The Rising Campus
Education, Scholarship, Job, Campus and Youth
রবিবার, ১৬ই জুন, ২০২৪

বাকৃবিতে কর্মচারীদের মারধর ও হুমকির অভিযোগ, কর্মবিরতি

বাকৃবি প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) কর্মরত কর্মচারীদের মারধর ও হুমকি প্রদানের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে। ৬ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪টি কর্মচারী সংগঠনের (তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারী পরিষদ, কারিগরি কর্মচারী সমিতি, আমরা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও ৪র্থ শ্রেণী কর্মচারী সমিতি) সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত ওই অভিযোগপত্র প্রেরণ করা হয়।

অভিযোগপত্রে জানানো হয়, গত ১ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নিরাপত্তাকর্মীকে মারধর করে কতিপয় শিক্ষার্থী। এর প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার সকল কর্মচারী কর্মবিরতি ঘোষণা করে। বিষয়টি মীমাংসার জন্যে ৫ এপ্রিল বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসানের কার্যালয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার আহ্বান করেন উপাচার্য। এসময় বাকৃবি অফিসার পরিষদের সভাপতি মোঃ খাইরুল আলম নান্নু, সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার আমজাদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থী সভাকক্ষে প্রবেশ করে উপাচার্যের উপস্থিতিতেই সকল কর্মচারীদের শারিরীক ক্ষতিসাধনের হুমকি দেয়। পরবর্তীতে সভা বাতিল করা হয়। এসময় তারা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারবর্গের বিরুদ্ধে ঔদ্ধত্যপূর্ণ কট‚ক্তি এবং অবমাননাকর আচরণ করেন বলেও জানান তারা।

আরো জানা যায়, ওই ঘটনায় ৬ এপ্রিল সকাল ১১ টায় তৃতীয় শ্রেনী কর্মচারী পরিষদ কার্যালয়ে আয়জিত এক জরুরি সভায় ৪ টি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তাদের সিদ্ধান্তগুলো হলো – পূর্বঘোষিত চলমান কর্মসূচী অনুযায়ী নিরাপত্তা শাখায় নিয়োজিত তৃতীয় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে, হল শাখায় নিয়োজিত সকল কর্মচারীদের শিফটিং ডিউটি পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে, ৯ এপ্রিল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনের সকল কর্মচারীদের পূর্ণ কর্মবিরতি পালন এবং অনতিবিলম্বে আশেপাশের জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গের সাথে কাউন্সিলিং করে তাদের সহযোগিতায় কঠোর কর্মসূচী গ্রহণ করা হবে।

এছাড়া ওই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য ইন্ধন দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. অলিউল্লাহ বলে অভিযোগ করেছেন তারা। এজন্য রেজিস্ট্রারের পদত্যাগ এবং কতিপয় ছাত্র নামধারী দুষ্কৃতিকারী ও অফিসার পরিষদের অবৈধ সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকের সুষ্ঠ বিচারের দাবি জানানো হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. অলিউল্লাহ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কর্মচারীদের মারধরের ঘটনার পরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের আয়োজনে মিটিং করা হয় এবং বিষয়টির বিচারের আশ্বাস দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পাঁচদিনের অনুপস্থিতি ও বিচারকার্য সম্পাদনের জন্য তাদের নিকট সময় চাওয়া হয়েছে এবং তাদেরকে স্বাভাবিক কর্মকান্ডে ফিরে যাওয়া আহবান জানানো হয়েছে। পরবর্তীতে ৫ এপ্রিল উপাচার্যের উপস্থিতিতে আলোচনা সভা আয়োজন করা হয় এবং সেখানে তারা তাৎক্ষণিক সমাধানের দাবি করে। এতে অফিসার পরিষদ ও ছাত্রনেতাদের সাথে ককর্মচারীদের বাকবিতন্ডা শুরু হয়।

অভিযোগের বিষয়ে অফিসার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার আমজাদ বলেন, তাদের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। উপাচার্যের শেষ সময়ে এসে কতিপয় দুষ্কৃতিকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে অফিসার পরিষদের সভাপতি খায়রুল আলম নান্নুকে বারবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত ১ এপ্রিল (শনিবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় শিক্ষার্থী ও বহিরাগতের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নিরাপত্তাকর্মীকে মারধর করে কতিপয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.