ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

ইংল্যান্ডে কেয়ার ওয়ার্কার ভিসায় চাকরির সুযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ জানুয়ারি, ২০২২ ১৭:৪৩
নিজস্ব প্রতিবেদক
ইংল্যান্ডে কেয়ার ওয়ার্কার ভিসায় চাকরির সুযোগ

১. এবার ইংল্যান্ডে কেয়ার ওয়ার্কার ভিসায় আসার সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশিদের জন্য এটি একটি অভূতপূর্ব সুযোগই বলা যায়। কারণ, আমি ছোটবেলা থেকে দেখেছি, আমাদের দেশ থেকে শ্রমিকেরা প্রচুর টাকাপয়সা খরচ করে মধ্যপ্রাচ্যর দেশগুলোয় কাজ করতে যান। এখনো সেই প্রচলন আছে এবং সম্ভবত সেই প্রচলন এখন আরও বেড়েছে। মজার বিষয় হলো, আমাদের দেশ থেকে এখন অনেক নারী শ্রমিকও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে মনোনিবেশ করছেন, বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন এবং মাঝেমধ্যে এ–ও শোনা যায় যে তাঁরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ইউটিউবে অনেকেই ভালো–মন্দ নানা রকম অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেন। কী জানি! ইউটিউবে কতজন তো সত্য–মিথ্যা কত কিছুই বলেন! তো যাঁদের বিদেশে যাওয়ার সৌভাগ্য হয়, যাঁদের ভিসা নিশ্চিত হয়ে যায়, তাঁরা আবার অনেক আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুবান্ধবের ঘরে দাওয়াত পান, দাওয়াত খান। যাওয়ার আগে শরীর–স্বাস্থ্যের দিকে খোঁজখবর রাখেন। আত্মীয়রাও মজার মজার তরি–তরকারি রান্নাবান্না করে বিদেশগামী স্বজনদের আপ্যায়ন করতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েন। রীতিমতো রসনাবিলাস; আমাদের দেশের সুন্দর একটি প্রথা যদিও!

আমি যেসব কারণে মধ্যপ্রাচ্যর দেশগুলোয় যাওয়ার বিষয়ে খুবই সতর্ক এবং উদাসীন, সেগুলোর অন্যতম হলো ওসব দেশে ন্যূনতম অথবা শুন্য মানবাধিকার। এসব দেশে মানুষের জীবনের কোনো মূল্যায়ন নেই, যেসব মানবিক অধিকার জাতিসংঘ ও ইউরোপের দেশগুলো নিশ্চিত করেছে, সেগুলো আরব বিশ্বে দৃষ্টিগোচর হয় না। শ্রমিকদের কোনো মানবাধিকার নেই বললেই চলে। সেখানে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয় এবং উপার্জনও সে রকম নয়। তা ছাড়া শ্রমিকদের নিরাপত্তা এসব দেশে যে যৎসামান্য, তা নিরাপত্তার সহিত বলা যায়। তারপরও আমাদের দেশ থেকে লাখো পুরুষ ও নারী শ্রমিক মধ্যপ্রাচ্যর দেশগুলোয় পাড়ি জমান। একটি বিষয় লক্ষণীয় যে সেসব দেশে যদি আপনি আপনার জীবনের অধিকাংশ সময় থাকেন (২০–২৫ বছর কোনো বিষয় নয়!) এবং গাধার মতো খাটুনি খাটেন, তারপরও কিন্ত কাউকে তারা সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেবে না। নাগরিকত্ব তো দূরের কথা। কোনো পেনশনের ব্যবস্থা আছে বলে মনে হয় না। একজন মানুষ যদি তাঁর জীবনের একটি বড় অংশ একটি দেশে ব্যয় করেন, তারপর তাঁকে সেখান থেকে বের করে দেওয়াকে অমানবিক বলে আমি মনে করি। ইংল্যান্ডে তা হবে না।

২. ইউরোপীয় দেশগুলোসহ বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে মানুষের (সে যে শ্রেণির মানুষই হোক না কেন!) ন্যূনতম অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। সেসব অধিকারের অন্যতম হলো কাজের অধিকার, ন্যূনতম বেতন, যা না হলে সংসার চলে না, কথা বলার অধিকার, রাজনীতি করার অধিকার, চিন্তা করার অধিকার, নিজস্ব ধর্ম পালনের অধিকার এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের নিশ্চিত অধিকার। এ কারণে যাঁরা এখানে কাজ করতে অথবা পড়াশোনা করতে আসবেন, তাঁরা কোনো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য অথবা কাজের অভাবে কষ্ট করবেন না, না খেয়ে মারা যাবেন না। এখানে নারীরা কোনো ধরনের নির্যাতনের স্বীকার হবেন না। এখানে প্রত্যেক মানুষের রাতে ও দিনে নির্ভয়ে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার এবং নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। এখানে যদি আপনি বৈধভাবে কাজ করেন, তাহলে পাঁচ বছর পর স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাবেন এবং কোনো অপরাধের সঙ্গে নিজেকে না জড়ালে এ দেশের নাগরিকত্ব পেয়ে যাবেন। আবার এ দেশের নাগরিকত্ব পেলেও আপনি আপনার দেশের, মানে জন্মভূমির নাগরিকত্ব হারাবেন না।

৩. বিভিন্নভাবে ইংল্যান্ডে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আসার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কিছুদিন আগেও সেই সুযোগ ছিল না। তাহলে কী এমন ঘটনা যে কারণে ইংল্যান্ড বহির্বিশ্বের শ্রমিকদের জন্য তাদের সীমান্ত উন্মুক্ত করে দিল? ইহা অনিবার্য ছিল যে ইংল্যান্ডসহ ইউরোপের দেশগুলো বাইরে থেকে লোক নিয়ে আসবেই। তাদের দেশগুলো শ্রমিকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার কোনো বিকল্প ছিল না। এখানে জনসংখ্যা দিন দিন হ্রাস পেতে শুরু করছিল দীর্ঘদিন ধরে। সমাজবিজ্ঞানীরা যদিও কারণগুলো তন্ন তন্ন করে দেখছিলেন। তবে এ রকম মনে করার কোনো কারণ নেই যে এখানে বিপরীত লিঙ্গের মানুষেরা একে অপরের সঙ্গে মেলামেশা বন্ধ করে দিয়েছিলেন অথবা এখানে নারীরা বিশ্বের যেকোনো দেশের নারীদের চেয়ে ভিন্ন। না, সে রকম কিছু নয়। তারপরও জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে দিন দিন। জনসংখ্যা হ্রাস পাওয়ার অন্যতম কারণ হলো, এখানে মেয়েদের মধ্যে গর্ভধারণের প্রবণতা কম। ক্যারিয়ারের প্রতি অধিক হারে ঝুঁকে পড়া, স্বাধীনভাবে চলাফেরা, মেয়েদের মধ্যে বহির্গামী মনোভাব অধিক হারে বৃদ্ধি পাওয়া, ব্যয়বহুল জীবনসহ নানান কারণে নারীরা সন্তান নিতে অনাগ্রহী হয়ে পড়েন। একটি সন্তান নেওয়া মানে সেই সন্তানকে লালন–পালন করা এবং দেখভাল করা চাট্টিখানি বিষয় নয়। এক সন্তান নেওয়া মানে জীবনে ১৫–১৬ বছরের জন্য একজন নারীর বন্দী হয়ে যাওয়া। সুতরাং নারীরা স্বাভাবিকভাবেই সন্তান নিতে অনীহা পোষণ করতে শুরু করেন। ফলে তাদের জনসংখ্যা হ্রাস পেতে থাকে। সেই সমস্যা লাঘবে প্রথমে ইংল্যান্ড ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দেশগুলোর জনগণদের তাদের দেশে অবাধে আসা এবং চলাফেরা করার সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়। ফলে রোমানিয়া, পোল্যান্ড, হাঙ্গেরিসহ ইউরোপের দেশগুলো থেকে প্রচুর লোক এখানে আসতে শুরু করেন। কিন্তু ইংল্যান্ডের জন্য বড় সমস্যা ছিল, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দেশগুলোর শ্রমিকেরা এখানে এসে কাজ করার চেয়ে ইংল্যান্ডের সুবিধাদি নেওয়ার প্রতি অধিক আগ্রহী হয়ে পড়ে। তাদের ঘরভাড়াসহ চলাফেরা করা এবং খাবারদাবারের খরচ ব্রিটিশ সরকারকেই বহন করতে হতো। তা ছাড়া এখানে চুরিচামারি দিন দিন বাড়তে থাকে। তাই ব্রিটিশ জনগণ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের জনগণের প্রতি ক্রমেই অসহিষ্ণু হয়ে পড়ে। এরপরের ঘটনা—অনেকগুলো কারণে ইংল্যান্ড ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে এখানে বিভিন্ন খাত শ্রমিকসংকটে পড়ে। লরিচালক, চিকিৎসক, নার্স, হেলথ কেয়ার ওয়ার্কার, রেস্তোরাঁ কর্মচারী ইত্যাদি খাতে কর্মীসংকট পরিলক্ষিত। যার কারণে, কনজারভেটিভ পার্টির বরিস জনসনের সরকার যদিও অভিবাসীদের নিয়ে এসে ব্রিটেনকে মানুষে মানুষে টইটম্বুর করে ফেলতে অনাগ্রহী, তবু তাদের সীমান্ত অভিবাসীদের জন্য বিনা শর্তে উন্মুক্ত করে দিতে বাধ্য হয়। এ সুবিধা বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য একটি সুবর্ণ সুযোগ বলা চলে।

৪. কিন্তু প্রশ্ন হলো, কীভাবে বাংলাদেশ থেকে আসবেন এবং কারা আসতে পারবেন! এ জন্য বাস্তবধর্মী পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত। অযথা সাগরে সাঁতার কাটার মতো কোনো পরিকল্পনা ছাড়া দৌড়াদৌড়ি করলে কাজ আসবে বলে আমি মনে করি না। এটি একটি কাজের ভিসা। সঙ্গত কারণে আপনাকে কোনো এমপ্লয়ার নিয়োগ করতে হবে। এখানে এসে যদি অবৈধ হয়ে পড়েন, তবে আপনার এখানে থাকা–খাওয়ার অর্থ উপার্জন করা অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে। আর এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সি যে টাকা আপনার কাছে দাবি করছে, আপনি যদি কিছু বিচার–বিবেচনা না করে সেই পরিমাণ টাকাই তাদের দেন, তাহলে কয়েকটি বিপদ সংক্ষেত দিয়ে রাখি।

*এখানে আসতে পারবেন না। কারণ, ইতিমধ্যে এ দেশের সরকার কেয়ার হোমগুলোকে সতর্ক করে দিয়েছে যে এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সি নিয়োগ করা যাবে না অথবা এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সি যদি কোনো লোক দিয়ে থাকে, তাহলে তাঁদের নিয়ে আসা যাবে না। সরকার চায়, কেয়ার হোমগুলো নিজেরা সাক্ষাৎকার নিয়ে লোক নিয়োগ দেবে।

*যদি আপনি কোনো এজেন্সিকে টাকা দিয়ে আসেনও এবং সেই এজেন্সি এমপ্লয়ারদের সঙ্গে যোগসাজশে আপনাকে নিয়ে এসে কাজ না দেয় এবং কেবল নিয়ে আসার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়, তাহলে এখানে এসে আপনার মানবেতর জীবন যাপন করার সম্ভাবনা বেশি। কারণ, এখানে জীবনযাপনের ব্যয় অনেক বেশি এবং বৈধ চাকরি না থাকলে তা অর্জন করা অনেক কঠিন হবে।

*যদি আপনি চাকরিদাতার সঙ্গে চুক্তি না করে আসেন, যেমন কত টাকা আপনার বেতন হবে, কত দিন আপনাকে বাৎসরিক ছুটি দেবে, আপনি অসুস্থ হলে কী কী সুবিধা দেবে; এসব চুক্তি না থাকলে আপনাকে গর্তের ভেতর ফেলে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

*সর্বোপরি দালালেরা আপনার কাছ থেকে প্রথম কিস্তিতে যে টাকা নিল, সেই টাকাও আর ফিরিয়ে না দিতে পারে এবং হয়তো প্রতিশ্রুতিমতো আপনাকে নিয়ে আসতে পারবে না।

তারপরও যদি কোনো এজেন্সি আপনাকে নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দেয়, আমার পরামর্শ হবে আপনি নিজেও আপনার এমপ্লয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। ই–মেইল করবেন, কথা বলবেন। দেখে নেবেন যে এমপ্লয়ার বিশ্বাসযোগ্য কি না!

কারা আসবেন ছেলে/মেয়ে, পুরুষ/ নারী (বয়স ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে)। এ দেশে পুরুষ ও নারী সবাই নিরাপত্তা পাবেন। তাই যদি কোনো নারী আসতে চান, আপনার কোনো আত্মীয় বা বন্ধুবান্ধব এ দেশে থাকা জরুরি নয়। এখানে কোনো ধরনের হয়রানি হওয়ার আশঙ্কা নাই। হেলথ কেয়ার সেক্টরের অধিকাংশ চাকরির জন্য কোনো যোগ্যতা থাকতে হবে না। তবে মনে রাখবেন, এখানে এসে আপনি ইংরেজিতে কথা বলা লোকেদের সঙ্গে কাজ করবেন। তাই তাঁদের কথাবার্তা কিছুটা হলেও বুঝতে হবে আপনাকে। সরকার নির্ধারণ করে দিয়েছে যে আপনার আইইএলটিএস স্কোর ৪ (প্রতিটি বিষয়ে চার—স্পিকিং, লিসেনিং, রাইটিং, রিডিং) হবে আইইএলটিএস (জেনারেল) ইউকেভিআই। এই একটি যোগ্যতা আপাতত। স্কিমটি ১২ মাস পর্যন্ত খোলা আছে, তাই তাড়াতাড়ি এ কোর্সটি এবং স্কোর করে নেন। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় ন্যূনতম বেতন নিশ্চিত নয়। কিন্তু এখানে এ কাজে আপনাকে ২০ হাজার ৪৮০ পাউন্ড বাৎসরিক বেতন নিশ্চিত। আমি যে এমপ্লয়ারদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, তারা আমাকে বলেছে যে তারা পছন্দ করেন, প্রার্থীরা নিজেরা দরখাস্ত লিখবেন এবং নিজেরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। তারা বলেছেন, তারা বাসস্থানের ব্যবস্থাও করবেন।

ইউরোপের অন্যান্য দেশ নয়, কেন ইংল্যান্ড?

আপনারা হয়তো দেখেছেন, সাঁতার কেটে সাগর পাড়ি দিয়ে মানুষ এখানে চলে আসতে চান। বিভিন্ন কারণে সাঁতার কেটে এখানে আসা যদিও নিরাপদ নয়। যেমন জার্মানি থেকে ফ্রান্সে এসে তারপর সাগর পাড়ি দিতে অনেকে ডিঙি নৌকা ব্যবহার করেন এবং তা ডুবে গেলে সাঁতার কেটে এসে পৌঁছাতে চান। কিন্তু তা সহজ নয়। অনেকেই মারা যান। আর যদি কেউ এসেও থাকেন, তবে বৈধ হওয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে। এসব ঝুঁকি গ্রহণকারীদের নিরুৎসাহিত করতে সরকার বৈধ পথে আসার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। মানুষ কেন ইংল্যান্ডে আসতে চান? তাঁরা তো জার্মানিসহ ইউরোপে থাকতে চান না। শুধু ইংল্যান্ডে চলে আসতে চান। এ বিষয়ে পরে লিখব।

কোন কোন পোস্টে লোক নেবে কেয়ার অ্যাসিস্ট্যান্ট, কেয়ার ওয়ার্কার, কেয়ারার, হোম কেয়ার অ্যাসিস্ট্যান্ট, হোম কেয়ারার ও সাপোর্ট ওয়ার্কার (নার্সিং হোম)। এসব পোস্টের জন্য কর্ম খালি খুঁজলে করলে মিলবে নানান উত্তর।

কীভাবে চাকরি খুঁজবেন এবং দরখাস্ত করবেন গুগলে এসব নাম লিখে কর্ম খালি খুঁজলে আপনারা কীভাবে দরখাস্ত করবেন, তা বিস্তারিত পেয়ে যাবেন। মূলত একটি জীবনবৃত্তান্ত তৈরি করে এবং একটি সাহায্যকারী চিঠি সঙ্গে যুক্ত করে এমপ্লয়ারদের নির্ধারিত ই–মেইলে পাঠিয়ে দেবেন।

কোথায় কোথায় এই চাকরির কর্মখালির খোঁজ পাবেন? linkedin, Indeed, Reed, carehome, jobsite, homecare, totaljob, agencycentral ageuk jobcommunityg এসব সাইটে গিয়ে পোস্টগুলোয় কর্ম খালি খুঁজতে পারেন। দরখাস্তের সঙ্গে কী কী জমা দিতে হয়? যদি কোনো স্পন্সর আপনাকে কাজ দিয়ে দেয়, তাহলে কী কী জিনিস জমা দেবেন? ১. দরখাস্ত ২. পাসপোর্ট ৩. সার্টিফিকেট অব স্পনসর (এমপ্লয়ার দেবে) ৪. এমপ্লয়ারের সঙ্গে চুক্তি ৫. অ্যাপ্লিকেশন ফি (২৩২ পাউন্ড ৩ বছরের ভিসা ফি) ৬. এনএইচফি (লাগবে না) ৭. টিবি টেস্ট সার্টিফিকেট ৮. আইইএলটিএস সার্টিফিকেট ৯. এক মাসের ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট ১২৭০ পাউন্ড থাকবে, মেইনটেইন্যান্স ফান্ড।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    ওমিক্রন: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি ধাপে ধাপে বাড়াতে পারে

    নিজস্ব প্রতিবেদক
    ২৬ জানুয়ারি, ২০২২ ১৭:৩৭
    নিজস্ব প্রতিবেদক
    ওমিক্রন: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি ধাপে ধাপে বাড়াতে পারে

    করোনা সংকটে প্রায় দেড় বছর বন্ধের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও আবার শ্রেণি ও বোর্ড পরীক্ষায় নেমে আসতে পারে স্থবিরতা। চলতি বছরের শুরুতে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে আপাতত ৬ ফ্রেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আগের মতো এবারো ধাপে ধাপে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, আগের মতো এবারো ধাপে ধাপে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানো হবে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নির্ধারণ করা হবে ছুটি। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হবে।

    মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক বিদ্যালয়) অধ্যাপক বেলাল হোসাইন বলেন, করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত স্কুল-কলেজ খোলা সম্ভব হবে না। বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে আমরা অনলাইন ক্লাস শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে অ্যাসাইনমেন্ট কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হচ্ছে। ২০২২ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট শুরু করতে মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। শিগগির ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত এর আওতায় আনা হবে। অ্যাসাইনমেন্ট তৈরিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, অ্যাসাইনমেন্ট ও অনলাইন ক্লাসের জন্য আগের চেয়ে শিক্ষকদের অনেক বেশি বেল্ডেন্ডার এডুকেশনের উপর প্রশিক্ষণ দিয়ে সক্ষমতা তৈরি করা হয়েছে। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও বিকল্প পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান থাকবে। যত দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে শ্রেণি কার্যক্রম শুরু করা যায় সে চেষ্টা আমাদের আছে। যতক্ষণ তা না করা যায় ততক্ষণ অনলাইন কার্যক্রমের উপর নির্ভর করতে হবে।

    জানা যায়, দেশে করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঘরবন্দি শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা চালিয়ে নিতে সরকার সংসদ টিভি, রেডিও এবং অনলাইনে শিক্ষকদের পাঠদান সম্প্রচার করলেও দেশের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ এর আওতায় আসেনি। ঢাকা মহানগরের কিছু শিক্ষার্থী পেয়েছে এ সুবিধা।

    সংশ্লিষ্টদের মতে, করোনার কারণে আইসিটিভিত্তিক শিক্ষা শুরু করেছে বাংলাদেশ। কেন্দ্রীয়ভাবে আইসিটি শিক্ষাব্যবস্থা চালু নেই দেশে। বিচ্ছিন্নভাবে অনলাইনে যে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে তা সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবে না। ফলে আইসিটি শিক্ষায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

    সমস্যা সমাধানে যেসব সুপারিশ করেছেন শিক্ষাবিদরা তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে শিক্ষকদের আইসিটি বিষয়ে অভিজ্ঞ করে তোলা। বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে বিভিন্ন ডিভাইস দিয়ে অনলাইন ক্লাসে সব শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      এক দশকে দেশে ৭৪টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

      নিজস্ব প্রতিবেদক
      ২৬ জানুয়ারি, ২০২২ ১৭:৩৪
      নিজস্ব প্রতিবেদক
      এক দশকে দেশে ৭৪টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

      আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতার গত এক দশকে দেশে ২৩টি সরকারি ও ৫১টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি মিলে বর্তমানে দেশে মোট ১৬০টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।

      আজ বুধবার (২৬ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া লিখিত বক্তব্যে থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মোরশেদ আলম তার প্রশ্নে গত এক দশকে সরকারি ও বেসরকারি কতটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত ও শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

      প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষার সমান সুযোগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়নকে গতিশীল ও স্থায়ী করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উপযুক্ত, সুশিক্ষিত ও আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। গত এক দশকে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং অবকাঠামোসহ শিক্ষার সার্বিক মান উন্নয়নে বর্তমান সরকার কর্তৃক বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

      তিনি আরও বলেন, দেশে মানসম্মত উচ্চ শিক্ষা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বেসরকারি পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং এর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-১৯৯২ যুগোপযোগী করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০ পাস হয়েছে। বর্তমানে উক্ত আইনকে যুগোপযোগী ও হালনাগাদ করার লক্ষ্যে আইন সংশোধন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

      সরকার প্রধান বলেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুণগতমান নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল আইন-২০১৭ এর অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        ছাত্র লাঞ্ছনার অভিযোগে জাবির দুই ছাত্রী বহিষ্কার

        নিজস্ব প্রতিবেদক
        ২৬ জানুয়ারি, ২০২২ ১১:০
        নিজস্ব প্রতিবেদক
        ছাত্র লাঞ্ছনার অভিযোগে জাবির দুই ছাত্রী বহিষ্কার

        এক ছাত্রকে লাঞ্ছনার অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একজনকে এক বছরের জন্য আরেকজনকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়।

        বহিষ্কৃত ওই দুই ছাত্রীর নাম সুমাইয়া বিনতে ইকরাম ও আনিকা তাবাসসুম। তারা দুজনই নৃবিজ্ঞান বিভাগের চূড়ান্ত বর্ষের শিক্ষার্থী।

        মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

        সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক মো. হানিফ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

        তিনি বলেন, ভুক্তভোগী ছাত্র প্রক্টরিয়াল বডির কাছে লিখিত অভিযোগ করে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী, অভিযুক্ত এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে প্রক্টরিয়াল টিম। এর পর একটি প্রতিবেদন তৈরি করে শৃঙ্খলা বোর্ডের কাছে পাঠানো হয়। বোর্ড তাদেরকে এই শাস্তি দেয়ার সুপারিশ করে। পরে জরুরি সভা ডেকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

        সুমাইয়া বিনতে ইকরামের শাস্তির কারণ হিসেবে তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থীকে গালিগালাজসহ শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন। আর আনিকা তাবাসসুমকে শাস্তি দেয়া হয়েছে সুমাইয়াকে সহযোগিতা করা এবং মিথ্যা অভিযোগ দাখিলের জন্য।

        এর আগে গতকাল সোমবার রাতে রাস্তার জায়গা ছেড়ে দেয়াকে কেন্দ্র করে জাবির বটতলায় স্নাতকোত্তর পর্বের এক ছাত্রকে থাপ্পর মারেন সুমাইয়া।

        বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সেখানে প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা আসেন। এরপর উভয়পক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যান।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা দুই–তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থীর আবাসিক সুবিধা নেই

          নিজস্ব প্রতিবেদক
          ২৬ জানুয়ারি, ২০২২ ১০:৫২
          নিজস্ব প্রতিবেদক
          বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা দুই–তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থীর আবাসিক সুবিধা নেই

          হবিগঞ্জে বাড়ি সাকিব হাসানের, পড়েন রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে। স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষা শেষ করে এখন ফলের অপেক্ষায় তিনি। আগামী মাসে তাঁর স্নাতকোত্তরের ক্লাস হওয়ার কথা। ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থী শুরু থেকেই পুরান ঢাকার কয়েকটি জায়গায় ভাড়া বাসায় (মেস) থেকে পড়াশোনা করছেন। এখন থাকেন লক্ষ্মীবাজারের বানিয়ানগর এলাকায়।

          সাকিব হাসান জানান, মেসে থাকতে তাঁর থাকা-খাওয়াসহ মাসে খরচ হয় পাঁচ হাজার টাকার মতো। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের জন্য আবাসিক হল না থাকায় বাধ্য হয়েই তিনি মেসে থাকেন। এতে পড়াশোনার খরচও বেশি হচ্ছে। হলে থাকতে পারলে সেই খরচ অর্ধেক কমে যেত।

          ২০০৫ সালে কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের জন্য কোনো পূর্ণাঙ্গ আবাসিক হল নেই। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের দখলে থাকা একটি পুরোনো বাড়িতে হাতে গোনা কয়েকজন শিক্ষার্থী থাকেন। আর দীর্ঘদিন ধরে কাজ চলার পর ছাত্রীদের জন্য নতুন একটি আবাসিক হল নির্মিত হলেও এখনো ছাত্রীরা সেখানে উঠতে পারেননি। এতে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রায় ১৩ হাজার ছাত্রছাত্রীর প্রায় সবাই থাকেন নিজস্ব ব্যবস্থাপনায়। যাঁদের অধিকাংশই থাকেন ভাড়াবাড়িতে।

          ইউজিসির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে (৪৭তম) শিক্ষার্থীদের আবাসনব্যবস্থাসহ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষার নানা তথ্য উঠে এসেছে। বর্তমানে সারা দেশে পাবলিক ও বেসরকারি মিলিয়ে ১৫৮টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৫০টি পাবলিক ও ১০৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে কয়েকটি এখনো পুরোদমে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেনি। এ ছাড়া জাতীয়, উন্মুক্ত ও ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি শিক্ষার্থী নেই; এগুলোতে অধিভুক্ত কলেজ ও মাদ্রাসার মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম চলে।

          বাকি ৪৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৩২টি আবাসিক হল ও ডরমিটরি রয়েছে। এগুলোতে থাকার সুবিধা আছে ১ লাখ ৫ হাজার ৭৮৭ জনের। আর এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী পড়েন ৩ লাখ ১৪ হাজার ৯৩০ জন। আবাসিক সুবিধা পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬৩ হাজারের বেশি ছাত্র ও ৪২ হাজারের বেশি ছাত্রী।

          গত ৩০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেওয়া ইউজিসির বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন ৩৯ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। এর মধ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩টি হল ও ডরমিটরিতে আবাসিক সুবিধা পান ৪৩ শতাংশ শিক্ষার্থী। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এ হার ২৩ শতাংশ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যা ১৯ শতাংশ। আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গীরনগর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক সুবিধা পান ৮১ শতাংশের মতো শিক্ষার্থী। তবে আবাসিক সুবিধায় সবচেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

          জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক সুবিধাই নেই। এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

          বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন, পর্যাপ্ত আবাসিক সুবিধা না থাকায় শিক্ষার্থীদের নানামুখী অসুবিধা হচ্ছে। ছাত্রীরা বেশি অসুবিধায় পড়েন।

          এ বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী সম্প্রতি বলেন, শিক্ষার্থীদের আসনসংকট দূর করতে আরও হল নির্মাণ করতে হবে। এ জন্য উচ্চশিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

          গবেষণায় এগিয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ইউজিসির তথ্য বলছে, তুলনামূলকভাবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চেয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা বেশি হয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ২০২০ সালে গবেষণা ব্যয় ছিল প্রায় ৭৩ কোটি টাকা।

          অন্যদিকে দেশের ১০৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ২৭টি গবেষণা খাতে কোনো অর্থ ব্যয় করেনি।

          পাবলিকে শিক্ষার্থী বাড়ছে, কমছে বেসরকারিতে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে। ২০২০ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ছিল ৩ লাখ ২৮ হাজার ৬৮৯ জন, যা আগের বছর ছিল প্রায় সাড়ে তিন লাখ। ২০১৮ সালে শিক্ষার্থী আরও বেশি ছিল (৩ লাখ ৬১ হাজারের বেশি)। অথচ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়েছে।

          অন্যদিকে বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মিলিয়ে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২০ সালে মোট শিক্ষার্থী ছিল ৪৬ লাখের বেশি। যা আগের বছরের চেয়ে বেড়েছে।

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত