে না।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও জনসমাগম তৈরি করে এমন ধরণের প্রতিষ্ঠান এক মাস বন্ধ রাখার কথা বলেন। এ বিষয়ে অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এক মাসের জন্য বন্ধ রাখা যেতে পারে। সমাজে যেসব বিষয়ে জনসমাগম হয়ে থাকে সেসবও এক মাসের জন্য স্থগিত করে দেয়া উচিত।
দেশে ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম সন্তোষজনক উল্লেখ করে পরিস্থিতি সামাল দিতে গতি আরও বাড়ানোর পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
এর আগে জাতিসংঘ শিশু তহবিল বা ইউনিসেফের গত ২৪ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ দিন প্রাক্-প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তর পর্যন্ত চার কোটির বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরপর ১২ সেপ্টেম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হলেও এখনো শুরু হয়নি প্রাক্-প্রাথমিক ক্লাস কার্যক্রম।
করোনার কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ঘোষণা করে সরকার।এর ৫৪৪ দিন পর প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড মানবিকে আসন বাড়াতে ২৮ কলেজের আবেদন
কলেজের মানবিক বিভাগে মোট আসন ১৫০টি। এমন একটি কলেজ এবার রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে তাদের আসন দ্বিগুণ করার আবেদন করেছে। একইভাবে নামীদামি ২৮টি কলেজ আসন বাড়ানোর আবেদন করেছে। এদের মধ্যে দু–একটি বাদ দিয়ে সবাই মানবিক বিভাগের আসন বাড়ানোর আবেদন করেছে।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে আবেদনকারী কলেজগুলোর তথ্য থেকে জানা গেছে, মাধ্যমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান শাখার পড়াশোনার খরচ বেশি। গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীরা তাই বিজ্ঞান বাদ দিয়ে মানবিক বিভাগ নিয়ে পড়াশোনায় আগ্রহী। আর উচ্চবিত্ত পরিবার থেকে যেসব শিক্ষার্থী বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করছে, তারা শহরের প্রথম সারির কলেজগুলোতে ভর্তি হচ্ছে। এ জন্য মফস্বলের কলেজের বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হওয়ার জন্য শিক্ষার্থী মিলছে না।
বগুড়ার সরকারি শাহ্ এয়তেবাড়িয়া কলেজের মানবিক বিভাগে ১৫০টি আসন রয়েছে। তারা আরও ১৫০টি বাড়ানোর আবেদন করেছে। মানবিক বিভাগের আসন দ্বিগুণ করতে চাইছেন কেন, জানতে চাইলে অধ্যক্ষ ফারুক আহমেদ বলেন, এখানে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী বেশি পাওয়া যায়। বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা না হোক, মানবিক বিভাগে বেশি শিক্ষার্থী থাকলে কলেজটা গমগম করবে। এ জন্যই আবেদন করা হয়েছে।
কলেজের সক্ষমতা কেমন, জানতে চাইলে অধ্যক্ষ বলেন, শিক্ষকের স্বল্পতা আছে। ১৪ কর্মচারীর মধ্যে মাত্র ২ জন রয়েছেন। এখন কলেজে মোট শিক্ষার্থী ১৫৭ জন। তাদের সিংহভাগই মানবিক বিভাগের। বিজ্ঞান বিভাগে ১৫ জন ভর্তি হয়েছে। ক্লাস করে মাত্র ১১ জন।
বগুড়ার সৈয়দ আহম্মদ কলেজের মানবিক বিভাগে আসন ৪০০টি। এবার তারা আরও ২০০ আসন বাড়ানোর জন্য বোর্ডে আবেদন করেছে। জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ মো. সাইদুজ্জামান বলেন, নদী ভাঙন এলাকার দরিদ্র মানুষ এই ব্যয়ভার বহন করতে পারে না। এ জন্য বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনায় এলাকার শিক্ষার্থীদের আগ্রহ নেই। কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ২০০ আসন রয়েছে। শিক্ষার্থী আছে ১৬৮ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের অবস্থা আরও করুণ। কেন শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান বিভাগে পড়তে চাচ্ছে না, বুঝতে পারছেন না তিনি। মানবিক বিভাগে অনেক শিক্ষার্থী তাঁর কলেজে ভর্তি হতে এসে ফিরে যায়। আসন বাড়ানো হলে আরও শিক্ষার্থী এই কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবে, এ জন্য আবেদন করা হয়েছে।
নাটোরের এম কে কলেজের মানবিক বিভাগের আসন সংখ্যা ২৭৫। এই কলেজ থেকে আরও ১২৫টি আসন বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাক বলেন, তাঁর কলেজে বিজ্ঞান বিভাগের আসন খালিই থাকে। আর মানবিক বিভাগে ভর্তির জন্য খুব চাপ থাকে। এলাকার মানুষের চাহিদার কারণেই তিনি মানবিক বিভাগের আসন বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছেন। তা ছাড়া কলেজের আসন সংখ্যা ঠিকই আছে।
জানতে চাইলে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান বলেন, আবেদন করলেই তাঁরা আসন বাড়াতে পারবেন না। মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা পেলে ও যৌক্তিক কারণ থাকলেই শুধু আসন বাড়ানো হবে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য