শিরোনাম
ঢাবিতে শাবিপ্রবির প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মশাল মিছিল ও সমাবেশ
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা।
সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় রাজু ভাস্কর্যের সামনে এই সমাবেশ করেন তারা। তারপর তারা মশাল মিছিল নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দিকে যান।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শাবিপ্রবি ভিসির পদত্যাগসহ পুলিশি হামলার বিচার, আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ভার বহন ও এ বিষয় নিয়ে তাদের ভবিষ্যত নিরাপত্তার দাবি জানান।
সমাবেশে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১২-১৩ সেশনের প্রাক্তন শিক্ষার্থী তানভীর আকন্দ বলেন, ‘আমাদের সবার দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে ও প্রক্টোরিয়াল বডিকে পদত্যাগ করতে হবে। আক্রমণে আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা খরচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহন করতে হবে। এবং এই ঘটনার সুরাহা করতে হবে। পরবর্তী সময়ে আমাদের ছোট ভাইবোনেরা যাতে এই ঘটনার জেরে কোনো হ্যারাসমেন্টের শিকার না হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। এ ধরণের জঘন্য ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটেছে কি-না সন্দেহ আছে। সর্বোপরি আমরা শিক্ষার্থীবান্ধব শাবিপ্রবি চাই। আমাদের দাবি দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন যাতে শিক্ষার্থীবান্ধব হয়।’
প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর
প্রাথমিকসহ দেশের সব সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্ষুদে ডাক্তারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়টি জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের জানাতে বলছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আগামী ২২ থেকে ২৮ জানুয়ারি এই কার্যক্রম শুরু হবে।
তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার বিষয়টি সব সরকারি-বেসরকারি মাদরাসা প্রধানকে জানিয়েছে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। এর আগে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়টি জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের জানাতে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত কিন্ডারগার্টেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং সমপর্যায়ের মাদরাসাসহ সরকারি-বেসরকারি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্ষুদে ডাক্তার কর্তৃক শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় গঠিত ক্ষুদে ডাক্তারদল তাদের জন্য নির্ধারিত শ্রেণির সব শিক্ষার্থীর ওজন, উচ্চতা ও দৃষ্টিশক্তি পরিমাপসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে তা স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফরমে লিপিবদ্ধ করবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে ক্ষুদে ডাক্তারদল গঠন এবং তাদের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা একটি অভিনব কার্যক্রম, যাতে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত হওয়ার, দলগতভাবে কাজ করার, এমনকি সুশৃঙ্খলভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে গিয়ে ক্ষুদে ডাক্তারের দল কোনো শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিসহ দৃষ্টিশক্তিতে ত্রুটি কিংবা স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফরমে উল্লেখিত অন্যান্য বিষয়াদির তথ্যও গাইড শিক্ষকের নজরে আনতে পারছে এবং বিষয়গুলো প্রাথমিক পর্যায়েই সংশোধনের ব্যাপারেও সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
এ কার্যক্রমকে সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এবতেদায়ী ও দাখিল পর্যায়ের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষককে বিষয়টি জানাতে মাদরাসার শিক্ষা অধিদপ্তরকে বলেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্ট সব জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে এ ব্যাপারে লিখিত নির্দেশনা দিতেও অধিদপ্তরকে বলা হয়েছে।
এখনও ২৮০ আসন শূন্য ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ‘ডি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে আরও ২৮০টি শূন্য আসন রয়েছে। এসব আসনে ভর্তি সাক্ষাৎকারের জন্য প্রার্থী আহবান করে দ্বিতীয়বারের মতো বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রবিবার (১৬ জানুয়ারি) সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের নবনিযুক্ত ডিন অধ্যাপক ড. মো. জিয়াউর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তির প্রাপ্ত তথ্যমতে, ‘ঘ’ ইউনিটে মোট শূন্য আসন সংখ্যা ২৮০টি। এতে বিজ্ঞানের ১৫০টি, ব্যবসায় শিক্ষায় ১১৭টি এবং মানবিকে ১৩টি আসন শূন্য রয়েছে। আগামী শনিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে সাক্ষাৎকার শুরু হবে।
এতে ‘ক’ ইউনিটে ১২৭৬ থেকে ১৭০০ মেধাক্রম পর্যন্ত, ‘খ’ ইউনিটে ৯৩ থেকে ৩০০ মেধাক্রম পর্যন্ত এবং ‘গ’ ইউনিটে ৭০৩ থেকে ১০০০ মেধাক্রম পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎকারের জন্য আহবান করা হয়েছে।
কোন বিভাগে কতটি আসন খালি আছে তা আগামী বৃহস্পতিবারের (২০ জানুয়ারি) অনলাইনে নোটিশের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে ডিন অফিস সূত্রে জানা গেছে।
জানা যায়, ‘ঘ’ ইউনিটের ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে মেধাক্রমানুযায়ী খালি আসনসমূহ পূরণ করা হবে। আসন পূর্ণ হয়ে গেলে সাক্ষাৎকার বন্ধ হয়ে যাবে। উল্লেখ্য, যারা উক্ত সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে ভর্তি হবে, তাদের কোনক্রমেই বিষয় পরিবর্তন করা হবে না।
সাক্ষাৎকারে আসার সময় ভর্তি পরীক্ষার মূল প্রবেশপত্র, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার মূল গ্রেডশিট, Subject Choice Form যা ইন্টারনেটের মাধ্যমে সাবমিট করা হয়েছে তার ডাউনলোডকৃত কপি (উভয়পৃষ্ঠা) আনতে হবে।

বন্ধ ঘোষণার পরও শাবিপ্রবিতে বিক্ষোভ, প্রভোস্টের পদত্যাগ
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার পরও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল থেকে ক্যম্পাসে জড়ো হয়ে মিছিল মিটিং করছেন তারা। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী অনেক শিক্ষার্থীকে সকালে হল ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। বর্তমানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে ক্যাম্পাসে।
রোববার সন্ধ্যায় আন্দোলনকারী ও পুলিশের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পুলিশসহ অর্ধশতাধিক আহত হন। সংঘর্ষের পর জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে প্রশাসন।
আজ সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিছু কিছু শিক্ষার্থী হল ছেড়ে গেলেও এখনো বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন। তারা গোলচত্বরে অবস্থান নিয়েছেন। সকাল সোয়া নয়টার দিকে শিক্ষার্থীরা হলের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ক্যাম্পাসের ভেতরের বিভিন্ন রাস্তায় স্লোগান দিতে থাকেন।
রোববার বিকেল সাড়ে ৫টায় শিক্ষার্থীদের দ্বারা অবরুদ্ধ ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে পুলিশ ও শিক্ষকরা মুক্ত করতে গেলে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে মুক্ত করে বাসভবনে পৌঁছে দেয় পুলিশ।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) বিএম আশরাফ উল্লাহ তাহের বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা অনেকেই হল ছাড়ছেন। তবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
প্রভোস্টের পদত্যাগ: এদিকে রোববার রাতে বেগম সিরাজুননেসা চৌধুরী হলের প্রভোস্ট জাফরিন আহমেদ লিজা স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন। নতুন প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. নাজিয়া চৌধূরী।
প্রসঙ্গত, সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে রোববার রাতে বিক্ষোভ করেন কয়েকশ সাধারণ শিক্ষার্থী।
নৌকায় ভোট দেওয়ায় মঙ্গা নেই উত্তরাঞ্চলে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘একটি আধুনিক ও প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন জাতি গড়ে তুলে বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধিশালী দেশে রূপান্তর করাই আমাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রা আর কেউ ভবিষ্যতে থামাতে পারবে না।’
প্রধানমন্ত্রী গতকাল রবিবার সকালে রংপুর বিভাগীয় সদর দপ্তর কমপ্লেক্স ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রংপুর বিভাগীয় কমপ্লেক্স মাল্টিপারপাস হলে মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী ২০০৮ সালে নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের দেওয়া নির্বাচনী ইশতেহারের উল্লেখ করে বলেন, তাঁর সরকার নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সব উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছে। তিনি বলেন, ‘আজকের বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ এবং আমাদের আরো এগিয়ে যেতে হবে। এ লক্ষ্যে আমরা পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি।’ সার্বিক উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ আজ সারা বিশ্বে উন্নয়নের একটি রোল মডেল বলে উল্লেখ করেন তিনি। শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়নে তাঁর সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘এর ফলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে, ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। মানুষ অনেক সচ্ছল হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। জাতির পিতা এ দেশকে নিয়ে, এ দেশের মানুষকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন—ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়বেন, আমাদের লক্ষ্য আমরা সেটাই গড়তে চাই।’
দেশের উত্তরাঞ্চলের একসময়ের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ দেশে আর কখনো যেন মঙ্গা বা দুর্ভিক্ষ দেখা না দেয় এবং এ দেশের মানুষ যেন আর কোনো কষ্ট না পায়।’
শেখ হাসিনা বলেন, নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়েই রংপুরবাসী এই সুবিধাগুলো পেয়েছে, সেটা ভুললে চলবে না।
সরকারপ্রধান বলেন, ‘রংপুরে ভূমিহীন বেশি ছিল। আমরা তাদের জমিসহ ঘর দিয়েছি।’ সূত্র : বাসস
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য