শিরোনাম
নানা আয়োজনে যবিপ্রবির এপিপিটি বিভাগের নবীন বরণ ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত
যবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ কেক কাটা আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজনে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) এগ্রো প্রোডাক্ট প্রসেসিং টেকনোলজি(এপিপিটি) বিভাগের নবীন বরণ ও বিদায়ী ছাত্রদের বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে দশ ঘটিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একাডেমিক ভবনের কেন্দ্রীয় গ্যালারিতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গিতা পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শুভ উদ্বোধন করা হয়। পরবর্তীতে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল ও উপহার সামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে বরণ করে নেওয়া হয় একইসাথে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ক্রেষ্ট ও উপহার সামগ্রি প্রদান করা হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন ড. সাইবুর রহমান মোল্যা। আরও বক্তব্য রাখেন এগ্রো প্রোডাক্ট প্রসেসিং টেকনোলজি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মোঃ সুমন রানা,বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মসিয়ূর রহমান হলের প্রভোস্ট ও যবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. মোঃ আশরাফুজ্জামান জাহিদ, ক্লাইমেট অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মাহফুজুর রহমান।অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিভাগের সহকারি অধ্যাপক এস.এম সামিউল আলম এবং সভাপতিত্ব করেন এগ্রো প্রোডাক্ট প্রসেসিং টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড.মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস।
এছাড়াও উক্ত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন এপিপিটি বিভাগের প্রভাষক মোঃবি.এম খালেদ, প্রভাষক মোঃ মাহফুজুল আলম, প্রভাষক মোঃ আখতারুজ্জামান। ।
আলোচনা সভা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা এপিপিটি (ফরটিফাইড ১.ও) শুরু হয়। সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় এপিপিটি বিভাগের সকল ব্যাচের শিক্ষার্থী ও সম্মানিত শিক্ষকগণ অংশগ্রহণ করেন। সংস্কৃতি অনুষ্ঠান শেষে রাত্রি ১২ টার সময় একটি রাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয় যেখানে ১৫ জন কে পুরষ্কৃত করা হয় এবং ২-ফ্রেব্রুয়ারি হতে ৫-ফ্রেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলা বিভাগীয় স্পোর্টস এর পুরষ্কার বিতরণন করা হয়।
বইমেলায় আসছে চবি শিক্ষার্থীর ‘শাটল ট্রেন ও অন্যান্য’
চবি প্রতিনিধি: বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে তরুণ কবি ও লেখক রহমাতুল্লাহ রাফির তৃতীয় বই প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘শাটল ট্রেন ও অন্যান্য’। রহমাতুল্লাহ রাফি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ ডিপার্টমেন্টের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী।
দীর্ঘ দুই বছর বিরতির পর তিনি তার তৃতীয় বই প্রকাশ করতে যাচ্ছেন। ছোটো-বড়ো মিলিয়ে মোট দশটি গল্পের সমন্বয়ে সাজানো হয়েছে গল্পগ্রন্থটি। প্রতিটি গল্পই বিষয়বস্তুর আঙ্গিকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র এবং অভূতপূর্ব। একটি গল্পের আখ্যানের সাথে অন্য গল্পের কোনো মিল নেই। প্রতিটির স্বাদই ভিন্ন।
কাহিনি নির্বাচনে লেখক মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন। শব্দচয়ন এবং বাক্য গঠনে রেখেছেন পরিপক্বতার ছাপ। রুচিশীল ব্যঞ্জনা এবং সাবলীল সংলাপে তুলে ধরেছেন অভিনবত্ব। গল্পের ফাঁকে ফাঁকে সেন্স অব হিউমারের যথোপযুক্ত ব্যবহারে গল্পগুলোকে করে তুলেছেন আরও বেশি উপভোগ্য।
'শাটল ট্রেন ও অন্যান্য' এর সবগুলো গল্পই একপ্রকার সত্যঘটনা অবলম্বনে রচিত, অবশ্যই পাশাপাশি যোগ হয়েছে লেখকের নিজস্ব কল্পনা। পাঠক যখন বইটি পড়বে তখন অবচেতনেই তার মন প্রশ্ন তুলবে— এত আশ্চর্যজনক এবং রোমহষর্ক ঘটনাও ঘটতে পারে? পরক্ষণেই তার মনে হবে, আরে, এ তো আমাদের চারপাশেরই গল্প। যার কোনো অংশ পরিচ্ছন্ন; কোনো অংশ ভয়াবহ নোংরা।
লেখক রহমাতুল্লাহ রাফি বলেন, 'এই বইটি ইচ্ছে করলে আরও এক বছর আগেই প্রকাশ করতে পারতাম। কিন্তু কোয়ালিটির সাথে কম্প্রোমাইজ করতে রাজি নই বলে সময় নিয়েছি। একজন খুঁতখুতে শিল্পীর মতো দীর্ঘ দুই বছর ঘঁষামাজা করে গল্পগুলোর আলঙ্কারিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছি, উপাখ্যানে সৃষ্টি করেছি নিত্যনতুন বাঁক, ভাষাগত মসৃণতার পাশাপাশি কাহিনিকে করেছি আরও বেশি গতিময়। পূর্বেই বলেছি, আমি কোয়ান্টিটিতে নয়; কোয়ালিটিতে বিশ্বাসী। সময় নিয়ে কাজ করা আমার সত্তাগত স্বভাব। ইতোপূর্বে প্রকাশিত আমার কাব্যগ্রন্থ দুটি স্বল্প পরিধিতে হলেও তরুণ প্রজন্মের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছে। আমার কলমের প্রতি একটা বিশ্বাস গড়ে উঠেছে তাদের। কলম-কালির সূত্র ধরে তাদের পক্ষ থেকে পেয়েছি অফুরন্ত ভালোবাসা। এই ব্যাপারটা অবধারিতভাবে একটা দায়বদ্ধতা তৈরি করেছে। সুতরাং মানহীন কিছু প্রকাশ করে আমি তাদের সেই বিশ্বাস এবং ভালোবাসায় ফাটল ধরাতে চাইনি। আমি সৎভাবে আমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টাটুকু করে গেছি।
'শাটল ট্রেন ও অন্যান্য' সম্পর্কে যদি বলি, তাহলে বলব— এই বইয়ের গল্পগুলো এই সমাজেরই সাদা-কালো অংশ। কাম-ক্রোধ, রোমাঞ্চ-রহস্য, প্রেম-ঘৃণা, স্বার্থ-দ্বন্দ্ব, খুন-রাহাজানি, অতিপ্রাকৃত কিংবা যাদুবাস্তবতার অপূর্ব এক মিশেল এই গল্পগ্রন্থটি। সামাজিক বাস্তবতা, সমকালীন রাজনীতির নোংরা প্রতিচ্ছবি, মানব জীবনের উত্থান-পতন, নারী-পুরুষের মনস্তত্ত্বসহ আরও অসংখ্য বিষয়ে আলো ফেলেছে বইটি। কিছু কিছু গল্প পাঠককে মানবিক হতে উজ্জীবিত করবে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সবক দিবে। সর্বোপরি আমার গল্পগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো স্রোতের মতো বয়ে চলা, যা একটু ফাঁক পেলেই অন্যদিকে মোড় নেয় কিন্তু মূল প্রবাহের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে না। তারপর একসময় এক জায়গায় গিয়ে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। কয়েকটি গল্পের ব্যাপ্তি প্রলম্বিত হওয়ার কারণে পাঠক পাঠ করার সময় উপন্যাস পড়ার সুখ পাবে। এই গল্পগুলোর আয়তন বড়োগল্পের কাছাকাছি উপন্যাসিকার চেয়ে কিছুটা কম। আমার বিশ্বাস সকল স্তরের পাঠকদের গল্পগ্রন্থটি ভালো লাগবে। বইটি পড়ার পর তারা আমার পরিশ্রম এবং একনিষ্ঠতাকে বহুদিন হৃদয়ে লালন করবে।
অমর একুশে বইমেলায় বইটি প্রকাশ করছে উপকথা প্রকাশন। প্রকাশক তানভীর আহমেদ। প্রচ্ছদ করেছেন পরাগ ওয়াহিদ। ১২৮ পৃষ্ঠার (৮ ফর্মা) বইটির মুদ্রিতমূল্য মাত্র ২৭০ টাকা। বইমেলায় ২৫% ছাড়ে আরও সুলভ মূল্যে পাওয়া যাবে। বইটির প্রি অর্ডার চলছে এখন। সরাসরি লেখক এবং রকমারিসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠিত বুকশপ থেকে খুব সহজেই সংগ্রহ করা যাবে 'শাটল ট্রেন ও অন্যন্য' গল্পগ্রন্থটি।
প্রসঙ্গত, এর আগে লেখকের 'অরণ্যে অন্বেষণ' এবং 'রোদেপোড়া রেলস্টেশন' নামে দুটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।
ইবির আইন বিভাগে আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত
নিয়ামতুল্লাহ, ইবি : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। আইন বিভাগের উদ্যোগে সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন একাডেমিক ভবনে সেমিনারটি আয়োজন করা হয়।
বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. রেবা মন্ডলের সভাপতিত্বে ‘রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক আইনে এর বৈধতা: চলমান বিতর্ক’ শীর্ষক সেমিনারে আলোচক হিসেবে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক পরিচালক ও কলকাতার সিস্টার নিবেদিতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মানিক চক্রবর্তী। পরে ‘নারীর ক্ষমতায়ন ও সংবিধানের আদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে আলোচক হিসেবে ছিলেন ভারতের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. শচী চক্রবর্তী।
সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. ওয়ালিউল হাসনাত, ইবির আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সৈয়দা সিদ্দীকা, বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহজাহান মন্ডল, আল-ফিকহ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন, অধ্যাপক ড. আনিচুর রহমান, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন, পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন, গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান, আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্দুল করিম খান, ড. আরমীন খাতুন, ড. সাজ্জাদুর রহমান টিটু, আল ফিকহ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন ও পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ হোসেনসহ বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাকৃবির সমাবর্তনে শুধু গ্র্যাজুয়েটরাই অংশ নিতে পারবে
বাকৃবি প্রতিনিধি: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) অষ্টম সমাবর্তন আগামী ১২ তারিখ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সমাবর্তনের অনুষ্ঠানে শুধুমাত্র গ্র্যাজুয়েটদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। পরিবারের অন্য কোনো সদস্য এমনকি শিশু নিয়েও সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গ্র্যাজুয়েটরা অংশ নিতে পারবেন না।
গতকাল সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন সমাবর্তন সাজসজ্জাবিষয়ক উপ কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গোলজারুল আজিজ। সাজসজ্জা উপ কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক ড. আবু হাদী নূর আলী খান এর সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে ওই উপ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গোলজারুল আজিজ বলেন, সমাবর্তন উপলক্ষে আগামী ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত এবং ১১ ফেব্রুয়ারি অর্ধদিন গ্র্যাজুয়েটদের মাঝে গাউনসহ অন্যান্য উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হবে। গ্র্যাজুয়েটদের একটি ব্যাগ, হুড, টুপি ও সমাবর্তনের স্মরণিকা প্রদান করা হবে। সমাবর্তনের অনুষ্ঠান শেষে গাউন ফেরত দিতে হবে। গাউন ফেরত না দিলে গ্র্যাজুয়েটরা মূল সনদ নিতে পারবেন না। ১২ তারিখ সমাবর্তনের অনুষ্ঠান শেষে বিকাল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এবং ১৩ তারিখ সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত গাউন ফেরত দেওয়া ও সনদ গ্রহণ করা যাবে।
তিনি আরও জানান, প্রত্যেক গ্র্যাজুয়েটকে তাঁর নিজ নিজ অনুষদীয় বুথ থেকে উপহার সামগ্রী গ্রহণ করতে হবে। গ্র্যাজুয়েটদের জন্য ভেটেরিনারি অনুষদে ৩ টি, কৃষি অনুষদে ৪ টি এবং অন্যান্য অনুষদগুলোতে দুইটি করে বুথ থাকবে। এছাড়া প্রত্যেক অনুষদের শিক্ষকদের জন্য একটি করে বুথের ব্যবস্থা থাকবে। বুথ থেকে তাঁদের একাডেমিক কস্টিউম কুপন সংগ্রহ করতে হবে। কুপনটি গ্র্যাজুয়েটদেরকে সংরক্ষণ করতে হবে। কুপন ব্যতীত গ্র্যাজুয়েটরা গাউন গ্রহণ বা ফেরত এবং মূল সনদ সংগ্রহ করতে পারবেন না।
অধ্যাপক ড. আবু হাদী নূর আলী খান বলেন, সমাবর্তন উপলক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৭ হাজার গাউন ভাড়া করা হয়েছে। সমাবর্তন শেষে গাউনটি প্রত্যেককে গ্রহণকৃত বুথে ফেরত দিতে হবে। নিবন্ধনে ব্যবহার করা ছবির সাথে মিলিয়ে গ্র্যাজুয়েটদের উপহার ব্যাগ দেওয়া হবে। একজনের উপহার অন্যজন নিতে পারবেন না। নিবন্ধনকৃত গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে যাঁরা অনুপস্থিত থাকবেন তাঁদের মূল সনদ ও অন্যান্য উপহার সামগ্রীর দায়িত্ব অনুষদীয় একজন নির্দিষ্ট শিক্ষককে দেওয়া হবে। ওই শিক্ষকের কাছ থেকে তা পরবর্তীতে সংগ্রহ করা যাবে।
তিনি আরও বলেন, সরবরাহকৃত গাউন সতর্কতার সাথে ব্যবহার ও সংরক্ষণ করতে হবে। কোনো প্রকার ক্ষতি বা হারিয়ে গেলে তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
ঢাবির সেই রনি এখন চা বিক্রেতা: বলছেন আত্মশুদ্ধির আন্দোলন
বাংলাদেশ রেলওয়ের অনিয়ম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করে দেশব্যাপী আলোচনায় আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনি। মহিউদ্দিন রনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্ট্যাডিজ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। এর আগে গত এপ্রিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারের আধুনিকায়নসহ ছয় দফা দাবিতে অনশন কর্মসূচি পালন করে আলোচনায় আসেন এই শিক্ষার্থী।
আবার তাকে এক ভিন্ন রূপে দেখা গেলো ঢাবি ক্যাম্পাসে। শুরু করেছেন নতুন এক ব্যবসা। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তিনি এখন ঘুরে ঘুরে চা বিক্রি করছেন। এই ব্যবসাকে তিনি বলছেন আত্মশুদ্ধির আন্দোলন এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যম।
রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির ডাস চত্বরে ‘এখানে চা মূল্যে চিন্তা ক্রয়-বিক্রয় করা হয়’ প্ল্যাকার্ড নিয়ে চা বিক্রি করতে দেখা যায় মহিউদ্দিন রনিকে। তিনি জানিয়েছেন তার চা বিক্রেতা হয়ে ওঠার গল্প।
মহিউদ্দিন রনি বলেন, শুরুটা করেছিলাম মূলত প্রয়োজন থেকে। আন্দোলনের পর আমি বেশ অসুস্থ হয়ে পড়ি এবং অনেক টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে যাই। এসময় অনেকে এগিয়ে আসতে চায় এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিতে চায়। কিন্তু দেখা যায় সেগুলো আমার নৈতিকতার সঙ্গে যাচ্ছে না। এগুলো থেকে বাঁচার জন্য আমার কিছু না কিছু করতে হতো, তাই নিজে একটা ব্যবসা শুরু করলাম।
এটিকে আত্মশুদ্ধির আন্দোলন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা কোনো সাময়িক ক্যাম্পেইন বা নিছক মজার উদ্দেশ্যে নয়। আত্মশুদ্ধির আন্দোলন, ক্ষুধামন্দা দূরীকরণ ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সৎ উপায়ে উপার্জনের লক্ষ্যে ব্যবসাটা শুরু করেছি।
অন্য কারো বিরুদ্ধে আন্দোলন করার আগে, আঙুল তোলার আগে নিজেকে ভালো হতে হবে। আমি চাই না লোভে পড়ে যেতে, আমি চাই না পা পিছলে পড়ে যেতে। তাই আগে নিজে আত্মশুদ্ধির আন্দোলন করছি। আর এই কাজটাও আমার আত্মশুদ্ধি আন্দোলনের একটি অংশ। পাশাপাশি ক্ষুধা থেকে মুক্তি চাইছি, স্বাবলম্বী হতে চাইছি।
রনি বলেন, আমার বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে শিখিয়েছে জনগণের টাকা মেরে খাওয়ার চাইতে রিকশা চালানো সম্মানের, জুতা সেলাই করা সম্মানের, চা বিক্রি করা সম্মানের। আর আমি সেটাই করছি, আমি এখানে দোষের কিছু দেখছি না। যারা আমার কাছে কুপ্রস্তাব নিয়ে এসেছিল তারা যেন আর না আসে, সেজন্য আমি এই কাজ শুরু করেছি।
চায়ের ব্যবসা উপভোগ করছেন জানিয়ে রনি বলেন, আমার মনে হয়, চায়ের ব্যবসাটা বেশ ভালো, বেশ সুন্দর। আমি খুব উপভোগ করছি। গত এক মাস ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে চা বিক্রি করছি। একদিন আগে আমার ১ হাজার কাপ চা বিক্রি হয়েছে, তারপর আমি ফেসবুকের মাধ্যমে সবাইকে জানিয়েছি। সবাই বিষয়টিকে ভালোভাবে গ্রহণ করছে। তবে সমালোচনাও হচ্ছে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য