শিরোনাম
বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি প্রসঙ্গে বুটেক্স শিক্ষার্থীরা যা ভাবছেন
রাতুল সাহা, বুটেক্স প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রকৌশল-সম্পর্কিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি দেশে বহুল আলোচিত বিষয় হলো বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ছাত্ররাজনীতি চালু রাখা হবে কিনা তা এখন জটিল প্রশ্ন।
এক সময় বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি থাকলেও ২০১৯ সালের ১১ অক্টোবর বুয়েটের দেওয়া এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতির ইতি ঘটে। এর মূলে ছিল বিশ্ববিদ্যালয়টির শেরে বাংলা হলে বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা ও ছাত্ররাজনীতির বিরুদ্ধে বুয়েট শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলন। তবে চলতি বছরের মার্চ মাসের দিকে এসে পুনরায় ছাত্ররাজনীতি চালু করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ছাত্রলীগের সদস্যরা। অপরদিকে আন্দোলনরত বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা চায় ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকতে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের একই দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বুয়েট ক্যাম্পাস।
গত ১ এপ্রিল বুয়েটের ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের স্থগিত করেছে হাইকোর্ট। এক দৈনিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানা যায়, বুয়েটের উপাচার্য হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত সমর্থন করেন। কিন্তু বুয়েটের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরা এখনো
ছাত্ররাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান করছেন। বুয়েটের ছাত্ররাজনীতি কি আসলেই শিক্ষার্থীদের জন্য কল্যাণকর হবে নাকি পুনরায় এর মাধ্যমে অপরাধ কর্মকাণ্ড সংঘটিত হবে? বুয়েটে রাজনীতি প্রসঙ্গে মতামত তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) কয়েকজন শিক্ষার্থী। চলুন শুনি তাদের কথা—
বুটেক্সের ৪৫তম ব্যাচের ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী জুয়েল রানা রেজা বলেন, ছাত্ররাজনীতি ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের ভিত্তি। এ দেশের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় সেই ৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে ৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধে ছাত্রদের, বিশেষ করে ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ রয়েছে। সুসাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতি সর্বদাই ছাত্রদের অধিকার আদায়ে, দেশের অধিকার রক্ষায় একনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে। বর্তমান বুয়েটে ছাত্ররাজনীতির বিরুদ্ধে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন একবারে ভিত্তিহীন বলা যাবে না। কিন্তু একটা স্কুলের প্রধান শিক্ষক দুর্জন হলে সম্পূর্ণ স্কুলটা বন্ধ করে দেওয়া যেমন বুদ্ধিমানের কাজ হবে না, তেমনি এক বছরের নেতৃত্ব খারাপ হওয়ায় পুরো ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করা আপাতদৃষ্টিতে ঠিক মনে হলেও দূরদৃষ্টিতে তা দেশের জন্য এবং জাতির জন্য ক্ষতিকর ও উন্নতির অন্তরায়। রেষারিশির ছাত্ররাজনীতি, ব্যক্তিস্বার্থের ছাত্ররাজনীতি, প্রতিহিংসার ছাত্ররাজনীতি প্রতিহত করে বুয়েটে সুশৃঙ্খল ছাত্ররাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা আবশ্যক। আজকের ছাত্ররা ভবিষ্যৎ সোনার বাংলার চলিকাশক্তি। দেশের ভিত্তিপ্রস্তর শক্ত করতে হলে শিক্ষিত এবং মেধাবী জনশক্তির রাজনীতিতে অংশগ্রহণ অতীব প্রয়োজনীয়। তাই বুয়েটে অবশ্যই ছাত্ররাজনীতি প্রয়োজন।
৪৬তম ব্যাচের ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী এফ এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বুয়েটের মতো বিদ্যাপীঠের মেধাবী শিক্ষার্থীরা যখন ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতির বিরুদ্ধে সরব হয়ে মাঠে নেমে আসে, তখন আমাদের বুঝতে হবে এটা অন্য যেকোনো সাধারণ প্রেক্ষাপট আর যুক্তি দিয়ে তুলনা করার সুযোগ নেই। বুয়েটে ছাত্ররাজনীতির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে সেখানখার অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের মতামতের বাইরে এসে বহিরাগত কারো কথায় রাজনীতি বন্ধ অথবা শুরু করার সুযোগ দেয়া উচিত নয়। এক্ষেত্রে বুয়েট কর্তৃপক্ষ বর্তমান শিক্ষার্থীদের অফিশিয়াল মতামত নিতে পারে হ্যাঁ/না ভোটের মাধ্যমে। কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থীদের কথা না ভেবে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া অযৌক্তিক। ছাত্ররাজনীতি ব্যাতিত বিগত ৪ বছরে বুয়েট ক্যাম্পাস যেহেতু নিজস্ব গতিতেই এগিয়ে যাচ্ছিলো, তাই এখানে পুনরায় ছাত্র রাজনীতি এনে সনি কিংবা আবরার ফাহাদের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর মিছিলে সামনে কারো নাম যুক্ত করার পথ সুগম করে দেয়া হচ্ছে কিনা এ ব্যাপারেও পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের প্রয়োজন আছে। পরিশেষে বুয়েট শিক্ষার্থীরা চাইলে 'ছাত্র সংসদ' নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক রাজনীতি চর্চা করতে পারে। এক্ষেত্রে কোনো দল বা এলাকাভিত্তিক রাজনীতি বাধ্যবাধকতা নেই বলেই আমি মনে করি।৪৮তম ব্যাচের ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মাহামুদুল হাসান জানান, ছাত্ররাজনীতি দাঁড়িয়ে আছে মত প্রকাশের স্বাধীনতা এই মূলভিত্তির উপর। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা কি তাদের মত প্রকাশে কোনো সাংগঠনিক উপায়ের সহযোগিতা নিবে? তারা কি তাদের মত প্রকাশ করার, অধিকার তুলে ধরার সুযোগ থেকে বঞ্চিত? বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে শিক্ষার্থীরা কি চাইলেই যোগাযোগ করতে পারে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়া গেলে ছাত্ররাজনীতি এর পক্ষে বিপক্ষে যুক্তি দেওয়া সম্ভব হবে। আর উত্তর গুলো কেবল সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছেই পাওয়া সম্ভব।
প্রশ্ন আরো আছে, প্রাতিষ্ঠানিক ছাত্ররাজনীতি কি আদতে শিক্ষার্থীদের জন্যে কাজ করতে সক্ষম? নির্দিষ্ট দল কিংবা রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতিফলন কি সাধারণ ছাত্রদের হয়ে প্রকৃতপক্ষে কাজ করবে নাকি স্বার্থান্বেষী মহলের প্রতিপত্তি বিস্তারে ভূমিকা রাখবে?
শিক্ষার্থীদের পূর্বাভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশে রাজনৈতিক ইতিহাস প্রশ্নগুলোকে আরো জটিল করে তুলেছে শিক্ষার্থীদের কাছে। শিক্ষার্থীরা চায় সুস্থ-সুন্দর শিক্ষার্থী বান্ধব ক্যাম্পাস তার জন্য প্রথম শর্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজা। অন্যথায় জোরপূর্বক প্রাতিষ্ঠানিক রাজনীতি আতংক ছাড়া কিছুই নিয়ে আসবে না।
একই ব্যাচের ডাইজ অ্যান্ড কেমিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী শাফিউল ইসলাম জানায়, স্বাধীনতার পূর্বে ছাত্রনেতাদের হাত ধরে বহু বিজয়গাথা আছে বাঙালি জাতির। ছাত্ররাজনীতি মূলত ছাত্রদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত, নতুন নেতৃত্বের সৃষ্টি এবং ছাত্রদের দাবি আদায় করার উদ্দেশ্যই পরিচালিত হয়। ভবিষ্যতে একসময় এই ছাত্র নেতাদের হাত ধরেই দেশের শাসনব্যবস্থা পরিচালিত হবে। বর্তমানে বেশির ভাগ তরুণ শিক্ষার্থীরা এবং অভিভাবকরাও সন্তানের রাজনীতিতে জড়ানোর বিষয়কে অত্যন্ত ভয়ের চোখে দেখেন। রাজনীতিতে অনীহার কারণ মারামারি, বিশৃঙ্খলা, হানাহানি, খুন, ধর্ষণের মতো ন্যক্কারজনক কিছু বিষয়। বুয়েটের আবরার ফাহাদকে হত্যার পর থেকেই বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়। এখন বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি পুনরায় জাগ্রত করতে তৎপর ছাত্রলীগ নেতারা। অন্যদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা চায় বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধই থাকতে। কারণ তারা ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি চায় না। অতীত ইতিহাসে ছাত্রদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকলেও বর্তমানে মেধাবীরা তাদের মন ফিরিয়ে নিচ্ছেন ছাত্ররাজনীতি থেকে। এক্ষেত্রে বলতে হয় ছাত্ররাজনীতি নয় বরং বন্ধ হওয়া উচিত ছাত্ররাজনীতির নামে ‘অপরাজনীতি’। ছাত্রবান্ধব ছাত্ররাজনীতির চর্চা শুরু করা গেলে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার ও জাতির কল্যাণের পথ মসৃণ হবে।
৪৯তম ব্যাচের ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী এহসানুল হক রাফি জানায়, একটা স্বাধীন সার্বভৌম গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার দেশে ছাত্রদের কেন পড়াশোনার পরিবর্তে ছাত্ররাজনীতি করতে হবে? তার উত্তর যদি হয় ভবিষ্যতে রাজনীতিতে শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্টতা। তাহলে আমার পাল্টা প্রশ্ন হচ্ছে বর্তমানে পৃথিবীর কয়টা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্ররাজনীতি চালু আছে? আমাদের প্রতিবেশী কয়টা দেশে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা বাদ দিয়ে রাজনীতি করছে? ভারতের মতো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশেও ছাত্র রাজনীতি বলে কিছু নেই। তাহলে আমাদের দেশে কেন এখনো ছাত্র রাজনীতি এতটা জরুরী? ছাত্র রাজনীতির কারণে আমাদের শিক্ষাঙ্গনগুলোতে তথাকথিত জোট তৈরি হচ্ছে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থী এবং রাজনৈতিক ক্ষমতাপুষ্ট বেপরোয়া শিক্ষার্থী বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে। রাজনীতির এমন খেলায় ক্ষমতার অপব্যবহার হওয়ায় নজীর অনেক রয়েছে। এই অসুস্থ চর্চার কারণে বুয়েটের আবরার আজ আমাদের মধ্যে নেই।ছাত্ররাজনীতি আবার বুয়েটের বুকে পদার্পণ করলে আবার কত আবরারের বলি হবে তা নিয়ে ভয়ার্ত বুয়েটিয়ানরাই আজ আন্দোলনরত রয়েছে। ক্ষমতার সুপ্রয়োগ করে দল এবং দেশ পরিচালনার জন্য যে হাতেখড়ি দরকার তা আর যেখানে হোক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজন নেই। তাই ছাত্ররাজনীতির মত নিন্দিত রাজনৈতিক ব্যবস্থা বুয়েটসহ দেশের যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিষিদ্ধ হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।একই ব্যাচের এনভরমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী জসিবুল হাসান জানান, বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি চলবে কিনা এ নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে। চলমান অবস্থায় ছাত্রদের ভাষ্যমতে বুয়েটে র্যাগিং কালচার, অত্যাচার, চাঁদাবাজি, হলের অনিয়ম চলেছিল। রাজনৈতিক কারণে আমরা প্রত্যক্ষ করেছি আবরার, সনি ও দীপদের মতো মেধাবী ছাত্রদের নৃশংসভাবে হত্যা করা করেছে। আবরারের নির্মম হত্যাকান্ডের পর তুমুল আলোচনা ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ফলে বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়। এর ফলে বুয়েটে র্যাগিং কালচার, অত্যাচার, চাঁদাবাজি বন্ধ হয় এবং হলের খাবারের মান উন্নয়নসহ পড়াশোনারও অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়। কথিত রাজনৈতিক দল পুনরায় বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে চায়। তবে বুয়েটের ৯৭ ভাগ ছাত্ররাজনীতির বিপক্ষে অবস্থান করছে। বাংলাদেশ স্বাধীন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে সকলের মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও অধিকার রয়েছে। যেহেতু সিংহভাগ শিক্ষার্থী চায় না বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি ফিরে আসুক, কথিত রাজনৈতিক দলের উচিত নয় জোর করে বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা।
"হাল্ট প্রাইজ ২০২৪" খুবি শিক্ষার্থীদের দল "ফরচুন ৫০১"
খুবি প্রতিনিধি : বিশ্বের বৃহত্তম সামাজিক উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতা "হাল্ট প্রাইজ ২০২৪" আসরে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দল "ফরচুন ৫০১"।
এবছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন শহরে আয়োজিত হতে যাচ্ছে হাল্ট প্রাইজের আন্তর্জাতিক পর্যায় "বোস্টন গ্লোবাল সামিট।" দেশের আঞ্চলিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করার ফলস্বরূপ "ফরচুন ৫০১" দলটি উক্ত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করেছে।
দলটির সদস্যরা হলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের তৃতীয় বর্ষের তিন শিক্ষার্থী তাহরিম জামান (দলনেতা), হিজবুল্লাহ তামিম ও আফিয়া খাতুন মৌরি।
প্রতিযোগিতায় দলটি "ইকো এলিক্সির" নামে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করবেন। উক্ত প্রকল্পের মাধ্যমে ভোজ্যতেল পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ করে জ্বালানী তেল হিসেবে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করে তোলা সম্ভব বলে তারা মনে করেন। এর মাধ্যমে তারা মানুষের সুস্বাস্থ্য, পরিবেশ, জলবায়ু ও নবায়নযোগ্য জ্বালানীসহ জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) বেশ কয়েকটি লক্ষ্যমাত্রা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার প্রত্যয় প্রকাশ করেছেন।
এবছর শতাধিক দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় ১০ হাজার দলের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে বিজয়ী ৩৬০ টি দল মূল পর্যায়ে ৭ টি ভিন্ন শহরে, ৭ টি উপগ্রুপে বিভক্ত হয়ে অংশগ্রহণ করবে। প্রতিযোগিতার চুড়ান্ত পর্যায়ে বিজয়ী দলকে ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদান করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দল "এপিয়ন" উক্ত প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে এবং গ্লোবাল সেমিফাইনালিস্ট হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র সংগ্রহের শেষ দিন আজ
জবি প্রতিনিধি: দেশের ২৪টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক ও বিবিএ প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র সংগ্রহের শেষ দিন আজ। সোমবার রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা জিএসটি ভর্তি পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট নির্ধারিত ওয়েবসাইটে নিজেদের আইডিতে প্রবেশ করে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে পারবেন। পাশাপাশি তাদের আসন বিন্যাসও দেখতে পারবেন।
এছাড়াও যেসকল ভর্তিচ্ছুদের যাদের ছবি বা সেলফি কর্তৃপক্ষের গাইডলাইন অনুযায়ী আপলোড করা হয়নি, তাদেরকেও আজকের মধ্যে সংশোধিত ছবি বা সেলফি আপলোডের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল কমিটির আহ্বায়ক এবং চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাছিম আখতার সোমবার এসব তথ্য জানিয়েছেন।
উপাচার্য অধ্যাপক নাছিম আখতার জানান, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছভুক্ত ২৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিচ্ছুদের পরীক্ষার প্রবেশপত্র সংগ্রহের সুযোগ আজই শেষ হবে। ২৩ মার্চ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য এটি উন্মুক্ত করা হয়।
তিনি আরও জানান, যেসব আবেদনকারীর ছবি বা সেলফি অথবা উভয়টি জিএসটির ফটো গাইডলাইন অনুযায়ী গৃহীত হয়নি, তারা আজ রাত ১০টার মধ্যে অবশ্যই জিএসটির ফটো গাইডলাইন অনুসরণ করে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ছবি বা সেলফি অথবা উভয়টি আপলোড সম্পন্ন করে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে হবে। না হলে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে না।
এবছর প্রায় ২১ হাজার আসনের বিপরীতে আবেদন পড়েছে ৩ লাখ ৫ হাজার ৩৪৬টি। এবার প্রতি আসনের বিপরীতে লড়বে গড়ে ১৫ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে বিজ্ঞান শাখার ‘এ’ ইউনিটে ১ লাখ ৭০ হাজার ৫৯৯টি, মানবিক শাখার ‘বি’ ইউনিটে ৯৪ হাজার ৬৩১টি ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার ‘সি’ ইউনিটে ৪০ হাজার ১১৬টি আবেদন জমা পড়েছে।
আগামী ২৭ এপ্রিল শনিবার (এ ইউনিট-বিজ্ঞান), ৩ মে শুক্রবার (বি ইউনিট-মানবিক) এবং ১০ মে শুক্রবার (সি ইউনিট-বাণিজ্য) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা দুপুর ১২টা থেকে ১টা এবং অন্য দুই ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।
ভর্তি পরীক্ষার সকল তথ্য গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার ওয়েবসাইটে (https://gstadmission.ac.bd) পাওয়া যাবে।
গুচ্ছভুক্ত ২৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাকা), ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (কুষ্টিয়া), শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (সিলেট), খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুলনা), হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (দিনাজপুর), মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (টাঙ্গাইল), নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোয়াখালী), কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুমিল্লা), জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় (ময়মনসিংহ), যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যশোর), বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (রংপুর), পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবনা), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোপালগঞ্জ), বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (বরিশাল), রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাঙ্গামাটি), রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ (সিরাজগঞ্জ), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি (গাজীপুর), শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় (নেত্রকোনা), বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (জামালপুর), পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পটুয়াখালী), কিশোরগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কিশোরগঞ্জ) এবং চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চাঁদপুর), সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (সুনামগঞ্জ) এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পিরোজপুর)।
নিম্ন আয়ের মানুষটির ঘরেও ইদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক
মো: বাইজীদ আহম্মেদ রনিঃ "ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ" গানটির মতো আসলেই কী সকল শ্রেণির আয়ের লোকের জন্য ইদ খুশির হয়ে থাকে? দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর ইদ উদযাপন করে বিশ্ববাসী। আর্থিকভাবে সচ্ছল পরিবারগুলো ইদের আনন্দ উপভোগ করলেও এদেশে নিম্ন বা নিম্ন মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের জন্য ইদ আনন্দ বয়ে আনতে পারে না। এই পরিবারগুলো যেন কোনো ভাবে ইদের দিনটি পার করলেই বেঁচে যায়।
ইদ মানে আনন্দ,ইদ মানে খুশি। প্রতি বছরের মতো এবছরও ইদকে সামনে রেখে নানা আয়োজন নিয়ে উঁকি দিচ্ছে ইদ-উল-ফিতর। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের সব জায়গায় শুরু হয়ে গেছে ইদ-উল- ফিতর এর প্রস্তুতি। গ্রাম, শহর-বন্দরে বেড়েছে মানুষের উপচে পড়া ভীড়। কারও কেনাকাটা করার ব্যস্ততা, কেউ বা বাড়ী ফিরতে মরিয়া। সবকিছু ছাপিয়ে ঈদকে কিভাবে সকল শ্রেণির মানুষের জন্য আনন্দময় করা যায় সেটিও আমাদের ভাবতে হবে।
সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) এবং ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট যৌথভাবে পরিচালিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ২০২৩ সালে দারিদ্র্যের হার দেশের গ্রামীণ এলাকায় ২১.৬ শতাংশ এবং শহরাঞ্চলে ১৮.৭ শতাংশ। জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে ২৮ শতাংশ পরিবার ঋণগ্রস্ত হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে ইদ কী আনন্দের হতে পারে?
ইদের আনন্দ ভাগাভাগি করা সচ্ছল মানুষদের নৈতিক দায়িত্ব। তবে এই দায়িত্ব শুধু ৫ বা ১০ টাকা ইদের নামাজের আগে আর্থিক সাহায্যপ্রার্থীদের দান করার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা আত্নসম্মানের কারনে আপনার কাছে সহযোগিতা চাইতে আসবে না। আমাদের উচিত ঈদের দিন পাশের বাড়ীর নিম্ন আয়ের মানুষটির খোঁজ নেয়া। তারা কী খাচ্ছে, বাসায় বাজার করেছে কিনা ইত্যাদি জানার চেষ্টা করা এবং সাধ্যমত সহযোগিতা করা। আপনি বা আমি ব্যাগ ভর্তি বাজার করে দেয়ার সক্ষমতা না রাখলে অন্তত এক বাটি রান্না করা খাবার কিন্তু ভাগাভাগি করাই যায়। আনন্দ ভাগাভাগিতে সম্প্রীতি বৃদ্ধি পায় এবং আত্নতৃপ্তিও পাওয়া যায়। আমরা হয়তো বিপুল পরিমাণ নিম্ন আয়ের মানুষদের রাতারাতি সচ্ছল করতে পারবো না কিন্তু আনন্দ ভাগাভাগি করে একটি দিন তাদেরকে অসহায়ত্ব থেকে মুক্তি দিতে পারি।
নিম্ন আয়ের মানুষের মজুরি এবং মধ্যবিত্ত চাকরিজীবীর বেতন যাতে ঈদের আগেই পরিশোধ করা হয় সে বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে। অন্তত ঈদের আগে কয়েকদিন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে প্রশাসনের যথাযথ মনিটরিং নিশ্চিত করা গেলে কিছুটা হলেও নিম্ন আয়ের মানুষের উপর বাড়তি চাপ কমে যেতো।
যারা যাকাতের অর্থ পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছেন তাদের উচিত সে অর্থ দিয়ে খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ করা। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারনে অনেক পরিবারের পক্ষেই ঈদে একটু ভালো খাবার খাওয়া সম্ভব হবে না। আপনার যাকাতের টাকায় ক্রয়কৃত খাবার অনেক পরিবারের ঈদকে আনন্দময় করতে পারে।
সিয়াম সাধনার মাধ্যমে আমরা সহমর্মিতার শিক্ষা পাই, রোজা আমাদের উদার হতে সহায়তা করে। তাই ঈদে শুধু নিজের পরিবারকে ভালো রাখা মানে উদারতা নয়। তাই আসুন সামর্থ্য অনুযায়ী নিম্ন আয়ের প্রতিবেশীর খোঁজ নেই, তাদের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে ঈদ উল ফিতরের দিনটিকে আরও সৌন্দর্যমণ্ডিত করি।
লেখকঃ প্রভাষক (মার্কেটিং), ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন ঢাবি উপাচার্য
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি সবার অনাবিল সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনা করেছেন।
সোমবার (৮ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মাহমুদ আলম পাঠানো এক বিবৃতিতে উপাচার্য সবাইকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানান।
শুভেচ্ছা বাণীতে উপাচার্য বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর ধনী-গরিব, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনে সৌহার্দ, সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে আসে। ঈদুল ফিতর সবার মাঝে আত্মশুদ্ধি, উদারতা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে। সব ভেদাভেদ ভুলে এই দিনে সবাই সাম্য, মৈত্রী ও সম্প্রীতির বন্ধনে মিলিত হয়।
প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে উপাচার্য বলেন, মাহে রমজানের আত্মশুদ্ধি ও সংযমের শিক্ষা গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য