ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

গাভীর একাধিক ভ্রুণ উৎপাদন এবং প্রতিস্থাপনে বাকৃবি গবেষকদের সফলতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ অক্টোবর, ২০২২ ২২:৫৩
নিজস্ব প্রতিবেদক
গাভীর একাধিক ভ্রুণ উৎপাদন এবং প্রতিস্থাপনে বাকৃবি গবেষকদের সফলতা

বাকৃবি প্রতিনিধি:গাভীর গর্ভে একাধিক ভ্রুণ উৎপাদন এবং তা সংরক্ষণ করে একাধিক গাভীর গর্ভে প্রতিস্থাপনে সফলতা পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক। গবেষণাটির গবেষক দলের প্রধান হিসেবে ছিলেন বাকৃবির সার্জারি ও অবস্টেট্রিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. নাছরীন সুলতানা জুয়েনা।

গবেষণা কার্যক্রমটি নিয়ে শুক্রবার (২৮ অক্টোবর) সকালে ঢাকায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে ‘বাংলাদেশে গবাদি পশুর ভ্রুণ উৎপাদন ও স্থানান্তরের সম্ভাবনা’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন কালে এসব কথা বলেন বাকৃবির সার্জারি ও অবস্টেট্রিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. নাছরীন সুলতানা জুয়েনা।

সাধারণত মাংস, দুধ উৎপাদন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসহ বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য উন্নয়নের লক্ষ্যে গবাদি পশুর জাত উন্নয়ন করা হয়। বাংলাদেশে গাভীর কৃত্রিম প্রজননে সাধারণত উন্নত গাভীর শুক্রানু ডিম্বানুর সঙ্গে নিষিক্ত করে জাত উন্নয়ন করা হয়। কিন্তু এ প্রক্রিয়ায় একটি সমস্যা হলো শুক্রাণু দিয়ে গাভীর গর্ভে শুধু একটি বাচ্চা জন্ম দেয়া সম্ভব।

দ্য অর্গানাইজেশন ফর উইমেন ইন সায়েন্স ফর দ্যা ডেভেলপিং ওয়ার্ল্ড (ওডব্লিউএসডি) এবং ইউনেস্কোর অর্থায়নে ‘বাংলাদেশের দেশি গাভীতে ভ্রুণ স্থানান্তরের পরে প্রাপকের গ্রহণযোগ্যতা এবং গর্ভধারণকে অনুকূল করা’ শীর্ষক সাব-প্রকল্পের অধীনে এ গবেষণাটি পরিচালিত হয়।

গবেষণা প্রকল্পটির সহকারী গবেষক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন বাকৃবির মাইক্রোবায়োলজি ও হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মারজিয়া রহমান এবং সদস্য হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুল আলম। এছাড়াও বিভিন্ন পর্যায়ে অধ্যাপক ড. ফরিদা ইয়াসমীন বারি, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ উদ্দীন ভূঁইয়া, ড. জয়ন্ত ভট্টাচার্য, ডা. জান্নাতুল মাওয়া, ডা. সংগীতা সাহা, ডা. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন গবেষণা কার্যক্রমের সাথে যুক্ত রয়েছেন।

গবেষণার প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. নাছরীন সুলতানা জুয়েনা বলেন, স্বল্পতম সময়ে উচ্চ গুণসম্পন্ন অধিক সংখ্যক গবাদি পশুর বাচ্চা উৎপাদন এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে জাত উন্নয়নের মাধ্যমে দ্রুত দুধ ও মাংস উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ গবেষণা করা হয়। সাধারণত গাভী বছরে ১টির মতো বাচ্চা প্রসব করতে পারে। কিন্তু প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় একটি নির্বাচিত উন্নত জাতের গাভী থেকে প্রজননের মাধ্যমে বছরে ২৫ থেকে ৩০টি উচ্চগুনসম্পন্ন ভ্রুণ উৎপাদন করা সম্ভব এবং যার মাধ্যমে প্রথমবারেই ভ্রুণ প্রতিস্থাপন করে সাধারণ গাভী থেকে উন্নত জাতের বাছুর উৎপাদন করা যেতে পারে। এতে করে একজন খামারি অতি অল্প সময়ে গবাদিপশুর জাত উন্নয়ন করতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, শুক্রানুর তুলনায় ভ্রুণ দীর্ঘদিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। এই পদ্ধতিতে উৎপাদন খরচ তুলনামূলক বেশি হলেও বাড়তি উৎপাদনে অধিক লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকবে। প্রান্তিক পর্যায়ে খামারিদের কাছে এই প্রযুক্তিটি পৌঁছে দিলে অধিক মাংস ও দুধ উৎপাদন করে লাভবান হবেন তারা। এছাড়া জৈব নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, পশুর জাত উন্নয়ন ও প্রজননে অক্ষম গাভীর জন্য এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে প্রতিস্থাপন পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এই পদ্ধতিতে যে সকল গবেষণা যন্ত্রাংশ প্রয়োজন তা দেশে অপ্রতুল। এছাড়া মাঠ পর্যায়ে প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাবও রয়েছে। এসব সীমাবদ্ধতা পূরণ করে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বৃদ্ধিতে প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের সহযোগিতা চান তিনি।

সেমিনারে বাকৃবির ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মকবুল হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মনজুর মোহাম্মদ শাহজাদা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ভেটেরিনারি এসোসিয়েশনের (বিভিএ) মহাসচিব ডা. মো. হাবিবুর রহমান মোল্লা, বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) সভাপতি মশিউর রহমান, দ্যা অর্গানাইজেশন ফর উইমেন ইন সায়েন্স ফর দ্যা ডেভেলপিং ওয়ার্ল্ড (ওডব্লিউএসডি) এর বাংলাদেশ জাতীয় পর্যায়ের সভাপতি ডা. মোছা. মাহবুবা বেগম, বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিলের (বিভিসি) সভাপতি ডা. মো. মনজুর কাদির এবং বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) মহাপরিচালক ডা. এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মনজুর মোহাম্মদ শাহজাদা বলেন, ভ্রুণ স্থানান্তর নিয়ে গবেষণাটি বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও যুগোপযোগী গবেষণা। এ প্রযুক্তি যেন দ্রুতই মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে দেয়া যায় এ বিষয়ে প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তর সবসময় সহযোগিতা করবে।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    কৃষিবিষয়ে ডিগ্রিপ্রদানকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ২য় ধাপের ফল প্রকাশ

    নিজস্ব প্রতিবেদক
    ২৮ অক্টোবর, ২০২২ ১৭:৫৪
    নিজস্ব প্রতিবেদক
    কৃষিবিষয়ে ডিগ্রিপ্রদানকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ২য় ধাপের ফল প্রকাশ

    অর্ঘ্য চন্দ, সিকৃবি:কৃষি বিষয়ে ডিগ্রি প্রদানকারী আটটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির জন্য দ্বিতীয় অটো মাইগ্রেশনের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এতে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শুন্য আসনে ভর্তির জন্য সুযোগপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নতুন তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। এর ফলে শুন্য আসনে ভর্তির জন্য অপেক্ষমান তালিকায় থাকা আরো ১৬৮ জনের ভাগ্য খুলেছে। অপেক্ষমান তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীদের এই মাসের ২৭ থেকে ৩১ তারিখের মধ্যে ভর্তির প্রাথমিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।

    আটটি কৃষিপ্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল আসন প্রথম ধাপেই পূর্ণ হয়ে যায়। এরপর দ্বিতীয় ধাপে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সায়িন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল আসন পূর্ণ হয়। তবে দ্বিতীয় ধাপে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি অনুষদে ৪০ টি, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি অনুষদে ৬২ টি, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি অনুষদে মোট ৬৬ টি আসন শুন্য রয়েছে।

    এই বছরের ১০ই সেপ্টেম্বর গুচ্ছ পদ্ধতিতে কৃষি বিজ্ঞানে ডিগ্রি প্রদানকারী ৮ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। এর পর ১৪ সেপ্টেম্বর ফলাফল প্রকাশ করা হয় , ১৬ অক্টোবর প্রথম অটোমাইগ্রেশন এবং ২৬ অক্টোবর দ্বিতীয় অটোমাইগ্রেশনের ফলাফল প্রকাশিত হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী , দ্বিতীয় অটো মাইগ্রেশনের পর ১৬৮ টি শুন্য আসনে ভর্তিচ্ছুদের এই মাসের ২৭ থেকে ৩১ তারিখের মধ্যে নির্দিষ্ট ভর্তি ফি জমা দিয়ে ভর্তি হওয়ার আগ্রহ নিশ্চিত করতে হবে এবং ভর্তির প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন করতে হবে।

    এতে আরো জানানো হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট অর্থ জমা না দিলে আসন শূন্য গণনা করে তৃতীয় অপেক্ষমান তালিকা প্রকাশ হবে আগামী ৩রা নভেম্বর।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      তরুণ লেখক ফোরামের বেরোবি শাখার নেতৃত্বে মমিনুর-হিমেল

      নিজস্ব প্রতিবেদক
      ২৮ অক্টোবর, ২০২২ ১৪:০
      নিজস্ব প্রতিবেদক
      তরুণ লেখক ফোরামের বেরোবি শাখার নেতৃত্বে মমিনুর-হিমেল

      পুলক আহমেদ বেরোবি প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ২০২২-২৩ বর্ষের আহবায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মমিনুর রহমানকে আহবায়ক এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী কামরুজ্জামান হিমেলকে সদস্য সচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়।

      বুধবার (১৯ অক্টোবর) সংগঠনটির সভাপতি নেজাম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইসরাফিল আলম রাফিল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

      আহবায়ক কমিটিতে সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন- লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সামিউল ইসলাম ও শ্যামল সিদ্দিক এবং গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী তমালিকা রায়।

      আরো পড়ুনঃ আটকে আছে ৪১তম বিসিএসের ফলঃ ১৫০০০ খাতায় গড়মিল।

      বিজ্ঞপ্তিতে উক্ত আহবায়ক কমিটিকে আগামী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে শাখা কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

      নব-মনোনিত আহবায়ক মমিনুর রহমান বলেন, দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা অনুমোদন দেওয়ায় এবং আমার প্রতি বিশ্বাস রেখে দায়িত্ব অর্পণ করায় বাংলাদেশ তরুণ লেখক ফোরামের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। প্রিয় সংগঠনের সম্মান ধরে রাখতে এবং সাফল্যের ধারা বজায় রাখতে সচেষ্ট থাকব। তরুণ লেখক সৃষ্টিতে আমরা অবদান রাখতে চাই।

      সদস্য সচিব কামরুজ্জামান হিমেল বলেন, একজন মানুষ একটি সংগঠন নয়, সবার আদর্শিক একত্রিত প্রচেষ্টায় একটি সংগঠন গড়ে উঠে। তরুণদের মাঝে লেখালেখির স্পৃহাকে জাগ্রত করতে এবং দক্ষ ও সৃষ্টিশীল লেখক তৈরিতে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে আমরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারবো বলে বিশ্বাস করি।

      উল্লেখ্য, সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হোক লেখনীর ধারায়’ স্লোগানে ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ জন সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে ‘বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম’। দেশের ১৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের লেখালেখিতে উদ্বুদ্ধ করতে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        মাইক্রোসফটে চাকরি পেলেন নোবিপ্রবি শিক্ষার্থী নাজমুল

        নিজস্ব প্রতিবেদক
        ২৮ অক্টোবর, ২০২২ ১০:৩৩
        নিজস্ব প্রতিবেদক
        মাইক্রোসফটে চাকরি পেলেন নোবিপ্রবি  শিক্ষার্থী নাজমুল

        নোবিপ্রবি প্রতিনিধি:যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক কম্পিউটার প্রযুক্তি কর্পোরেশন মাইক্রোসফটে কাজ করার সুযোগ পেলেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সাবেক শিক্ষার্থী জিএম নাজমুল হোসেন সম্রাট । তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

        গত মার্চে মাইক্রোসফটের অফিশিয়াল মেইল থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। আগামী নভেম্বরে মাইক্রোসফট কর্পোরেশন এর সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চেক প্রজাতন্ত্রে মাইক্রোসফট ক্যাম্পাসে যোগদান করবেন।

        মাইক্রোসফটে কাজের সুযোগ পাওয়াকে জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি মনে করছেন নাজমুল।

        অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমি সবসময় চেয়েছি বিশ্বের বড় বড় কোম্পানিগুলোতে কাজ করার। শুরুতে আমি অনেক ভয় পেয়েছিলাম কিন্তু আল্লাহর উপর ভরসা করে সাহস নিয়ে প্রতিটি স্টেপ পার করেছি। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এ পর্যন্ত এসেছি।আমি মাইক্রোসফটে কাজ করার সুযোগ পেয়ে নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে হচ্ছে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।

        নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের সবার সাথে কমিউনিকেশন স্কিল বাড়াতে হবে। ভয়কে সাহসের সাথে জয় করতে অনেকবেশি পরিশ্রম করতে হবে। আমাদের যারা কোডিং, সফটওয়্যার ভিত্তিক কাজগুলো করতে চাই তাদের সঠিক ডাটা স্ট্রাকচার এন্ড অ্যালগরিদম জানাটা জরুরি। আমি আশা করি নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা একদিন সাহসের সাথে দক্ষতা নিয়ে বিশ্বের বড় বড় কোম্পানিগুলোতে কাজ করবে।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          সংসারের হাল ধরতে দিনে ৬টি টিউশনি করা মেয়েটিই বিসিএসে পুলিশের এএসপি

          নিজস্ব প্রতিবেদক
          ২৭ অক্টোবর, ২০২২ ১৭:৩৪
          নিজস্ব প্রতিবেদক
          সংসারের হাল ধরতে দিনে ৬টি টিউশনি করা মেয়েটিই বিসিএসে পুলিশের এএসপি

          অভাবের সংসারে সচ্ছলতার জন্য হাওরে বাবার সঙ্গে কৃষিকাজ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে দিনে রাতে মিলিয়ে ৬টি টিউশনি করিয়ে পড়াশোনার খরচ চালিয়েছেন। পাশাপাশি সংসারেও টাকা পাঠিয়েছেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনাও করেছেন সমান তালে। রসায়নে অনার্স-মাস্টার্সে ফার্স্টক্লাস পেয়েছেন। এর মধ্যে অনার্সে তিনি ফার্স্টক্লাস সেকেন্ড হয়েছেন। অথচ বইয়ের অভাবে একসময় তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যেতে বসেছিল। অদম্য মেধাবী সেই ছাত্রীটি এখন ৩৮তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। এই গল্পটি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ডলি রানী সরকার। জানা গেছে, সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর থানার দক্ষিণ বংশিকুন্ডা ইউনিয়নের ঘাসী গ্রামের কৃষক বাবার সন্তান ডলি রানী সরকার।

          নবম শ্রেণি পর্যন্ত বাবার সঙ্গে হাওরের মাঠে কৃষিকাজ করেছেন। বর্ষাকালে পড়াশোনা আর হেমন্তে বাবার সঙ্গে হাওরে ধান কাটা, ফসল লাগানোসহ সব ধরনের কাজে বাবাকে সহযোগিতা করেছেন ডলি। তবে ছোটবেলা থেকে পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী ছিলেন তিনি। শিক্ষাজীবনের শুরুতে ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর থানার ঘাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। মেধাবী হওয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শুরু থেকেই স্বপ্ন দেখতেন প্রাথমিকে বৃত্তি পাবেন ডলি। দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় বৃত্তি পাওয়ার সুবিধার জন্য গাইডবই কিনে দিয়েছিলেন ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক মুকুল।

          আরো পড়ুনঃ বাবার সাথে কুলির কাজ করা ছেলেটি আজ ৩৪০ কোটি টাকার প্রতিষ্ঠানের মালিক!

          ওই শিক্ষকের কথা রেখেছেন, প্রাথমিকে বৃত্তি পেয়েছেন ডলি। এরপর বংশীকুন্ডা মমিন উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন ডলি। ষষ্ঠ থেকে সপ্তম শ্রেণিতে ওঠার পর তার বাবা অসুস্থ হন। এজন্য পরিবারে দুঃসময় চলে আসে তাদের। এ অবস্থায় সংসার চালানোর ভার পড়ে তার ওপর। পড়াশোনার পাশাপাশি বাবার সেবা-যত্ন, জমিতে কৃষিকাজ ও কষ্ট করে সংসার চালানোর সব দায়িত্ব এসে পড়ে ডলির কাঁধে। হাওর অঞ্চলের সন্তান হওয়ায় বর্ষাকালে পানির সঙ্গে বসবাস। সেজন্য অধিকাংশ সময় বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। এ নিয়ে আক্ষেপ ছিল না তার। সবকিছু সামলে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। নবম শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করেন। পরিবারের আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় বই কিনতে পারেননি।

          এ অবস্থায় শিক্ষক ও সহপাঠীদের দেয়া পুরাতন বই নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। এমন সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পান ডলি। জানা গেছে, মা-বাবার স্বপ্ন ছিল শিক্ষক হবেন, এমনকি ডলিও স্বপ্ন দেখতেন শিক্ষক হবেন। সেই লক্ষ্য নিয়ে নেত্রকোনার কলমাকান্দা সরকারি কলেজে ভর্তি হন। কলেজে ভর্তি হওয়ার পর অর্থের অভাবে টিউশনি শুরু করেন। সেই সঙ্গে লজিং মাস্টার হিসেবে মানুষের বাড়িতে থেকেছেন। কলেজের প্রথম বর্ষের শেষ দিকে ইভটিজিংয়ের শিকার হন ডলি। শিক্ষকদের কাছে এ নিয়ে অভিযোগ করেও বিচার পাননি তিনি। মনে কষ্ট নিয়ে প্রথমবর্ষের পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি চলে যান। কিছুদিন পর পরিবারের সঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারে চলে যান তিনি। তিন মাস পর দেশে চলে আসেন তারা।

          দেশে ফিরে কলেজের কোনো পরীক্ষায় অংশ নেননি। পরবর্তীতে শিক্ষকদের উৎসাহে কলেজের টেস্ট পরীক্ষায় অংশ নেন। সেখানে ভালো ফলাফল করে উত্তীর্ণ হন। ২০০৮ সালে অসুস্থ অবস্থায় এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ভালো ফলাফল করেন ডলি। পরে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) চান্স পান ডলি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর মেসে উঠেন। আর্থিক সঙ্কট থাকায় পড়াশোনার পাশাপাশি একসঙ্গে ৫-৬টা টিউশনি করেছেন। পরবর্তীতে মেস ছেড়ে দেন। এরপর পরিবারের সবাইকে নিয়ে সিলেটে একটি ভাড়া বাসায় উঠেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্স্ট ক্লাস সেকেন্ড হয়ে অনার্স শেষ করেন। ২০১৬ সালে ফিজিক্যাল রসায়নে ফার্স্ট ক্লাস পেয়ে মাস্টার্সে উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষাজীবন শেষ করেন। এবার তিনি ৩৮তম বিসিএসে এএসপি হলেন।

          আরো পড়ুনঃ মাইক্রোসফটে চাকরি পেলেন নোবিপ্রবি শিক্ষার্থী নাজমুল

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত